গঙ্গা জল হাতে নিয়ে, দুর্নীতির শপথ, ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতি রক্ষায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেবশ্রী মজুমদার





গঙ্গাজল হাতে ‘কমিশন ভাগের শপথ’! উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর পুরনিগমের কাউন্সিলরদের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সমাজমাধ্যম রীতিমতো তোলপাড়। "দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে—এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে॥" 

‘নিগমের যা আয়, ৬০ জনে সমান ভাগ’—দাবি ভাইরাল ফুটেজে; বিপদে পড়লে একজোট থাকার শপথও। 

শাহজাহানপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে মোট ৬০ জন নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং ১০ জন মনোনীত সদস্য রয়েছেন। ভাইরাল ফুটেজ ২০২৫ সালের পুরোনো বলে দাবি উঠেছে। 

বিতর্কের মধ্যেই শাহজাহানপুরের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার সৌম্যা গুরুরানি জানিয়েছেন, ভিডিওটি সম্ভবত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একটি ব্যক্তিগত জায়গায় ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি নয়; পুরনো ভিডিওই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সময়ে অন্য একজন মিউনিসিপ্যাল কমিশনার দায়িত্বে ছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পুর প্রশাসন।

তদন্ত হোক। কিন্তু আমার বলার জায়গা এক আত্মতুষ্টি থেকে। ভারতবর্ষ তার প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারা এখনও ধরে রেখেছে। এটা গর্বের। দুর্নীতি কোথায় নেই? কোন সরকারি আমলে নেই? আছেই তো! হাতে তুলসী, তামা ও গঙ্গাজল নিয়ে (এই তিনটি একসাথে থাকলে শালগ্রাম শিলার সমান বলা হয়।) দুর্নীতি মরে গেছে বললে বিশ্বাস করবো না। তবে, হাতে পুত পবিত্র গঙ্গা জল নিয়ে কমিশন ভাগ বা দুর্নীতির নীতিবান শপথ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নেই। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব সভায় দিদিমণি থেকে দোলাদি সবার কণ্ঠে কমিশনের পার্সেন্টেজের পক্ষে সওয়াল করতে সবাই শুনেছেন। কিন্তু এমন করে পদ্ধতি মেনে শপথ নেওয়া হয় নি। কংগ্রেস থেকে সপা, আম আদমি সব দলেই দুর্নীতি বা স্ক্যামে এমন শপথ নিতে দেখিনি। একজন তো আমাকে বললেন, আপনি শপথ করে দুর্নীতি নিয়ে বলছেন, সংবিধানের শপথ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েই তো দুর্নীতি করেন কেউ কেউ। আমি বলি আলবৎ তাই হয়। কিন্তু এত মর্যাদা সহকারে, ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতি মেনে হয় না। যাই হোক, একটা পরম্পরা বজায় থাকবে না? বলেন কী!

আমাদের শাস্ত্র কী বলে? --

শপথ নিতেই হবে। 

মনুস্মৃতি (৮.১১০) বলে,

মহর্ষিভিশ্চ দেবৈশ্চ কার্যার্থং শপথাঃ কৃতাঃ। বশিষ্ঠশ্চাপি শপথং শেপে পৈজবনে নৃপে॥

যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়- 

মহর্ষি ও দেবতারাও কার্যসিদ্ধির প্রয়োজনে শপথ করেছেন। ঋষি বশিষ্ঠও পৈজবন রাজার কাছে শপথ করেছিলেন।

মূল বক্তব্য হলো শাহজাহান পুরের শপথকে প্রাচীন ধর্মীয় ও বিচারিক ঐতিহ্যের স্বীকৃত পরম্পরা হিসেবে দেখানো হয়েছে। 

এর ফলে ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়ে দেশোদ্ধার করা নয়, গঙ্গার জল স্পর্শ সহ শপথের মাধ্যমে যদি সেই কার্য সিদ্ধ হয়, শপথকারীদের পিতৃও মাতৃকুল উভয় কুলের উদ্ধার সম্ভবপর। মহাভারতের অনুশাসন পর্বে তাই তো বলা আছে। 

"ধারয়ন্ গঙ্গাং স্পৃষ্ট্বা চ স্নাত্বা চ সলিলে নরঃ।

তারয়েত্ পিতৃন্ সপ্ত সপ্ত চৈব পরান্ নরান্॥"

বাংলায় যার অর্থ হলো- 

যে ব্যক্তি গঙ্গাকে ধারণ করে, তাঁকে স্পর্শ করে এবং তাঁর জলে স্নান করে, সে নিজের সাত পুরুষ পূর্বপুরুষ এবং সাত পুরুষ উত্তরপুরুষকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দেখুন এই প্রতিবেদন যারা ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারক বা বাহক নন, তাদের জন্য নয়। আমি এমন ধারার এক সহকর্মীর কাছে শুনেছি। তার মাতুল পরলোক গমন করায় তাঁর বাড়িতে মায়ের চাপে অশৌচ ব্রত রাখতে এক প্রকার বাধ্য হয়েছিলেন। কর্মসূত্রে তাঁকে বাড়ির বাইরে আহার গ্রহণ করতে হতো। হোটেলে গিয়ে তিনি অর্ডার করেন, আমাকে তেল, রসুন, পেঁয়াজ ছাড়া নিরামিষ মাংস দেবেন। এটাও একটা সংস্কার। ক'জন রাখতে পারেন!

গেরুয়া রঙ পায়ের তলে, রক্তকরবী মঞ্চের সামনে দেবশ্রী মজুমদার

গেরুয়া রঙের অপমান প্রসঙ্গে সম্প্রতি সমালোচনায় মুখর হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রসাশনিক বৈঠকের সামনের চলাচলের রাস্তায় পাতা হয়েছে গেরুয়া রঙের ম্যাট বা ফরাস। তার উপর দিয়ে জুতো পায়ে চলাচল করছেন সবাই। শুভেন্দু অধিকারী কী বলেছিলেন? একটু দেখে নেওয়া যাক, যাদবপুর কাণ্ডে এক সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনে‘ গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধ ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তিনি বলেন, "দম থাকলে লিখুন বিজেপির তাণ্ডব, শুভেন্দু বাহিনীর তাণ্ডব"। "কিন্তু পুরো গেরুয়া রং বা সম্প্রদায়কে জড়িয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, গেরুয়া রং স্বামী বিবেকানন্দ, প্রভু শ্রীচৈতন্যদেব এবং স্বামী প্রণবানন্দের ত্যাগের প্রতীক ও শৌর্য। এটি কোনো তাণ্ডবের প্রতীক হতে পারে না।" কথাগুলো সভামঞ্চের সামনে আসীন গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত সাধু সন্ন্যাসীদের সামনেই তিনি বলেছিলেন। কিন্তু রামপুরহাটে প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য রক্তকরবী মঞ্চের সামনের চত্বর সাদা ও গেরুয়া রঙে ঢেকে দেওয়া হয়। আর মেঝে ঢেকে দেওয়া হয় গেরুয়া ফরাসে। যার উপর দিয়ে জুতো পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন সবাই। সনাতনী শাস্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে, মুখ্যমন্ত্রী সেদিন যা বলেন, তা অবশ্যই অকাট্য ছিলো। কুণ্ডিকোপনিষদের সন্ন্যাস-বিধিতে কাষায় বা গেরুয়া বস্ত্রের সরাসরি উল্লেখ আছে। অর্থাৎ কাষায়বস্ত্র ও বৈরাগ্য-ধ্যানময় জীবন পাশাপাশি সহবস্থান আছে। "কাষায়বাসাঃ সততং ধ্যানযোগপরায়ণঃ।" অর্থাৎ “যিনি কাষায় বা গেরুয়া বস্ত্র পরিধান করেন এবং সর্বদা ধ্যানযোগে একনিষ্ঠভাবে নিবিষ্ট থাকেন।” এখন দেখার বিষয়টি নজরে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি কেমনভাবে দেখেন।

রংপুর দেব ঋষি - ২৯/০৮/২৬

ধরো, কেউ ছিলো না। শুধু তুমি আর আমি। ছিলো না, কোনো মত ভাওইয়া খোঁজে নি কোন পথ। শুধু ছিলো, গাছ, ফল, ফুল লতা পাতা আর মূল। ছিলো রঙিন পাখি, গেছে অবিরত ডাকি। নাম না জানা কতো গাছালি এ সুন্দর পাহাড় সরিৎ সায়র ছিলো না কোনো মালি। যদি ভাবতে পারো, শুধু তুমি ছিলে, আর আমি। নাম গোত্র হীন জীবনে ছিলো না কোনো স্বামী। তাহলে বেঁচে যাবে কত রংপুর বেঁচে যাবে ভাওইয়া সুর। বেঁচে যাবে গণপতি, প্রীতিলতা মৃত্যুর আগে হবে না শিশুর আলামত- শিশ্নপ্রদাহ প্রিয়মে দেবে না কোনো পথ। মৃত্যুর আগে অমিয় মনটারে, জাগাবো, জাগাবো। সেই লতা পাতা সুগন্ধি ফুলে ঢাকি দেহপরে সুন্দর আগামী, কোনো নাম নেই, শুধু রব তুমি আর আমি।।

গঙ্গা জল হাতে নিয়ে, দুর্নীতির শপথ, ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতি রক্ষায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেবশ্রী মজুমদার

গঙ্গাজল হাতে ‘কমিশন ভাগের শপথ’! উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর পুরনিগমের কাউন্সিলরদের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সমাজমাধ্যম রীতিমতো তোলপাড়। "দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে—এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে॥" ‘নিগমের যা আয়, ৬০ জনে সমান ভাগ’—দাবি ভাইরাল ফুটেজে; বিপদে পড়লে একজোট থাকার শপথও। শাহজাহানপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে মোট ৬০ জন নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং ১০ জন মনোনীত সদস্য রয়েছেন। ভাইরাল ফুটেজ ২০২৫ সালের পুরোনো বলে দাবি উঠেছে। বিতর্কের মধ্যেই শাহজাহানপুরের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার সৌম্যা গুরুরানি জানিয়েছেন, ভিডিওটি সম্ভবত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একটি ব্যক্তিগত জায়গায় ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি নয়; পুরনো ভিডিওই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সময়ে অন্য একজন মিউনিসিপ্যাল কমিশনার দায়িত্বে ছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পুর প্রশাসন। তদন্ত হোক। কিন্তু আমার বলার জায়গা এক আত্মতুষ্টি থেকে। ভারতবর্ষ তার প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারা এখনও ধরে রেখেছে। এটা গর্বের। দুর্নীতি কোথায় নেই? কোন সরকারি আমলে নেই? আছেই তো! হাতে তুলসী, তামা ও গঙ্গাজল নিয়ে (এই তিনটি একসাথে থাকলে শালগ্রাম শিলার সমান বলা হয়।) দুর্নীতি মরে গেছে বললে বিশ্বাস করবো না। তবে, হাতে পুত পবিত্র গঙ্গা জল নিয়ে কমিশন ভাগ বা দুর্নীতির নীতিবান শপথ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নেই। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব সভায় দিদিমণি থেকে দোলাদি সবার কণ্ঠে কমিশনের পার্সেন্টেজের পক্ষে সওয়াল করতে সবাই শুনেছেন। কিন্তু এমন করে পদ্ধতি মেনে শপথ নেওয়া হয় নি। কংগ্রেস থেকে সপা, আম আদমি সব দলেই দুর্নীতি বা স্ক্যামে এমন শপথ নিতে দেখিনি। একজন তো আমাকে বললেন, আপনি শপথ করে দুর্নীতি নিয়ে বলছেন, সংবিধানের শপথ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েই তো দুর্নীতি করেন কেউ কেউ। আমি বলি আলবৎ তাই হয়। কিন্তু এত মর্যাদা সহকারে, ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতি মেনে হয় না। যাই হোক, একটা পরম্পরা বজায় থাকবে না? বলেন কী! আমাদের শাস্ত্র কী বলে? -- শপথ নিতেই হবে। মনুস্মৃতি (৮.১১০) বলে, মহর্ষিভিশ্চ দেবৈশ্চ কার্যার্থং শপথাঃ কৃতাঃ। বশিষ্ঠশ্চাপি শপথং শেপে পৈজবনে নৃপে॥ যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়- মহর্ষি ও দেবতারাও কার্যসিদ্ধির প্রয়োজনে শপথ করেছেন। ঋষি বশিষ্ঠও পৈজবন রাজার কাছে শপথ করেছিলেন। মূল বক্তব্য হলো শাহজাহান পুরের শপথকে প্রাচীন ধর্মীয় ও বিচারিক ঐতিহ্যের স্বীকৃত পরম্পরা হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর ফলে ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়ে দেশোদ্ধার করা নয়, গঙ্গার জল স্পর্শ সহ শপথের মাধ্যমে যদি সেই কার্য সিদ্ধ হয়, শপথকারীদের পিতৃও মাতৃকুল উভয় কুলের উদ্ধার সম্ভবপর। মহাভারতের অনুশাসন পর্বে তাই তো বলা আছে। "ধারয়ন্ গঙ্গাং স্পৃষ্ট্বা চ স্নাত্বা চ সলিলে নরঃ। তারয়েত্ পিতৃন্ সপ্ত সপ্ত চৈব পরান্ নরান্॥" বাংলায় যার অর্থ হলো- যে ব্যক্তি গঙ্গাকে ধারণ করে, তাঁকে স্পর্শ করে এবং তাঁর জলে স্নান করে, সে নিজের সাত পুরুষ পূর্বপুরুষ এবং সাত পুরুষ উত্তরপুরুষকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দেখুন এই প্রতিবেদন যারা ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারক বা বাহক নন, তাদের জন্য নয়। আমি এমন ধারার এক সহকর্মীর কাছে শুনেছি। তার মাতুল পরলোক গমন করায় তাঁর বাড়িতে মায়ের চাপে অশৌচ ব্রত রাখতে এক প্রকার বাধ্য হয়েছিলেন। কর্মসূত্রে তাঁকে বাড়ির বাইরে আহার গ্রহণ করতে হতো। হোটেলে গিয়ে তিনি অর্ডার করেন, আমাকে তেল, রসুন, পেঁয়াজ ছাড়া নিরামিষ মাংস দেবেন। এটাও একটা সংস্কার। ক'জন রাখতে পারেন!

ঠোঁটের কোনে হাসিতে ছিলো না হঠকারিতা, যতোটা ছিলো চলে যাওয়াতে: প্রসঙ্গ আশীষ স্যার দেবশ্রী মজুমদার

প্রথম দিকে যতটা সব কিছু সহজভাবে নিতে পেরেছিলেন, শেষের দিকে পারেন নি। তাই ঠোঁটের কোনে হাসির তরতফাৎ ছিলো। কংগ্রেসের টিকিটে ১৯৮৭ ও ১৯৯২ দু'বার পরাজিত হন আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষের বার নির্বাচনে লড়াই করতে গিয়ে স্ত্রীর গয়না বিক্রি করতে হয়েছিলো। দলে ক্রমাগত কোনঠাসা হয়ে তৃণমূলে আসা। তখনও হার মানেন নি। প্রকাশ্যে বলেছিলেন, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল ছাড়তে হয়েছিলো, আমি তো কোন ছার! এবার নির্বাচনে পরাজিত হয়ে, মমতার সঙ্গ ছাড়তে গিয়ে তাঁর হাসির সেই তফাৎ সহজেই ধরা পড়ে। অপমানিত আগে যে হন নি, তা নয়। অনুব্রত মণ্ডল তাঁকে প্রকাশ্যে "অপদার্থ" বলেন। মেনে নিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিপ্লোম্যাসি করে বলেছিলেন, পরে যে প্রশংসা করলো, সেটা দেখলেন না। এভাবেই সব মেনে নিয়েছিলেন। তখনই অনেক শুভানুধ্যায়ী বলেছিলেন, এর ব্যবস্থা না হলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। তখনও হাসি ছিলো। ইঙ্গিত ছিলো, সব সামলে নেব। মাঝে ভাইপো নিয়ে দলের অন্দরে ও বাহিরে প্রশ্ন ওঠায় দল থেকে তাকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ফের সেই ভাইপোকে এক প্রকার ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন। অনেকটাই সাবোতাজের আতঙ্কে, এমনটাই ছিলো বাতাসের আগের খবর। ২২ সালে রামপুরহাটে পুরনির্বাচনে পাঁচটি ওয়ার্ডে নমিনেশন করতে দেওয়া হয় নি। ২০১৮-২৩ পঞ্চায়েত প্রাক নির্বাচনেও, ছিল একই হুমকির রাজনীতি। একজন তাঁর কাছের লোকের কাছ থেকে শোনা, তিনি প্রথমে এটা মেনে নিতে পারেন নি। তার জন্য তাঁকে বলা হয়, খুব ভাগ্য ভালো যে তাঁকে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয় নি। তখনও দল ছাড়তে পারেন নি। রাজনীতি ছিলো রক্তে নেশা। সাইকেলে পাঁই পাঁই করে ঘুরতেন। বড়শাল, দেখুড়িয়া এসব রামপুরহাট লাগোয়া ছিল একরকম ভাতঘর। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রাতস্মরণীয় অভয়াপদ ভট্টাচাৰ্যর কাছে গেছেন। তাঁর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন। রামপুরহাট পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রায় সবাই তাঁর ছাত্র ছিলো। বড়াই করে বলতেন, সব গ্রামে আমার ছাত্র। ছাত্র অন্তপ্রাণ ছিলেন। কলেজে একটা দিন কামাই করেন নি। রামপুরহাট মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র ছাত্ররা আগেই বলে দিতেন, প্রথম দিনে কী কী বানান ধরবেন। তার মধ্যে দুই একটি হলো- কুজ্ঝটিকা ও ভুল। আগে থেকে জানা না থাকলে ভূল বানান করতো। বেঞ্চে দাঁড় করিয়ে বলতেন, ভুল বানানটাই ভুল করলি। কলেজে পড়া না পারলে শাস্তি পেতে হয়, তিনিই দেখিয়েছিলেন। মন্ত্রী হিসেবে কোন স্কুলে কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হলে প্রায়শই দেখতেন, প্রধান শিক্ষক তাঁর ছাত্র। বক্তৃতা দিতে উঠে ছেলের বাবাকে চিঠি লেখার একটা গল্প খুব বলতেন, "টাকা পাঠাইয়া প্রণাম নেবেন।" অর্থাৎ তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তহবিল থেকে কিছু দেওয়ার জন্য। কথাটা খুবই সত্যি। এটা সবাই খুব উপভোগ করতেন। আর তিনি খুব মজা করে মিষ্টি হেসে বলতেন। আরেকটি ঘটনা শোনা, তাঁরই এক স্নেহ ধন্যা ছাত্রী স্কুল শিক্ষিকার কাছে। বাড়িতে দোতলায় একটি ঘরে টিউশন পড়াতেন। সেই সময় অনেকেই বিভিন্ন কাজে আসতেন। সবার সাথে কথা বলতেন। কাউকে নিরাশ করতেন না। একবার এক বৃদ্ধা এসেছিলেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। সব কথা শুনলেন। আশ্বাস দিলেন। বৃদ্ধা দোতলা থেকে নেমে আবার ফিরে এলেন। আশীষবাবু জিজ্ঞাসা করলেন, সব কথা তো হলো। আবার কী? বৃদ্ধা বললেন, একটা কথা বলা হয় নি। আমার বাম কানটাতে একটু ব্যাথা হচ্ছে। যদি যন্ত্র নিয়ে একটু দেখে দিতে। আশীষ বাবু বুঝলেন বিভ্রান্তির জায়গা কোথায়। ভোট প্রচারে দেওয়াল লিখনে লেখা ছিলো ড. আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই চিহ্নে ভোট দিন। ব্যস্! বৃদ্ধার বিপত্তি "ড." শব্দকে নিয়ে। আশীষবাবু মজা করে হেসে হেসে বললেন, আসলে যন্ত্রপাতি সব সারাই করতে দেওয়া আছে। ছাত্র ছাত্রীরা হো হো করে হেসে উঠলো। বৃদ্ধা অবাক হয়ে তাকিয়ে নেমে গেলেন। ভাবলেন, এ কেমন ডাক্তার!

ব্যাঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ও রাজনীতি দেবশ্রী মজুমদার

শাস্ত্রে "শব্দ" পরম ব্রহ্ম। আর এটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে দেশের শাসক দল। শব্দকে অপমানজনক হিসাবে না নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক পরিচয়ে নয়া রাজনীতির জন্ম দিয়েছে ভারতে। যার গর্ভধারিনী সমাজ মাধ্যম। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় দেশে। ২০২৬ সালের ১৫-ই মে একটি মামলার শুনানির সময় একটি বিষয়ের পর্যবেক্ষণে তিনি কিছু সক্রিয়কর্মী ও বেকার যুবকদের "আরশোলা/ তেলেপোকা" ও "সমাজের পরজীবী" বলে অভিহিত করেছিলেন, যা তাৎক্ষণিক জাতীয় ক্ষোভের জন্ম দেয়। আদালতে বহু মামলা পেণ্ডিং থাকে। এরমাঝে কিছু ব্যক্তি সমাজকর্মী, আর টি আই কর্মী হয়ে আদালত অবমাননার মামলা করে আদালতকে ব্যস্ত রাখে। দেশের এই বেকার যুবক শ্রেণীর কথা তাঁর পর্যবেক্ষণে আসে। তবে সবার কথা তিনি বলেন নি। যেটুকু জানা গেছে, তিনি বলেন, "সমাজে ইতিমধ্যে পরজীবী আছে যারা ব্যবস্থার উপর আক্রমণ করে, আর আপনারা তাদের সাথে হাত মেলাতে চান? তেলাপোকার মতো তরুণ-তরুণী আছে; তারা কোনো চাকরি পায় না, এবং কোনো পেশায় তাদের স্থান নেই। তাদের কেউ মিডিয়া হয়ে যায়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া হয়ে যায়, কেউ আরটিআই কর্মী হয়ে যায়, কেউ অন্য কর্মী হয়ে যায়, এবং তারা সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করে... আর আপনারা অবমাননার আবেদন দায়ের করেন। ব্যস! তার ফলশ্রুতিতে জন্ম সি জে পি বা ককরোচ জনতা পার্টি। ২০২৬ সালের ১৬ মে 'আম আদমী পার্টি'র সাবেক সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে কোন সরকারি নিবন্ধনহীন দলের প্রতিষ্ঠা করেন। বিচারপতির তির্যক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এটি অনলাইনে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে, আন্দোলনটি গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ৩,৫০,০০০-এরও বেশি নিবন্ধন এবং ইনস্টাগ্রামে ২ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি অনুসারী সংগ্রহ করে। আরশোলার ছবি দিয়ে সবার এক ট্যাগ লাইন -"আমিও ককরোচ"।। রাজনীতিতে আগে একটা কথা প্রচলিত ছিল, কুকুরকে বদনাম করো, তারপর ফাঁসিতে লটকাও। এখন সেই শব্দকে ব্যাঙ্গাত্মক রসে চুবিয়ে বুমেরাং তৈরির করার চল এসেছে ভারতবর্ষে। এভাবেই স্ফিনিক্সের মতো ককরোচ জনতা পার্টির আবির্ভাব। তেলেপোকা বা আরশোলা পার্টি সমাজমাধ্যমে কতটা প্রভাবশালী সাম্প্রতিক কালে তার প্রমাণ মিলেছে। দিল্লির যন্তরমন্তরে তাদের আন্দোলনে দেশের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। একই ভাবে ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, সশস্ত্র নকশালবাদের অনেকাংশে অবসান ঘটলেও ‘দিমাগি নকশাল’ বা মানসিকতার দিক থেকে নকশালপন্থী লোকজন এখনো সমাজে সক্রিয় রয়েছে এবং তারা অরাজকতা তৈরির সুযোগ খুঁজছে। প্রতিক্রিয়ায় পি চিদাম্বরম, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মহুয়া মৈত্র প্রমুখ বিরোধী নেতা এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। পি চিদাম্বরম ব্যঙ্গ করে বলেন যে, তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ হতে পেরে গর্বিত। সামাজিক মাধ্যমে রিজিজু জানান, ‘দিমাগি নকশাল’ বলতে মূলত তাঁদেরই চিহ্নিত করা হয়েছে যাঁরা মাওবাদীদের সমর্থন করেন ও ভারতীয় সংবিধান অস্বীকার করেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়িয়ে ৩৭০ ধারাকে সমর্থন জানান এবং দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করতে চান। কিন্তু, এই ব্যাখ্যা খুব কাজে দেয় নি। প্রধানমন্ত্রীর 'দিমাগি নকশাল' শব্দটি ব্যবহার করার পর সেটিকে ঘিরে একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল-মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইন পার্টি তৈরি হয়েছে। “Dimagi Naxal Party” নামে ইনস্ট্রাগ্রামে পেজ তৈরি হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১.৮১ লক্ষ অনুসারী পেয়ে যায়। হিন্দুস্তান টাইমসের কথা অনুযায়ী, তাদের স্লোগান/মোটো হিসেবে “থিঙ্ক, রিসার্চ, রেজিস্ট” ব্যবহার করা হয়েছে। পেজে মিম, ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিক্স, রিল, কবিতা ও রাজনৈতিক মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগ তুলে নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। 'স্কুল ঠিক করো' দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে সিজেপি। সরকারি স্কুলগুলোর বেহাল পরিকাঠামো ঠিক করার দাবিতে স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকে "স্কুল ঠিক করো" অভিযান শুরু করেছে তারা। এই আন্দোলন এখন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এমনকি ফ্রন্টলাইনের মতো ম্যাগাজিনে তাদের কার্যকলাপ স্থান করে নিয়েছে। সমর্থকদের ফ্রি লিগ্যাল এইড দেওয়ার জন্য ওয়েবসাইট খুলে বসেছে। এখন রাজনৈতিক নেতারা সচেতন না হলে, নিত্যনুতন রাজনৈতিক দলের জন্ম হবে অনলাইনে। নেতাদের কেউ কেউ খোলা মঞ্চে গালিগালাজ করেন। সাবধান! ওপেন ফোরামে "শালা" পর্যন্ত বলবেন না। তখন দেখবেন, "আমি ও ককরোচ বা দেমাগি নকশালের" মতো, বলবে, "আমিও শালা"। বলতেও পারে, আমিও আপনার শালা। তাই, সাবধান!

শিব দেব ঋষি

মস্তিষ্ক শিখরে স্থির আছে অজেয় ধীর সহস্র পাপড়ি যার অটল শিব। কৈলাস মস্তিস্কে নীড় নিষ্কম্প সুগভীর নিরাকার নির্বিকার পশুপতি জীব। পুত পুত জাহ্নবী ধারা শতদ্রু, সিন্ধু, ঘাঘরা শিব জটাজালে বহে শিরায় শিরায়। উদ্বাহ প্রেম উন্মুখ যারা নিত্যপুষ্প সুরভিতে তারা আপনে আপনি হারায়। যত দেবদেবী এ বাসরে শত গন্ধর্ব যক্ষ কিন্নরে যত গায় আজি যত গীত। তার চেয়ে ও পুষ্প শাখী শুক সারি আর পাখি চন্দন চর্চিত চিত। দুহাতে পাশরি যত শত নুড়ি বন বীথিকায় যত স্থানু কঙ্কর সবার মন পথে কত মোড় ঘুরি স্থির আজও তিনি অটল শঙ্কর।।

দীর্ঘ জীবন, মৃত্যু নাতিদীর্ঘ, আমাদের মাস্টারমশাই দেবশ্রী মজুমদার

একটা মানুষ, শত শত মানুষকে জড়িয়ে ছিলেন। মহীরুহ পতন হলে, বাসা পড়ে থাকে পাখি সব উড়ে যায়। মানুষের স্মৃতি শুধু দূর্বল নয়, স্বার্থপরও বটে। শুধু নিজের দাবি মেটাতে, রক্ত মাংসের মানুষকে অতিমানবীয় বানানো হয়। এটাই সমাজের মৃত্যু। কিন্তু যার জীবন একান্ত, তার খেয়াল কে রাখে! গুটি কয় বলতে পারে, "তোমার পরশ নাহি আর। কিন্তু কী পরশমণি রেখে গেছো অন্তরে আমার। সঙ্গীহীন এ জীবন শূন্যঘরে হয়েছে শ্রীহীন। সব মানি- সবচেয়ে মানি, তুমি ছিলে একদিন।" (মৃণালিনী দেবীকে উদ্দেশ্য করে, রবীন্দ্রনাথ লিখে ছিলেন।) দেখলাম না, প্রকাশ্যে একটা শোক মিছিল, কোনো বড় শ্রদ্ধাবাসর। শুধু তরুণের আহ্বান ছাড়া। কেন? মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী। পরিবারে বড় ভাই লক্ষ্মীদাস গান্ধীর চাপে চার্লস অলিভান্টের কাছে গেছিলেন। কিসের জন্য? পারিবারিক ইজারা টিকিয়ে রাখার সুপারিশ করতে। এমন বিখ্যাত মানুষকে অলিভান্ট প্রথমে চরম সম্মান জানিয়ে অভ্যর্থনা জানান, কিন্তু পরে যখন গান্ধীজির আসার কারণ জানতে পারেন, রেগে গিয়ে পিওন দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন। গান্ধীজির মাই এক্সিপেরিমেন্ট উইথ ট্রুথ গ্রন্থে তার উল্লেখ আছে। এমনকি ক্রু বন্ধুর সঙ্গে জাহাজ থেকে নেমে বন্ধুর অনুরোধে এমন জায়গায় গেছিলেন, যা কহতব্য নয়। যদিও তিনি কোনো অন্যায় না করে সেখান থেকে বের হয়েছিলেন। এগুলো মনে করিয়ে দেয়, কোনো মানুষের ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও, তার গুণের জন্য সম্মান জানানো যায়। এটা আমার কথা নয়। মার্ক টোয়েনের। এই যোগ্যতা আমাদের দেশে কবে আসবে? তাঁর ভুল ছিলো। অপরাধ ছিলো কি? যদি বার বার একই ভুল হয়, সেখানেও শিক্ষক সত্বা কাজ করেছে। এতটা ক্ষমাশীল না হলেও পারতেন। একবার এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে এক গ্রামবাসী মন্দিরের নাটমন্দির পুন:সংস্কারের কথা তুললেন। আশীষ বাবু, সেই গ্রামের এক টি আর ডি এ সদস্যের নাম ধরে বললেন, এখনও পর্যন্ত আগের খরচের হিসাব দিলে না। আর অর্থ কী করে দেব? সদস্য তাঁর ছাত্র ছিলেন। তিনি কী করতে পারতেন? কড়া শিক্ষক হতে পারতেন। হতে পারেন নি। আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতেন। না নেওয়ার দুটো কারণ থাকতে পারে। এক, ছাত্র স্নেহ। দুই, দলীয় চাপ। এখন দেখার, তিনি পাঁচ পাঁচটা টার্ম জনগণের কাজ কতটা করেছেন? সেই কাজ আমাদের চোখের সামনে। শুধুমাত্র রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির জন্য, তাঁকে রামপুরহাট মহকুমা সহ জেলার মানুষের মনে রাখার কথা। আসলে, সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জল্পনার জগৎ উপহার দিয়েছে। জল্পনা, বাতাসের আগে ছোটে। তাই কি তিনি আজ ব্রাত্যজন? তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন কি তাই শুধু দায়সারা? আত্মহনন, ঠিক কি বেঠিক - অন্য প্রসঙ্গ। আমাদের মনের গহিনের সন্ধান আমাদের কাছে নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মানুষ যা ভাবতে পারেন, তার ব্যাখ্যা আমরা কী দিতে পারি!

জাতীয় শিক্ষা নীতি ও কান কাটা রাজার দেশ: দেব ঋষি

কানার দেশে ফলি পড়া রাজা।‌ এই প্রবাদ শুধু এক চোখো রাজার কথা বলে না। মনে পড়িয়ে দেয় অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "কানকাটা রাজার দেশ" এর কাহিনী। কাক যখন রাজার কান নিয়েই পালিয়েছে, এবং যখন প্রজাদের যথাক্রমে এক কান, দুকান কাটা তখন- ব্লা ব্লা কানের সামাজিক মর্যাদা কিস্যু নেই।। এই ভেবে কিছু আকাট বিরোধী মুখ্খু ছাড়া কেউ মুখ খুলবে না এটা স্বাভাবিক। এই জাতীয় শিক্ষা নীতি নিয়ে আগের পর্বে যা বলেছি তা শোকেসের স্টক রেজিস্ট্রার দেখে বলেছি। এর বাইরে কত কী আছে জানা নেই। সব থেকে বেশি আলোচিত বিষয় হলো জাতীয় শিক্ষা নীতি 2020 -র নিম্ন লিখিত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টস:- 7.4 & 7.5: Consolidation of schools = বিদ্যালয়গুলির একত্রীকরণ। Group schools = বিদ্যালয়গুলিকে গুচ্ছবদ্ধ করা। Rationalize schools = বিদ্যালয়গুলিকে যৌক্তিকভাবে পুনর্বিন্যাস করা। Shared or otherwise = যৌথভাবে ব্যবহৃত হতে পারে বা অন্য ব্যবস্থায় থাকতে পারে। Devolving decisions = সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অর্পণ করা। Integrated semi-autonomous unit = সমন্বিত আংশিক-স্বায়ত্তশাসিত একক। এর সরল অর্থ সোজা ভাষায় বলতে গেলে শিক্ষার বেসরকারিকরণ করা। ( তাতে সরকারি বিনিয়োগ থাকবে। সরকারি কোম্পানির মাধ্যমে। ) যে সমস্ত বিদ্যালয় রুগ্ন বলে মনে হবে। অর্থাৎ ছাত্র শিক্ষক অনুপাত ৩০:১ নেই। সেক্ষেত্রে "ইদার অর" যুক্তিতে বিদ্যালয়গুলির একত্রীকরণ শুধু সময়ের অপেক্ষা। বিদ্যালয়গুলিকে গুচ্ছবদ্ধ করে একটি ইউনিট করা হবে। সরকারি আইনের জালে আপনি কী বলবেন? আপনি তো এক ইউনিটের মধ্যেই থাকবেন। যেমন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি এক একটি চক্রের অধীন। সেই নিরিখে বিদ্যালয়গুলির যৌক্তিকভাবে পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেগুলো যৌথভাবে ব্যবহৃত হতে পারে বা অন্য ব্যবস্থায় থাকতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অর্পণ করা হবে বেসরকারি সংস্থার হাতে। এটা প্রথমেই হবে এমনটা নয়। আবার শুধুমাত্র সংস্থার হাতেই থাকবে তা নয়। কারন পুরো বিষয়টি হবে "সমন্বিত আংশিক-স্বায়ত্তশাসিত একক"। এতক্ষণ আমি হাতির ভিতরের দাঁত দেখালাম। যা খুব কার্যকরী। এবার বাইরের দাঁত দেখাবো। সেটা কেমন? ১) আমাদের সনাতনী ভারতীয় সংস্কৃতির শিকড়ে যেতে হবে। ২) জাতীয়তাবাদ গড়ে তুলতে হবে। ৩) মুঘলদের ভালোর পাশাপাশি, খারাপ দিকও তুলে ধরতে হবে। অবহেলিত হিন্দু সহ অন্যান্য অমুসলিম ইতিহাসকে ইতিহাসে স্থান দিতে হবে। আবার ফিরে আসি অবন ঠাকুরের কথায়। বড়লোকদের এক কাটা ছিল, মেয়েদের আধখানা, আর গরিব-দুঃখী ও পশুপাখিদের দুই কানই কাটা ছিলো, কানকাটা রাজার দেশে। সমাজজুড়ে সবাই এখন তাদের এই কান কাটা রূপ লুকাতে কেউ লম্বা চুল রাখতে শুরু করেছে, কেউ বড় পাগড়ি বা টুপি পরছে।রাজার আসল রহস্য, রাজ্যে কেবলমাত্র তারই দুটো আস্ত কান ছিল, তা নয়, কাক, রাজার এক কান চুরি করেছে। আর এক চোখে দেখা কানা রাজা কানে শুনছে। তাই কিছু বিভাগের বিদ্যালয় তিনি তুলবেনই। চালু করবেন নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা। সেটা এজেন্সীর মাধ্যমেই। যা আগের সরকার করেছিলো, সেটাই হবে। শুধু পদ্ধতি আলাদা। প্রথম কোপ স্টেট এইডেড ভোকেশনাল সেন্টারের উপর। শাসকদল পরিচালিত সংগঠন চেষ্টা করবে তাদের মতো। কিন্তু বসের বিরুদ্ধে যাওয়া তাদের কম্ম নয়। এখন প্রশ্ন : NEP 2020 শিক্ষাকে মহার্ঘ্য না মহার্ঘ করবে? বানানে শুধুমাত্র য-ফলার তফাৎ। বিরোধীদের অভিযোগ, শিক্ষায় বেসরকারি বিনিয়োগ ডেকে নিয়ে এসে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারিকরণ করতে চাইছে। বেসরকারি এজেন্সী ও কোম্পানিকে অনুরোধ করা হবে অভাবী ছাত্র ছাত্রীদের বিষয়টা দেখতে। তারা ব্যবসা করতে আসবে। দান খয়রাতি করতে আসবে না। সরকার নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলো এবিষয়টা দেখতে পারে। সেক্ষেত্রেও শিক্ষা নামক বস্তুটি মহার্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দ্বিতীয়টি আরও মারাত্মক। আগেই বলেছি, যে সমস্ত স্কুলে শিক্ষক ছাত্র অনুপাত ঠিক নেই। সেই সমস্ত স্কুলকে একত্রীকরণ করতে হবে। এখানেই স্ববিরোধিতা আসছে। যেখানে নতুন স্কুল স্থাপনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে পুরানো স্কুল তুলে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। শিক্ষকরা দূরবর্তী এলাকায় শিক্ষকতা করতে যেতে পারেন। ছাত্র ছাত্রীরা স্থানীয় স্কুলে যেতে চায় না, দূরবর্তী স্কুলে কি যাবে? মনে হয় না। 2030 সাল স্থির করা হয়েছে ড্রপ আউট কমিয়ে পেশাভিত্তিক শিক্ষা পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আমেরিকা বা জার্মানির মতো উন্নয়ন করবে। প্রসঙ্গত আমেরিকায় ৫১ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৭৫ শতাংশ। এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভারতে বর্তমান ৫ শতাংশ পেশা ভিত্তিক শিক্ষা আরও নেমে যাবে। আর তাই গোঁড়া থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রবর্তন। কিন্তু নিচু ক্লাস থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা সম্ভব? তারপরে যখন খুশি ছেড়ে আবার শিক্ষা বর্ষে যোগ দেওয়া সম্ভব? মনে হয় না। NEP 2020 - র আরেক অসঙ্গতি: বয়স অনুযায়ী পূর্বের দ্বি স্তরীয় শিক্ষা ব্যবস্থার থেকে চার স্তরীয় শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো। কারণ CCE বা শিশুকল্যাণ দিয়ে অঙ্গনওয়ারীতে তিন বৎসর থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেখানে পুষ্টি দেখা সহ সব কিছু পরিকাঠামো নিম্ন মানের। NEP 2020 তে শিকড়ের খোঁজ ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়েছে: শিকড়ের খোঁজ অবশ্যই দরকার। বিভিন্ন ভাষা, ধ্রুপদী শিক্ষা, খেলাধুলা, অঙ্কন সব জরুরি। তবে বিজ্ঞান সর্বাগ্রে। পুষ্পক রথ একটি সুন্দর কল্পনা। কিন্তু ওই রথের আকাশে ওড়া অবৈজ্ঞানিক, বলতে হবে। রাইট ব্রাদার্সদের কৃতিত্ব বড়ো করতে হবে। শিক্ষায় যেন ভুল না থাকে। ইতিহাস নিশ্চয়ই সব কিছু তুলে ধরবে: ইতিহাস অবশ্যই অবহেলিত কথা তুলে ধরবে। তবে কোনো কিছু বাদ দিয়ে নয়। জওহরলাল নেহেরুর যতই সমালোচনা থাক, তাঁর পাণ্ডিত্য প্রশ্নাতীত। একবার ছাত্রাবস্থায় নেহেরু তাঁর শিক্ষককে বলেন, ইংরেজরা অত্যাচারী। আমাদের পরাধীন করে রেখেছে। তাদের ইতিহাস পড়বো কেন? শিক্ষক বলেন, তুমি না পড়লে তাদের কোন যায় আসবে না। তুমি পিছিয়ে থাকবে। এটা মনে রাখা দরকার।

"নেতাজি বনাম শ্যামা প্রসাদ" -রাস্তার নাম পরিবর্তনের গিমিক রামপুরহাটে দেবশ্রী মজুমদার

বেশি দিনের ঘটনা না। ৬ জুলাই রামপুরহাটের একটি পুরাতন রাস্তার নাম ছিলো নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। সুভাষ নামাঙ্কিত রাস্তাটি বদলে শাসকদল ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় রাখলেন। এই নাম পরিবর্তন একটি সরকারি পদ্ধতির মধ্যে হয়ে থাকে। সময় সাপেক্ষ। কিন্তু যে ঘোষণায় কমলা উত্তরীয় পরিহিত পুরপিতা সৌমেন ভকত এবং বিধায়ক ধ্রুব সাহা উপস্থিত থাকেন। তার একটা গুরুত্ব থাকে। আর সেখানেই বিতর্ক। রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড় থেকে ঝনঝনিয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার নতুন নাম ঘোষণা করা হয় শাসক দলের পক্ষে। এই রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয় ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড’। ইতিমধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ছ’টি নামফলক ও কাট-আউট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই রাস্তার সঙ্গে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানানো হয়েছে, তেমনি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থারও আরও উন্নয়ন হবে। নাম বদলের এই রাজনীতির ঘা, নেতাজিকে ছুঁতে পারবে না, তিনি তো হৃদয়ে, আমরা সবাই জানি। ১৯৩৯ সালের ১৯ আগস্ট মহাজাতি সদনের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে দেশ নায়ক অভিধায় ভূষিত করেন। এটাও স্পষ্ট করে বলি, ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান কোন অংশে ছোট করে দেখার নয়। তাঁর অবদান কারো থেকে কোনো অংশে কম নয়। দেখুন, তালাত মাহমুদের কাঁপা গলায় গান, আমার ভালো না লাগতেই পারে। তার পরিবর্তে লতা মঙ্গেশকরের গান বহু গুণে ভালো লাগতেই পারে। কিন্তু এটা জানা দরকার, লতাজীর অন্যতম প্রিয় গায়ক ছিলেন তালাত মাহমুদ। তিনি তাঁর গান শুনতে ভালো বাসতেন। মতাদর্শের পার্থক্য থাকা সত্বেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নেতাজিকে কতটা শ্রদ্ধা করতেন, তাঁর লেখা ডায়েরির পাতা থেকে উদ্ধৃতি দিলে পরিষ্কার হবে। তিনি বলেছেন, "আমরা—বিশেষ করে আমি—সুভাষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ পোষণ করতাম না। বরং তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ ছিল। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতাম যে, ভারতের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, বিশেষত বাংলায়, তাঁর সমকক্ষ আর কেউ ছিলেন না।" এখন প্রশ্ন, এই নাম পরিবর্তন আসলেই কি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সম্মান প্রদর্শন করা হলো? নাম বদল, রঙ বদল, ভোল বদল, পালা বদলের পরেও কতটা প্রাসঙ্গিক, রাজনীতিকরা কি এব্যাপারে কোনোদিন ভাববেন না? না, মানুষের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করবেন না? প্রশ্ন থাকলো। হিন্দু সভা নিয়ে যেমন নেতাজির ব্যক্তিগত মতামত ছিলো। তিনি হিন্দু সভার রাজনৈতিক মতাদর্শের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট সঙ্গী হওয়ার বিরোধী ছিলেন। নেতাজির রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু চিত্ত রঞ্জন দাসের স্বরাজ্য দল ১৯২৩ সালে যে বেঙ্গল প্যাক্ট এনেছিল। ইন্টারনেটে সার্ফ করলে বোঝা যাবে তখন কার দিনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি কী ছিলো। এই গোটা বেঙ্গল প্যাক্টকে মৌলনা আবুল কালাম আজাদ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, তাঁর ইণ্ডিয়া উইনস ফ্রিডম গ্রন্থে। তিনি বলেছেন, বেঙ্গল প্যাক্ট অনুসারিত হলে, দেশের বিভাজন থেমে যেতো। তিনিও মৌলবাদের শিকার হন। ট্রেন থেকে তাঁকে নামিয়ে মুখে কালিঝুলি মাখিয়ে দেন চরমপন্থীরা। দূর্ভাগ্যের বিষয়, তাঁরা ছিলেন নিজের সম্প্রদায়ের মানুষ। নেতাজিও ছিলেন চরমতম অসাম্প্রদায়িক মানুষ। আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাবাহিনীর খাবার পরিবেশনে ঝটকা মাংস ও জবাই মাংস মিশিয়ে দিয়ে বলতেন, হিন্দু মুসলিম উভয়ের জাত মেরে দিলাম (সুভাষ ঘরে ফেরে নাই)। সেই নেতাজির নামাঙ্কিত রাস্তা পরিবর্তন হলে সবাই ব্যাথা পাবেন, এটাই স্বাভাবিক। প্রতিবাদ না হওয়াটা অস্বাভাবিক। এসইউসিআই দলের বীরভূম জেলা সম্পাদক মদন ঘটক এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বিকৃত করার উদ্দেশ্যেই জাতীয় নেতাদের গুরুত্ব খর্ব করার চেষ্টা চলছে। নেতাজির নামে দীর্ঘদিনের একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেরই অংশ বলে দাবি করেছে তাদের দল। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু নেতাজির স্মৃতির প্রতি অসম্মান নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের প্রতিও আঘাত। এসইউসিআই অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে 'নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু রোড' নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত উদ্ধৃতি থেকে জেনে নিই, বিজেপি কী ভাবছে, কতটা ভাবছে? বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি ঠিক জানা নেই। তাই না জেনে মন্তব্য করবো না।

আইনের ফাঁস এড়াতে দল পরিবর্তন, "মূর্খের স্বর্গ বাস", সুকান্তর বরাভৈ দেবশ্রী মজুমদার

সম্প্রতি আর জি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত অধুনা লটারি কাণ্ডে জেল যাত্রার আশঙ্কা থেকে ঋতব্রত তৃণমূল বৈঠকে হাজির হন। সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে ভাবছেন বেঁচে যাবেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। হয়তো সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন। আমরা সবাই জানি, সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে নরক বাস। বর্তমান সরকারের আমলে মূর্খের স্বর্গ বাসের প্রকৃত রূপ কী হবে জানা নেই। সৎ ও অসৎ বিষয়টি বেশ গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। তবে নির্মলদের মতো এই মূর্খ -চতুরদের ক্ষেত্রে পৃথক ফল স্বাভাবিক কিনা, আজ হোক,বা কাল হোক, ক্রমশ প্রকাশ্য। যদিও সুকান্ত মজুমদারের বরাভৈকে বিশ্বাস করতেই হবে। কারণ এই সরকার মাত্র কয়েক মাস এসেছে। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অভয়ার মা প্রথম থেকেই সরব ছিলেন। পূর্বতন মমতা সরকার অভয়া কাণ্ডে আসল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থায় নেয় নি। এমনকি তার ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে দলীয় প্রার্থী করে দেয়। তাই অভয়ার বিচার চাইতে মা রত্না দেবনাথ মানুষের আশীর্বাদ চান এবং তা পেয়ে আজকে পানিহাটির বিধায়িকা। বিধান সভার প্রথম দিনে অভয়ার কথা বলতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেন রত্না দেবী। আর জি কর ফাইলস খোলে সরকার। বিষয়টি সিবিআইয়ের অধীন। অবশ্য কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সাত দিনের মধ্যেই কিছু একটা হবে আশা ছিলো তাঁর হয়তো বা। ১১ জুলাই নির্মল ঘোষ ফের খবরের শিরোনামে। লটারি মামলা থেকে বাঁচতে ঋতব্রত তৃণমূলের বৈঠকে যোগদান করেন তিনি? কেউ কেউ বলছেন, তিনিও কি তবে ভালো তৃণমূল হওয়ার পথে? আমরা রাজ্যবাসী সবার ভালো চাই। এমনকি "সবাই ভালো হোক" চাই। তবে নির্মল ঘোষের মতো লোক যেন ভালো না হন, এটাই চাই। "ভালো" বলতে 'ভালো তৃণমূল'। এই 'ভালো তৃণমূল' ট্যাগ একবার হয়ে গেলে, গরিব গাড়ি চালকটি ডিয়ার লটারির ১ কোটি টাকা ফেরৎ পাবেন না এবং সর্বোপরি রত্না দেবীর জীবনের লক্ষ্যটাই হারিয়ে যাবে। তবে সুকান্ত বাবু, সকলকে আশ্বস্ত করেছেন দোষীদের বিজেপিতে পুনর্বাসন হবে না। ঋতব্রত তৃণমূলে যে কেউ যেতেই পারেন। তবে, নির্মল ঘোষের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এমনটাই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠিত সত্য যে নির্মল ঘোষ লোকটি সহজ খেলোয়াড় নন। কারণ তিনি ঋতব্রত -তৃণমূলের তপসিয়া বৈঠকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছাব্বিশের প্রাক নির্বাচন সময় কালে রত্না দেবনাথের মুখে ভয়ঙ্কর কথা ছিলো, "প্রশাসনিক ক্ষমতায় না থাকলে, মেয়ের বিচার পাবো না।" গণতন্ত্রের বিপক্ষে এমন বিপদজনক শব্দ আর হয় না। তাহলে অসাধারণ না হলে, ধর্ষিতা বিচার পাবে না। এর থেকে ভয়ঙ্কর আর কী হতে পারে? এক্ষেত্রে রত্নাদেবী সঠিক বিচার না পেলে তিনি, তাঁর পরিবার, রাতের রাস্তা যারা দখল করেছিলো এবং সমগ্র রাজ্যবাসী এক নুতন দৃষ্টান্তের সাক্ষ্মী হবেন। যা হবে খুবই হতাশাজনক। সবাই জানে, আর জি কর মেডিক্যালে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের। আর জি কর মেডিক্যালের নিহত চিকিৎসক যেখানে থাকতেন, তিনি সেখানকারই বিধায়ক। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, নির্মল ঘোষের তত্ত্বাবধানেই হাসপাতাল থেকে দেহ বের করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। ধর্ষণ-খুনের পর তাড়াহুড়ো করে দাহ করে ফেলা হয় চিকিৎসকের দেহ। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ। তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক অভিযোগ অস্বীকার করলেও চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের তদন্তে তাঁকে তলব করে সিবিআই। 'কালীঘাট-তৃণমূল' ছেড়ে এখন সেই নির্মল ঘোষ 'ঋতব্রত তৃণমূল'-র তপসিয়ার বৈঠকে আসায় অনেক বিতর্ক জন্ম দিয়েছে। তবে সেই জল্পনায় জল ঢালার চেষ্টা করেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। নির্মল ঘোষের কথায়, তিনি বৈঠকে আসেননি। জাভেদ খানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেপাত্তা থাকার পর হঠাৎ উদয়। এতদিন কোথায় ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তা কেউ জানেন না। লটারি প্রতারণা মামলায় ধরপাকড় শুরু হতেই কি তবে তাঁর এই শিবির বদল? 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর বৈঠক চলাকালীনই হাজির ছিলেন নির্মল ঘোষ। যদিও নির্মল ঘোষের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সুকান্তবাবুরাও ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের বক্তব্য দেবেন। শীর্ষ নেতৃত্ব যা বলবেন, তাই করতে বাধ্য হবেন। তারপর একটা ব্যাখ্যা দেবেন। তবে আপাতত পরকীয়া প্রেম নিয়ে ছোঁক ছোঁক না দেখিয়ে এমন ভাব যেন,অতি পীরিত যেখানে, নিত্য যাবে না সেখানে”।

আসল বেইমান বনাম নকল বেইমান : খানদানি জি আই ট্যাগ কার? দেবশ্রী মজুমদার

আসল বনাম নকল লড়াই আছেই। তার জন্যে কেউ ঠকে, কেউ জেতে। কিন্তু বেইমানিতে কে আসল, এমন চ্যালেঞ্জ কদাচিৎ ঘটে। পাড়ার “মীরা বৌদি”-রা সাধারণত এরকমটি করে থাকেন। লীলা মজুমদারের চোর গল্পে চোরের নাম নেই। এখানে বেইমানেরও নাম নেই। সম্প্রতি বিধান সভার প্রেস কর্ণারে সাংবাদিক বৈঠক করে এই খানদানি বেইমানির জিআই ট্যাগ নিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রদর্শনী হলো। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বলেন, ‘ এক কোম্পানির সদ্য অভিষিক্ত ম্যিনেজিং ডিরেক্টর তথা প্রাক্তন সাংসদ নাকি দশ হাজার টাকা চাঁদা দিতেন। কিন্তু হাজার হাজার কোটির দুর্নীতি নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, সব খরচের পরে আরও ৩০ কোটি ছিল। এক জনের কাছে রাখা হয়েছিল কোথাও বিনিয়োগ করার জন্য। এই চিঠি দল তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর তখন থেকেই সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল। দলের সাংসদ সেই সময়ে কি বেইমানি করেছিলেন?’ প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেওয়া হলো কোন এক কর্ণারে। সেটি খপাৎ করে ধরে নিলেন সেই কোন এক প্রাক্তন সাংসদ। যিনি অবলীলায় বলে ফেললেন, আমার ধারণা দিদির ওই চিঠি পড়ে মুখস্থ হয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেন, তিনি প্রথম হুইসেল ব্লোয়ার। মুখে না বললেও, অভিব্যক্তি হলো, তিনি বেইমান নন। দলের দুর্দিনে পাশে আছেন এবং সমানে দলকে ডিফেণ্ড করে যাচ্ছেন। দলকে মাসিক চাঁদা দিয়ে গেছেন। ঋতব্রত কোন ভাবেই সেই আসল বেইমানের নাম মুখে আনলেন না।তবে আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন অনেকটাই। তাঁকে নাকি সেই উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি একবার কুইজ মাস্টার বলেছিলেন। যাইহোক, অনেকটা কুইজ মাস্টারের মতোই, বেশ কিছু হিন্টস দিলেন, সকলের সুবিধার্থে। এর পরেও, যদি কোন নিন্দুক বলেন, আমি মুখ্খু সুখ্খু মানুষ, নামটা খোলসা করে বলুন না? তাহলে দাদা, আপনি এই লাইনের-ই লোক না। বলা হলো, তৃণমূলের প্রাক্তন এক সাংসদ প্রায় এক দশক আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিবিআই ডিরেক্টরকে ৯১ পাতার চিঠি লিখে জোড়াফুল দলকে তুলে দেওয়ার সলতে পাকানোর কাজ শুরু করেছিলেন। দু'দিন ধরে সেই চিঠি পড়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যেন প্রশংসা করে বললেন, সামান্য দুই একটা জায়গায় কাটাকুটি। তার পড়তে কোনো অসুবিধা হয় নি। বিরোধী দলনেতা তিনি। তাই খুব দায়িত্বের সাথে বলেন, ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চিটফান্ডের টাকায় চলেন। চিট ফাণ্ডের সব থেকে বেনিফেশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, মোবাইলের স্টোরেজ থেকে সেই ঐতিহাসিক চিঠির সাবহেড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা অংশ বিশেষ কোট আনকোট পাঠ করলেন। যেটি বন্দি কালে লেখা হয়েছিলো এবং যার প্রতিলিপি কোনো সখা, কোন সাংবাদিকের কাছে শেষ বয়ান হিসেবে পাঠানো হয়েছিলো। সেই চিঠিতে, অমুক ব্যক্তি, তমুক ব্যক্তিকে চিটফান্ড উদবৃত্ত ৩০কোটি টাকা অন্যকোনো জায়গায় লগ্নি করতে বলেছিলো। অমুক ব্যক্তির নামটা ঋতব্রত উহ্য রাখেন। তবে মি. সেন নামটাও একবার বলেন। এরপর হেসে হেসে বলেন, এই চিঠি যদি ওই প্রাক্তন সাংসদ দিদিকে না দেখান বা পাশে বসে কোনো কোনো কাটাকুটির জায়গায় পড়তে সাহায্য না করেন, তাহলে ১৫ দিন পর, সেই চিঠি ক্যুরিয়ার করে থ্রি বি হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে পাঠিয়ে দেবেন। তারপর সমস্ত সংবাদ মাধ্যমকে সরবরাহ করে দেবেন। অর্থাৎ পাবলিক করে দেবেন। এসব শুনে মনে হয়েছিলো, বাছাধন। ঘুঘু দেখেছো, ফাঁদ দেখো নি। এই জন্যই বলে, শতং বদ, মা লিখ। যদিও প্রাক্তন সাংসদ বা ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাত্তা দিলেন না। অর্থাৎ তির নিক্ষেপ হলো। কিন্তু হিট হলো না। এ তো আর ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি ফাঁস নয়। অন ক্যামেরায় এসব কথা মানুষ আগেই শুনেছে। তাই যে কেলেঙ্কারির জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ আগস্ট Richard Nixon রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, তা হবে না। তেনার ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ খায় কে? তবে ঋতব্রতদের এই ফ্রন্টাল এ্যাটাকে নামহীন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নিশ্চয়ই ব্লোব্যাকে যাবেন না। তবে, রাগ তো হবেই। সায়নীকে বেইমান শুনতে হয়েছে। শতাব্দী রায়, নিজের এলাকায় এসে দিদির সাথে আছেন, বলেছেন। আবার এন সিপি আইয়ের কথা মুখে একবার বলেছেন। তবে, সেই দল মাথায় দেয় না কোথায় দেয়, কেউ জানে না। সবার ভয় 'ডিম' ও 'বেইমান' শব্দকে। তাই তো ঋতব্রত নাম না করে বলছেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর-ই, আসল বেইমান। আর তাঁর ম্যানেজিং ডিরেক্টর? তিনিও বলছেন, কোন প্রতীকে জিতেছেন? কার দেওয়া প্রতীকে জিতেছেন? নিজের এলাকায় মানুষের কাছে যান না? শুধু মুখে বলেন নি, ভাতারের ভাত খায়, নাঙ্গের গুণ গায়।।

ওয়াশিং মেশিন v/s জার্মান স্মার্টার ড্রাম, এ যেন মজার প্রহসন রাজ্যরাজনীতিতে দেবশ্রী মজুমদার

রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতিতে ওয়াশিং মেশিনে ধোপদস্তুর হওয়া নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে AAP অভিযোগ তোলে যে বিজেপি “washing machine campaign” চালিয়ে অভিযুক্ত নেতাদের দলে নিচ্ছে, আর ২০২৬ সালে AAP-র কয়েকজন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কংগ্রেস আবার এই ব্যঙ্গ ফিরিয়ে আনে । পশ্চিমবঙ্গেও এই শব্দটি শোনা গেছে; ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে “ওয়াশিং মেশিন” বলে কটাক্ষ করেন, এবং ২০২৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেস-বিক্ষোভে আবার “ওয়াশিং মেশিন রাজনীতি”র অভিযোগ ওঠে। ওয়াশিং মেশিন তত্ত্ব’ বলতে মূলত বিরোধীদের এই অভিযোগকে বোঝানো হয় যে, বিজেপিতে যোগ দিলে অন্য দলের দুর্নীতির অভিযোগ চাপা পড়ে যায়। এই তত্ত্বের সমর্থনে সাধারণত বিজেপিতে যোগ দেওয়া অন্যান্য দলের নেতাদের উদাহরণ দেওয়া হয়, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের এনসিপি ও শিবসেনা-ঘনিষ্ঠ নেতাদের নাম ঘুরে ফিরে আসে । অজিত পওয়ার-কে প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে আনা হয়, কারণ বিজেপি-ঘনিষ্ঠ জোটে যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে “ক্লিন চিট” বা নরম অবস্থানের প্রসঙ্গ টানা হয় । বিরোধীদের বক্তব্যে “বিজেপিতে যাওয়ার পর তদন্তের গতি কমে যায়” — এই যুক্তি দেখাতে অন্যান্য রাজ্য/দলের শীর্ষ নেতাদেরও উল্লেখ করা হয়, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল । অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুত্ব হারায়—এই দাবিই “ওয়াশিং মেশিন” প্রতীকের ভিত্তি। তবে রাজ্য রাজনীতিতে ওয়াশিং মেশিনকে ছাড়িয়ে গেছে জার্মানি স্মার্টার ড্রাম। জল টল ওসব হ্যাপা কিছুই নেই। কাপড় পরিষ্কার করতে গ্যালনের পর গ্যালন জল ও রাসায়নিক ডিটারজেন্ট ব্যবহারের বদলে, এই প্রযুক্তিতে পুনর্ব্যবহৃত (রিসাইকেল করা) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কীভাবে কাজ করে: তরল CO₂ একটি সম্পূর্ণ সিল করা চেম্বারের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। নির্দিষ্ট চাপের অধীনে এটি একটি শক্তিশালী দ্রাবকের (সুপার-সলভেন্ট) মতো কাজ করে এবং কাপড়ের ময়লা, তেল ও ঘামকে আণবিক স্তরে দ্রুত দ্রবীভূত করে ফেলে। এবার বলি, কেন এটি ভালো? এতে এক ফোঁটা জলও লাগে না। আলাদা করে তাপ দিয়ে শুকানোরও প্রয়োজন হয় না। জলজনিত টান বা ঘর্ষণ না থাকায় কাপড় ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, সঙ্কুচিত হয় না এবং রঙও ফিকে হয় না। ব্যবহৃত CO₂ সম্পূর্ণরূপে পুনর্ব্যবহৃত হয়ে আবার যন্ত্রের মধ্যেই ফিরে আসে। বর্তমানে Tersus Solutions-এর মতো প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে, বিশেষত পরিবেশবান্ধব পোশাক প্রস্তুতকারী ব্র্যান্ডগুলোর জন্য। ঠিক এই প্রযুক্তিটাই ব্যবহার করেছে বর্তমান শাসক দল। এন সি পি আই এর মতো একটি ইঁদুরের গর্তে ঢুকে থাকা দলের রেজিস্ট্রেশনকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী শিবিরের একটি সংখ্যা গরিষ্ঠ দলকে নিজের দলে স্থান না দিয়েও, জোট সঙ্গী করে নিয়েছে। রাজ্যেও মুস্তাফার উটের গল্পের মতো হাতে গোনা মুস্তাফায় তৃণমূলে। ২০০৩ সালের ৯১তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে আগে প্রচলিত এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নিয়ে দলভাঙার সুবিধা বাতিল করা হয়। বর্তমানে বৈধ একীভবন (Merger) হিসেবে গণ্য হতে হলে কোনো দলের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যকে একসঙ্গে অন্য দলে যোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে কেউ অন্য দলে যোগ দিচ্ছে না। তবে ওই ধরি মাছ, না ছুঁয়ে পানি, উটেরাই তাঁবুর মালিক। মোস্তফারা তাঁবুর বাইরে, গুরুত্ব হীন। যদিও বিধান সভায় তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ বলছেন, বিজেপি ওয়াশিং মেশিন। তাই তিনি চান, ওয়াশিং মেশিন না হলে, যারা সরাসরি রাই কুলে, তাদেরও যেন শ্যাম কুলের মতো বিচার হয়। অর্থাৎ এজেন্সী থেকে বাঁচার জন্য এই মিল মহব্বত যেন বিচারের আঁচ থেকে ছাড় না পায়। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রায় বিরোধী শুন্য রাজনীতিতে দাবার বোড়েকে দাবায় প্রতিপক্ষ অন্য বোড়ের সামনেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে শাসকদল। কোনাকুনি খেয়ে বেরোবার সামর্থ্য রাই শ্যাম কোন কুলেরই নেই। এই এয়ার টাইট হাই টেক স্মার্ট ড্রামে না লাগছে জল, না লাগছে তাপ, না হচ্ছে কোনো ঘর্ষণ, এর ফলে ফেবরিক থাকছে অক্ষত তৃণমূল, রঙ ফিকে হচ্ছে না এতটুকু। শুধু মাত্র ব্যবহৃত কার্বন ডাই অক্সাইডকে যন্ত্রের মধ্যে রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে ফিরিয়ে এনে আড়ং ধোলাই হচ্ছে।।

না দেব ঋষি ০৪/০৮/২৬

হ্যাঁ, শুনে শুনে এতো অভ্যস্ত যে না, শুনতে পারি না আমরা। হ্যাঁ - র মধ্যে কোনো লাজে রাঙা হওয়ার অবকাশ নেই। বামপদ অঙ্গুষ্ঠপরি দক্ষিণ বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ আলিঙ্গনে নিলাজ বনলতা হয়ে ওঠে না, হ্যাঁ। অবিমৃষ্য 'না' কে যতই দাম্ভিক বলো, অফিসের দেরাজ চোখ টিপে আলতো "হাঁ" হয়ে খুলে যায় না। না-না, হ্যাঁ -র অনপেক্ষ হওয়া আর হলো না। না, মুখের উপর বলে দিতে পারে, তোমার চোখে কৃতঘ্ন হতে পারি। যা উপকার পেয়েছি সূর্য্য শিশিরে জমা থাক। না, মুখের উপরে বলে দিতে পারে, যা পেয়েছি কোনো দান করোনি, এ আমার অধিকার। না, মুখের উপর বলে দিতে পারে, রাজা পারিষদ নিয়ে পাশা ছেড়ে নেমে এসো, তুমি বিচারাধীন। হ্যাঁ, তো প্রগলভ হয়ে তোমায় ঈশ্বর বানায়। না, শুধু আমাকে মানায়।।

মিসক্যারেজ দেব ঋষি ০৪/০৮/২৬

স্বামী স্ত্রীকে বললেন, ডাক্তার বললো, সাবধানে থাকতে, ফুল রেস্ট। নাহলে মিস ক্যারেজ! রেস্টের কথা শুনে ম্রিয়মান হলো না স্ত্রী। কান্তাপ্রেমও খুঁজে পেলো না এতটুকু। স্বামী ফের বললেন, রেস্ট মানে পূর্ণ বিশ্রাম নয় মোটে। মগজের কাজ হবে ঠিকই। অক্ষরগুলো হবে সুস্থ। শব্দের সঙ্গে বাক্যের, বাক্যের সাথে ভাবের আনুগত্য থাকবে ঠিকই, তবে হবে না আত্মবিক্রয়। হৃদয় দিয়ে ছুঁয়ে দেখবে ছোট বড়ো অনুভব সরিৎ সায়রে। অভিঘাত থাকবে ঢেউয়ের প্রস্তর কঠিন তলে। তবেই জন্মাবে সুস্থ, সবল কবিতা। না হলে মিসক্যারেজ! আমরা চাইনা...। তুমিও নিশ্চয়ই চাওনা... এক তাল মাংস পিণ্ড প্রসব করতে। যার নেই মস্তিস্ক, হৃদয়বৃত্তি প্রকোষ্ঠ। আগের কবিতা গুলো এক একটা মিসক্যারেজ। আর নয়...। শুধু কবিতা কেন? সব লেখা, যুক্তি - গদ্য - পদ্যর বেলায়ও খাটে এ সত্য। বিশ্রাম মানে, নিজেকে তৈরি করা, তৈরি রাখা। যে মুখ তুলে সহস্র প্রখর সূর্যপ্রপাতের মুখোমুখি হওয়া যায়। যে কবিতা, লেখনী প্রসব হয়, তা দেয় হিরণ্যগর্ভের আনন্দ রতিসুখ। যে জন্মায়, সে জগদীশ্বরকেও প্রশ্ন করতে পারে। জানতে চাই, তুমি কী আদৌ আছো? কোমল পেলব চান্দ্র- স্নিগ্ধতা নিয়ে স্নান করায় আমাদের! তাই স্বামী স্ত্রীকে বললেন, তৈরি হও, কাউকে আড়াল করতে নয়, মেঘনাদ হও। সব্যসাচী হও! মহাভাগে! শতপুত্রের জননী হতে হবে না। শুধু পঞ্চ পাণ্ডব জননী কুন্তী হয়ে, মহাভারত রচনা করো। মিসক্যারেজ নয় আর! আমি তোমার সাথে আছি।।

অবোধ শিশু দেব ঋষি ০৭/০৩/২৬

আলোর সাথে পূবালী বাতাস ফুল ছুঁয়ে যাওয়া ঘুম। সময় এখন শিশুর সাথে অলির সাথে ফুলের পাতে বয়স বাড়ার ধুম। শিশু জানুক ধর্ম রঙ বর্ণচোরা সেক্যু, সুতোর পাকে যত সঙ, লেলিন থেকে চ্যে গু। এর পরে সে ছুঁড়বে রঙ, খিল খিলিয়ে হেসে তখন জানে বৃহৎ শিশু কোন রঙে রঙিন হতে কোন রঙে যে মেশে।। কাজি থেকে রবি যতো তারা শশির আলো বৃথায় কথায় ফুলের বানে ঘ্রাণের পরান ঢালো। পাথর চাপে দিলের পরে দিল্লী কাঁদে ঐ। শিশু তুমি রঙের পরে কনক চাঁপা ফুটে উঠেও ধর্ম চাপা মৈ।। দিল্লীতে এক শিশু রঙ খেলার কারণে, তার বাবার মৃত্যুর ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক। সেই ঘটনার স্মরণে...

দেব রশ্মি দেব ঋষি 28/03/2026

মেয়ের লাশ কতটা ভারি তুমি কী আর বুঝবে! তোমার রেট পায়ে মারি হেলায় ঠেলে যে যুঝবে। মেয়ের লাশ কতটা ভারি তুমি কী আর বুঝবে! দেবের অংশু সর্ব গামী পূতির কূপ খোঁজে। স্তবের স্তাবক জীবন নমি ভাগ অংশ ই বোঝে। দশ লক্ষ হেলায় ছুঁয়ে দেখে নি যে মা। লক্ষ ছটা রশ্মি হয়ে বিচার চাবে না? তোমার কাছে টাকার নিত্তি মাপে যত সুখ। ক্ষমতা চাই নিত্য নিতি অভয়া আমার মুখ।। পুনশ্চ: সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি:- কেউ লাইক দেবেন না, এই কবিতাটি দেবাংশু ভট্টাচার্যর স্ট্যাটাসের জবাব।

নখের ডগায় হিন্দুত্ব দেব ঋষি 06/04/26

নখের ডগায় হিন্দুত্ব রেখে পট্ করে একটা শব্দ তোলার চেষ্টা অনেক দিনের। দরজা তার জন্য বন্ধ। মুখুজ্জের কথা মনে পড়লো কী? নখের ডগায় যাদের মারা হয়, সেই হিন্দুত্ব নিয়ে বললে তুমি অশিক্ষিত। প্রশ্ন উঠবে, নিশ্চয়ই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাও নি। সে যোগ্যতা নেই। সেই যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই বিধান সভায় যাওয়ার এক আকর্ষণ বটে। তবে বাকিরা সব অশিক্ষিত। বামপন্থা, কবিতা, আর বাঙালির ছাত্র জীবনে যৌবনের প্রেম আসে নি, এমন ঘটনা বিরল। তাই তাকে নিয়ে নাহক বলা যায় না। সব কিছুতেই বামপন্থীদের উন্নাসিকতা থাকবেই। হিন্দুত্ববাদ মানেই তাদের কাছে অশিক্ষা, কুসংস্কার, গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা, গোবর ও গোমূত্র। তারা সবাই 'দাস ক্যাপিটাল' পড়েছেন। আমিও পড়েছি। শ্রেণী হীন, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার এক দর্শন। ভালো লেগেছে। আন্দোলন তাদের রন্ধ্রে। তেভাগা থেকে বর্গা কত শত গণ আন্দোলন মানুষের জন্য সাধিত হয়েছে। তবুও ৩৪ বছর রাজত্বের পর সাংগঠনিক অতিকায়ত্ব ছাড়া সত্যি অমৃত কুম্ভের সন্ধান দিতে পেরেছি কি, কমরেড? এখন তরুণ তরুণী গীটার বাজিয়ে গান করে সেই সুরাসন্ধান কতটা সার্থক হবে, দেখা যাবে। যে দলের জন্ম একটা আদর্শ থেকে, সে অন্য বিপরীত আদর্শকে সহ্য করবে না, এটা স্বাভাবিক। ভগবান, না করুন, পুরো বাংলাদেশে হিন্দুদের মতো অবস্থা এখানে যেন না হয়। হলে, ওখানে বামপন্থীদের যা ভূমিকা, এখানেও তাই হবে। অন্ন চাই, চাকরি চাই, কাজ চাই। তবে মুক্ত বায়ু চাই। চাই, ঘরের কোনে একটি দেব ঘর। এটা বামপন্থীদের না হলেও চলবে। আমাদের চাই। এই চাওয়াটা কতটা, বামপন্থীরা জিজ্ঞেস করুন মুসলিমদের। যদি এই চাওয়া ভুল হয়, তাদের এই চাওয়া সমর্থন না করে প্রতিবাদ করুন।। পারবেন না। ওদের দ্বিচারিতা মজ্জায় মজ্জায়।ঔরঙ্গজেব এতো ক্ষতি হিন্দুদের করেন নি, যা এই বামপন্থা ও কংগ্রেস করেছে। আজ যখন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচাৰ্যকে বলতে শুনি, রাম মাংস খেতেন। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় সবাই গোমাংস খেতেন। সেটা কী 'ন হন্যতে'র মৈত্রেয়ী দেবীর যুক্তির সুরে বলতে চেয়েছেন, হাতির মাংস খেলে অধিক ভালো। কারণ একটা প্রাণী হত্যায়, অনেকের খাওয়া হয়?না , তা নয়। তার যদি ভট্টাচাৰ্য পদবী না থাকতো, বা সেলেব না হতেন, তিনি গোমাংস খেতেন না। ব্যক্তিগত রুচি আলোকিত করার উদ্দেশ্য একটাই, হিন্দুত্ববোধকে আঘাত। প্রকাশ্যে সেই বিষয়ে আলোচনাও একটি কারনেই। শুয়োরের মাংস যে তিনি খেতে পারবেন না, তা নয়। গোপনে খেলেও সেটা প্রকাশ্যে আনতে পারবেন না। কারণ তার টার্গেট হিন্দুত্ববাদ। অনেক সময় ইচ্ছে করে দ্বিচারিতা প্রদর্শন, বামপন্থার অন্যতম বৈশিষ্ট। বামপন্থীদের রেফারেন্স পুস্তকের বাইরে সমস্ত কিছুই হোয়াটস এ্যাপ ইউনিভার্সিটি। ঋষি অরবিন্দ - র বেদরহস্যের পূর্বার্ধ, উত্তরার্ধ তারা মানবেন না। বেদ উপনিষদের অনেক জায়গাই পশুহত্যা নিষেধ করা আছে। সেটাও মানবেন না। এই ধারণা ফলপ্রসূ করতে তাদের দোসর আরেকটা সমাজতান্ত্রিক ডানপন্থী দল যারা স্বাধীনতার পর থেকেই সে কাজে সিদ্ধ হস্ত ছিলেন। রমেশ চন্দ্র মজুমদার ও পণ্ডিত জওহর লাল নেহেরুর দ্বৈরথ সবার জানা। যখন মুসলিম লীগ পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে নি, তখন শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সোহরাওয়ার্দী সরকার সমর্থন নিয়ে একটা ককটেল তাদের মুখে মুখে। কিভাবে বঙ্গ বিভাজন তিনি চেয়েছিলেন সেটারও সমালোচনা তাদের মুখে মুখে। কিন্তু একবারও বলবে না, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হয় নি কাদের জন্য? কোলকাতা ওদের লোভের কেন্দ্র। বলবেন না পাকিস্তান সৃষ্টিতে তাদের মদত ছিল। এই দ্বিচারিতা তাদের আছে, থাকবে। চাকরি, রুজি, রোজগার, মজদুর, শ্রমিক, জমি, জঙ্গল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সবগুলো মানুষের মৌলিক চাহিদা। ইস্তাহারে না বললেও, এই গুলো সমস্ত সরকারকে করতে হবে। না করলে মানুষ আন্দোলন করবেই। এই আন্দোলনেও আজ বামফ্রন্টের আসা প্রায় অসম্ভব। তাদের ভালোও ছিল, মন্দও ছিল বিস্তর। দুর্নীতিও ছিলো। বর্তমানে আরও বেশি। তারা ভাবছে, মানুষ হয়তো মন্দের ভালো বাছবে। না। আজও তাদের সময়ে সুবিধাভোগী বেশ কিছু তাদের ঢাক পেটাতে ব্যস্ত। ভাবটা যেন সেই সময় কোন অন্যায় ছিলো না। ছিলো এক সুবর্ণ যুগ! কথাটা হচ্ছিলো হিন্দুত্ব বাদকে নখের ডগায় টিপে মারা। এখনকার প্রজন্ম কি উদ্বাস্তু হওয়ার দু:খ যন্ত্রনার কাহিনীর গ্লোরিফিকেশন করে ঋত্বিক ঘটকের চোখে দেখবেন? না বেঙ্গল ফাইলসের অগ্নি হোত্রির চোখে দেখবেন? বাঙালি হিন্দু হলোকষ্ট মিউজিয়াম বিদেশের মাটিতে হচ্ছে। একে অস্বীকার করার উপায় নেই। কার উস্কানিতে, কার অন্যায়ে এই ধরণের কুৎসিত কাজ হয়, হচ্ছে, বাম সহ অনেক দল বলতে সাহস পাবে না। কারণ তাদের জন্ম দ্বিচারিতার সূতিকাগারে। আজকে সমাজ মাধ্যমে নাজিয়া ইলাহি নামে একজন মুসলিম মহিলাকে বলতে দেখলাম হিন্দুদের মধ্যে কোন ঐক্য নেই। একদম ঠিক। শিক্ষিত হিন্দু ভাবেন, তিনি অন্যের থেকে বেশি বোঝেন। ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা একমাত্র তার দায় এবং সেটা বাকি হিন্দুদের নিতে হবে। কিন্তু এখন সেটা আর হচ্ছে না। তাই বাকি হিন্দুরা তাদের কাছে অশিক্ষিত এবং এমনকি ঘৃণার পাত্র। সাম্প্রতিক ঘটনা বাকিদের চোখ খুলে দিয়েছে। দু'তিনটে সহজ বোধ্য ঘটনা বলি। একজনকে পিছন থেকে রং সাইডে একটি লোহার রড বহনকারী মটোর ভ্যান চালক ধাক্কা মারলো। মৃত্যুর মুখ থেকে তিনি বাঁচলেন। আওয়াজ শুনে, দুই জন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে যখন দেখলেন ওই ভ্যান চালক অন্য সম্প্রদায়ের, সেই শিক্ষিত এবং আরেকজন অশিক্ষিত (বলতে স্কুল শিক্ষা না থাকার কথা বলা হয়েছে) লোক কোন রা না কেড়ে চলে গেলেন। আরেকজন টোটো চালক এলেন ভ্যান চালকের পাশে দাঁড়াতে। যে কথা বলা হল, তার তারিফ না করে পারা যায় না। দৈনিক গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা তার আয়। অবশ্যই পরিশ্রম করে। তারা সবাই অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনায় বস্তা বস্তা চাল পান। বিক্রি করে ভালো আয় হয়। বাঙালি নিম্ন মধ্যবিত্ত / মধ্যবিত্ত হিন্দু এখনও নিজেদের একতার কথা ভাবতে পারে না, সাম্প্রদায়িক তকমার ভয় করে। কে একজন তাকে আদর করে ইলিশ মাছ খাইয়েছে, সেটা মনে রাখে। তাহলে মমতা সরকারের ভাতা কেন যুগ যুগ জিও হবে না? শিক্ষিত প্রতিষ্ঠিত বাঙালি সংসারে, সংসারের বাইরে সমঝোতা করতে শিখে শিখে আজ পরাজয় তাদের মজ্জায়। ফটোকপির দোকানে কাদের লাইন বেশি? যাদের শিক্ষিত মডারেটরা বলে থাকেন, হিন্দু বিপদে নেই, মুসলিম বিপদে নেই, মানুষ বিপদে আছে। কেন্দ্রীয় ইউ জি সি আইন বিরোধিতায় এই মিলিত মানুষ কিন্তু বিপদে পড়ে নি। শুধু যারা পড়েছে তারা বোধহয় মানুষ নয়। প্রকল্প আদায়ে কাদের লাইন বেশি? কোন অধিকারের প্রশ্নে সে ভুল ঠিক যাইহোক, কারা ঐক্যবদ্ধ? শুধু ধর্মে নয়, সমস্ত ক্ষেত্রে শিক্ষিত অশিক্ষিত ধনী দরিদ্র এক জায়গাই। তবেই আজ তারা একটা কণ্ঠস্বর। তাদের কোন দলের প্রয়োজন নেই। সব দল তাদের পিছনে ছোটে। এইটা পৃথিবীর কোথাও এমনভাবে অন্য কাউকে দেখা যাবে না। আমাদের গ্রামে একদিন যারা জমিদার ছিলেন। তারা মাত্র দুই ঘর ভিন সম্প্রদায়ের মানুষ বসিয়েছিলেন, ঘরামি হিসেবে । কালের নিয়মে আজ তারা বিশাল সংখ্যায়। তাদের নাম তালিকায় আছে। যাদের আঁটকেছে বাকিদের নাম ট্রাইবুনালে উঠবে। সেই জমিদারের পরিবারের একজনের নাম বাদ। আবেদন করেন নি। কোরবেন না। বক্তব্য একটাই। ভোট যাদের দরকার তারাই করুন। আমি লাইনে দাঁড়াব না। আরেক জন হিন্দু পরিবার ( হিন্দু বলতে সনাতনী বোঝানো হয়েছে) যাদের আমি চিনি, তারা নির্বাচনের সময় হলিডে ট্যুরে যাচ্ছেন। এই হিন্দু এক সময় মাইরি মাইরি করে পরের অনুকম্পায় টিকে থাকতে চাইবে না তো কে চাইবে?

লাল ও সবুজ দেব ঋষি ০৮/০৪/২৬

জন সেবায় লাল সবুজ একই পথের পথিক। চুপ করায় অভয়া অবুঝ অন্ত্যমিলে অতিগ।। যেমন করে অভয়া হারে অভয়ার মাকে হারাও সর্বহারা ও সবুজ মিলে ক্ষমতাকে বাগাও। পানিহাটির মলয় ও সবুজ একই মুখের মুখ। সে মুখোশ ছিঁড়ে হৃদয় জুড়ে বাঁধবে কী সব বুক। এতই যদি নীতি বাগীশ তর্ক রত্ন বাম। বিচার চাওয়া মায়ের মুখে দেখ শুধু রাম। লাল সবুজের অন্ত্যমিলে যতই ধরো গান জবাব ঠিকই যাবে মিলে যদি- না মরে হয় প্রাণ।।

সারমেয় দেব ঋষি ১৫/০৪/২৬

আমরা ধোপার সঙ্গে থাকি না ঘরে, না ঘাটে। কেউ বাঁচে চেটে গাল কেউ তো চটি চাটে। আমাদেরই কায়ার সাথে দূর দূরে ছায়া বাঁচে। মৌলবাদ আর মৌলবাদে গনগনে সব আগুন আঁচে। যদি মৌলবাদ জন্ম দেয় আরেক মৌলবাদের। তোষণ সেথা আগুনেই জ্বালায় ভাটি কাহাদের? তুমি শুধু দেখ কারে জল ঢুকেছে প্লাবনের কাঁটা তারের বেনো জলে সীতা হরণ রাবনের।। আমরা বুঝি ধোপার সাথে ঘাট মুখো চেয়ে থেকে ঘুরে মরি ঘরের নাছে।।

সব্বার সেরা দেব ঋষি ১৮/০৪/২৬

বাংলায় তো সব হয়েছে চলে উন্নয়নের ই ধারা। শুধু যুব ছোটে আন্ রাজ্যে নিন্দে করে কারা।। বাংলা আজ যা চিন্তা করে তোমরা করো পরশু। বাকি তো সব অন্য রাজ্যে পি-পু আর ফি-সু। বাকরি করে ওষুধ পত্র যোগাড় করো খাবার। পান তামুকে একটু নেশায়, টাকা তো সব সাবাড়। কে দেয় বলো, পাঁচশো কার, পরে আবার হাজার? চাকরি? নজর সবাকার। পায়ের উপর পাটি তুলে টাকায় টাকা- বান্দা গুনা(হ)গার।। বাংলা এগিয়ে নাও না মেনে, ঘাড়টি কাত করে। রাত বিরেতে ফিরোনা মেয়ে মেয়েই বলে পোস্টারে। চাকরি কাটে পকেট মারে। তা করে কম্মে যে যা করুক পারে। বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে। মাছ, মাংস, ডিমে কত কী আহারে! চলবে সব, বন্ধ কী? কে করে দেখি? ক'টা মাথা ঘাড়ে।।

কে বলবে? দেব ঋষি ০২/০৫/২৬

কৃষকের কথা কেউ বলে না বলে তো নিজের কথা। চৌত্রিশ বছরে শুধুই কী বলেছো কৃষক, তা যদি হতো--- বন্ধু হতে কমরেড, হতে না নেতা। মজদুরের কথা কেউ বলে না বলে না হাতুড়ি, কাস্তে, গাঁইতি তাই তো বুঝে বুঝে থাকো নিশ্চুপ মুখে বলো মানুষ ওহে, ও না হিন্দু, না মেইতি।।

নজরুল দেবঋষি

কালকে রাত্রে ঘুমায় নি নজরুল। ব‍্যাথা তাঁর সারা গাত্রে কে নাকি তাঁকে মঞ্চে বসিয়ে গুল দিল বিলকুল। লৌহকপাট থেকে একই বৃন্তে দুটি কুসুম ছাড়া গালাগাল আর ভুল কাড়লো তাঁর ঘুম।।

নির্বাচক ০৩/০৫/২৬ দেবশ্রী

বিষ্টু ভোটার বেজায় বোকা চাইছে কাগজ ভোট প্রার্থীর। লম্বা তার ফিরিস্তি এক পরিবারের ব্যাঙ্ক ডিটেলস আরও যতো ঠিকুজির... তাতেই নাকি সারবে রোগ, গণতন্ত্রের খিঁচুনির। বিষ্টু ভোটার বেজায় বোকা চাইছে কাগজ ভোট প্রার্থীর। বলে কিনা কোটিপতি প্রার্থী কি? চাই তো তার ঠিকুজি কেনো নেবে এতো ভাতা ট্যাক্সো টাকায় নো মস্তি?? গরিব গুর্বো ভাতা নেক কোটিপতির কেন ভেক। আমরা যদি টিপতে পারি কুড়ি টাকার ভেণ্ডি ডগা আমরা তো ভোট দেব না এমন কোনো অগা ভগা। বিষ্টু ভোটার বেজায় বোকা চাইছে কাগজ ভোট প্রার্থীর। পৃথক ফল নেবেই না বিষয় যখন এক যাত্রীর।।

সৎ অসৎ দেব ঋষি ০৩/০৬/২৬

কোটিপতি প্রার্থীর ভাতার কি দরকার? এই প্রশ্ন মুখের উপরে বলার সময় জনতার। জেতার পরে প্রমাণ চাও দেখাও নীতি ন্যায়ের কথা জেতার আগে নথি দেখাও বলবে এবার জনতা। মন্ত্রী থেকে যত নেতা ক্রোড়পতি নেবে ভাতা সবই ফ্রি রেল উড়ান গ্যাস স্বাস্থ্য যথা তথা তবুও তারা অসৎ নন সততার প্রশ্নবিদ্ধ যিনি হন তিনি শুধু জনতা।।

শতদলের মোরব্বা দেব ঋষি

বললাম, গিন্নি সিউড়ি এসেছি মোরব্বা কিনে নি শতমূলের বললো, ধূর দরকার নেই ওসবের বানাবো খেয়ো, জেনেছি নতুন রেসিপি। জানালো, বানাবে রস টুম্বুর মোরব্বা। শতদল আরেক জোড়া ফুলে স্বাদ হবে বেড়ে, স্বাদ হবে তোফা। ফোনেই এলো রেসিপি যদি অভয় দেন, শেয়ার করি। শত দল ধুয়ে মুছে প্যান লো সিমে রেখে কিছু তৃণ ফুল আন্দাজ মেপে রাখুন ধুয়ে বেছে। সবগুলো মিক্সিতে ভালো করে পেষায় গুঁড়ো গুঁড়ো ঝেড়ে ঝুড়ে আরও কিছু বের করে মশলাদার ভুরভুরে গন্ধ তো চায়। শেষে সব কিছু সেরার পাকে সাত পাকে বাঁধা। ছড়িয়ে এলাচ গুঁড়ো খাবে সব ছেলে বুড়ো মুখে ঠিক লেগে রবে, দাদা।।

ব্রহ্মাণ্ড বা কসমিক এগ কি আমিষ? প্রাণীজ অণ্ড দেখি কখনও পাতে, কখনও মাথে দেবশ্রী মজুমদার

একাদশীর উপবাসের পর রসিকতার সুরে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে, তাঁর ক্ষুধা এত বেড়েছিল যে "কষ্ট করে থালা-বাটিগুলো খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি।" স্বামী বিবেকানন্দ-র মহাপ্রয়াণের দিন ১৯০২ সালের ৪ জুলাই দুপুরের আহার সম্পর্কে প্রচলিত স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে যে তিনি সেদিন সকলের সঙ্গে বসে খেয়েছিলেন— ভাত, প্রিয় ইলিশ মাছের ঝোল, ভাজা, অম্বল ইত্যাদি। যিনি বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে এতো ভালো বুঝেছিলেন, তাঁকেই প্রশ্নটা করা যেত, ব্রহ্মাণ্ড বা কসমিক এগ কি আমিষ? মনুস্মৃতি-র (১.৯) বলেছে- তৎ অণ্ডম অভবদ্ ধৈমং সহস্রাংশুসমপ্রভম্। তস্মিন যজ্ঞে স্বয়ং ব্রহ্মা সর্বলোকপিতামহ:।। অর্থাৎ আদি সৃষ্টির এই অণ্ড যা ব্রহ্মাণ্ড বা হিরণ্যগর্ভ তা ছিল সুবর্ণময়, সহস্র সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল। তার মধ্যেই ব্রহ্মার আবির্ভাব। তিনি সমগ্র জগতের পিতামহ বা সৃষ্টিকর্তা। তিনিই একমাত্র আমিষ ও নিরামিষে ব্যাখ্যা দিতে পারেন। এই দ্বিধা আজকের নয়। ছাত্রবয়সে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ইংলণ্ডে বই পড়ে জেনেছিলেন, ডিম নিরামিষ। খেয়েও ছিলেন। তারপর পিতাশ্রীর কাছে তাঁর অপরাধ স্বীকার করে মার্জনাও চেয়েছিলেন। যাই হোক, এই প্রাণীজ অণ্ড দেখি কখনও পাতে, কখনও মাথে। মাথার চুল পরিচর্যা, ফেস মাস্ক, এলার্জি না থাকলে ত্বক পরিচর্যাতেও ব্যবহৃত। বর্তমানে বিদ্যালয় শিক্ষায় দু'একদিন পাতে ডিম পড়ে। আর সেদিন কচিকাচাদের ভিড় বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে সরকারি সিদ্ধান্তে সেই ডিম বন্ধ। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে পুষ্টিকর সোয়াবিন বরাবর থেকেছে। এবার পরিবর্তে পাল্টি খাবার হিসেবে থাকবে রাজমা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে পনির থাকতেও পারে। ইসকন সম্প্রদায় এই খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকবে। এরফলে কোন সমস্যা হবে কি হবে না, সেটা মিডডে মিল/ সেল্ফ হেলফ গ্রূপ ও ইসকন সম্প্রদায়ের ঘরোয়া মামলা। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের রাজ্য সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র কে সমাজ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে শোনা গেলো। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানালেন, এই প্রাণীজ অণ্ড বা ডিম একটি সহজলভ্য সুষম প্রোটিন। বায়োএবসর্পসন খুব ভালো। ৯টি প্রয়োজনীয় এ্যামাইনো এ্যাসিড, ফ্যাট, পলি/ মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এ্যাসিড, ভিটামিন, মিনারেল প্রাচুর্যে ভরপুর । কার্বোহাইড্রেট প্রায় নেই বললেই হয়। এর ফলে প্রাণীজ প্রোটিন বাদ পড়লে শিশুরা বঞ্চিত হবে। উত্তর -দক্ষিণ ভারতে ভূ- সাংস্কৃতিক খাদ্যাভাস বঙ্গ বান্ধব কতটা হবে সেটা পরীক্ষা প্রার্থনীয়। যারা নিরামিষ স্বাদিষ্ট ও পুষ্টিকর আহারের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করছেন, তারা বলছেন, সপ্তাহে দু'দিন ডিমের থেকে ছ'দিন ডালের পাওয়ার হাউস, প্রোটিন রিচড্ রাজমা, সোয়াবিন ও পনির পেলে ক্ষতি কি? বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বলছেন, বলেছিলাম না? প্রাক নির্বাচন প্রচারে যতই য়াব্বড় মাছ হাতে বিজেপি প্রার্থীরা প্রচার করুক না, আমিষ বন্ধ করে দেবে। হুঁহুঁ ঠিক কিনা? একদম গোঁড়া থেকেই খাদ্যাভাষ ত্যাগ করিয়েই ছাড়বে। কেউ কেউ বলছেন, খরচ বাঁচবে। চালচুরি বাঁচবে। আর ডিমের যা দাম! আবার কেউ বলছেন, দাম তো বেশি বাড়লো সেদিন থেকে যেদিন ডিম অস্ত্র হিসেবে উন্নীত হলো। অর্থাৎ ডিম্বাস্ত্র এবং সঠিক প্রয়োগ। খেলার মাঠে বল ছুঁড়ে কোন স্টাম্প ছুঁড়তে পেরেছে কিনা জানা নেই। কিন্তু নিখুঁত নিশানা। যেই কোন অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলীয় নেতা কর্মী আটক হয়ে থানা বা আদলতে যাচ্ছেন, পুলিশের সামনেই একদম মাথার মিডল স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়ার যোগাড়। ভয়ঙ্কর ডিম্বাস্ত্র। নিত্যনন্দন তার আগের এডিশনে যে সংবাদ বের করেছে, তাতে জানা গেছে, প্রশাসন এবার ডিম্বাস্ত্র প্রয়োগকারীদের তালিকা করছে। তাই সমঝে চলাই ভালো। আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এক অনুষ্ঠানে 'ডিম্বাস্ত্র' ব্যবহারের সাম্প্রতিক প্রবণতার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, "ডিম ছোড়ার এই সংস্কৃতি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না এবং এতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল হচ্ছে না।" বিজেপির রাজ্য সভাপতি খুব সুন্দর কথা বলেন। এক একটি পদ। উপাদেয়। এখন দেখার ডিম্বাস্ত্র মাথায় পড়ে, না পাতে পড়ে।।

কেশ ও নিকেশ রাজনীতি : রসে টইটুম্বুর হলেও ভবি ভোলে না দেবশ্রী মজুমদার

অভিনেতা অনুপম খেরের টাঁকে চুল গজায় নি, উনি খুব খুশি। সম্প্রতি কোলকাতায় বিজেপির রাজ্য সম্পাদক শমীক ভট্টাচাৰ্য -র সঙ্গে দেখা করে, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেলেন তিনি , তাঁর মন্তব্যের জন্য। তিনি বললেন, ঈশ্বরের কাছে তাঁর প্রার্থনা ছিল, তাঁর টাঁকে যেন কেশ সঞ্চার না হয়। অর্থাৎ যাক তাঁর কেশ, তবুও নিকেশ হোক তৃণমূল সরকার। এই হোল "কেশ ও নিকেশ" রাজনীতি। বলিউড অভিনেতা অনুপম খেরকে আমরা মস্তক মুণ্ডিত অবস্থায় দেখে অভ্যস্ত। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ খের বিজেপির সাথে যুক্ত। সেই সুবাদে তিনিও বিজেপির দিকে ঢলে আছেন। সারা বাংলায় পট পরিবর্তনে তিনিও আশাবাদী ছিলেন। তিনি যেহেতু বাংলার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তাই বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর মতো তার ভীষণ কেশ প্রতিজ্ঞা ছিলো না। দ্রৌপদীও (যদিও মহিলা, অবশ্যই অবলা নন) কেশ উন্মুক্ত রেখে তাঁর প্রতিজ্ঞা রেখেছিলেন ও কৌরব বংশ নিকেশ করেছিলেন। এক্ষেত্রে কেশের-ই নিকেশের জয়। প্রাক নির্বাচনে শমীক ভট্টাচাৰ্য কী বলেছিলেন? "আকাশ মাটিতে নেমে আসতে পারে, সমুদ্র আকাশে উঠে যেতে পারে, এমনকি অনুপম খেরের টাঁক মাথায় চুলও গজাতে পারে, কিন্তু বাংলায় তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরবে না।" এই মন্তব্যের পর অনুপম খের রসিকতার সুরে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন: "আরে ভাইয়া জি! আমি আপনার কী ক্ষতি করলাম? আপনি কেন চান যে আমার মাথায় আবার চুল গজাক? আমি তো কোনওদিনই সেটা চাই না!" মহাকবি কালিদাসের সুন্দর উপমা দিয়ে একটু ভাবুন, সরকারের পট পরিবর্তন হলো না। কিন্তু অনুপম খেরের মাথায় সুন্দর নয়নাভিরাম কেশ সঞ্চার হলো। কালিদাস লিখলেন, "সনীলালক-মধ্যশোভি মুখম্।" ঘন কৃষ্ণবর্ণ অলকের (কুঞ্চিত কেশের) মাঝখানে শোভিত মুখমণ্ডল। আহা, কী অপূর্ব! কুমার সম্ভবের আগমন হলো, কার্ত্তিক কোন্ অসুর বধ করলেন, কতো শ্লোক রচিত হয়েছিল, আরও কত রচিত হবে, সে অন্য বিষয়। কিন্তু এই রসাস্বাদন খালি পেটে কতটা সইবে, বাংলার কেশবতী কন্যেরা বুঝবে। যখন ঝাড়াই মারাইয়ের পর এককোটি চল্লিশ লক্ষ মা জননীরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ পড়বেন। কারন বাজেটে রাহা খরচ বাবদ তো বরিদ্দ এক কোটির। সাকুল্যে ৩৬ হাজার কোটি। আগের সরকারের বরাদ্দ বাজেট থেকে এক কোটি বেশি মাত্র। কিন্তু ডবল ইঞ্জিন সরকারের ডবল পেমেন্ট তিন হাজার টাকা। পাশাপাশি, এই বাজেটে চুক্তি ভিত্তিক রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের একটাকাও বাড়ে নি। শুধুমাত্র আংশিক চুক্তি ভিত্তিকদের আংশিক বেড়েছে। আরেকটা দেখা গেছে, সেটা প্রমাদ বলে মনে হচ্ছে, শিক্ষা ক্ষেত্রে এজেন্সী চালিত সংস্থার শিক্ষা কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছে। এটাও কি আদৌ সম্ভব? সদ্য এসেছে এই সরকার। শোনা যাচ্ছে, আগের সরকারে বিস্তর দুর্নীতি। বাড়ির দেওয়ালে অপরিচর্যার বেহালে শ্যাওলা পড়ে গেছে। ঘষা মাজা করে রঙ হবে। ঝাঁ চকচকে না হলেও, তক তকে হবে। কারণ পূর্বতন সরকার প্রচুর ঋণ করেছেন। ঘি খেয়েছেন। ক্ষমতার বাইরে থাকা বিজেপি, আর ক্ষমতার অলিন্দে থাকা বিজেপি এক নয়। প্রতি ইঞ্চিতে মানুষ মাপবে। বিজেপি যেটা বলছে, পূর্বতন সরকারের (ভালো তৃণমূল বাদে) সবাই হয় সরাসরি দুর্নীতি পরায়ন, না হয় দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। জনগণের একাংশও দুর্নীতিকে আশ্রয় করে বিভিন্ন প্রাকল্পিক সুবিধা ভোগী হয়েছে। দুই একজনের শাস্তিও হয়েছে। এক্ষেত্রে বিজেপি এখন আগমার্কা সততার প্রতীক। যদিও এটা তারা মুখে বলে নি। বরং আগের সরকার সেটা বড়াই করে বলতে অভ্যস্ত ছিলো। জনগণ শুধু নজরে রাখছে। নিট পেপার লিক নিয়ে সারা দেশে শুধু তেলেপোকা নয়, আপামর যুবক সমাজ ক্ষুব্ধ। এই আংশিক বাজেটে সব দিশা দেখানো সম্ভব নয়। যতদিন বিজেপি ক্ষমতায় ছিলো না, ততদিন ইস্যুগুলো ছিলো অনেকটাই ভার্চুয়াল। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ, মুর্শিদাবাদে এক পরিবারের দুই সদস্যদের খুন। দাঙ্গার পরিবেশ। বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশে আক্রমণ, এগুলো ছিলো ক্ষমতায় আসার অগ্নি -ইন্ধন মাত্র। এখন সরকারে আসার পর, এই ইস্যুগুলো আর নেই। মানুষ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আনন্দ মেলা নিয়ে মেতে থাকে, যতদিন পেটে সয়। অর্থাৎ পিঠে খেলে পেটে সয়। এখন হকার উচ্ছেদ থেকে বেশ কিছু বাস্তব ইস্যু মানুষের ধর্মীয় প্রকোষ্ঠেও অনুপ্রবেশ করতে শুরু করেছে। মাইকে আজানের আওয়াজ বাড়লো, কি কমলো, এই বিষয় ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। মানুষ যেদিন বুঝে যাবে, অর্জুনকে ভগবান কৃষ্ণের সেই উপদেশ- যে বিধি না মেনেও অন্য কারো উপাসনা করে, সে আমার-ই উপাসনা করে। "যে অপি অন্যদেবতা ভক্তা যজন্তে শ্রদ্ধয়ান্বিতা । তে অপি মামেব কৌন্তেয় যজন্ত্যবিধিপূর্বকম্ ॥ ২৩ ॥" তখন মাইকের আজান নিয়ে যারা ভাবতো, সেই মানুষগুলো আর ভাবিত হবে না। এখানেই বিজেপির বিপদ। বিজেপি ক্ষমতায় এলে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ অসাম্প্রদায়িক হতে বাধ্য। এই কৃতিত্ব অবশ্যই বিজেপির। মুসলিম সম্প্রদায় নিজেরাই বলতে আরম্ভ করে, গোরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক। মহরমেও কোন অস্ত্র প্রদর্শন হয় নি। অর্থাৎ প্রতিটি ইস্যু শুধু প্রশাসন নয়, মুসলিম ভাইয়েরা ইতি টেনে দিচ্ছেন। তাহলে এবার পড়ে থাকলো শুধু কাজ। কাজ আর কাজ। পাঁচটা বছর খুব বেশি নয়। কাজ বলতে শুধু হকার উচ্ছেদ নয়। পুনর্বাসন হলো, সমাধান, পরিসমাপ্তি। সেটা পূর্বে কে করেছিলো, করেনি সেটা মানুষের কাছে আজ আর কোন বিষয় নয়। সিস্টেম ঠিক করতে গিয়ে "Boiling Frog Syndrome" ভুলে, জনগণকে একেবারে গরম জলে ফেললে, উল্টো ফল অবশ্যম্ভাবী। তখন বিজেপি গোপ-গোপীদের কেশ সজ্জাও হবে না, কুঞ্জ সাজানোও হবে না। গাইতে হবে--আমায় যেন (শ্যাম) ছেড়ে যায় না, প্রবোধ দিও তারে”।

"নেতাজি বনাম শ্যামা প্রসাদ" -রাস্তার নাম পরিবর্তনের গিমিক রামপুরহাটে দেবশ্রী মজুমদার

বেশি দিনের ঘটনা না। ৬ জুলাই রামপুরহাটের একটি পুরাতন রাস্তার নাম ছিলো নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু রোড।সুভাষ নামাঙ্কিত রাস্তাটি বদলে শাসকদল ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় রাখলেন। এই নাম পরিবর্তন একটি সরকারি পদ্ধতির মধ্যে হয়ে থাকে। সময় সাপেক্ষ। কিন্তু যে ঘোষণায় কমলা উত্তরীয় পরিহিত পুরপিতা সৌমেন ভকত এবং বিধায়ক ধ্রুব সাহা উপস্থিত থাকেন। তার একটা গুরুত্ব থাকে। আর সেখানেই বিতর্ক। রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড় থেকে ঝনঝনিয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার নতুন নাম ঘোষণা করা হয় শাসক দলের পক্ষে। এই রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয় ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড’। ইতিমধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ছ’টি নামফলক ও কাট-আউট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই রাস্তার সঙ্গে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানানো হয়েছে, তেমনি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থারও আরও উন্নয়ন হবে। নাম বদলের এই রাজনীতির ঘা, নেতাজিকে ছুঁতে পারবে না, তিনি তো হৃদয়ে, আমরা সবাই জানি। ১৯৩৯ সালের ১৯ আগস্ট মহাজাতি সদনের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে দেশ নায়ক অভিধায় ভূষিত করেন। এটাও স্পষ্ট করে বলি, ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান কোন অংশে খাটো করে দেখার নয়। তাঁর অবদান কারো থেকে কোনো অংশে কম নয়। দেখুন, তালাত মাহমুদের কাঁপা গলায় গান, আমার ভালো না লাগতেই পারে। তার পরিবর্তে লতা মঙ্গেশকরের গান বহু গুণে ভালো মনে হতেই পারে। কিন্তু এটা জানা দরকার, লতাজীর অন্যতম প্রিয় গায়ক ছিলেন তালাত মাহমুদ। তিনি তাঁর গান শুনতে ভালো বাসতেন। মতাদর্শের পার্থক্য থাকা সত্বেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নেতাজিকে কতটা শ্রদ্ধা করতেন, তাঁর লেখা ডায়েরির পাতা থেকে উদ্ধৃতি দিলে পরিষ্কার হবে। তিনি বলেছেন, "আমরা—বিশেষ করে আমি—সুভাষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ পোষণ করতাম না। বরং তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ ছিল। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতাম যে, ভারতের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, বিশেষত বাংলায়, তাঁর সমকক্ষ আর কেউ ছিলেন না।" এখন প্রশ্ন, এই নাম পরিবর্তনে আসলেই কি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সম্মান প্রদর্শন করা হলো? নাম বদল, রঙ বদল, ভোল বদল, পালা বদলের পরেও কতটা প্রাসঙ্গিক, রাজনীতিকরা কি এব্যাপারে কোনোদিন ভাববেন না? না, মানুষের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করবেন না? প্রশ্ন থাকলো। হিন্দু সভা নিয়ে যেমন নেতাজির ব্যক্তিগত মতামত ছিলো। তিনি হিন্দু সভার রাজনৈতিক মতাদর্শের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট সঙ্গী হওয়ার বিরোধী ছিলেন। নেতাজির রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু চিত্ত রঞ্জন দাসের স্বরাজ্য দল ১৯২৩ সালে যে বেঙ্গল প্যাক্ট এনেছিল। ইন্টারনেটে সার্ফ করলে বোঝা যাবে তখন কার দিনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি কী ছিলো। এই গোটা বেঙ্গল প্যাক্টকে মৌলনা আবুল কালাম আজাদ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, তাঁর ইণ্ডিয়া উইনস ফ্রিডম গ্রন্থে। তিনি বলেছেন, বেঙ্গল প্যাক্ট অনুসারিত হলে, দেশের বিভাজন থেমে যেতো। তিনিও মৌলবাদের শিকার হন। ট্রেন থেকে তাঁকে নামিয়ে মুখে কালিঝুলি মাখিয়ে দেন চরমপন্থীরা। দূর্ভাগ্যের বিষয়, তাঁরা ছিলেন নিজের সম্প্রদায়ের মানুষ। নেতাজিও ছিলেন চরমতম অসাম্প্রদায়িক মানুষ। আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাবাহিনীর খাবার পরিবেশনে ঝটকা মাংস ও জবাই মাংস মিশিয়ে দিয়ে বলতেন, হিন্দু মুসলিম উভয়ের জাত মেরে দিলাম (সুভাষ ঘরে ফেরে নাই)। সেই নেতাজির নামাঙ্কিত রাস্তা পরিবর্তন হলে সবাই ব্যাথা পাবেন, এটাই স্বাভাবিক। প্রতিবাদ না হওয়াটা অস্বাভাবিক। এসইউসিআই দলের বীরভূম জেলা সম্পাদক মদন ঘটক এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বিকৃত করার উদ্দেশ্যেই জাতীয় নেতাদের গুরুত্ব খর্ব করার চেষ্টা চলছে। নেতাজির নামে দীর্ঘদিনের একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেরই অংশ বলে দাবি করেছে তাদের দল। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু নেতাজির স্মৃতির প্রতি অসম্মান নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের প্রতিও আঘাত। এসইউসিআই অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে 'নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু রোড' নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত উদ্ধৃতি থেকে জেনে নিই, বিজেপি কী ভাবছে, কতটা ভাবছে? বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি ঠিক জানা নেই। তাই না জেনে মন্তব্য করবো না।

আইনের ফাঁস এড়াতে দল পরিবর্তন, "মূর্খের স্বর্গ বাস", সুকান্তর বরাভৈ দেবশ্রী মজুমদার

সম্প্রতি আর জি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত অধুনা লটারি কাণ্ডে জেল যাত্রার আশঙ্কা থেকে ঋতব্রত তৃণমূল বৈঠকে হাজির হন নির্মল ঘোষ, যার হৃদয়ে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে ভাবছেন বেঁচে যাবেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। হয়তো সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন। আমরা সবাই জানি, সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে নরক বাস। বর্তমান সরকারের আমলে মূর্খের স্বর্গ বাসের প্রকৃত রূপ কী হবে জানা নেই। সৎ ও অসৎ বিষয়টি বেশ গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। তবে নির্মলদের মতো এই মূর্খ -চতুরদের ক্ষেত্রে পৃথক ফল স্বাভাবিক কিনা, আজ হোক,বা কাল হোক, ক্রমশ প্রকাশ্য। যদিও সুকান্ত মজুমদারের বরাভৈকে বিশ্বাস করতেই হবে। কারণ এই সরকার মাত্র কয়েক মাস এসেছে। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অভয়ার মা প্রথম থেকেই সরব ছিলেন। পূর্বতন মমতা সরকার অভয়া কাণ্ডে আসল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থায় নেয় নি। এমনকি তার ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে দলীয় প্রার্থী করে দেয়। তাই অভয়ার বিচার চাইতে মা রত্না দেবনাথ মানুষের আশীর্বাদ চান এবং তা পেয়ে আজকে পানিহাটির বিধায়িকা। বিধান সভার প্রথম দিনে অভয়ার কথা বলতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেন রত্না দেবী। আর জি কর ফাইলস খোলে সরকার। বিষয়টি সিবিআইয়ের অধীন। অবশ্য কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সাত দিনের মধ্যেই কিছু একটা হবে আশা ছিলো তাঁর হয়তো বা। ১১ জুলাই নির্মল ঘোষ ফের খবরের শিরোনামে। লটারি মামলা থেকে বাঁচতে ঋতব্রত তৃণমূলের বৈঠকে যোগদান করেন তিনি? কেউ কেউ বলছেন, তিনিও কি তবে ভালো তৃণমূল হওয়ার পথে? আমরা রাজ্যবাসী সবার ভালো চাই। এমনকি "সবাই ভালো হোক" চাই। তবে নির্মল ঘোষের মতো লোক যেন ভালো না হন, এটাই চাই। "ভালো" বলতে 'ভালো তৃণমূল'। এই 'ভালো তৃণমূল' ট্যাগ একবার হয়ে গেলে, গরিব গাড়ি চালকটি ডিয়ার লটারির ১ কোটি টাকা ফেরৎ পাবেন না এবং সর্বোপরি রত্না দেবীর জীবনের লক্ষ্যটাই হারিয়ে যাবে। তবে সুকান্ত বাবু, সকলকে আশ্বস্ত করেছেন দোষীদের বিজেপিতে পুনর্বাসন হবে না। ঋতব্রত তৃণমূলে যে কেউ যেতেই পারেন। তবে, নির্মল ঘোষের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এমনটাই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠিত সত্য যে নির্মল ঘোষ লোকটি সহজ খেলোয়াড় নন। কারণ তিনি ঋতব্রত -তৃণমূলের তপসিয়া বৈঠকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। নির্মল ঘোষ বলছেন, তিনি আমন্ত্রিত ছিলেন। ঋতব্রতর সাথে কথা হয়েছে। আবার কথা হবে। চাপান উতোরে ঋতব্রত উল্টো গেয়ে বলেন, নির্মল ঘোষকে তারা কেউ আমন্ত্রণ জানান নি। তাঁকে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। ছাব্বিশের প্রাক নির্বাচন সময় কালে রত্না দেবনাথের মুখে ভয়ঙ্কর কথা ছিলো, "প্রশাসনিক ক্ষমতায় না থাকলে, মেয়ের বিচার পাবো না।" গণতন্ত্রের বিপক্ষে এমন বিপদজনক শব্দ আর হয় না। তাহলে অসাধারণ না হলে, ধর্ষিতা বিচার পাবে না। এর থেকে ভয়ঙ্কর আর কী হতে পারে? এক্ষেত্রে রত্নাদেবী সঠিক বিচার না পেলে তিনি, তাঁর পরিবার, রাতের রাস্তা যারা দখল করেছিলো এবং সমগ্র রাজ্যবাসী এক নুতন দৃষ্টান্তের সাক্ষ্মী হবেন। যা হবে খুবই হতাশাজনক। সবাই জানে, আর জি কর মেডিক্যালে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের। আর জি কর মেডিক্যালের নিহত চিকিৎসক যেখানে থাকতেন, তিনি সেখানকারই বিধায়ক। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, নির্মল ঘোষের তত্ত্বাবধানেই হাসপাতাল থেকে দেহ বের করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। ধর্ষণ-খুনের পর তাড়াহুড়ো করে দাহ করে ফেলা হয় চিকিৎসকের দেহ। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ। তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক অভিযোগ অস্বীকার করলেও চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের তদন্তে তাঁকে তলব করে সিবিআই। তাই তো রত্না দেবী বলেন, পুলিশ নির্মল ঘোষকে খুঁজে পাচ্ছে না। আসলে ধরছে না। আমি পুলিশকে ফোন করেছি। কেউ ছাড়া পাবে না। আমি ছাড়বো না। আমার অভিশাপে একটা বড়ো দল ছিন্নভিন্ন হলো। অনেকে মনে করছেন, 'কালীঘাট-তৃণমূল' ছেড়ে এখন সেই নির্মল ঘোষ 'ঋতব্রত তৃণমূল'-র তপসিয়ার বৈঠকে আসছে, নিজ স্বার্থে। আর তাতেই, অনেক বিতর্ক জন্ম দিয়েছে। তবে সেই জল্পনায় জল ঢালার চেষ্টা করেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। নির্মল ঘোষ এও বলেন যে, তিনি জাভেদ খানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেপাত্তা থাকার পর হঠাৎ উদয়। এতদিন কোথায় ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তা কেউ জানেন না। লটারি প্রতারণা মামলায় ধরপাকড় শুরু হতেই কি তবে তাঁর এই শিবির বদল? 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর বৈঠক চলাকালীনই হাজির ছিলেন নির্মল ঘোষ। যদিও নির্মল ঘোষের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সুকান্তবাবুরাও ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের বক্তব্য দেবেন। শীর্ষ নেতৃত্ব যা বলবেন, তাই করতে বাধ্য হবেন। তারপর একটা ব্যাখ্যা দেবেন। তবে আপাতত পরকীয়া প্রেম নিয়ে ছোঁক ছোঁক না দেখিয়ে এমন ভাব যেন,অতি পীরিত যেখানে, নিত্য যাবে না সেখানে”।

পুশ ইন - পুশ ব্যাক কোন মুভি থ্রিলার থেকে কম নয়, সুনালি, দানেশ ও সুইটি বিবিদের। পিছন ফিরে তাকালেই, গুলি... দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম :

Green Border (২০২৩) পোল্যান্ড–বেলারুশ সীমান্তে শরণার্থীদের বারবার পুশব্যাক ঘটনার উপর নির্মিত বাস্তবধর্মী ও আবেগঘন ছবি হাত তালি কুড়িয়েছে অনেকের। কিন্তু আমাদের দেশের নাগরিকদের পুশ - ইনের ছবি এখনো নির্মিত হয় নি। হতভাগ্য সুনালী সুইটি বিবিদের জীবনের এক বছর চোদ্দ দিন, কম মর্মস্পর্শী, হৃদয় বিদারী নয়। এই ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। নাগরিকের বেনাগরিক করে তোলার কাহিনী। অবশ্যই স্যালুট ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে! ২০-২১ বছর দিল্লির রোহিনী পল্লিতে থেকে কাজ করে দিন গুজরান করতো সুনালী খাতুন ও সুইটি বিবিদের পরিবার। কিন্তু গতবছর ২৪ শে জুন নেমে এলো সেই ভয়ঙ্কর দিন। রোহিনী পল্লী থেকে দানেশ সেখ ও সুইটি বিবিদের বাংলাদেশী সন্দেহে ধরে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আগেই হাতিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি অন্তস্বত্বা সুনালীর ডাক্তারি কাগজ, মোবাইল ফোন। হুমকি দেয়, কথা না শুনলে, সুনালিকে আলাদা পাচার করে দেবে। দানেশ সেখ নিজের জবানিতে বলেন, পুলিশ তার কাছে তিন লক্ষ টাকা চেয়েছিলো। দানেশ জানিয়েছিল, তাদের কাছে রয়েছে ২৫-৩০ হাজার কারণ গ্রামের বাড়ি পাইকর থেকে কুরবানী সেরে সদ্য ফিরেছে। পুলিশ দানেশের কাজের জায়গার ম্যানেজার, এলাকার সাফাইকর্মী কারো কথায় শোনে নি। সবাই তাদের হয়ে অনুরোধ করেছিলো, ছেড়ে দিন। গরীব মানুষ। আম্বেদকর মেডিক্যাল হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্ট করে, কোর্টে তাদের তুলে মিথ্যা তথ্য জমা দিয়ে পুলিশ জানালো তারা বাংলাদেশী, কোনো কাগজ তারা জমা দিতে পারে নি। ২৬ শে জুন তাদের নিয়ে মোট ৭০ জনকে এয়ারপোর্ট থেকে আসামের ধুবড়ির কাছে বাংলাদেশ কুড়ি গ্রাম সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্যাম্পে বাংলাদেশীদের হাতে বাংলাদেশী মুদ্রা দেওয়া হয়। দানেশ সেখদের সঙ্গে দুজন বাংলাদেশী ছিল। একজন একটি পোস্টের কাছে নেমে যায়। আরেকজন দালাল গোছের লোক গাড়ি থেকে তাদের মাঝপথে নামিয়ে দেয়। সেখানে বি এস এফ তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে বলে। দানেশ জানায়, তখন রাত বারোটা না একটা ঠাউর করতে পারছিলাম না। বর্ষার সময়। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। হঠাৎ আমাদের ছয় জনকে বি এস এফের একজন বললেন, সামনে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড় দিয়ে সরসর করে চলে যাবি। পিছনে তাকালে গুলি করে দেবো। ছেলে বৌ সবাই তাদের হাতে পায়ে ধরে কাঁদতে থাকলাম, শুনলো না। বললে, এই সামনের জঙ্গলে বাঘমারারা আসে, ওরা জানতে পারলে বিপদে পড়বি, কাঁদিস না। অগত্যা এক পা জল ভুঁইয়ে দেড় থেকে দু'দিন হেঁটে চলেছি, বলে চলে দানেশ। সারা রাতা মহিলা ও শিশুদের নিয়ে জংলি পথে হাঁটা। দিনের আলো ফুটলে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর হয়ে নদীর জল আর কলার বন থেকে কাঁচা কলা খেয়েই জীবন বাঁচাতে হয়েছে। তারপর কুড়ি গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সেখানে প্রাণ ভরে একদিন একটু খাওন দাওন হয়েছিল। কিন্তু সেখানে আশ্রয় গেল। দানেশ বলেন, আসলে ওটা ছিলো দালালের বাড়ি। যারা বিজিবি ও বিএস এফের মিডলম্যান। সেই বিজিবিকে ফোন করে আমাদের ধরিয়ে দেয়। তারপর শুরু হলো আরেক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। দানেশ জানান, বিজিবি অফিসার তাদের কাদা জল মাখা পোশাক দেখে বাঘমারা চোরা শিকার পাচারকারি মনে করে। দানেশের কাছে নেই টাকা, নেই কোনো নথি। হিন্দিতে নিজের নাম লিখতে পারতো। সেটা দেখেই বিজিবি নিসন্দেহ হয়, তারা ইণ্ডিয়ান। এতক্ষণ পুশ ইন কবলে তারা ভুগলো। এবার পুশব্যাক। এবার সেই দালাল তাদের দায়িত্ব নিয়ে, বিজিবিকে জানিয়ে দিলো, সেই ম্যানেজ করে দিচ্ছে। কিন্তু কিছুটা হেঁটে কুড়ি গ্রামের একটা ফাঁকা পথ দেখিয়ে সেই দালাল বলে দিলো, সোজা হাঁটবে। আধ ঘন্টা গেলেই, আমার লোক থাকবে। সেই তোদের বর্ডার পার করে দেবে। যেহেতু আমরা টাকা দিতে পারি নি, তাই সে সাথে গেলো না। বহু অনুরোধ করেও কোনো লাভ হলো না। বিএস এফ হেড লাইটে তাদের যথারীতি দেখে ফেলে চিৎকার করে ওঠে, রুক্ রুক্। গুলি করে দেবো। ক্যাম্পে নিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয় আমাকে, বলে দানিশ। লাঠি, ঘুষি চালায়। বন্দুক দিয়ে মারতে গেলে আমি সরে যেতেই, সেই বন্দুকের আঘাত লাগে আমার ওই টুকু ছেলে সাবের সেখের মাথায়। সুনালীকে থাপ্পড় মারা হয়। সন্তান সম্ভবা বলে মাফ করা হয় নি। সুইটিকেও চড় থাপ্পড় মারা হয়। পরে আমার জামা খুলে পিঠে মারের দাগ দেখে ওষুধ দেয়। খাবার ও দেয়। তারপর রাত বারোটা নাগাদ গাড়িতে চাপিয়ে ফের একটা জায়গাতে নামিয়ে দেওয়া হয়। দানেশ বলেন, বিএস এফ বর্ডারে হ্যালোজেন নিভিয়ে বলে সামনের রাস্তা ধরে চলে যা। বুঝলাম, আবার পুশ ইন। আল্লাহ কে ডাকতে ডাকতে অন্ধকারে সবাই চলতে লাগলাম। পিছনে দেশের সৈন্য। তারা বন্ধুক তাক করে আমাদের দিকে। সামনে বিদেশী সৈন্য। আমরা কোথাকার! কোন দেশের! ঠিকানা ছাড়া, ঠিকানার খোঁজে। ছেলেরা ভয়ে কাঁদতে ভুলে গেছে। সুনালীর হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। উপায় নেই। ১০ কিমি হেঁটে একটা নদী পেলাম আমরা। পড়ে শুনেছি ওটার নাম নাকি দুধকুমার। ভারতে শঙ্কোস বলে। জিঞ্জির নৌকা টেনে পেড়িয়ে একটা বড়ো নদী দেখলাম। সেখানে বাঁশের সেতু। ধরলা নদী পেরিয়ে সোনাহাটি বন্দর যাওয়া যায়। এরপর দেখলাম আরেকটা বড়ো নদী। এক ফোঁটা পানি নাই। হেঁটে পেরোলাম। বোধহয় ওটা তিস্তা নদী। দানেশ বলে, সোজা ঢাকা মেট্রো শহরে হাজির হলাম আমরা। একটা বাড়িতে বললাম, আমাদের কাছে একটা ফোন নাম্বার আছে, একটু ফোন করতে দিন। বাড়িওয়ালা বললো, কাজ করো তারপর ফোন করতে দেবো। তার বাড়িতে তিন দিন রাজমিস্ত্রির কাজ করার পর, একটু খেতে আর ফোন করতে দেয়। দানেশ জানায়, সুইটিবিবির মামাতো ভাই আমির খানের কাছ থেকে ঢাকার ফারুক সেখের নাম্বার পায় সে। সেই নাম্বারে ফোন করে অনেক সমস্যা মিটে যায়। ততদিনে সুনালী, সুইটি ও ছেলেরা হোটেলে বাসন ধোয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে। ফারুক সেখ একজন চিকিৎসকের ছেলে ও ব্যবসায়ী। তিনি তাঁর নিজের বাড়িতে তিন চার দিন রাখার পর, বাসা বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। জামা কাপড়, খাবার দাবারের ব্যবস্থা করে দেন। ইতিমধ্যে জানাজানি হয়ে যায় আমাদের কথা। পুলিশ আমাদের জেলে পাঠিয়ে দেয়। তারপর ভারত থেকে মোফাজিল সেখ বাংলাদেশে এসে মামলার তদবির করে। তিন মাস দশ দিন পর সুনালি ও ছেলে সাবেরের জামিন হয়। ক্যাপশন: ছেলে আপনকে কোলে নিয়ে দানেশ সেখ

বিধবা মাছ ছোবে না ছ'মাস, ক্রান্তিকাল কি তার আগেই উত্তীর্ণ? দেবশ্রী মজুমদার

সহজে অনুমেয়। সেই মহা সন্ধিক্ষণ সমুপস্থিত। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির তিন নেতৃত্বের হাতে পদ্ম পতাকা ধরিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বললেন, ‘এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়, তাঁরা বিজেপি কর্মী।’ তিনি আরও বলেন, ‘চার ঘণ্টার তৃণমূলের জন্য দরজা বন্ধ। যাঁরা মানুষকে লুঠ করেছে তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ।’ রঙ্গিলা রসিকতা করবে। অনেক নিন্দুক বলতে শুরু করেছে, জানতুম, বিধবা ছ'মাস মাছ ছোঁবে না। এতো দেখছি, এদের এতো দেরিও সয় না! আই এ্যাম তো অবাক! অবাক হওয়ার কিছু নেই। জার্সি বদল করে দল বদল খেলারই অঙ্গ। দর্শকের কাজ দেখা, শুধু দেখা সে কেমন খেলছে। কেউ কেউ তো তলে তলে একাদশী বিধবার মতো নিরম্বু উপবাস রেখে পুকুরে ডুব দিতে যাওয়ার নাম করে ডুবে ডুবে জল খায়। মহাভারতে মহামতি ভীষ্ম একবার যুধিষ্টিরকে বলেন- "শত্রুর্ মিত্রং ভবত্যেব, মিত্রং চাপি প্রদুষ্যতি। কার্যাকার্যবশাদ্ রাজন্, নিত্যং লোকস্য বর্তনম্॥" যার বাংলা অর্থ হলো- হে রাজন, শত্রুও মিত্র হয়ে যায়, আবার মিত্রও শত্রু হয়ে যায়। মানুষের সম্পর্ক কার্য, প্রয়োজন ও পরিস্থিতির কারণেই পরিবর্তিত হয়। তাই অবাক হওয়ার কিছুই নেই। ইহাও সম্ভব, উহাও সম্ভব, সম্ভব তো যুগে যুগে। রাজনীতি যারা করেন, তারা জানেন, রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী শত্রু বলে কিছু নেই; স্থায়ী থাকে স্বার্থ, লক্ষ্য ও পরিস্থিতি। রাজনীতির মতো যতো কিছু জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সব ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে। পুরাণে দেখা যায়, রাম–সুগ্রীব: প্রয়োজনে মৈত্রী। দ্রোণ–দ্রুপদ: বন্ধু থেকে শত্রু। বিভীষণ–রাম: ধর্মের জন্য পক্ষ পরিবর্তন। দেবতা–অসুর: স্বার্থে সাময়িক জোট। স্বার্থ একটা থাকেই। একটু বৃহৎ পরিমণ্ডলে দেখলে আরও ভালো পরিষ্কার হবে। ইতিহাসের পাতায়, এমন বহু উদাহরণ আছে যেখানে দেখা যায়—স্থায়ী শত্রু বা স্থায়ী মিত্র বলে কিছু নেই; পরিস্থিতি ও ব্যবহারের ভিত্তিতেই সম্পর্ক বদলে যায়। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেওয়াই যেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে যুক্ত রাজ্য ও সোভিয়েত ইউনিয়ন আদর্শগতভাবে একে অপরের বিরোধী ছিল। কিন্তু হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করার পর তারা একই জোটে যোগ দেয়। যুদ্ধ শেষে আবার ঠাণ্ডা লড়াইয়ে তারা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। পুরন্দরের সন্ধি চুক্তি হয় শিবাজী ও জয় সিংহের মধ্যে। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে আবার সংঘাত শুরু হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বহুল উদ্ধৃত নীতি রয়েছে: "Nations have no permanent friends or permanent enemies, only permanent interests." বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তো এব্যাপারে রাজনৈতিক নজির স্থাপন করেছে। এব্যাপারে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো: ভারতীয় জনতা পার্টি ও জনতা দল (ইউনাইটেড) বহু বছর জোটসঙ্গী। তাবলে কি মাঝে মাঝে তাদের মধুচন্দ্রিমা ভঙ্গ হয় নি? ২০১৩ সালে তাদের জোট ভাঙে। ২০১৭ সালে আবার জোট। ২০২২ সালে আবার বিচ্ছেদ। ২০২৪ সালে পুনরায় জোটে ফেরা। ফের ২০২৬ শে জোট সঙ্গী। শিবসেনা ও ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র। ২০১৯ মহারাষ্ট্র সরকার গঠন-এর পর জোট ভেঙে যায়। পরে শিবসেনার একাংশ একনাথ শিন্ডে-র নেতৃত্বে আবার বিজেপির সঙ্গে সরকার গঠন করে। পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও ভারতীয় জনতা পার্টি মতাদর্শে ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও জম্মু ও কাশ্মীর-এ সরকার গঠন করে। তাই নীতি ও আদর্শ এই কথাটা কাঁঠালের আমসত্ত্বের মতো শোনায়। অনর্গল সুন্দর কথার ফাঁকে শমীকবাবু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অর্গল খোলা হবে। এদিন তার সূচনা হলো। এটা অনেকের কাছে শুধু আবেগ নয়, বেগের। কারণ উন্নয়ন থেমে আছে। পঞ্চায়েত ত্রিস্তরে, পৌরসভায় এই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য অনেক খেলোয়াড় প্রায় বসে আছে। দাঁতে বসা রস আর রসিকতা, এক নয় বস। রসায়নের পরিভাষায়, এই ধারণাকে বলে, কালেক্টিভ ইফেক্ট। অনেক মৌল, আয়ন, বা অনু একসঙ্গে যুক্ত হলে এমন আচরণ দেখা দিতে পারে যা একক কণার পক্ষে সম্ভব নয়। সমবায়ী বন্ধন, আয়নীয় আকর্ষণ, বা জালিকা গঠনের মাধ্যমে তা সমষ্টিগত বৈশিষ্ট্যে রূপ নেয়। পদার্থ বিদ্যায়, যেমনটা তড়িৎ পরিবাহিতা, চৌম্বকত্ব। সমাজ বিজ্ঞানে এমার্জেন্ট সোশ্যাল ফোর্স। এরা ডিম ছুঁড়তে পারে। এরা কি না পারে। একুশের বিধান সভার নির্বাচনোত্তর সহিংসতা দেখলে, এখন তাদেরই আচরণ দেখলে সহিষ্ণুতা বলে ভ্রম হতে পারে। এই বিচিত্রতা আছে। অনেকেই কোন রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যত নিয়ে ইতি টানছেন। অনেক সময় অনেক শাসক দল রিবাউণ্ড ইফেক্ট বুঝতে পারেনা। জার্মানিতে নাৎসি দল আর ফেরে নি। তবে নব্য নাৎসি ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক পার্টি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাই কোন দলকে না ভেঙে, শর্ত দিয়ে দমাতে চায় অনেকে। কিন্তু তাতেও খুব ফল হয় নি। প্রতিবেশী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ: ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করেছিল; পরে স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে পুনর্জীবিত হয়, আর বহুদলীয় রাজনীতি ফিরে এলে আবার সক্রিয়ভাবে সংগঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামী: স্বাধীনতার পর দলটি নিষিদ্ধ ছিল; ১৯৭৯ সালে আবার সক্রিয় হয়, যদিও পরে আবার নানা আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে নাস্তানাবুদ হয়। প্রতিক্ষেত্রে পট পরিবর্তনে রাজনৈতিক বিশ্বস্ততা থাকে, আবার অবিশ্বস্ততা থাকে। এব্যাপারে বিদুরনীতিই শ্রেষ্ঠ : "ন বিশ্বসেদ্ অবিশ্বতে, বিশ্বস্তে নাতি বিশ্বসেদ্। বিশ্বাসাত্ ভয়মুৎপন্নং, মূলান্যপি নিকৃন্ততি। অবিশ্বস্ত কে বিশ্বাস করবে না। আবার বিশ্বস্তকেও অতিরিক্ত বিশ্বাস করবে না। অতি বিশ্বাস যে কোন শিকড় পর্যন্ত কেটে ফেলতে পারে।

আসল বেইমান বনাম নকল বেইমান : খানদানি জি আই ট্যাগ কার? দেবশ্রী মজুমদার

আসল বনাম নকল লড়াই আছেই। তার জন্যে কেউ ঠকে, কেউ জেতে। কিন্তু বেইমানিতে কে আসল, এমন চ্যালেঞ্জ কদাচিৎ ঘটে। পাড়ার “মীরা বৌদি”-রা সাধারণত এরকমটি করে থাকেন। লীলা মজুমদারের চোর গল্পে চোরের নাম নেই। এখানে বেইমানেরও নাম নেই। সম্প্রতি বিধান সভার প্রেস কর্ণারে সাংবাদিক বৈঠক করে এই খানদানি বেইমানির জিআই ট্যাগ নিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রদর্শনী হলো। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বলেন, ‘ এক কোম্পানির সদ্য অভিষিক্ত ম্যিনেজিং ডিরেক্টর তথা প্রাক্তন সাংসদ নাকি দশ হাজার টাকা চাঁদা দিতেন। কিন্তু হাজার হাজার কোটির দুর্নীতি নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, সব খরচের পরে আরও ৩০ কোটি ছিল। এক জনের কাছে রাখা হয়েছিল কোথাও বিনিয়োগ করার জন্য। এই চিঠি দল তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর তখন থেকেই সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল। দলের সাংসদ সেই সময়ে কি বেইমানি করেছিলেন?’ প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেওয়া হলো কোন এক কর্ণারে। সেটি খপাৎ করে ধরে নিলেন সেই কোন এক প্রাক্তন সাংসদ। যিনি অবলীলায় বলে ফেললেন, আমার ধারণা দিদির ওই চিঠি পড়ে মুখস্থ হয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেন, তিনি প্রথম হুইসেল ব্লোয়ার। মুখে না বললেও, অভিব্যক্তি হলো, তিনি বেইমান নন। দলের দুর্দিনে পাশে আছেন এবং সমানে দলকে ডিফেণ্ড করে যাচ্ছেন। দলকে মাসিক চাঁদা দিয়ে গেছেন। ঋতব্রত কোন ভাবেই সেই আসল বেইমানের নাম মুখে আনলেন না।তবে আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন অনেকটাই। তাঁকে নাকি সেই উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি একবার কুইজ মাস্টার বলেছিলেন। যাইহোক, অনেকটা কুইজ মাস্টারের মতোই, বেশ কিছু হিন্টস দিলেন, সকলের সুবিধার্থে। এর পরেও, যদি কোন নিন্দুক বলেন, আমি মুখ্খু সুখ্খু মানুষ, নামটা খোলসা করে বলুন না? তাহলে দাদা, আপনি এই লাইনের-ই লোক না। বলা হলো, তৃণমূলের প্রাক্তন এক সাংসদ প্রায় এক দশক আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিবিআই ডিরেক্টরকে ৯১ পাতার চিঠি লিখে জোড়াফুল দলকে তুলে দেওয়ার সলতে পাকানোর কাজ শুরু করেছিলেন। দু'দিন ধরে সেই চিঠি পড়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যেন প্রশংসা করে বললেন, সামান্য দুই একটা জায়গায় কাটাকুটি। তার পড়তে কোনো অসুবিধা হয় নি। বিরোধী দলনেতা তিনি। তাই খুব দায়িত্বের সাথে বলেন, ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চিটফান্ডের টাকায় চলেন। চিট ফাণ্ডের সব থেকে বেনিফেশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, মোবাইলের স্টোরেজ থেকে সেই ঐতিহাসিক চিঠির সাবহেড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা অংশ বিশেষ কোট আনকোট পাঠ করলেন। যেটি বন্দি কালে লেখা হয়েছিলো এবং যার প্রতিলিপি কোনো সখা, কোন সাংবাদিকের কাছে শেষ বয়ান হিসেবে পাঠানো হয়েছিলো। সেই চিঠিতে, অমুক ব্যক্তি, তমুক ব্যক্তিকে চিটফান্ড উদবৃত্ত ৩০কোটি টাকা অন্যকোনো জায়গায় লগ্নি করতে বলেছিলো। অমুক ব্যক্তির নামটা ঋতব্রত উহ্য রাখেন। তবে মি. সেন নামটাও একবার বলেন। এরপর হেসে হেসে বলেন, এই চিঠি যদি ওই প্রাক্তন সাংসদ দিদিকে না দেখান বা পাশে বসে কোনো কোনো কাটাকুটির জায়গায় পড়তে সাহায্য না করেন, তাহলে ১৫ দিন পর, সেই চিঠি ক্যুরিয়ার করে থ্রি বি হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে পাঠিয়ে দেবেন। তারপর সমস্ত সংবাদ মাধ্যমকে সরবরাহ করে দেবেন। অর্থাৎ পাবলিক করে দেবেন। এসব শুনে মনে হয়েছিলো, বাছাধন। ঘুঘু দেখেছো, ফাঁদ দেখো নি। এই জন্যই বলে, শতং বদ, মা লিখ। যদিও প্রাক্তন সাংসদ বা ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাত্তা দিলেন না। অর্থাৎ তির নিক্ষেপ হলো। কিন্তু অর্জুন সিংয়ের " শকুনির" গায়ে লাগলো না। অর্থাৎ হিট হলো না। এ তো আর ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি ফাঁস নয়। অন ক্যামেরায় এসব কথা মানুষ আগেই শুনেছে। তাই যে কেলেঙ্কারির জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ আগস্ট Richard Nixon রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, তা হবে না। তেনার ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ খায় কে? তবে ঋতব্রতদের এই ফ্রন্টাল এ্যাটাকে নামহীন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নিশ্চয়ই ব্লোব্যাকে যাবেন না। তবে, রাগ তো হবেই। সায়নীকে বেইমান শুনতে হয়েছে। শতাব্দী রায়, নিজের এলাকায় এসে দিদির সাথে আছেন, বলেছেন। আবার এন সিপি আইয়ের কথা মুখে একবার বলেছেন। তবে, সেই দল মাথায় দেয় না কোথায় দেয়, কেউ জানে না। সবার ভয় 'ডিম' ও 'বেইমান' শব্দকে। তাই তো ঋতব্রত নাম না করে বলছেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর-ই, আসল বেইমান। আর তাঁর ম্যানেজিং ডিরেক্টর? তিনিও বলছেন, কোন প্রতীকে জিতেছেন? কার দেওয়া প্রতীকে জিতেছেন? নিজের এলাকায় মানুষের কাছে যান না? শুধু মুখে বলেন নি, ভাতারের ভাত খায়, নাঙ্গের গুণ গায়।।

আর কত ধবধবে কালো, হবে কুচকুচে সাদা দেবশ্রী মজুমদার

"কুচ কুচে সাদা, ধবধবে কালো। তৃণমূলে নেই কোনো ভালো।" এই বাক্যটি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর। এখন তিনি কী বলবেন? লোকমুখে বিজেপির বি টিম বলে খ্যাত ঋতব্রত তৃণমূলে এবার স্থান পেলেন দিদির দীর্ঘদিনের সাথী অনুব্রত মণ্ডল। শুধু স্থান নয়, পেলেন জেলার দায়িত্বও। তবে ঋতব্রত তৃণমূলে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর পুরাতন কমিটি তো মমতা তৃণমূল আগেই ভেঙে দিয়েছে। বলাই বাহুল্য, শেষের দিকে, বিশেষ করে ছাব্বিশে কোন দায়িত্ব না থাকায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন দিদির কেষ্ট । অন্যদিকে, জেলার রাজনীতিতে অভিষেকের পছন্দের ছিলেন কাজল সেখ। অনুব্রতকে সরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন আদি তৃণমূলে এক কথায় জেলার মধ্যমণি। তিনি আগেই ঋতব্রত তৃণমূলে যোগদান করেছেন। এবার সেই অনুব্রত ঋতব্রত তৃণমূলে জেলার দায়িত্ব পেলেন। ভাগ্যের উত্থান পতন কাকে বলে তা অনুব্রত মণ্ডলকে না দেখলে দুষ্কর। এই অনুব্রত মণ্ডল যার নির্দেশে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খায় সেই বেতাজ বাদশাকে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবাস ভোগ করতে হয়। তবে অনুব্রত মণ্ডল রাতারাতি এইভাবে বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছেন এমন নয়। একসময় তিনি ছিলেন সামান্য এক মুদিখানার দোকানের মালিক। শমীক বাবু বলতেই পারেন, এটা তৃণমূলের পারিবারিক বিবাদ। তৃণমূল ভেঙে আসল তৃণমূল এখন ঋতব্রত নেতৃত্বে প্রধান বিরোধী দল। তারা কমিশনের কাছে ঘাসফুল সিম্বলের দাবিদার। আইনি লড়াইয়ে জটিলতা থাকলে হাতের পাঁচ এন সি পি আই তো আছেই। এখন মমতার হাত ছাড়লেন কেষ্ট। মমতা দিদির আদরের ভাই কেষ্ট! বহুদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী। গুঞ্জন আগেই শুরু হয়েছিলো। কেউ কেউ বলেছিলো, পড়ল কথা হাটের মাঝে, যার ব্যথা তার বুকে বাজে। সেই ব্যাথা মমতা থুড়ি রাসমণির বুকে কতটা বাজে দেখার! " রাসমণির আর কোনো সন্ধান রহিল না। " গল্পের এমন পরিসমাপ্তি কবে হবে জানা নেই। (রবীন্দ্রনাথের দান প্রতিদানের রাসমণির মতো মর্যাদা সম্পন্ন মোটেই এখনকার কোন নেত্রী নন, হওয়া সম্ভবও নয়।) তবুও অনুগামীদের একাংশের মত। অত:পর আর কোন দুর্নীতিযুক্ত দল, পাপড়ি ও মূল রহিল না। শুধু "ভালো"-ই রহিয়া গেল। সখেদ কিনা জানি না। তবে, ধবধবে কালো, এখন হাত যশে কুচকুচে সাদা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য। খুবই বিশুদ্ধ, শিষ্ট মিষ্ট ভাষী। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, "কুচ কুচে সাদা, ধবধবে কালো। তৃণমূলে নেই কোনো ভালো।" তারপর থেকেই স্থানান্তরিত বিশেষণটি ফিগারস অফ স্পিচ হয়ে লোকমুখে ঘুরছে। কয়দিনের ঘটনাক্রমে স্পষ্ট যে ধবধবে কালো এবার কুচকুচে সাদা হবেই। সেই তালিকায় সদ্য তিন তৃণমূল সাংসদ, বিজেপি সাংসদ প্রার্থী হিসেবে সংসদের উচ্চ কক্ষে যাচ্ছেন। এটা নিশ্চিত। অতীতে এমনটা হয় নি তা নয়। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্র শেখরের ছেলে নীরজ শেখর ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সমাজবাদী পার্টি (SP) ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেন। আর তাতেই শুরু হয়েছে, হতাশা বিজেপির অনুগামীদের একাংশের মধ্যে। তারাই সমাজ মাধ্যমে শিক্ষাবিদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড.সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য তুলে ধরে এবং তৃণমূল নেতানেত্রীদের বিজেপিতে যোগদানের ছবি পাঞ্চ করে সুন্দর ককটেল বানাচ্ছেন। আর তাতে নেশাটাও জমে উঠেছে। যাকে একদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, গরু পাচারকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে ভাইপোর কাছে অর্থ পাঠানোর কথা বলছেন, তিনিই এখন বিজেপিতে যোগদানের পর কুচকুচে সাদা। এই নতুন তালিকায় আরও নিত্য নতুন নাম সংযোজন অনুব্রত মণ্ডল। আদি তৃণমূলের পুরো মেশিনারী নব্য তৃণমূলের চায়। এটা অস্তিত্বের লড়াই। এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে সাংগঠনিক দক্ষতা ছাড়া, একটা মেকানিজম ছাড়া রাজধানী থেকে রাজ্যপাট চালানো যায় না, দলও চালানো যায় না। এই পুরো মেকানিজমটা মাঠের বাইরে বেশিদিন শাসকদল রাখতে দেবে না, তাদেরও কুচকুচে সাদা করে দলে ঢোকাবে। অমৃতে অরুচি তো সুরাসুর কারো নেই। ভালো হলে তো ক্ষেতি কিছু নেই। শুধু ধবধবে কালো না হলেই হলো। তবে শমীকবাবুর আরেকটা বক্তব্য নিয়েও খটকা লাগছে। তিনি বলছেন, জনগণকে এই ভূখণ্ড রক্ষা করতে হবে। নাহলে, যতমত তত পথ থাকবে না, কমিউনিস্ট থাকবে না, তৃণমূল যদিও এখন নির্মূল, কেউ থাকবে না। শক্তিশালী ভূখণ্ড না হলে, বহুত্ববাদ থাকবে না। একটা অংশ যা বলবে, তাই শুনতে হবে। তাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং তাঁর ভাষায় প্রতিশোধ নিতে হবে। এই তিনটে 'প্রতি' যুক্ত শব্দ তিনি আপামর জনসাধারণের উদ্যেশে বললে, বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের যে সহ্য করতে হবে! তাদের আবেগকে মান্যতা দিতে হবে! এও কি সম্ভব? এই জন্যই যদি কেউ তাকে পিতামহ ভীষ্ম বা লুইস স্টিভেনসনের ড. জেকিল এবং মি. হাইডের মত এক বিখ্যাত দ্বৈত সত্তা বানিয়ে ফেলেন, খুব খারাপ লাগবে। সর্বপরি, তিনি একজন ভদ্র লোক।

ধর্ম ও রাজনীতি: সোনায় সোহাগা --দেব ঋষি

ব্রজবাসী শ্রীজীব গোস্বামীর দিকে নিষ্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছেন সম্রাট আকবর। কে এই দৈন্য বেশ ধারী অতি সাধারণ জীবন যাপনকারী সাধু! তাঁর চোখে বিস্ময়ের শেষ নেই। শ্রদ্ধায় তাঁর হৃদয় বিগলিত হলো। বৃন্দাবনের বৈষ্ণব সমাজ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। তাঁদের প্রার্থনা বৈষ্ণবদের মন্দির নির্মাণে বাধা দূর করুন সম্রাট। শ্রীজীব গোস্বামীর প্রজ্ঞা, তিতিক্ষা ও ধর্ম নিষ্ঠায় মুগ্ধ হয়ে ভূমি দান করলেন দিল্লীশ্বর। আদেশ দিলেন, বৃন্দাবনের যেকোন স্থানে মন্দির নির্মাণ করা যাবে। শুধু তাই নয়, বৃন্দাবনে মৃগয়া নিষিদ্ধ হলো। ঘোষণা করলেন, বৃন্দাবনে পশু হত্যা নিষিদ্ধ।। ( বৈষ্ণবাচার্য শ্রীজীব গোস্বামী: ভারতের সাধক-সাধিকা (দ্বিতীয় খণ্ড), সুবোধ চক্রবর্তী। অন্যদিকে, ঔরঙ্গজেবের ধর্ম ও রাজনীতি যে ধর্ম নীতি তৈরি করেছিলো, তা ইতিহাসে ভৎর্সিত। কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর শাসনকাল (১৬৫৮–১৭০৭ খ্রি.) ছিল অত্যাচারের। অথচ তিনি ছিলেন ধার্মিক। সুন্নি ইসলামি আদর্শকে ভিত্তি করে রাজনীতি পরিচালনা করেন তিনি। তিনি নিজেকে ইসলামের রক্ষক মনে করতেন এবং শরিয়তসম্মত শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তাঁর শাসনকালে জিজিয়া কর পুনরায় চালু করা হয়, বহু হিন্দু মন্দির ধ্বংস বা রূপান্তর করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তাঁর ধর্মনীতি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। রাজপুত, জাট, শিখ ও মারাঠাদের বিদ্রোহ বৃদ্ধি পায়, যা মুঘল সাম্রাজ্যের দুর্বলতার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, ঔরঙ্গজেবের সময়ে ভারতের বহু হিন্দু মন্দির ধ্বংস হয়। এই পরিস্থিতিতে বৃন্দাবনের শ্রীশ্রী রাধা-দামোদর মন্দিরের সেবায়েতরা বিগ্রহের সুরক্ষার জন্য তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অনেক চিন্তাভাবনার পর বিগ্রহটি নিরাপদে জয়পুরে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে যথাযথ পবিত্রতা বজায় রেখে নিয়মিত পূজা-অর্চনা শুরু হয়। রাজা কোনো বিশেষ ধর্মের অনুসারী হলে, রাজধর্ম ভুলে প্রজাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা তিনি হরণ করতে পারেন। এমন প্রমাণ ইতিহাসে ভুরি ভুরি আছে। গণতান্ত্রিক দেশে ভোট রাজনীতিতে প্রশ্রয় ও প্ররোচনা দুটোই হয়ে থাকে। নিরপেক্ষতা রাখতে ভারতের ডান ও বাম কেউ পারে নি। বামেরা জাতপাতের রাজনীতি করতে গিয়ে হিন্দু ধর্মকে আক্রমণ করেছে। চাতুর্বর্ণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ। তারা গীতার এই বাণী বিশ্বাস করতে চায় নি। আজও ২৫ ডিসেম্বর 'মনুস্মৃতি দহন দিবস' পালন হয়। হিন্দু ধর্ম সহনশীলতার ধর্ম, তাই এই আচরণ সহ্য করা হয়। অভিযোগ, বিষ্ণুর পদ যুগল থেকে শুদ্র-র জন্ম হয়, বলা হয়েছে। কেন, এই ধর্ম বৈষম্য? ব্রাহ্মণদের আক্ষেপ হয়, কী অপরাধে শ্রীবিষ্ণুর চরণ যুগল থেকে তাঁদের জন্ম হলো না! শুদ্র কোনো জাতি বাচক শব্দ না। কে বোঝাবে! ক্ষত্রিয় রাজা জনশ্রুতি-পৌত্রায়ণকে ‘শূদ্র’ বলিয়া অভিহিত করা হয়েছে।কারণ বেদান্ত-দর্শনের ব্রহ্মসূত্রে (১।৩।৩৪–৩৫) এবং তার টীকায় শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য বলেছেন— এখানে ‘শূদ্র’ জাতিবাচক নহে। ‘শুচা দ্রবতি ইতি শূদ্র’ অর্থাৎ ব্রহ্ম জ্ঞানী শকট রৈক্বের জ্ঞানের মহিমা ও নিজের পুত্রের দীনতা দর্শনে শোকে দ্রবীভূত হন রাজা জনশ্রুতি-পৌত্রায়ণ। দানবীর হিসেবে শ্রেষ্ঠ হলেও বিদ্যা বা জ্ঞানে শকট রৈক্বের থেকে ছিলেন তুচ্ছ। দেবতাদের কাছে এই সত্য জেনে রাজার মন শোকে দ্রবীভূত হয়। তাহার নিকট দ্রুত গমন করেন জ্ঞান লাভের জন্য। সে কারণে ক্ষত্রিয় রাজাকে ‘শূদ্র’ বলা হয়। বহুজন সমাজ পার্টির কাঁসিরামের মতো নেতারা মি.গান্ধীকে রেয়াত করেন নি। তাঁর অপরাধ সমাজের পিছিয়ে থাকা বর্গের মানুষদের "হরিজন" বলতেন। হরিজন অর্থাৎ "ঈশ্বরের সন্তান" বলে নাকি তাদের অপমান করা হয়েছে। ভারসাম্যহীনতার এই রাজনীতি শুধুমাত্র ক্ষমতার হাতবদল করতে পারে। অবস্থার পরিবর্তন করতে অনেক ক্ষেত্রে অপারগ হয়। বিষয় যখন ধর্ম ও রাজনীতি, অপ্রিয় এই কাজটি করতেই হবে, কেউ পড়ুক না পড়ুক, আজ দিন হোক প্রবন্ধ -র। ধর্ম ও রাজনীতি, সোনায় সোহাগা সম্পর্কিত। তবে তা ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ সোনা কিনা বলা বেশ শক্ত। এই দুইয়ের মিশেলে বিশুদ্ধতা না থাকতে পারে, কিন্তু টেকসই কতটা মানুষ কখনও হৃদয়ে আবার কখনও অস্থিতে অস্থিতে বোঝে। সুফী সাধকরা কিন্তু কাঁচা সোনার কথা বলেছেন। পাকা সোনা তো ভঙ্গুর! --দেখেছি রূপসাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা। তারে ধরি ধরি মনে করি, ধরতে গেলে ধরা দেয় না...সে যে মানুষ চেনা, সোনার মানুষ চেনা। যা হোক, এসব ভাবের কথায় ভাবনা বেশি। তবে, প্রথমে জানা দরকার ধর্ম কী? তার পরিভাষা কী? শাস্ত্রকাররা কী বলেন। আর আমরা কী জানি? -- মানুষ জন্মে ছিলো ধর্ম হীন হয়ে। তারপর পরিশীলিত জীবনের তাগিদে কার আবির্ভাব বলার অপেক্ষা রাখে না। এ কথা কেন বললুম? মহাভারত এ প্রসঙ্গে বলে, 'ধারণাদ্ ধর্মমিত্যাহুর্, ধর্মো ধারয়তে প্রজাঃ॥" অর্থাৎ যা ধারণ করে, রক্ষা করে এবং সমাজকে স্থিতিশীল রাখে, তাকেই ধর্ম বলা হয়; কারণ ধর্মই প্রজাদের ধারণ ও রক্ষা করে। আবার আরেকটি বহুল প্রচলিত শ্লোক হলো-- ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ॥ বাংলায় যার অর্থ- যে ধর্মকে রক্ষা করে, ধর্মও তাকে রক্ষা করে। এই ভাবনা থেকে অনেকে উজ্জীবিত হয়ে অত্যুৎসাহী হয়ে ওঠেন। তারা পূর্ণ শ্লোকটি খেয়াল করেন না। "ধর্ম এব হতো হন্তি, ধর্মো রক্ষতি রক্ষিতঃ। তস্মাদ্ ধর্মো ন হন্তব্যো, মা নো ধর্মো হতোহবধীত্॥" বাংলা অর্থ ধর্মকে নষ্ট করলে ধর্মই মানুষকে বিনষ্ট করে; আর যে ধর্মকে রক্ষা করে, ধর্মও তাকে রক্ষা করে। তাই কখনও ধর্মকে ধ্বংস করা উচিত নয়, পাছে ধ্বংসপ্রাপ্ত ধর্মই আমাদের ধ্বংস করে। এখন আমরা কিভাবে ধর্মকে রক্ষা বা ধ্বংস করতে পারি? মনুস্মৃতির ষষ্ঠ অধ্যায়ের ৯২ তম শ্লোক বলে, - ধৃতিঃ ক্ষমা দমোহস্তেয়ং শৌচমিন্দ্রিয়নিগ্রহঃ। ধীর্বিদ্যা সত্যমক্রোধো দশকং ধর্মলক্ষণম্॥ যার বাংলা অর্থ হলো- ধৈর্য, ক্ষমা, আত্মসংযম, চুরি না করা, শুচিতা, ইন্দ্রিয়সংযম, ধী (বিবেক), বিদ্যা, সত্য এবং ক্রোধহীনতা—এই দশটি হলো ধর্মের লক্ষণ। এই লক্ষণ যদি আমরা রাজনীতির মধ্যে দেখতে পাই, তাহলে রাজনীতি ও ধর্ম নিঃসন্দেহে সোনায় সোহাগা। কিন্তু বাস্তবে ধর্ম কী শুধুই মোহ? শুধু মরে আর মারে? শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অষ্টাদশ অধ্যায়ের ৩২ তম শ্লোক বলে, - অধর্মং ধর্মমিতি যা মন্যতে তমসাবৃতা। সর্বার্থান্ বিপরীতাংশ্চ বুদ্ধিঃ সা পার্থ তামসী।। যার বাংলা তর্জমা হলো-- হে পার্থ! যে বুদ্ধি তমোগুণে আচ্ছন্ন হয়ে অধর্মকে ধর্ম বলে মনে করে এবং সকল বিষয়কেই বিপরীতভাবে উপলব্ধি করে, সেই বুদ্ধিই তামসী বুদ্ধি। এখন একটা গল্প বলি: একদা পুরাকালে অতি শিলাবৃষ্টির কারণে কুরুদেশ বিধ্বস্ত হয়ে গেলো। চক্র পুত্র ঋষি উষস্তি বালিকা বধূ আটিকীকে নিয়ে ইভ্য গ্রামে উপস্থিত হলেন। খাদ্যের সন্ধানে একটি বাড়িতে ভিক্ষা করতে গিয়ে দেখলেন, গৃহস্বামী আধপঁচা মাষকলাই খাচ্ছেন। তার গৃহে আর কোনো খাদ্য দ্রব্য অবশিষ্ট না থাকায় এবং খিদের জ্বালায়, গৃহস্বামীর উচ্ছিষ্ট মাষকলাই খেলেন এবং স্ত্রীর জন্য সামান্য কিছু সঙ্গে নিলেন। তারপর গৃহস্বামী বললেন, বাড়িতে আর পানীয় জল নেই। আপনি কি আমার এঁটো জল খাবেন? -- উত্তরে উষস্তি বললেন, পানীয় জল উচ্ছিষ্ট তিনি খাবেন না। তার উত্তরে গৃহস্বামী বিস্মিত হলেন। তার বিস্ময় দূর করতে, উষস্তি বললেন, খাদ্য গ্রহণ আমার কাছে খুবই প্রয়োজনীয় ছিলো। কিন্তু জল তেষ্টা আমার পাই নি। আর তা পেলে আমি যোগাড় করে নিতে পারবো। ছান্দোগ্য উপনিষদের গল্প আমাদের বলে দেয়, কোনটাকে আমরা উচ্ছিষ্ট মনে করবো। আর এই জন্যই রাজনীতিতে যা উচ্ছিষ্ট তা কখনও সত্য-ই উচ্ছিষ্ট। ঢাকঢোল পিটিয়ে তার প্রচার হয়। আবার কোনো উচ্ছিষ্ট দিব্যি উচ্ছিষ্ট হয়ে যায় না। "চোর ধরো জেল ভরো" প্রচার দেখে তাই গৃহস্বামীর মতো বিস্মিত না হওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মনে হতে পারে, ধর্মের বিরুদ্ধে ধর্ম যুদ্ধে প্রশ্রয় দিচ্ছি। না, তা মোটেও না। ধর্মের প্রকৃত রূপ দেখুন। খুব ভালো লাগবে। আবার একটি বহুশ্রুত উপনিষদের গল্প বলি, মহাভারতে মহারাজা পাণ্ডু তাঁর পত্নী কুন্তীকে বলেছিলেন। ব্রাহ্মণ সেবার জন্য নিজ পত্নীকে অর্থাৎ তাঁর মাতাকে পুংশ্চলী বা পরপুরুষের অনুবর্তী হতে দেখে একবার খুবই ক্রুদ্ধ হন শ্বেতকেতু। তিনি পিতা উদ্দালকের কাছে প্রতিবাদ করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, এ কী নিয়ম? পুত্রের ক্রোধ দেখে উদ্দালক বলেন, মা তাত কোপং কার্ষীস্ত্বমেষ ধর্মঃ সনাতনঃ।। হে বৎস! তুমি রাগ কোরো না। এটিই চিরন্তন প্রথা এবং প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা সামাজিক নিয়ম। আরও বললেন তিনি : অনাবৃতাঃ কিল পুরা স্ক্রিয় আসন্নবাননে। কামচারবিহারিণ্যঃ স্বতন্ত্রাশ্চারুহাসিনি॥ অর্থাৎ প্রাচীনকালে নারীরা কোনো নির্দিষ্ট পুরুষ বা সামাজিক নিয়মের অধীনে আবদ্ধ ছিলেন না। তাঁরা সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিলেন এবং নিজের ইচ্ছামতো বিচরণ করতে পারতেন। তারপর শ্বেতকেতু কর্তৃক বিবাহ আইনের প্রবর্তন হলো। মহারাজা পাণ্ডু কুন্তীকে বললেন, হে মহাভাগে! এরপর শ্বেতকেতু ক্ষুব্ধ হয়ে মানবসমাজের কল্যাণের জন্য এই নতুন নিয়ম আইন প্রতিষ্ঠা করেন। এর বাইরে চলাকে তিনি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এই সামাজিক সংস্কার যে ধর্মে নেই, সেই ধর্ম যথার্থ- ই অনাচার, অধর্ম। এই সমাজকে বাদ দিয়ে রাজনীতির অস্তিত্ব নেই। রাজনৈতিক নেতারা যে সব সিদ্ধান্ত নেন, তার প্রভাব পরে সমাজ জীবনে। রাজা ধর্মস্য কারণম্। যার বাংলা অর্থ হলো- রাজা (শাসক) ধর্ম বা ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম। "রাজনীতি" শব্দটি আধুনিক বাংলা শব্দ। সংস্কৃত শাস্ত্রে এর সমার্থক শব্দগুলো হলো—রাজধর্ম, দণ্ডনীতি, রাষ্ট্রনীতি এবং নীতিশাস্ত্র। আমরা গণতন্ত্রে সবাই নিজেদের রাজা বলে থাকি। কারণ আমরাই রাজা নির্বাচন করে থাকি। আর রাজা কী করেন? সাম, দাম, ভেদশ্চ, দণ্ডশ্চেতি চতুরূপায়াঃ। সাম, দান (বা দাম), ভেদ এবং দণ্ড—এই চারটিই রাষ্ট্রনীতির চারটি উপায় বা কৌশল অবলম্বন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে থাকেন। যার ফল আমরা প্রত্যাশা করে থাকি। মহাভারতের রাজধর্মপর্ব পড়লে দেখা যায়, "সর্বে ত্যাগা রাজধর্মেষু দৃষ্টাঃ। সর্বাঃ দীক্ষাঃ রাজধর্মেষু চোক্তাঃ। সর্বা বিদ্যা রাজধর্মেষু যুক্তাঃ। সর্বে লোকাঃ রাজধর্মে প্রবিষ্টাঃ॥ বাংলায় যার অর্থ হলো-- সমস্ত ত্যাগ, সমস্ত দীক্ষা, সমস্ত বিদ্যা এবং সমগ্র সমাজব্যবস্থা রাজধর্মের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। আর এই কারণে, গুজরাট দাঙ্গার ঘটনায় তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী খুবই স্বল্প শব্দ চয়নে, গুজরাটের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক বড় কথা বলেছিলেন, "রাজধর্ম পালন করো।" আমি কী ধারণ করবো, আমাকে কে বা কী ধারণ করবে? তার সঙ্গে রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশভাগের আগে এবং পরে কোনভাবেই ধর্মকে আলাদা করা যায় নি। যে কোনো রাষ্ট্র বিপ্লবে ধর্মকে বাদ দিয়ে বিশুদ্ধ আন্দোলন করতে চেয়েছেন রাষ্ট্রনেতারা। তারা পেরেছেন কী? খুব কম। হিন্দু স্বরাজ গ্রন্থে মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী বলেছেন, ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনীতির কোনো অর্থ নেই। ধর্ম ও রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি আবার সত্যকে সর্বোচ্চ আসনে বসিয়ে বলেছেন, "The truth will set men free." তাহলে, সত্যই মানুষকে মুক্ত করে; রাষ্ট্রের ভয় বা শক্তি নয়। আর এই সত্যের সন্ধান যদি ধর্ম দেয়, তার ফল ঔরঙ্গজেব দেবে। আর যদি আধ্যাত্মিকতা দেয়, তার ফল আকবর দেবে। এ বিষয়ে পূর্বেই আলোচনা করেছি। আধ্যাত্মিকতা শুধু ধার্মিক হলে আসে না। প্রথাগত ধর্ম আর আধ্যাত্মিকতা বিস্তর ফারাক। এই প্রসঙ্গে সুক্ষ পর্যবেক্ষণ আছে। জানিনা সেটা কতটা তাবড় রাজনীতিবিদদের প্রভাবিত করতে পেরেছে। নেতাজি সুভাষ বোস চিরদিন আমাদের অনন্য পথের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "Our task is to stand on the basis of perfect equality, irrespective of religion, caste or creed." (ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে পূর্ণ সমতার ভিত্তিতে আমাদের দাঁড়াতে হবে।) কিন্তু তাঁর ধর্ম নিরপেক্ষতার উপর একটা সুমিষ্ট আবরণী ছিল। মাতৃভূমি চেতনা ছিলো সবার উপরে। তিনি বলেছেন,"The common bond that unites all Indians is the love of our mother land." এই জাতীয়তাবাদের একটা মাত্রা ছিলো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই পরিমিত জাতীয়তাবাদের পক্ষে ছিলেন। উগ্র জাতীয়তাবাদের বিপক্ষে ছিলেন। জাতীয়তাবাদ তো হিটলারেরও ছিলো। কী ফল দিয়েছিলো? অন্যদিকে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অখণ্ড ভারত চেতনা বা জাতীয়তাবাদ চরম জাতীয়তাবাদ অভিমুখী বলে থাকেন অনেকেই। সমালোচনা করেন অনেক রাজনৈতিক দল। যদিও, তারা আদর্শগতভাবে নিজেরাও কোনোদিন ধর্ম নিরপেক্ষ থাকতে চেষ্টা করে নি বা পারে নি। তবুও তাদের বলবো, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে অস্বীকার করতে পারা অসম্ভব। তাঁর জাতীয়তাবাদ অখণ্ডতা, পূর্ণতা। সেটা যদি অন্যকোনো আদর্শ সাংঘর্ষিক হয়, মানুষ তা গ্রহণ করেছে। সেই পথেই তিনি হেঁটেছেন, বন্দি হয়েছেন ও মৃত্যু বরণ করেছেন। তিনি এক জাতির জন্য এক সংবিধান, এক পতাকা এবং এক রাষ্ট্রনেতৃত্বের দাবি জানিয়ে বলেন, "We demand one Constitution, one Flag and one Head for one Nation." ১৯৪১ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ ছাড়া কৃষক প্রজাপার্টির প্রাদেশিক মন্ত্রী সভায় অর্থ মন্ত্রী ছিলেন তিনি। ১৯৪২ সালের ১৬ নভেম্বর মাসে পদত্যাগও করেন তিনি। তারপর থেকেই হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা নিয়ে পৃথক পশ্চিমবঙ্গ দাবির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠলেন তিনি। ইতিহাস সাক্ষ্মী, বঙ্গভঙ্গ ও উদ্বাস্তু সমস্যা শুধুমাত্র সংখ্যালঘু হিসাবে দেখলে অর্ধসত্য হবে। ভারতীয় উপমহাদেশের দুপাড়েই তা ছিল ধর্ম ও রাজনীতি। গান্ধী বাদ ছিলো ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতি। তলস্তয়ের আদর্শ এবং খ্রীষ্টীয় অহিংস নৈতিকতা মি. গান্ধীকে অনেকটাই প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত উক্তি হলো- "A man cannot at the same time obey God and obey the State when the State demands what is contrary to God's law." ধর্ম এখানেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে বলে অনেকে মনে করেন। সব ধর্ম না হলেও, কিছু ধর্ম, যেগুলো প্রিন্সপিলস্ নয়, রুলস। ড.আম্বেদকর সোশ্যাল ডেমোক্রেসির কথা সব সময় বলেছেন। দেশভাগের প্রাক্কালে তাঁর কিছু কথা শোনা যেতে পারে। যেগুলো কালোত্তীর্ণ নাও হতে পারে। তবুও উল্লেখ করা প্রয়োজন। -="Hindu society as such does not exist. It is only a collection of castes." এবং, "Caste is not merely a division of labour. It is also a division of labourers. ইসলাম ধর্ম সম্পর্কেও তিনি সমালোচনায় ভারসাম্য রেখে বলেছেন, "Islam is a close corporation and the distinction that it makes between Muslims and non-Muslims is very real." মাতৃভূমি ও সৌহার্দ্য সম্পর্কিত আরও কিছু বক্তব্য আমি বলা সমীচীন মনে করছিনা, কারণ সেগুলি ছিলো মূলত পাকিস্তান দাবির প্রেক্ষিতে করা মন্তব্য। এখন তার প্রাসঙ্গিকতা নাও থাকতে পারে। এবার আসি বীর সাভারকারের বক্তব্যে। সাভারকর তাঁর Hindutva: Who Is a Hindu? (১৯২৩) গ্রন্থে লিখেছেন, "A Hindu is one who regards this land of Bharatvarsha as both his Fatherland (পিতৃভূমি) and Holyland (পূন্যভূমি)." আর এখানেই মুসলিমের সাথে হিন্দুত্ববাদের বিরোধ। অন্যদিকে, মি. গান্ধীর সঙ্গে ড. আম্বেদকরের বিরোধ একটা ছিল। গান্ধী 'রিলিজিয়াস মরালিটি'র কথা বলতেন। আর আম্বেদকরের কাছে, ধর্ম কোন নিয়ম ছিলো না। শুধু মাত্র নীতি। তিনি 'কনস্টিটিউশনাল মরালিটি'তে বিশ্বাসী ছিলেন। জওহরলাল নেহরু অবশ্য ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র নিয়ে একটা ধারণা পোষণ করতেন। তিনি বলেছেন, "We call our State a secular one. The word 'secular' perhaps is not a very happy one... It means freedom of religion and conscience, including freedom for those who may have no religion." জার্মান দার্শনিক কার্লমার্কস ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বলেছেন, " ধর্ম হলো নিপীড়িত মানুষের দীর্ঘশ্বাস, হৃদয়হীন বিশ্বের হৃদয়, আত্মাহীন অবস্থার আত্মা। ধর্ম হলো জনগণের আফিম। "জনগণের আফিম" এই অংশ বিশেষ নিয়ে ভারতে বামপন্থীরা চর্চা করতে ভালো বাসেন। তবে ভুললে চলবে না যে, উনিশ শতকে এই আফিম ছিলো ব্যাথা উপশমকারী ওষুধ। সমাজ জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী এবার কিছু অন্য ধর্মশাস্ত্রর দিকে দেখা যাক। সূরা আল-মায়িদা (৫:৮) বাংলা উচ্চারণ: ই'দিলু, হুয়া আকরাবু লিত্-তাকওয়া। বাংলা অর্থ: ন্যায়বিচার কর; এটাই তাকওয়ার (ভয় ভীতি, নির্দেশ ইত্যাদি) অধিক নিকটবর্তী। ত্রিপিটকের ধম্মপদ (১৮৩) বলে, সব্বপাপস্স অকরণং, কুসলস্স উপসম্পদা। সচিত্তপরিয়োদপনং, এতং বুদ্ধান সাসনং॥ যার বাংলা অর্থ: সব পাপ থেকে বিরত থাকা, সৎকর্ম সম্পাদন করা এবং নিজের মনকে পবিত্র করো। এটাই বুদ্ধদেবের উপদেশ। একইভাবে জরথ্রুষ্টীয় ধর্মের মূল নৈতিক বার্তা হলো- হুমতা, হুখতা, হ্বর্ষ্তা। যার বাংলা অর্থ হলো- সৎ চিন্তা, সৎ বাক্য, সৎ কর্ম। পরিশেষে বলা যায়, সমস্ত ধর্ম -ই মানব ধর্ম হওয়া উচিৎ। সব ধর্ম মোটের উপর কম বেশি সমাজ মুখী। তবে গোঁড়ামী, ধর্মান্ধতা অন্য প্রসঙ্গ। ধর্মান্ধতা বিচ্ছিন্নতার কথা বলে। স্বামীজী বিশ্ব হিন্দু ধর্ম সম্মেলনে কী বলেছিলেন? - বলেছিলেন, "We believe not only in universal toleration, but we accept all religions as true." এই অমোঘ বাণী না মানতে পারলে, "ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে, অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে।" আর ধর্ম ছাড়া রাজনীতি? এই দেশে অসম্ভব! ভারত জমীন কা টুকড়া নহী, জীতা-জাগতা রাষ্ট্রপুরুষ হ্যায়। হিমালয় ইসকা মস্তক হ্যায়, গৌরীশঙ্কর শিখা হ্যায়। কাশ্মীর কিরীট হ্যায়, পাঞ্জাব ঔর বঙ্গাল দো বিশাল কাঁধে হ্যায়। বিন্ধ্যাচল কটি হ্যায়, নর্মদা করধনী হ্যায়। পূর্বী ঔর পশ্চিমী ঘাট দো বিশাল জঙ্ঘায়েঁ হ্যায়। কন্যাকুমারী ইসকে চরণ হ্যায়। সাগর ইসকে পগ পখারতা হ্যায়। ইসকা কঙ্কর-কঙ্কর শঙ্কর হ্যায়, ইসকা বিন্দু-বিন্দু গঙ্গাজল হ্যায়। হম জিয়েঙ্গে তো ইসকে লিয়ে, মরেঙ্গে তো ইসকে লিয়ে। (অটল বিহারী বাজপেয়ী)

Gadget

​"নাটক" সাড়ে সব্বনাশ- দেবশ্রী মজুমদার

                             ​"নাটক"                         ​     সাড়ে সব্বনাশ ​                      একাঙ্ক নাটক : কিশলয় নাটক :...

Popular