Posts

Showing posts from August, 2026

"নেতাজি বনাম শ্যামা প্রসাদ" -রাস্তার নাম পরিবর্তনের গিমিক রামপুরহাটে দেবশ্রী মজুমদার

বেশি দিনের ঘটনা না। ৬ জুলাই রামপুরহাটের একটি পুরাতন রাস্তার নাম ছিলো নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু। সুভাষ নামাঙ্কিত রাস্তাটি বদলে শাসকদল ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় রাখলেন। এই নাম পরিবর্তন একটি সরকারি পদ্ধতির মধ্যে হয়ে থাকে। সময় সাপেক্ষ। কিন্তু যে ঘোষণায় কমলা উত্তরীয় পরিহিত পুরপিতা সৌমেন ভকত এবং বিধায়ক ধ্রুব সাহা উপস্থিত থাকেন। তার একটা গুরুত্ব থাকে। আর সেখানেই বিতর্ক। রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড় থেকে ঝনঝনিয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার নতুন নাম ঘোষণা করা হয় শাসক দলের পক্ষে। এই রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয় ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড’। ইতিমধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ছ’টি নামফলক ও কাট-আউট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই রাস্তার সঙ্গে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানানো হয়েছে, তেমনি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থারও আরও উন্নয়ন হবে। নাম বদলের এই রাজনীতির ঘা, নেতাজিকে ছুঁতে পারবে না, তিনি তো হৃদয়ে, আমরা সবাই জানি। ১৯৩৯ সালের ১৯ আ...

আইনের ফাঁস এড়াতে দল পরিবর্তন, "মূর্খের স্বর্গ বাস", সুকান্তর বরাভৈ দেবশ্রী মজুমদার

সম্প্রতি আর জি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত অধুনা লটারি কাণ্ডে জেল যাত্রার আশঙ্কা থেকে ঋতব্রত তৃণমূল বৈঠকে হাজির হন। সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে ভাবছেন বেঁচে যাবেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। হয়তো সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন। আমরা সবাই জানি, সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে নরক বাস। বর্তমান সরকারের আমলে মূর্খের স্বর্গ বাসের প্রকৃত রূপ কী হবে জানা নেই। সৎ ও অসৎ বিষয়টি বেশ গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। তবে নির্মলদের মতো এই মূর্খ -চতুরদের ক্ষেত্রে পৃথক ফল স্বাভাবিক কিনা, আজ হোক,বা কাল হোক, ক্রমশ প্রকাশ্য। যদিও সুকান্ত মজুমদারের বরাভৈকে বিশ্বাস করতেই হবে। কারণ এই সরকার মাত্র কয়েক মাস এসেছে। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অভয়ার মা প্রথম থেকেই সরব ছিলেন। পূর্বতন মমতা সরকার অভয়া কাণ্ডে আসল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থায় নেয় নি। এমনকি তার ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে দলীয় প্রার্থী করে দেয়। তাই অভয়ার বিচার চাইতে মা রত্না দেবনাথ মানুষের আশীর্বাদ চান এবং তা পেয়ে আজকে পানিহাটির বিধায়িকা। ...

আসল বেইমান বনাম নকল বেইমান : খানদানি জি আই ট্যাগ কার? দেবশ্রী মজুমদার

আসল বনাম নকল লড়াই আছেই। তার জন্যে কেউ ঠকে, কেউ জেতে। কিন্তু বেইমানিতে কে আসল, এমন চ্যালেঞ্জ কদাচিৎ ঘটে। পাড়ার “মীরা বৌদি”-রা সাধারণত এরকমটি করে থাকেন। লীলা মজুমদারের চোর গল্পে চোরের নাম নেই। এখানে বেইমানেরও নাম নেই। সম্প্রতি বিধান সভার প্রেস কর্ণারে সাংবাদিক বৈঠক করে এই খানদানি বেইমানির জিআই ট্যাগ নিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রদর্শনী হলো। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বলেন, ‘ এক কোম্পানির সদ্য অভিষিক্ত ম্যিনেজিং ডিরেক্টর তথা প্রাক্তন সাংসদ নাকি দশ হাজার টাকা চাঁদা দিতেন। কিন্তু হাজার হাজার কোটির দুর্নীতি নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, সব খরচের পরে আরও ৩০ কোটি ছিল। এক জনের কাছে রাখা হয়েছিল কোথাও বিনিয়োগ করার জন্য। এই চিঠি দল তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর তখন থেকেই সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল। দলের সাংসদ সেই সময়ে কি বেইমানি করেছিলেন?’ প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেওয়া হলো কোন এক কর্ণারে। সেটি খপাৎ করে ধরে নিলেন সেই কোন এক প্রাক্তন সাংসদ। যিনি অবলীলায় বলে ফেললেন, আমার ধারণা দিদির ওই চিঠি পড়ে মুখস্থ হয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেন, তিনি প্রথম হুইসেল ব্লোয়ার। মুখে না বললেও, অভিব্যক্তি হ...

ওয়াশিং মেশিন v/s জার্মান স্মার্টার ড্রাম, এ যেন মজার প্রহসন রাজ্যরাজনীতিতে দেবশ্রী মজুমদার

রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতিতে ওয়াশিং মেশিনে ধোপদস্তুর হওয়া নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে AAP অভিযোগ তোলে যে বিজেপি “washing machine campaign” চালিয়ে অভিযুক্ত নেতাদের দলে নিচ্ছে, আর ২০২৬ সালে AAP-র কয়েকজন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কংগ্রেস আবার এই ব্যঙ্গ ফিরিয়ে আনে । পশ্চিমবঙ্গেও এই শব্দটি শোনা গেছে; ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে “ওয়াশিং মেশিন” বলে কটাক্ষ করেন, এবং ২০২৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেস-বিক্ষোভে আবার “ওয়াশিং মেশিন রাজনীতি”র অভিযোগ ওঠে। ওয়াশিং মেশিন তত্ত্ব’ বলতে মূলত বিরোধীদের এই অভিযোগকে বোঝানো হয় যে, বিজেপিতে যোগ দিলে অন্য দলের দুর্নীতির অভিযোগ চাপা পড়ে যায়। এই তত্ত্বের সমর্থনে সাধারণত বিজেপিতে যোগ দেওয়া অন্যান্য দলের নেতাদের উদাহরণ দেওয়া হয়, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের এনসিপি ও শিবসেনা-ঘনিষ্ঠ নেতাদের নাম ঘুরে ফিরে আসে । অজিত পওয়ার-কে প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে আনা হয়, কারণ বিজেপি-ঘনিষ্ঠ জোটে যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে “ক্লিন চিট” বা নরম অবস্থানের প্রসঙ্গ টানা হয় । বিরোধীদের বক্তব্যে “বিজেপিতে যাওয়ার পর তদন্তের গতি কমে যায়” — এই যুক্তি দেখাতে অন্যান্...

না দেব ঋষি ০৪/০৮/২৬

হ্যাঁ, শুনে শুনে এতো অভ্যস্ত যে না, শুনতে পারি না আমরা। হ্যাঁ - র মধ্যে কোনো লাজে রাঙা হওয়ার অবকাশ নেই। বামপদ অঙ্গুষ্ঠপরি দক্ষিণ বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ আলিঙ্গনে নিলাজ বনলতা হয়ে ওঠে না, হ্যাঁ। অবিমৃষ্য 'না' কে যতই দাম্ভিক বলো, অফিসের দেরাজ চোখ টিপে আলতো "হাঁ" হয়ে খুলে যায় না। না-না, হ্যাঁ -র অনপেক্ষ হওয়া আর হলো না। না, মুখের উপর বলে দিতে পারে, তোমার চোখে কৃতঘ্ন হতে পারি। যা উপকার পেয়েছি সূর্য্য শিশিরে জমা থাক। না, মুখের উপরে বলে দিতে পারে, যা পেয়েছি কোনো দান করোনি, এ আমার অধিকার। না, মুখের উপর বলে দিতে পারে, রাজা পারিষদ নিয়ে পাশা ছেড়ে নেমে এসো, তুমি বিচারাধীন। হ্যাঁ, তো প্রগলভ হয়ে তোমায় ঈশ্বর বানায়। না, শুধু আমাকে মানায়।।

মিসক্যারেজ দেব ঋষি ০৪/০৮/২৬

স্বামী স্ত্রীকে বললেন, ডাক্তার বললো, সাবধানে থাকতে, ফুল রেস্ট। নাহলে মিস ক্যারেজ! রেস্টের কথা শুনে ম্রিয়মান হলো না স্ত্রী। কান্তাপ্রেমও খুঁজে পেলো না এতটুকু। স্বামী ফের বললেন, রেস্ট মানে পূর্ণ বিশ্রাম নয় মোটে। মগজের কাজ হবে ঠিকই। অক্ষরগুলো হবে সুস্থ। শব্দের সঙ্গে বাক্যের, বাক্যের সাথে ভাবের আনুগত্য থাকবে ঠিকই, তবে হবে না আত্মবিক্রয়। হৃদয় দিয়ে ছুঁয়ে দেখবে ছোট বড়ো অনুভব সরিৎ সায়রে। অভিঘাত থাকবে ঢেউয়ের প্রস্তর কঠিন তলে। তবেই জন্মাবে সুস্থ, সবল কবিতা। না হলে মিসক্যারেজ! আমরা চাইনা...। তুমিও নিশ্চয়ই চাওনা... এক তাল মাংস পিণ্ড প্রসব করতে। যার নেই মস্তিস্ক, হৃদয়বৃত্তি প্রকোষ্ঠ। আগের কবিতা গুলো এক একটা মিসক্যারেজ। আর নয়...। শুধু কবিতা কেন? সব লেখা, যুক্তি - গদ্য - পদ্যর বেলায়ও খাটে এ সত্য। বিশ্রাম মানে, নিজেকে তৈরি করা, তৈরি রাখা। যে মুখ তুলে সহস্র প্রখর সূর্যপ্রপাতের মুখোমুখি হওয়া যায়। যে কবিতা, লেখনী প্রসব হয়, তা দেয় হিরণ্যগর্ভের আনন্দ রতিসুখ। যে জন্মায়, সে জগদীশ্বরকেও প্রশ্ন করতে পারে। জানতে চাই, তুমি কী আদৌ আছো? কোমল পেলব চান্দ্র- স্নিগ্ধতা নিয়ে স্নান করায় আমাদের! তাই স্বাম...

অবোধ শিশু দেব ঋষি ০৭/০৩/২৬

আলোর সাথে পূবালী বাতাস ফুল ছুঁয়ে যাওয়া ঘুম। সময় এখন শিশুর সাথে অলির সাথে ফুলের পাতে বয়স বাড়ার ধুম। শিশু জানুক ধর্ম রঙ বর্ণচোরা সেক্যু, সুতোর পাকে যত সঙ, লেলিন থেকে চ্যে গু। এর পরে সে ছুঁড়বে রঙ, খিল খিলিয়ে হেসে তখন জানে বৃহৎ শিশু কোন রঙে রঙিন হতে কোন রঙে যে মেশে।। কাজি থেকে রবি যতো তারা শশির আলো বৃথায় কথায় ফুলের বানে ঘ্রাণের পরান ঢালো। পাথর চাপে দিলের পরে দিল্লী কাঁদে ঐ। শিশু তুমি রঙের পরে কনক চাঁপা ফুটে উঠেও ধর্ম চাপা মৈ।। দিল্লীতে এক শিশু রঙ খেলার কারণে, তার বাবার মৃত্যুর ঘটনা খুবই বেদনাদায়ক। সেই ঘটনার স্মরণে...

দেব রশ্মি দেব ঋষি 28/03/2026

মেয়ের লাশ কতটা ভারি তুমি কী আর বুঝবে! তোমার রেট পায়ে মারি হেলায় ঠেলে যে যুঝবে। মেয়ের লাশ কতটা ভারি তুমি কী আর বুঝবে! দেবের অংশু সর্ব গামী পূতির কূপ খোঁজে। স্তবের স্তাবক জীবন নমি ভাগ অংশ ই বোঝে। দশ লক্ষ হেলায় ছুঁয়ে দেখে নি যে মা। লক্ষ ছটা রশ্মি হয়ে বিচার চাবে না? তোমার কাছে টাকার নিত্তি মাপে যত সুখ। ক্ষমতা চাই নিত্য নিতি অভয়া আমার মুখ।। পুনশ্চ: সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি:- কেউ লাইক দেবেন না, এই কবিতাটি দেবাংশু ভট্টাচার্যর স্ট্যাটাসের জবাব।

নখের ডগায় হিন্দুত্ব দেব ঋষি 06/04/26

নখের ডগায় হিন্দুত্ব রেখে পট্ করে একটা শব্দ তোলার চেষ্টা অনেক দিনের। দরজা তার জন্য বন্ধ। মুখুজ্জের কথা মনে পড়লো কী? নখের ডগায় যাদের মারা হয়, সেই হিন্দুত্ব নিয়ে বললে তুমি অশিক্ষিত। প্রশ্ন উঠবে, নিশ্চয়ই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাও নি। সে যোগ্যতা নেই। সেই যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই বিধান সভায় যাওয়ার এক আকর্ষণ বটে। তবে বাকিরা সব অশিক্ষিত। বামপন্থা, কবিতা, আর বাঙালির ছাত্র জীবনে যৌবনের প্রেম আসে নি, এমন ঘটনা বিরল। তাই তাকে নিয়ে নাহক বলা যায় না। সব কিছুতেই বামপন্থীদের উন্নাসিকতা থাকবেই। হিন্দুত্ববাদ মানেই তাদের কাছে অশিক্ষা, কুসংস্কার, গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা, গোবর ও গোমূত্র। তারা সবাই 'দাস ক্যাপিটাল' পড়েছেন। আমিও পড়েছি। শ্রেণী হীন, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার এক দর্শন। ভালো লেগেছে। আন্দোলন তাদের রন্ধ্রে। তেভাগা থেকে বর্গা কত শত গণ আন্দোলন মানুষের জন্য সাধিত হয়েছে। তবুও ৩৪ বছর রাজত্বের পর সাংগঠনিক অতিকায়ত্ব ছাড়া সত্যি অমৃত কুম্ভের সন্ধান দিতে পেরেছি কি, কমরেড? এখন তরুণ তরুণী গীটার বাজিয়ে গান করে সেই সুরাসন্ধান কতটা সার্থক হবে, দেখা যাবে। যে দলের জন্ম একটা আদর্শ থেকে, সে অন্...

লাল ও সবুজ দেব ঋষি ০৮/০৪/২৬

জন সেবায় লাল সবুজ একই পথের পথিক। চুপ করায় অভয়া অবুঝ অন্ত্যমিলে অতিগ।। যেমন করে অভয়া হারে অভয়ার মাকে হারাও সর্বহারা ও সবুজ মিলে ক্ষমতাকে বাগাও। পানিহাটির মলয় ও সবুজ একই মুখের মুখ। সে মুখোশ ছিঁড়ে হৃদয় জুড়ে বাঁধবে কী সব বুক। এতই যদি নীতি বাগীশ তর্ক রত্ন বাম। বিচার চাওয়া মায়ের মুখে দেখ শুধু রাম। লাল সবুজের অন্ত্যমিলে যতই ধরো গান জবাব ঠিকই যাবে মিলে যদি- না মরে হয় প্রাণ।।

সারমেয় দেব ঋষি ১৫/০৪/২৬

আমরা ধোপার সঙ্গে থাকি না ঘরে, না ঘাটে। কেউ বাঁচে চেটে গাল কেউ তো চটি চাটে। আমাদেরই কায়ার সাথে দূর দূরে ছায়া বাঁচে। মৌলবাদ আর মৌলবাদে গনগনে সব আগুন আঁচে। যদি মৌলবাদ জন্ম দেয় আরেক মৌলবাদের। তোষণ সেথা আগুনেই জ্বালায় ভাটি কাহাদের? তুমি শুধু দেখ কারে জল ঢুকেছে প্লাবনের কাঁটা তারের বেনো জলে সীতা হরণ রাবনের।। আমরা বুঝি ধোপার সাথে ঘাট মুখো চেয়ে থেকে ঘুরে মরি ঘরের নাছে।।

সব্বার সেরা দেব ঋষি ১৮/০৪/২৬

বাংলায় তো সব হয়েছে চলে উন্নয়নের ই ধারা। শুধু যুব ছোটে আন্ রাজ্যে নিন্দে করে কারা।। বাংলা আজ যা চিন্তা করে তোমরা করো পরশু। বাকি তো সব অন্য রাজ্যে পি-পু আর ফি-সু। বাকরি করে ওষুধ পত্র যোগাড় করো খাবার। পান তামুকে একটু নেশায়, টাকা তো সব সাবাড়। কে দেয় বলো, পাঁচশো কার, পরে আবার হাজার? চাকরি? নজর সবাকার। পায়ের উপর পাটি তুলে টাকায় টাকা- বান্দা গুনা(হ)গার।। বাংলা এগিয়ে নাও না মেনে, ঘাড়টি কাত করে। রাত বিরেতে ফিরোনা মেয়ে মেয়েই বলে পোস্টারে। চাকরি কাটে পকেট মারে। তা করে কম্মে যে যা করুক পারে। বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে। মাছ, মাংস, ডিমে কত কী আহারে! চলবে সব, বন্ধ কী? কে করে দেখি? ক'টা মাথা ঘাড়ে।।

কে বলবে? দেব ঋষি ০২/০৫/২৬

কৃষকের কথা কেউ বলে না বলে তো নিজের কথা। চৌত্রিশ বছরে শুধুই কী বলেছো কৃষক, তা যদি হতো--- বন্ধু হতে কমরেড, হতে না নেতা। মজদুরের কথা কেউ বলে না বলে না হাতুড়ি, কাস্তে, গাঁইতি তাই তো বুঝে বুঝে থাকো নিশ্চুপ মুখে বলো মানুষ ওহে, ও না হিন্দু, না মেইতি।।

নজরুল দেবঋষি

কালকে রাত্রে ঘুমায় নি নজরুল। ব‍্যাথা তাঁর সারা গাত্রে কে নাকি তাঁকে মঞ্চে বসিয়ে গুল দিল বিলকুল। লৌহকপাট থেকে একই বৃন্তে দুটি কুসুম ছাড়া গালাগাল আর ভুল কাড়লো তাঁর ঘুম।।

নির্বাচক ০৩/০৫/২৬ দেবশ্রী

বিষ্টু ভোটার বেজায় বোকা চাইছে কাগজ ভোট প্রার্থীর। লম্বা তার ফিরিস্তি এক পরিবারের ব্যাঙ্ক ডিটেলস আরও যতো ঠিকুজির... তাতেই নাকি সারবে রোগ, গণতন্ত্রের খিঁচুনির। বিষ্টু ভোটার বেজায় বোকা চাইছে কাগজ ভোট প্রার্থীর। বলে কিনা কোটিপতি প্রার্থী কি? চাই তো তার ঠিকুজি কেনো নেবে এতো ভাতা ট্যাক্সো টাকায় নো মস্তি?? গরিব গুর্বো ভাতা নেক কোটিপতির কেন ভেক। আমরা যদি টিপতে পারি কুড়ি টাকার ভেণ্ডি ডগা আমরা তো ভোট দেব না এমন কোনো অগা ভগা। বিষ্টু ভোটার বেজায় বোকা চাইছে কাগজ ভোট প্রার্থীর। পৃথক ফল নেবেই না বিষয় যখন এক যাত্রীর।।

সৎ অসৎ দেব ঋষি ০৩/০৬/২৬

কোটিপতি প্রার্থীর ভাতার কি দরকার? এই প্রশ্ন মুখের উপরে বলার সময় জনতার। জেতার পরে প্রমাণ চাও দেখাও নীতি ন্যায়ের কথা জেতার আগে নথি দেখাও বলবে এবার জনতা। মন্ত্রী থেকে যত নেতা ক্রোড়পতি নেবে ভাতা সবই ফ্রি রেল উড়ান গ্যাস স্বাস্থ্য যথা তথা তবুও তারা অসৎ নন সততার প্রশ্নবিদ্ধ যিনি হন তিনি শুধু জনতা।।

শতদলের মোরব্বা দেব ঋষি

বললাম, গিন্নি সিউড়ি এসেছি মোরব্বা কিনে নি শতমূলের বললো, ধূর দরকার নেই ওসবের বানাবো খেয়ো, জেনেছি নতুন রেসিপি। জানালো, বানাবে রস টুম্বুর মোরব্বা। শতদল আরেক জোড়া ফুলে স্বাদ হবে বেড়ে, স্বাদ হবে তোফা। ফোনেই এলো রেসিপি যদি অভয় দেন, শেয়ার করি। শত দল ধুয়ে মুছে প্যান লো সিমে রেখে কিছু তৃণ ফুল আন্দাজ মেপে রাখুন ধুয়ে বেছে। সবগুলো মিক্সিতে ভালো করে পেষায় গুঁড়ো গুঁড়ো ঝেড়ে ঝুড়ে আরও কিছু বের করে মশলাদার ভুরভুরে গন্ধ তো চায়। শেষে সব কিছু সেরার পাকে সাত পাকে বাঁধা। ছড়িয়ে এলাচ গুঁড়ো খাবে সব ছেলে বুড়ো মুখে ঠিক লেগে রবে, দাদা।।

ব্রহ্মাণ্ড বা কসমিক এগ কি আমিষ? প্রাণীজ অণ্ড দেখি কখনও পাতে, কখনও মাথে দেবশ্রী মজুমদার

একাদশীর উপবাসের পর রসিকতার সুরে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে, তাঁর ক্ষুধা এত বেড়েছিল যে "কষ্ট করে থালা-বাটিগুলো খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি।" স্বামী বিবেকানন্দ-র মহাপ্রয়াণের দিন ১৯০২ সালের ৪ জুলাই দুপুরের আহার সম্পর্কে প্রচলিত স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে যে তিনি সেদিন সকলের সঙ্গে বসে খেয়েছিলেন— ভাত, প্রিয় ইলিশ মাছের ঝোল, ভাজা, অম্বল ইত্যাদি। যিনি বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে এতো ভালো বুঝেছিলেন, তাঁকেই প্রশ্নটা করা যেত, ব্রহ্মাণ্ড বা কসমিক এগ কি আমিষ? মনুস্মৃতি-র (১.৯) বলেছে- তৎ অণ্ডম অভবদ্ ধৈমং সহস্রাংশুসমপ্রভম্। তস্মিন যজ্ঞে স্বয়ং ব্রহ্মা সর্বলোকপিতামহ:।। অর্থাৎ আদি সৃষ্টির এই অণ্ড যা ব্রহ্মাণ্ড বা হিরণ্যগর্ভ তা ছিল সুবর্ণময়, সহস্র সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল। তার মধ্যেই ব্রহ্মার আবির্ভাব। তিনি সমগ্র জগতের পিতামহ বা সৃষ্টিকর্তা। তিনিই একমাত্র আমিষ ও নিরামিষে ব্যাখ্যা দিতে পারেন। এই দ্বিধা আজকের নয়। ছাত্রবয়সে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ইংলণ্ডে বই পড়ে জেনেছিলেন, ডিম নিরামিষ। খেয়েও ছিলেন। তারপর পিতাশ্রীর কাছে তাঁর অপরাধ স্বীকার করে মার্জনাও চেয়েছিলেন। যাই হোক, এই প্রাণীজ অণ্ড দেখি কখন...

কেশ ও নিকেশ রাজনীতি : রসে টইটুম্বুর হলেও ভবি ভোলে না দেবশ্রী মজুমদার

অভিনেতা অনুপম খেরের টাঁকে চুল গজায় নি, উনি খুব খুশি। সম্প্রতি কোলকাতায় বিজেপির রাজ্য সম্পাদক শমীক ভট্টাচাৰ্য -র সঙ্গে দেখা করে, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেলেন তিনি , তাঁর মন্তব্যের জন্য। তিনি বললেন, ঈশ্বরের কাছে তাঁর প্রার্থনা ছিল, তাঁর টাঁকে যেন কেশ সঞ্চার না হয়। অর্থাৎ যাক তাঁর কেশ, তবুও নিকেশ হোক তৃণমূল সরকার। এই হোল "কেশ ও নিকেশ" রাজনীতি। বলিউড অভিনেতা অনুপম খেরকে আমরা মস্তক মুণ্ডিত অবস্থায় দেখে অভ্যস্ত। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ খের বিজেপির সাথে যুক্ত। সেই সুবাদে তিনিও বিজেপির দিকে ঢলে আছেন। সারা বাংলায় পট পরিবর্তনে তিনিও আশাবাদী ছিলেন। তিনি যেহেতু বাংলার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তাই বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর মতো তার ভীষণ কেশ প্রতিজ্ঞা ছিলো না। দ্রৌপদীও (যদিও মহিলা, অবশ্যই অবলা নন) কেশ উন্মুক্ত রেখে তাঁর প্রতিজ্ঞা রেখেছিলেন ও কৌরব বংশ নিকেশ করেছিলেন। এক্ষেত্রে কেশের-ই নিকেশের জয়। প্রাক নির্বাচনে শমীক ভট্টাচাৰ্য কী বলেছিলেন? "আকাশ মাটিতে নেমে আসতে পারে, সমুদ্র আকাশে উঠে যেতে পারে, এমনকি অনুপম খেরের টাঁক মাথায় চুলও গজাতে পারে, কিন্তু বাংলায় তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরবে না...

"নেতাজি বনাম শ্যামা প্রসাদ" -রাস্তার নাম পরিবর্তনের গিমিক রামপুরহাটে দেবশ্রী মজুমদার

বেশি দিনের ঘটনা না। ৬ জুলাই রামপুরহাটের একটি পুরাতন রাস্তার নাম ছিলো নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু রোড।সুভাষ নামাঙ্কিত রাস্তাটি বদলে শাসকদল ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় রাখলেন। এই নাম পরিবর্তন একটি সরকারি পদ্ধতির মধ্যে হয়ে থাকে। সময় সাপেক্ষ। কিন্তু যে ঘোষণায় কমলা উত্তরীয় পরিহিত পুরপিতা সৌমেন ভকত এবং বিধায়ক ধ্রুব সাহা উপস্থিত থাকেন। তার একটা গুরুত্ব থাকে। আর সেখানেই বিতর্ক। রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড় থেকে ঝনঝনিয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার নতুন নাম ঘোষণা করা হয় শাসক দলের পক্ষে। এই রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয় ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড’। ইতিমধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ছ’টি নামফলক ও কাট-আউট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই রাস্তার সঙ্গে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানানো হয়েছে, তেমনি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থারও আরও উন্নয়ন হবে। নাম বদলের এই রাজনীতির ঘা, নেতাজিকে ছুঁতে পারবে না, তিনি তো হৃদয়ে, আমরা সবাই জানি। ১৯৩৯ সালের ১...

আইনের ফাঁস এড়াতে দল পরিবর্তন, "মূর্খের স্বর্গ বাস", সুকান্তর বরাভৈ দেবশ্রী মজুমদার

সম্প্রতি আর জি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত অধুনা লটারি কাণ্ডে জেল যাত্রার আশঙ্কা থেকে ঋতব্রত তৃণমূল বৈঠকে হাজির হন নির্মল ঘোষ, যার হৃদয়ে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে ভাবছেন বেঁচে যাবেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। হয়তো সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন। আমরা সবাই জানি, সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে নরক বাস। বর্তমান সরকারের আমলে মূর্খের স্বর্গ বাসের প্রকৃত রূপ কী হবে জানা নেই। সৎ ও অসৎ বিষয়টি বেশ গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। তবে নির্মলদের মতো এই মূর্খ -চতুরদের ক্ষেত্রে পৃথক ফল স্বাভাবিক কিনা, আজ হোক,বা কাল হোক, ক্রমশ প্রকাশ্য। যদিও সুকান্ত মজুমদারের বরাভৈকে বিশ্বাস করতেই হবে। কারণ এই সরকার মাত্র কয়েক মাস এসেছে। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অভয়ার মা প্রথম থেকেই সরব ছিলেন। পূর্বতন মমতা সরকার অভয়া কাণ্ডে আসল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থায় নেয় নি। এমনকি তার ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে দলীয় প্রার্থী করে দেয়। তাই অভয়ার বিচার চাইতে মা রত্না দেবনাথ মানুষের আশীর্ব...

পুশ ইন - পুশ ব্যাক কোন মুভি থ্রিলার থেকে কম নয়, সুনালি, দানেশ ও সুইটি বিবিদের। পিছন ফিরে তাকালেই, গুলি... দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম :

Green Border (২০২৩) পোল্যান্ড–বেলারুশ সীমান্তে শরণার্থীদের বারবার পুশব্যাক ঘটনার উপর নির্মিত বাস্তবধর্মী ও আবেগঘন ছবি হাত তালি কুড়িয়েছে অনেকের। কিন্তু আমাদের দেশের নাগরিকদের পুশ - ইনের ছবি এখনো নির্মিত হয় নি। হতভাগ্য সুনালী সুইটি বিবিদের জীবনের এক বছর চোদ্দ দিন, কম মর্মস্পর্শী, হৃদয় বিদারী নয়। এই ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। নাগরিকের বেনাগরিক করে তোলার কাহিনী। অবশ্যই স্যালুট ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে! ২০-২১ বছর দিল্লির রোহিনী পল্লিতে থেকে কাজ করে দিন গুজরান করতো সুনালী খাতুন ও সুইটি বিবিদের পরিবার। কিন্তু গতবছর ২৪ শে জুন নেমে এলো সেই ভয়ঙ্কর দিন। রোহিনী পল্লী থেকে দানেশ সেখ ও সুইটি বিবিদের বাংলাদেশী সন্দেহে ধরে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আগেই হাতিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি অন্তস্বত্বা সুনালীর ডাক্তারি কাগজ, মোবাইল ফোন। হুমকি দেয়, কথা না শুনলে, সুনালিকে আলাদা পাচার করে দেবে। দানেশ সেখ নিজের জবানিতে বলেন, পুলিশ তার কাছে তিন লক্ষ টাকা চেয়েছিলো। দানেশ জানিয়েছিল, তাদের কাছে রয়েছে ২৫-৩০ হাজার কারণ গ্রামের বাড়ি পাইকর থেকে কুরবানী সেরে সদ্য ফিরেছে। পুলিশ দানেশের কাজের...

বিধবা মাছ ছোবে না ছ'মাস, ক্রান্তিকাল কি তার আগেই উত্তীর্ণ? দেবশ্রী মজুমদার

সহজে অনুমেয়। সেই মহা সন্ধিক্ষণ সমুপস্থিত। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির তিন নেতৃত্বের হাতে পদ্ম পতাকা ধরিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বললেন, ‘এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়, তাঁরা বিজেপি কর্মী।’ তিনি আরও বলেন, ‘চার ঘণ্টার তৃণমূলের জন্য দরজা বন্ধ। যাঁরা মানুষকে লুঠ করেছে তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ।’ রঙ্গিলা রসিকতা করবে। অনেক নিন্দুক বলতে শুরু করেছে, জানতুম, বিধবা ছ'মাস মাছ ছোঁবে না। এতো দেখছি, এদের এতো দেরিও সয় না! আই এ্যাম তো অবাক! অবাক হওয়ার কিছু নেই। জার্সি বদল করে দল বদল খেলারই অঙ্গ। দর্শকের কাজ দেখা, শুধু দেখা সে কেমন খেলছে। কেউ কেউ তো তলে তলে একাদশী বিধবার মতো নিরম্বু উপবাস রেখে পুকুরে ডুব দিতে যাওয়ার নাম করে ডুবে ডুবে জল খায়। মহাভারতে মহামতি ভীষ্ম একবার যুধিষ্টিরকে বলেন- "শত্রুর্ মিত্রং ভবত্যেব, মিত্রং চাপি প্রদুষ্যতি। কার্যাকার্যবশাদ্ রাজন্, নিত্যং লোকস্য বর্তনম্॥" যার বাংলা অর্থ হলো- হে রাজন, শত্রুও মিত্র হয়ে যায়, আবার মিত্রও শত্রু হয়ে যায়। মানুষের সম্পর্ক কার...

আসল বেইমান বনাম নকল বেইমান : খানদানি জি আই ট্যাগ কার? দেবশ্রী মজুমদার

আসল বনাম নকল লড়াই আছেই। তার জন্যে কেউ ঠকে, কেউ জেতে। কিন্তু বেইমানিতে কে আসল, এমন চ্যালেঞ্জ কদাচিৎ ঘটে। পাড়ার “মীরা বৌদি”-রা সাধারণত এরকমটি করে থাকেন। লীলা মজুমদারের চোর গল্পে চোরের নাম নেই। এখানে বেইমানেরও নাম নেই। সম্প্রতি বিধান সভার প্রেস কর্ণারে সাংবাদিক বৈঠক করে এই খানদানি বেইমানির জিআই ট্যাগ নিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রদর্শনী হলো। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বলেন, ‘ এক কোম্পানির সদ্য অভিষিক্ত ম্যিনেজিং ডিরেক্টর তথা প্রাক্তন সাংসদ নাকি দশ হাজার টাকা চাঁদা দিতেন। কিন্তু হাজার হাজার কোটির দুর্নীতি নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, সব খরচের পরে আরও ৩০ কোটি ছিল। এক জনের কাছে রাখা হয়েছিল কোথাও বিনিয়োগ করার জন্য। এই চিঠি দল তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর তখন থেকেই সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল। দলের সাংসদ সেই সময়ে কি বেইমানি করেছিলেন?’ প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেওয়া হলো কোন এক কর্ণারে। সেটি খপাৎ করে ধরে নিলেন সেই কোন এক প্রাক্তন সাংসদ। যিনি অবলীলায় বলে ফেললেন, আমার ধারণা দিদির ওই চিঠি পড়ে মুখস্থ হয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেন, তিনি প্রথম হুইসেল ব্লোয়ার। মুখে না বললেও, অভিব্যক্তি হ...

আর কত ধবধবে কালো, হবে কুচকুচে সাদা দেবশ্রী মজুমদার

"কুচ কুচে সাদা, ধবধবে কালো। তৃণমূলে নেই কোনো ভালো।" এই বাক্যটি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর। এখন তিনি কী বলবেন? লোকমুখে বিজেপির বি টিম বলে খ্যাত ঋতব্রত তৃণমূলে এবার স্থান পেলেন দিদির দীর্ঘদিনের সাথী অনুব্রত মণ্ডল। শুধু স্থান নয়, পেলেন জেলার দায়িত্বও। তবে ঋতব্রত তৃণমূলে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর পুরাতন কমিটি তো মমতা তৃণমূল আগেই ভেঙে দিয়েছে। বলাই বাহুল্য, শেষের দিকে, বিশেষ করে ছাব্বিশে কোন দায়িত্ব না থাকায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন দিদির কেষ্ট । অন্যদিকে, জেলার রাজনীতিতে অভিষেকের পছন্দের ছিলেন কাজল সেখ। অনুব্রতকে সরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন আদি তৃণমূলে এক কথায় জেলার মধ্যমণি। তিনি আগেই ঋতব্রত তৃণমূলে যোগদান করেছেন। এবার সেই অনুব্রত ঋতব্রত তৃণমূলে জেলার দায়িত্ব পেলেন। ভাগ্যের উত্থান পতন কাকে বলে তা অনুব্রত মণ্ডলকে না দেখলে দুষ্কর। এই অনুব্রত মণ্ডল যার নির্দেশে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খায় সেই বেতাজ বাদশাকে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবাস ভোগ করতে হয়। তবে অনুব্রত মণ্ডল রাতারাতি এইভাবে বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছেন এমন নয়। একসময় তিনি ছিলেন সামান্য এক মুদিখানার দোকানের মালিক...

ধর্ম ও রাজনীতি: সোনায় সোহাগা --দেব ঋষি

ব্রজবাসী শ্রীজীব গোস্বামীর দিকে নিষ্পলক দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছেন সম্রাট আকবর। কে এই দৈন্য বেশ ধারী অতি সাধারণ জীবন যাপনকারী সাধু! তাঁর চোখে বিস্ময়ের শেষ নেই। শ্রদ্ধায় তাঁর হৃদয় বিগলিত হলো। বৃন্দাবনের বৈষ্ণব সমাজ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। তাঁদের প্রার্থনা বৈষ্ণবদের মন্দির নির্মাণে বাধা দূর করুন সম্রাট। শ্রীজীব গোস্বামীর প্রজ্ঞা, তিতিক্ষা ও ধর্ম নিষ্ঠায় মুগ্ধ হয়ে ভূমি দান করলেন দিল্লীশ্বর। আদেশ দিলেন, বৃন্দাবনের যেকোন স্থানে মন্দির নির্মাণ করা যাবে। শুধু তাই নয়, বৃন্দাবনে মৃগয়া নিষিদ্ধ হলো। ঘোষণা করলেন, বৃন্দাবনে পশু হত্যা নিষিদ্ধ।। ( বৈষ্ণবাচার্য শ্রীজীব গোস্বামী: ভারতের সাধক-সাধিকা (দ্বিতীয় খণ্ড), সুবোধ চক্রবর্তী। অন্যদিকে, ঔরঙ্গজেবের ধর্ম ও রাজনীতি যে ধর্ম নীতি তৈরি করেছিলো, তা ইতিহাসে ভৎর্সিত। কোনো সন্দেহ নেই। তাঁর শাসনকাল (১৬৫৮–১৭০৭ খ্রি.) ছিল অত্যাচারের। অথচ তিনি ছিলেন ধার্মিক। সুন্নি ইসলামি আদর্শকে ভিত্তি করে রাজনীতি পরিচালনা করেন তিনি। তিনি নিজেকে ইসলামের রক্ষক মনে করতেন এবং শরিয়তসম্মত শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। তাঁর শাসনকালে জিজিয়া কর পুনরায় চালু করা হয়, বহু হিন্...

মমতার ট্রায়াল, পিঠ চাপড়ে গর্ত খোঁড়া শুরু

মমতার ট্রায়াল, পিঠ চাপড়ে গর্ত খোঁড়া শুরু দেবশ্রী মজুমদার ফ্রানৎস কাফকার বিখ্যাত উপন্যাস দ্য ট্রায়ালের কথা বলছিলাম। ব্যস, দুম্ করে পড়ে গেলেন তো? ধীরে, বন্ধু, ধীরে। ঠিকই শুনেছেন, মমতা অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। তার আগে একটু গৌর চন্দ্রিকা সেরে নিই। দ্য ট্রায়াল-এর যোসেফ কে. চরিত্রের সঙ্গে আমাদের রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কিয়দংশ মিল আছে। শুধু মিলের জায়গা টুকু বলবো। অমিলও আছে বিস্তর। জোসেফ কে. এমন এক ব্যবস্থার শিকার, যেখানে সবাই ভদ্র ব্যবহার করলেও কেউ তাকে সত্যিই সাহায্য করে না। চারপাশের সৌজন্য ও সহানুভূতি শেষ পর্যন্ত তাকে আরও বিড়ম্বনায় ফেলে। তিনি ক্রমে মনে করতে থাকেন, সবকিছুর আড়ালে কোনো অদৃশ্য চক্রান্ত রয়েছে। ট্রায়ালের নামে তার প্রহসন হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে খুন হতে হয়। আমরা অবশ্যই এমন করুন পরিণতি প্রাক্তনীর চাই না, হবেও না। তিনি বিচার পাবেন। তার কৃতকর্মের ফল পাবেন, এটুকুই আশা করতে পারি । তবে ওই যে বললুম, মমতার ট্রায়াল শুরু হয়েছে। হেঁয়ালি ছেড়ে বলি, আদালতে তাঁকে এখনো পুরোদস্তুর টেনে নিয়ে যাওয়া হয় নি ঠিকই। কিন্তু তার দলকে টেনে নিয়ে যাওয়া হ...