ব্রহ্মাণ্ড বা কসমিক এগ কি আমিষ? প্রাণীজ অণ্ড দেখি কখনও পাতে, কখনও মাথে দেবশ্রী মজুমদার

একাদশীর উপবাসের পর রসিকতার সুরে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে, তাঁর ক্ষুধা এত বেড়েছিল যে "কষ্ট করে থালা-বাটিগুলো খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি।" স্বামী বিবেকানন্দ-র মহাপ্রয়াণের দিন ১৯০২ সালের ৪ জুলাই দুপুরের আহার সম্পর্কে প্রচলিত স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে যে তিনি সেদিন সকলের সঙ্গে বসে খেয়েছিলেন— ভাত, প্রিয় ইলিশ মাছের ঝোল, ভাজা, অম্বল ইত্যাদি। যিনি বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে এতো ভালো বুঝেছিলেন, তাঁকেই প্রশ্নটা করা যেত, ব্রহ্মাণ্ড বা কসমিক এগ কি আমিষ? মনুস্মৃতি-র (১.৯) বলেছে- তৎ অণ্ডম অভবদ্ ধৈমং সহস্রাংশুসমপ্রভম্। তস্মিন যজ্ঞে স্বয়ং ব্রহ্মা সর্বলোকপিতামহ:।। অর্থাৎ আদি সৃষ্টির এই অণ্ড যা ব্রহ্মাণ্ড বা হিরণ্যগর্ভ তা ছিল সুবর্ণময়, সহস্র সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল। তার মধ্যেই ব্রহ্মার আবির্ভাব। তিনি সমগ্র জগতের পিতামহ বা সৃষ্টিকর্তা। তিনিই একমাত্র আমিষ ও নিরামিষে ব্যাখ্যা দিতে পারেন। এই দ্বিধা আজকের নয়। ছাত্রবয়সে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ইংলণ্ডে বই পড়ে জেনেছিলেন, ডিম নিরামিষ। খেয়েও ছিলেন। তারপর পিতাশ্রীর কাছে তাঁর অপরাধ স্বীকার করে মার্জনাও চেয়েছিলেন। যাই হোক, এই প্রাণীজ অণ্ড দেখি কখনও পাতে, কখনও মাথে। মাথার চুল পরিচর্যা, ফেস মাস্ক, এলার্জি না থাকলে ত্বক পরিচর্যাতেও ব্যবহৃত। বর্তমানে বিদ্যালয় শিক্ষায় দু'একদিন পাতে ডিম পড়ে। আর সেদিন কচিকাচাদের ভিড় বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে সরকারি সিদ্ধান্তে সেই ডিম বন্ধ। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে পুষ্টিকর সোয়াবিন বরাবর থেকেছে। এবার পরিবর্তে পাল্টি খাবার হিসেবে থাকবে রাজমা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে পনির থাকতেও পারে। ইসকন সম্প্রদায় এই খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকবে। এরফলে কোন সমস্যা হবে কি হবে না, সেটা মিডডে মিল/ সেল্ফ হেলফ গ্রূপ ও ইসকন সম্প্রদায়ের ঘরোয়া মামলা। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের রাজ্য সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র কে সমাজ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে শোনা গেলো। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানালেন, এই প্রাণীজ অণ্ড বা ডিম একটি সহজলভ্য সুষম প্রোটিন। বায়োএবসর্পসন খুব ভালো। ৯টি প্রয়োজনীয় এ্যামাইনো এ্যাসিড, ফ্যাট, পলি/ মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এ্যাসিড, ভিটামিন, মিনারেল প্রাচুর্যে ভরপুর । কার্বোহাইড্রেট প্রায় নেই বললেই হয়। এর ফলে প্রাণীজ প্রোটিন বাদ পড়লে শিশুরা বঞ্চিত হবে। উত্তর -দক্ষিণ ভারতে ভূ- সাংস্কৃতিক খাদ্যাভাস বঙ্গ বান্ধব কতটা হবে সেটা পরীক্ষা প্রার্থনীয়। যারা নিরামিষ স্বাদিষ্ট ও পুষ্টিকর আহারের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করছেন, তারা বলছেন, সপ্তাহে দু'দিন ডিমের থেকে ছ'দিন ডালের পাওয়ার হাউস, প্রোটিন রিচড্ রাজমা, সোয়াবিন ও পনির পেলে ক্ষতি কি? বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বলছেন, বলেছিলাম না? প্রাক নির্বাচন প্রচারে যতই য়াব্বড় মাছ হাতে বিজেপি প্রার্থীরা প্রচার করুক না, আমিষ বন্ধ করে দেবে। হুঁহুঁ ঠিক কিনা? একদম গোঁড়া থেকেই খাদ্যাভাষ ত্যাগ করিয়েই ছাড়বে। কেউ কেউ বলছেন, খরচ বাঁচবে। চালচুরি বাঁচবে। আর ডিমের যা দাম! আবার কেউ বলছেন, দাম তো বেশি বাড়লো সেদিন থেকে যেদিন ডিম অস্ত্র হিসেবে উন্নীত হলো। অর্থাৎ ডিম্বাস্ত্র এবং সঠিক প্রয়োগ। খেলার মাঠে বল ছুঁড়ে কোন স্টাম্প ছুঁড়তে পেরেছে কিনা জানা নেই। কিন্তু নিখুঁত নিশানা। যেই কোন অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলীয় নেতা কর্মী আটক হয়ে থানা বা আদলতে যাচ্ছেন, পুলিশের সামনেই একদম মাথার মিডল স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়ার যোগাড়। ভয়ঙ্কর ডিম্বাস্ত্র। নিত্যনন্দন তার আগের এডিশনে যে সংবাদ বের করেছে, তাতে জানা গেছে, প্রশাসন এবার ডিম্বাস্ত্র প্রয়োগকারীদের তালিকা করছে। তাই সমঝে চলাই ভালো। আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এক অনুষ্ঠানে 'ডিম্বাস্ত্র' ব্যবহারের সাম্প্রতিক প্রবণতার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, "ডিম ছোড়ার এই সংস্কৃতি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না এবং এতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল হচ্ছে না।" বিজেপির রাজ্য সভাপতি খুব সুন্দর কথা বলেন। এক একটি পদ। উপাদেয়। এখন দেখার ডিম্বাস্ত্র মাথায় পড়ে, না পাতে পড়ে।।

Comments

Popular

বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই:---দেবশ্রী মজুমদার

দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার

আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার