Posts

Showing posts from July, 2019

বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই:---দেবশ্রী মজুমদার

Image
বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই: দেবশ্রী মজুমদার ‘বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই, যাচ্ছে ফাটি বুকের ছাতি তোমার শোকে ভাই’। বর্ষার ছাতা হারিয়ে কারো মনের অবস্থা কেমন হয়, তা কবি কালিদাস রায়ের লেখনিতে স্পষ্ট। কিন্তু বৃষ্টিই তো নাই! তার পরে আবার ছত্রবিয়োগের দুঃখ কেন মশাই!-- ফেলে যাওয়া ছাতাটা ফেরত দিতেই, এক ক্রেতা কথাগুলো আওড়ালেন। উদ্দেশ্য, সেই বিক্রেতাকেই, যিনি তাঁর ফেলে যাওয়া ছাতাটা ফেরত দিলেন। ক্রেতা হসপিটাল পাড়ার বাসিন্দা চাঁদ মণ্ডল। তাঁর হাতেও ছিল এক ছেঁড়া ছাতা। উদ্দেশ্য যাইহোক! বিধেয়, পরিচিত দোকানে ছাতাটা সারানো। সকালে বাজার সারার সাথে সাথে ছাতাটাও গা'গতরে ঠিক করে নেওয়া। সকালেই বাজারের থলের সাথে এটিকেও ধরিয়ে দিয়েছে। বাজার সেরে পায়ে পায়ে ছাতা সারানো রামপুরহাটের ভাঁড়শালাপাড়া মোড়ের এক গলিতে। সেখানেই বসেন বছর পঞ্চাশের ছোটকা মুনসরি। বাড়ি রেলপাড় লোকোপাড়া। রামপুরহাট পুরসভার-১ নং ওয়ার্ডে বাড়ি। ২৫ বছর ধরে ভাঁড়াশালার এই গলিতে ছাতা সারাইয়ের কাজ করেন। বাজার সেরে মুখে আগুন নেন এখানেই। তার পর সংসারের গপ্প সেরে বলেন, না ভাই সংসার এক্কেবারে রাবড়ির মত শুধু পাকে পাকে জমে উঠ...

চাতক-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
চাতক: দেবশ্রী মজুমদার চাতক শুধু ধুসর ধু ধু -- বৃষ্টি চোখে চোখে ফটিক জল, ফটিক জল বৃষ্টি দুচোখ ভরে তখন, বাইরে কোথায় ঝরে! বৃষ্টি হীনে দৃষ্টি হীন চাতক তারস্বরে। সাহারায় হায়! ঊষর 'পরে দহন ঝরে ঝড়ে। ভালো থাকিস, ভালো রেখে ঊষর বালু বুকে--- কেউ বলে না, কেউ ভাবে না বিদায় বীতশোকে।

মা যবে গৃহ বন্দি::দেবশ্রী মজুমদার

Image
মা যবে গৃহ বন্দি::দেবশ্রী মজুমদার মা যবে গৃহ বন্দি অশোক কাননে বন্দি সীতা রাবন করেছে বন্দি। দুধের ধারা বাঁধন হারা আগল দেয়ার ফন্দি মা যবে গৃহ বন্দি। স্নেহ তবে করে সন্ধি মা যবে গৃহ বন্দি। অশোক কাননে বন্দি সীতা রাবন করেছে বন্দি।

প্রচারের আলোককেন্দ্রে রথীন্দ্রনাথ: উদ‍্যোগ বিশ্বভারতীর: দেবশ্রী মজুমদার

Image
প্রচারের আলোককেন্দ্রে রথীন্দ্রনাথ: উদ‍্যোগ বিশ্বভারতীর: দেবশ্রী মজুমদার প্রায়শ্চিত্ত, না সংশোধনী- বলবে সময়। তবে, সোজা সাপটা ভাবে বলা যায়, বিশ্ব ভারতী উদ‍্যোগ নিল তার অশ্রুত নায়ককে নতুন করে আবিষ্কার করতে। তিনি হলেন, বিশ্ব ভারতীর প্রথম উপাচার্য তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সন্তান রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ...I know for certain that the Bengali race must needs accept my songs, they must all sing my songs in every Bengali home... উপরে উল্লেখিত কথা পড়ে বোঝা যায় কবিতা ও সঙ্গীত নিয়ে নিশ্চয়তা গভীর বিশ্বাস ছিল কবির মনে। বহুল শ্রুত একটি ঘটনা থেকে জানা যায়, আশ্রম বালিকা কনিকা বন্দোপাধ্যায়কে তিনি একবার বলেছিলেন, এ শুধু মাত্র সঙ্গীত নয়, মন্ত্র। তবু ও কোথাও যেন আশঙ্কা ছিল, যদিও সব প্রভাতে, সব খেলাতে তিনি আছেন। তাঁর কোন অনাগত আশঙ্কা থেকেই, তাঁর সমস্ত সৃষ্টির অছি করে গেছিলেন পুত্র রথীন্দ্রনাথ ও পুত্র বধু প্রতিমা দেবীকেই। বিশ্ব ভারতীর ক্ষেত্রে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান কম ছিল না। শুধু মাত্র ব্রহ্ম চার্যশ্রমের পাঁচ বালকের একজন ছিলেন না। তিনি ছিলেন এক প্রকার হৃদস্পন...

অনুগল্প :  অনুভব : দেবশ্রী মজুমদার

Image
অনুগল্প :  অনুভব : দেবশ্রী মজুমদার আপনি কী জানেন? --বেশি নিম ভাজা খেলে কী হয়? কিডনি ভালো রাখতে নিম পাতা ভাজা বেশি খাবেন না। জল পরিমিত খান, কমও না বেশিও না। বরং ইত‍্যাদি ইত‍্যাদি নিয়ম মাফিক করুন । ধ‍্যেৎ! নিয়মের কোন ঠিক নেই। আজ যা ঠিক, কাল তা ভুল। কর্তার না পসন্দ ওই নিম! হাতে মোবাইল নিয়ে 'ফেবু ' স্ট‍্যাটাস থেকে মুখস্থ করার মত জোরে পড়তে লাগলেন অনুপম বাবু! উদ্দেশ্য, কথা গুলো গিন্নির কানে পৌঁছানো! যেমন ভাবনা, তেমনি কাজ। শাস্ত্রের কথা মিছে হবার নয়। ঝাঁঝালো সুরে গিন্নি সরযু বলল, ওই রকমভাবে পড়া মুখস্থ করলে, আজকে অফিসে বড়বাবু হতে! ওরকম কলম পিষতে হত না। -- এক্কেবারে আঁতে ঘা! তবুও বউয়ের সাত অপমান গায়ে মাখতে নেই। স্রেফ মাফ! কাব‍্যি করে অনুপম বললে, কিসে আর কিসে! নিম পাতার সাথে, বড়বাবু আসে? গোপাল ভাঁড় নাকি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে বলেছিলেন, প্রথমে তেঁতো মুখ করা যাক! পোড়া মুখে সব ভালো লাগবে! কিন্তু তা হলো কৈ! সরযু দেবী মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন, আর তখনই ফাটলো গার্হস্থ্য বোমা! একই বাড়িতে থাকে দুই তরফ। ছোট তরফ পুষেছে কুকুর। নাম লালু। হঠাৎ সেই লালু ঝাঁপিয়ে পড়লো তার ...

ভণিতা : নাগরিক পন্জিকরণ: দেবশ্রী মজুমদার

Image
ভণিতা : নাগরিক পন্জিকরণ: দেবশ্রী মজুমদার রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল নিয়ে বাঙালির বিতর্ক কম ছিল না। কিন্তু দুজন দুজনকে কিনা ভালবাসতেন। নজরুলের আব্দার সহ‍্য করে অসুস্থ শরীরে ও রবীন্দ্র নাথ গান গেয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের নিন্দা সহ‍্য করতে না পেরে নজরুল হাত চালাতে কুন্ঠা করেন নি।  আজ মনে হয়, রোজ কত কী ঘটে যাহা তাহা - এমন কেন সত্যি হয় না আহা।  আচ্ছা, ওঁদের কথা ছেড়ে দিন। আজ পরিস্থিতি পাল্টেছে। বাঙালি বিভাজিত বলব না। দ্বিধা গ্রস্থ। অনেকটাই কৃতকার্য রাজনীতি। যে রাজনীতি একদিন ভারত তথা বাংলা ভেঙেছিল।  হিন্দু ভাবছে ডেমোগ্রাফি চেন্জ হচ্ছে। একদিন মুসলিম রাষ্ট্র হবে। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত‍্যাচারের ঘটনায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে হিন্দুরা। কিন্তু এটা ভুললে চলবে না, ওখানকার মুসলিমরা তাদের অনেকেকেই বুকে আগলে রেখেছে। ওখানকার মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে গিয়ে বেশির ভাগ মুসলিম ব্লগার খুন হচ্ছেন। তাই দোষী মৌলবাদী। আজ ও বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমাদের গ্রামের এক বিধবা মহিলা এক মুসলিম রিক্সাচালককে বিশ্বাস করেন। তিনিই তাঁকে পেনশন থেকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যান। পয়সা অবশ্যই নেন। এখন ভালো হিন্দু, ভালো মুসলিম অসহ...

প্রনাম নেবেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ঃদেবশ্রী মজুমদার

Image
প্রনাম নেবেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ঃ দেবশ্রী মজুমদার প্রনাম নেবেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। আপনি তফাতেই ছিলেন আর সকলের থেকে। অবশ‍্য তা শির দাঁড়াতে। আদর্শ থেকে  না সরে ইউ নাইটেড প্রগ্রেসিভ এলায়েন্স থেকে বামদল সরে এলেও আপনি স্পিকার পদে থেকে পদত্যাগ করেন নি। কারন আপনি বিশ্বাস করতেন সংসদীয় গণতন্ত্রে।আর তাছাড়া এতে হয়ত বিজেপি সুবিধা পেত। এটা একটা বিশ্বাস। ভুল কি ঠিক সেটা ইতিহাস বিচার করবে। এস এস ডি এ র চেয়ারম্যান হিসেবে শান্তিনিকেতন, শ্রীনিকেতনে উন্নয়নের জন্য আপনি কম করেন নি।  খোয়াই নিয়ে ধারাবাহিক লিখছিলাম। শেষ মুহূর্তে অফিস বলল, পাতা ছাড়ব। সোমনাথ বাবু  বোলপুরে আছেন, বক্তব্য দাও। মাস্ট। গৌতমবাবু সহ‍্য করতে পারতেন না দুটো কথা, ১) অসমর্থিত সূত্র ২) ফোনে রিং হলেও অমুক বাবু ফোন ধরেননি। তাই মিথ‍্যার আশ্রয় নিতে হল। কি দুঃসাহস আমার!  আপনি জানতে চাইলেন কাগজের নাম। তারপর খুব অনুরোধ করায় রাজী হলেন। নাম জানতে চাইলেন। নামটা বার বার দেবর্ষি বলছিলেন। বানান করে নাম বলায় , আপনি যারপরনাই ক্রুদ্ধ হয়ে বলে উঠলেন, তোমার সাহস তো কম নয়? আমায় বানান শেখাচ্ছ। প্রথমে থতমত করে বলি স‍্যর ভুল বুঝবেন ন...

ক্ষুদিরাম বসু: তোমায় প্রনাম-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
ক্ষুদিরাম বসু: তোমায় প্রনাম-- দেবশ্রী মজুমদার কি রাজনীতি, কি খেলা, কি ক্লাব, কি শিক্ষার অঙ্গন! একটু কান পাতুন। শুনতে পাবেন, একজন আরেকজনকে বলছে -- “আমাকে ক্ষুদিরাম বানাবেন না। বা আমি ক্ষুদিরাম হতে চাই না”। অর্থাৎ ক্ষুদিরামকে যেন ‘বলি’ বানানো হয়েছিল। যাকে চলতি ভাষায় আমরা ‘মুরগী’ বানানো বলি। এর থেকে অদ্ভুত পরিভাষা বোধকরি আর হয় না।  এখনকার বিচারে তিনি বোকাই ছিলেন। আর সেই জন্য আজ আমরা চব্য, চোষ্য, লেহ্য, পেয় উপভোগ করছি। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ নির্মল সেনের কথায়, এই ‘বোকা’ ক্ষুদিরামই স্বাধীনতা সংগ্রামে তরুণদের নতুন পথ দেখান। ইতিহাসের লালচে পাতার ভাঁজে কারো কারো ব্রিটিশরাজের কাছে আপোষ করে ক্ষমা ভিক্ষা বা মিথ্যে সাক্ষী দেওয়া নিয়ে সময় সময় সারা দেশব্যাপী বিতর্ক দেখা গিয়েছে।  কিন্তু ক্ষুদিরামের জাতই আলাদা!  থাক সে কথা!       ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সর্ব কনিষ্ঠ বিপ্লবী ছিলেন ক্ষুদিরাম। ফাঁসির সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৮ মাস ৮ দিন। ১৯০৮ সালের আজকের দিন। অর্থাৎ ১১ অগাস্ট ভোর ৪টা।  সত্যেন বসুর নেতৃত্বে গুপ্ত সংগঠনে যোগ দেন ক্ষুদিরাম। তার আগে কাজ ছিল ভুত ধরা, ভুত তাড়ানো আর দলবেঁধে দূরন্তপনা ক...

নেতাজী! :: দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: নেতাজী! :: দেবশ্রী মজুমদার তোমায় যদি পড়ে থাকে কাজল ছোঁয়া চোখ খুব কম জেনেছে কেউ কেটা সে হোক। তোমায় যদি পড়েছে বা রঙিন বাহারি ফ্রেম তবে করে কম্মে খা থাক না সে দেশ প্রেম।। তোমায় যদি পড়ে থাকে ভ্রমর কালো চোখ বুকের মাঝে তার তো চাপা শোক। যাচায় করে, কার আড়ালে কার পতাকা বহ ভ্রম হবে না কখ্খনো, তার জেনো সে ছাড়ে না তার হক কোনো। তোমায় যদি পড়ে থাকে নির্জলা সে চোখ তবে অন‍্যদিনেও জন্ম তোমার পালন করা হোক!!

প্রসঙ্গ : নারী নির্যাতন ভারতে : দেবশ্রী মজুমদার

Image
প্রসঙ্গ : নারী নির্যাতন ভারতে : দেবশ্রী মজুমদার না, ডোমিনিক লা পিয়্যরের ‘ সিটি অফ জয়ে’র কথা বলছি না।  ভারতের দুটি রাজ্যের আর্থ সামাজিক বিষয় নিয়ে গোটা ভারতের ছবি। খবরের লিড বা শিরোনাম ছিল ‘ভুখা ভারতের সাজানো ছবি’। খবরের মাথায় ছিল—জলার ধারে লাল কাপড়ে ঢাকা টেবিল। তাতে রাখা আছে অনেক খাবার। সামনে দাঁড়িয়ে দুটি শিশু। একজন মলিন পোশাকে, অন্যজনের খালি গা। সামনে খাবার, অথচ চোখ মুখ ঢেকে রয়েছে তারা। ইটালির বিখ্যাত এক চিত্রকরের এই ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক।উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশ থেকে ছবি গুলি তোলা। এই ছবি ২০১৮ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতে নিয়েছে জুরিদের কাছ থেকে। একটি প্রথম শ্রেণীর বাংলা দৈনিকে ২৪ তারিখ এই খবর পড়ে মনে পড়ল গ্রীক পুরাণের ট্যান্টালুসের কথা। মনে পড়ল তাকে নিয়ে একটি বিখ্যাত উক্তি--- The covetous man pines in plenty, like Tantalus up to the chin in water, and yet thirsty. ট্যান্টালুস না পেয়েছিল গাছের ডাল থেকে ঝুলন্ত প্রায় নাগালের মধ্যে রসালো ফল, না গাছের নিচে ঠোঁটের নাগালে জল। ভাবতে গেলে, সংবাদে বর্ণিত ওই শিশুদুটির অবস্থা তো আরও করুন। কারন টেবিলের খাবারগ...

অটলজীঃ এক সঙ্গে অনেক প্রকাশ ঃ দেবশ্রী মজুমদার

Image
অটলজীঃ এক সঙ্গে অনেক প্রকাশ ঃ দেবশ্রী মজুমদার সাচ্চায় ইয়ে হ্যয় কি / কেবল উঁচাই কি কাফি নেহি হোতি সবসে আলগ থালগ/ পরিবেশ সে পৃথক আপনো সে কদা বৈঁঠা/ শুন্য মে একেলা খাড়া হোনা পহাড় কি মহনতা নেহি/ মজবুরি হ্যায় উঁচায় ওর গহরায় মে / আকাশ পাতাল কি দূরি হ্যয় জো জিতনা উঁচা/ উতনা একাকী হোতা হ্যায় চড়হায় পর/ মুস্কানে চিপকা মন হি মন রোতা হ্যায়। এ কোন কবির লেখা বলার দরকার নেই। এই পঙক্তির মধ্যেই একাধারে নিজের জীবন অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন স্পষ্ট। হ্যা ঠিকই বুঝেছেন। বাজপেয়ীজীর কথা বলছি। বাজপেয়ীজী ছিলেন,  যেন এক সঙ্গে অনেক প্রকাশ! একইভাবে অত্যন্ত নিঃসঙ্গ ছিলেন উঁচু পাহাড়ের মত। মন হি মন রোতা থা। হয়ত!!! ২৪টি দল নিয়ে জোটবন্ধন সরকার চালিয়েছেন। ইরাক আক্রমণের সময় বাম নেতা হরকিষেন সিং সুরজিতের সাথে আলোচনা করেছেন। তাঁদের মতামত নিয়ে আমেরিকার আবেদনে সাড়া না দিয়ে ইরাক আক্রমণে ভারতীয় সৈন্য পাঠান নি। শুধু বলেছিলেন সংসদের বাইরে আপনারা বিক্ষোভ করুন। একইভাবে, গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে তদানীন্তন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীকে রাজধর্ম পালন করতে বলেছিলেন। সেটাও কম নয়। তাঁর মত ব্যক্তির এরকম একটা কথা ‘দলের একজন গুরুত্ব...

দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার

Image
রম‍্যরচনা: দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার এখন আর সেই দুটি গ্রাম না থাকলেও, আই ডোন্ট নোউ, কেউ বলে না। তবে পাড়ায় পাড়ায় লড়াই আছে। আছে থিমের লড়াই। দুগগা পুজোয় তার বাড় বাড়ন্ত! পুজোর কর্ম কর্তারা সদা ব্যস্ত যেন থিম কোন ভাবেই বাইরে বেরিয়ে না যায়। ন’পাড়ার দুগগা পুজোর থিম- দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি! একজন পরামর্শ দিতে গিয়ে বলল, লুচির আগে ‘ফুলকো’ যোগ করলে হয় না?  পুজো কমিটির সেক্রেটারি কেলোদা বলে উঠল, না, তা হবে না! ৪০৭ মিনি ট্রাকের পেছনে “লুচির” আগে “ফুলকো” লেখা ছিল না!! তার মানে? মানেটা জানা গেল অন্তর্তদন্তের পর! রোড কালেকশনের সময় কমিটির বিশ্বস্ত সৈনিকদের নির্দেশ ছিল, চাঁদা তোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে ৪০৭ গাড়ির পিছনে, কি লেখা আছে তা দেখার। চট পট তা লিখে ফেলতে হবে গোপনে, বিল বইয়ের পিছনে। কারন শত্রুর অভাব নেই। অনেক লেখাই নোট করেছিল তারা। তার মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছে – এই থিম-দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি! কিন্তু বেনে পাড়ার পুজো কমিটির মাথায় এই বুদ্ধি এলো কি করে? কেমনে ওরা পেরেছে সেটা জানতে? –দেশলাই কাঠির মত ফস করে জ্বলে বলে উঠল নেতাই, আমাদের মধ্যে কেউ ওদিকেও  সিং...

দেউল সঙ্কট(অনুগল্পঃ) ঃ দেবশ্রী মজুমদার

Image
সূত্রঃ “মোদের প্রাণের পূজার দেউলে তাহার প্রতিমা গড়ি/ চুয়া- চন্দন- গন্ধ বিলায়ে আমরা ঝরিয়া পড়ি ” – (নব নবীনের লাগি)  জীবনানন্দ দাশ  অনুগল্পঃ দেউল সঙ্কট ঃ দেবশ্রী মজুমদার কি ছাইপাঁশ লেখ? বন্ধ কর এসব। এই বলে দরাম করে দরজা খুলে যেন এক দমকা হাওয়া হুড় মুড় করে আমার লেখার ঘরে ঢুকে পড়ল। আমি খুশি করার জন্য বললাম , আহা নীলাম্বরী শাড়িতে—থাক! নীলাম্বরীতে – মুখ বেঁকিয়ে গজ দন্ত বের করে নীলা বলল ঢের হয়েছে ! এবার তোমার নীলার কথা শোন! আর ওসব ছাইপাঁশ লিখো না! ওতে বেতো সমাজের বাতের ব্যথা ভালো হয় না। ওকে খুঁড়িয়ে চলতে দাও। তাহলে কি করব? – নীলা মানে আমার দমকা হাওয়া বলল , এখন লেখার নয়, দেখার যুগ, শুধু দেখে যাও। যদি তৈল মর্দন না পারো। অন্ততঃ চুপ থাক। এসব পটোল চেরা চোখ আর ন্যাকাপনা করে লিখো না তো। প্রতিবাদ করে লেখা তোমার মত পাতলা ধাতের লোকের কাছে প্রায়ই অসম্ভব। তবে ইনিয়ে বিনিয়ে লেখা, জাস্ট অসহ্য। তোমার মত লোকেদের ফ্রীতে একটা এডভাইজ দেব, নেবে? বললাম -জো হুকুম— নীলা গ্রীবা উঁচু করে একটু অবজ্ঞার হাসি হেসে বললে,  তাহলে শোন , এসব করার চেয়ে, কিছু না করতে চাওয়াও অনেকটা চাওয়া! নীলা হাসলে গালে টোল পড়ে আর গজ দন্...

লাইভ দুগগা- দেবশ্রী মজুমদার

Image
রম‍্যরচনা: লাইভ দুগগা- দেবশ্রী মজুমদার লাইভ দুগগা- দেবশ্রী মজুমদার আজ দশমী। এবার আমাদের পুজোর থিম লাইভ ঠাকুর। মোড়ের মিস্টির দোকানের ময়রা হয়েছিল গণেশ, বলিউডের স্বপ্নে বিভোর ঋত্মিক হয়েছিল কার্তিক, পাড়ার হার্টথ্রব চিনির বোন মিনি হয়েছিল সরস্বতী। লক্ষ্মী হয়েছিল দুলে পাড়ার টেপির মা সোহাগী। লক্ষ্মী নিয়ে হয়েছিল হৈ চৈ। সবাই চেয়েছিল দুলে পাড়ার সোনামণিকে। লক্ষ্মীর মত তার ছোট ছোট হাত পায়ের গড়ন। পাড়ার কাউন্সিলারের প্রধান চামচার বৌ মায় দুর্গা পর্যন্ত সোনামণির হয়ে বলতে গিয়ে ঘোল খেতে হয়। জানতে পেরে টেপির মা বাড়ি বয়ে দুর্গাকে এক হাত নিয়ে আসে। -- বলি কার ঘাড়ে ক’টা মাথা আছে যে আমার বদলে সোনামণিকে লক্ষ্মী করে? আইবুড়ো ধিঙ্গি মেয়ে লক্ষ্মী হবে? এবার শাস্ত্রীয় যুক্তি দিয়ে তাল ঠুকে বলল, সবাই জানে লক্ষ্মী নারায়ণের ঘরণী ছিল। আমি  হাটে নয় একেবারে হার্টে হাড়ি ভেঙে দেব!  মিনি কি করে বেড়াই আমি জানি না? আমি সবার---। রোসো,  দেখি কি করা যায়— কুটনৈতিক ভাবে বললেন ভাবী দুগগা। রাগে গা রি রি করলেও, চুপ মেরে রইলেন। শুধু একটা খটকার কাঁটা – যাওয়ার সময় কী তাঁর সঙ্গে কাউন্সিলার পদাদার ইন্টু ফিন্টুকে ইঙ্গিত দিয়ে গেল? মর...

স্বাধীনতা দেশবাসীর অলংকার: দেবশ্রী মজুমদার

Image
রম‍্যরচনা: স্বাধীনতা দেশবাসীর অলংকার: দেবশ্রী মজুমদার   মঙ্গলবার রাত। সকাল সকাল শুয়ে পড়েছি। রাত পেরোলেই আরেকটি স্বাধীনতা দিবস। মনে  করছি ছোট বেলায় যখন বুড়ু, আকাল, সুখেন, পিন্টু, সন্দীপ, রাজীব, উৎপল, খোকন, পথু কাক ভোরে উঠে প্রশানদার সাথে গোটা গ্রাম পরিক্রমা করতাম। গলা মেলাতাম প্রসানদার সাথে-- নেতাজি তোমাই ভুলছি না ভুলব না। রক্তে লেখা দুটি নাম মাতঙ্গীনি, ক্ষুদিরাম। গ্রামের দত্তদের বরিষ্ঠ মহিলা যিনি আর বেঁচে নেই, তার কাছে  শুনেছিলাম , ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাষ্ট কিভাবে গোটা গ্রাম ফেস্টুন আর পতাকায় সেজে ছিল। এই সব ভাবনা নিয়ে প্রাক স্বাধীনতার দিন টান টান উত্তেজনা নিয়ে শুয়ে ছিলাম। আবৃত্তির সুরে শুয়ে শুয়ে আওড়াচ্ছিলাম--- গোটা বিশ্ব যখন ঘুমিয়ে থাকবে, তখন মধ‍্য রাত্রের ঘন্টায় ভারত বর্ষ জেগে উঠবে  প্রানে ও মুক্তির আস্বাদে অর্থাৎ স্বাধীনতায়। স্বাধীনতা! স্বাধীনতা নিয়ে লেখাটা তোমার চোখেও পড়েছে? বলে ভাত খাওয়ার পর এক টাকার আজোয়ান প‍্যাকেটের দুই তৃতীয়াংশ মুখে পুরে কাছে এসে বসল গিন্নি। ফ্ল‍্যাগ মিটিংয়ের আশংকা জাগলো মনে। কাগজে পড়েছি আন্তর্জাতিক বর্ডারে এ রকম হয়ে থাকে। আমি বললুম, চো...

নির্বোধ-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: নির্বোধ-- দেবশ্রী মজুমদার পূজা আর পূজিত বোধ হয় এক নয়। পূজার উপাচার চাই ই চাই অন‍্যের সে বালাই নেই। দৃষ্টি নন্দন ম‍্যারাপে হাততালি তুমি পেতেই পারো সে তো পূজা-ই! কিন্তু যে নির্ভয়া --- ভোরের আঙিনায় একান্তে করপুটে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ নেয় প্রাণ ভরে--? সে পূজা আর পূজিতা দুটোই। তবু ও জানার প্রয়োজন নেই কেন তার নাসিকা তিল ফুলের মত হতেই হবে...উরু হবে কদলী বৃক্ষের মত পেলব মসৃন। গালের রঙ দাড়িম্ব ফলের মত না হলেও চলবে, তবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রং না হলে নৈব নৈব চ। তার পর নটে গাছটি মুড়োবে! সেই শার্দুল চোখ ধারালো নখ দন্তে ছিঁড়বে ফুলের নাল! তবু পূজা হবে তোমার, অঞ্জলী করপুটে! আমার তর্জনী তুলি নি তোমার দিকে। তুমি সংস্থিত কোথায় তা জানার অবকাশ নেই আজ! বড় ব‍্যস্ত !বড় ব‍্যস্ত! তবু বলব কেমন তর যেন - যখন শুধু পূজা হয়! পূজিত হওয়াটা আর হয়ে ওঠে না। মিলিয়ে যায় হাওয়ায় হাওয়ায়!!!

স‍্যান্টা হন‍্যে : দেবশ্রী মজুমদার

Image
স‍্যান্টা হন‍্যে(অনুগল্প) : দেবশ্রী মজুমদার স্পেশাল চা শুনেছেন। মন্টুদা পরলোকগত হওয়ার পর, মন্টু দার ছেলে চালু করেছে স্পেশাল চা। খদ্দের ভালো খেয়েছে কথাটা--ইস্পেশাল চা! হিরন্ময় গঙ্গোপাধ্যায় ওরফে হিরুদা উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন সান্টাকে, এই স‍্যান্টা ! ইস্পেশাল কি রে! সান্টার স্মার্ট রিপ্লাই- ও তুমি বুঝবে না! খাও তো বুঝবে!--দে তাহলে! দেখি একবার। সুর করে চুমুক দিতে শুরু করেছিল সবেমাত্র! মাঝখানে কেটে গেল সুরটা। হ‍্যারে স‍্যান্টা চা তো সেই একই, স্পেশালিটি কোথায়? এবার স‍্যান্টা কাছে এসে বলল, কিছু তো একটা আছে, তুমি ধরতে পারো নি! ইসস্পেশাল হওয়ার জন্য অতিরিক্ত এক টাকা নগদ নারায়ণ দিয়ে হিরুদা ক্ষুন্ন মনে অনেক দ্বিধা নিয়ে পরের ট্রিপের টিউশনে গেল। হিরুদার একটু পরিচয় দেওয়া ভালো। নিপাট ভদ্রলোক। কপট না হওয়ায় কপাট অর্থাৎ কপোল কপাট কোনদিন খোলে নি তাঁর। স্থানীয় স্কুলে চাকরি হওয়ার মুখে আঁটকে যায়। অনেকেই দুঃখ ও সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেছিলেন, দুঃখ করো না। সবই ভবিতব্য বুঝলে! একটা স্পেশাল কেসের জন্য, এক্সপার্ট আরেকজনকে বেশি নাম্বার দিতে বাধ্য হল। তাঁরও যে খারাপ লাগে নি তা নয়। কিন্তু পা...

হারিয়ে গেল ছোট্ট বিভাস!—দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: হারিয়ে গেল ছোট্ট বিভাস!—দেবশ্রী মজুমদার চালাও শ্লোগান বাজুক ঝাপান! দয় (দোহাই) দয়, কার দয় মানুষের দোহাই! মানুষের দোহাই। কেউ দেখেনি, বিভাস কোথায়? কেউ শোনে নি, কে ডাকে বিভাস! বিভাস! ও বিভাস!  গন্ধ নাকে পোড়া বাতাস! ছিন্ন দেহে, দেহ খোঁজে আপন গেহে লুটাইয়ে তরাস! গন্ধ বারুদ, তিক্ত বাতাস বয় না সুবাস, বয় না সুবাস। বছর আটেক বুকের খাঁচায় অচিন লালন হয় নি পালন।। সকল বিভাস জলের বোতল স্কুলের ব্যাগে গন্ধ জাগে, গন্ধ জাগে!!  বড্ড জ্বালা গুমোট চাপে বুকের মাঝে? ছোট্ট বিভাস! বিশ্ব এখন হাত জোড়া পাই গো দেখা- নাগের বাজার। কাজি পাড়ায় বন্ধ বস্তা জন্ম দিনের আসর জমায় পোড়া বারুদ, মিস্টি হাতে ছোট্ট বিভাস, ছুটতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায় , থমকে যায়!   কি চাই নি, কি চেয়েছি?  কি দিয়েছি ? ছোট্ট আকাশ! আমার বাছা! ছোট্ট বিভাস! হুরোল বানে, হাপুর গানে হারিয়ে গেল, ছোট্ট বিভাস।

দান্তেওয়াড়া সবুজ যখন--দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: দান্তেওয়াড়া সবুজ যখন--দেবশ্রী মজুমদার দান্তেওয়াড়া সবুজ যখন লালের থেকেও অবুঝ তখন সবুজে বেয়ারা দান্তে ওয়াড়া----- মহুয়া সবুজে সবুজ। গুলি ছুটে কানকো পাশে হলুদ বারুদ গন্ধ বাসে কথা ফুরায় আসি ---- মা তোরে, বড্ড ভালোবাসি।‌। হাজারো মাইল চড়াই উড়ে দান্তে থেকে অনেকে দূরে গোলাপে রঙিন পাহাড়ী জমিন রক্ত ক্ষরণে অবুঝ দান্তেওয়াড়া কী সবুজ! মাটির স্বর্গ গভীর খাদে যত যে তরুণ আর্তনাদে চোয়াল জোড়ে শক্ত করে দাফনের জানাযে। চিনে নাও সে তোমার খোঁজে তোমার মায়ের চক্ষু ভিজে মৃত্যু ফলকে জীবন খোঁজে সবার সাহু -----যে।।

তোমার ঘরে আগুন: দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: ধর্মান্ধতা প্ররোচিত দাঙ্গাদীর্ণ মানুষের উদ্দেশ্যে: তোমার ঘরে আগুন: দেবশ্রী মজুমদার আমার ঘরে শুয়োরানি শীতলপাটি ঘুম তোমার ঘরে দুয়োরানি জেগে থাকার ধুম।। আমার ঘরে আলোর বান আকাশ জুড়ে ফাগুন তোমার ঘরে  রক্ত স্নান বাহিরে ভিতর আগুন। আমার ঘরে তো লাগে নি আগুন আমি তবে কেন? আপনি শুধু জাগুন! আমার তো বেশ ঘুম পেয়েছে মাথার নিচে ঘাস মাথার 'পরে নীল নভো মেঘ হরিণ বারোমাস কোজাগরী চাঁদ জেগেছে রাতের 'পরে রাত উঠোন জুড়ে ছড়িয়ে আছে সিড়ি ধানের ভাত। চাঁদের গায়ে চাঁদের চুমু যখন ডুবু  ডুবু তোমার ঘরে তখন আগুন ভাঙা হাঁড়ি কুড়ি। চোখের জলে ভাসে বুঝি চাঁদের গায়ে বুড়ি? আমার উঠোন যোবন জুড়ে তুমি  তো থুথ্থুরি তোমায় নিয়ে গাঙুর হাসে হাসে ফটিকছড়ি। আমার ঘরে তখন ফাগুন তোমার ঘরে আগুন আমার ঘরে দু'চোখ পাতা আমার রজনীর তোমার ঘর হয়তো যেথা মুক্ত পঞ্চ--বেণীর।।

না, বলিনি: দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: না, বলিনি: দেবশ্রী মজুমদার চোখের ডাকে চোখ জিগাই যখন বলুন, দাদা, বলুন? দাদার পকেটে খোপ বলছে চোপ চোপ চল্লিশে কিলো খেলো না খেলো আহা! পটোল চেরা চোখ! দাদা, পাঁচশ, দিই! পাঁকাল মাছের গতর চোখ নামিয়ে স্বতর চুপ পিছটান নিই। রূপালী প্রেমে ভাঁপা থাক না বুকে চাপা। কিছু তো বলো!!! অর্ধস্ফুট ঠোঁটে না বলা কথা ছোটে তখন ও গোলাপ খুঁটে বলি নি মুখ ফুটে-- আজ ও নিশ্চুপ বেবাক, রোদে পুড়ে সব খাঁক বয়সে বেড়েছে গ্লানি। কিছু তো বলুন জিগাও যখন--- তখন ও আমি মানি, বুলেটে, বুটে, লুঠে ছাত্ররা মরে ছুটে লাশ তবে খাক লাশ সবাই যখন চাস গাছের গোড়াটা যাক হুজুরের হুড়ো হাঁক পিপু ফিশু ছিল, থাক। পিপু ফিশু সুখে থাক!!  

জয় শ্রী রাম--দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: জয় শ্রী রাম--দেবশ্রী মজুমদার রাম, দুই, তিন ফের বোল! রাম... ক'বার? বল ধিন! বলবো না, তুই থাম! আবুলিস! রাম, দুই, সাড়ে তিন অমাবস্যার ঘোড়ার ডিম! ফের বোল ! আবুলিস! বোলবোনা ফের! তুই বলিস! সেরের মাপেও ছিল রাম খেলার মোরেও সেই রাম! ঝগড়া ছিল, রাকারাও ... হয়ত তাও না, গা-ঝাড়াও... ছিল ক্ষোভ, দুঃখ ; গা রি- রি দেখি নাই কই, ঘেয়ো টিটকিরি! ছিল ক্ষোভ, দুঃখ; ছিল তব নাম! এখন সব অন্তর্লীন, শুধু-হা রাম!!  

কনকাঞ্জলি:: দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:কনকাঞ্জলি:: দেবশ্রী মজুমদার ভেবেছিলাম হলুদ পাখিটি হয়ত পরিযায়ী। নেহাতই বহিরাগত! এক মুখ নিকষ কালো লোম। গা'টা হলদে। তা বেশ! কর্কশ গলা! বসন্তের প্রতিশ্রুতি না পরাভৃত?  কি নিদারুন আক্রোশে ধ্বংস করছিল--বর্ণমালার সব অক্ষরগুলো!! মন বললে, আরে ! ওকে তো চিনি। ওদের তো চিনি! ওরা সব শেষ করে দেবে! ওরা-ওরা বিচ্ছু! ওরা বাংলার পঙ্গপাল! দু'দিন ধরে চলল জহ্লাদ জল্পনা! তার ইতিহাস! কিন্তু কই সেই হলুদ পাখি? ওস্তাদ এল সরেজমিনে। কার গলা এত কর্কশ! সব তদন্ত হবে এবার! সুর, তাল, লয়, ছন্দ সব মাপা হবে নিত্তি ধরে। কিন্তু যাদের আপত্তি ছিল- মূলত নির্মল মলয় বাতাস, ছোট ছোট ফুল, পাতা, গন্ধ মিশে সে এক অনমনীয় স্থিত প্রজ্ঞ প্রকৃতি। তাঁর সেই বিস্তৃত ললাট অসন্তোষের সকরুন অভিব‍্যক্তি নিয়ে চেয়ে রইল। এই তো সেই হলুদ পাখি! ওস্তাদ! ও ওস্তাদ! তোমার পেছনে কে? মুখমণ্ডল তার কপোতাক্ষ নদীর মত স্থির! উদ্বেগ হীন। ঘন কালো--- থাক! জমে থাকা গুমোট অভিমান, বৃষ্টি হয়ে নামবে এখন!! স্বভাব প্রকৃতি থাক না বাকরুদ্ধ!! বিদায় দিয়েছি তোমায় অনেক আগেই। দিয়েছি কনকাঞ্জলি!!  

সমীকরণ: দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা: সমীকরণ: দেবশ্রী মজুমদার ধর, আমার নাম এক্স তোমার নাম ওয়াই-- সন্তান সন্ততি ডব্লিউ জেড! তুমি, বলবে, মাথাটা গেছে আর কী বলবে, তাও জানি যে! কুড়ি বছর ছাত্তর পড়ালে গাধা হয় সে! বিশ্বাস করো আর না করো-- প্রশ্নগুলো ছা পাড়ে মগজে যদি, তুমি হতে এক্স আমি ওয়াই, আর ছেলে পুলে ডব্লিউ, জেড- তাহলে কী মন্দিরে ঘণ্টা বাজতো না? হত না পূজা পাঠ? কিম্বা মসজিদে দোয়া? আনন্দ কী নিলম্বিত ? উঁচু মাথা হেঁট? কে যেন সাগর পাড়ে ফেরি করে- নামে কী যায় আসে! আরেকজন এপাড়ে চেতনায় রাঙায় আমি! সে চেষ্টা তবে কী ? পাকা আমি... সমীকরণের প্রথম শর্ত তার পরে দ্বিতীয় শর্ত কাটা কুটি গুণ করে একটার মান পেলেই দ্বিতীয়টি পায়ে পায়ে গুটি গুটি! এভাবেই ভুল পথে তবে ছুটি! ভেবে দেখো, বন্ধু! খুব কী হতো ক্ষতি? যদি হাত হতো, প্রশস্ত উদার-- সন্নিপাতে হৃদয়ে হৃদয়, নাম হীন সাথী!!   

সলিলে করিহ নিমগন-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা: সলিলে করিহ নিমগন-- দেবশ্রী মজুমদার এ পুত ভূমি, পুণ্য গেহ রক্ত রুধির রিক্ত কেহ! রক্ত নেবে, রক্ত কেহ? মাথায় লাঠি, রক্ত প্লব; রক্ত চেনা মাথা জানে মরুস্থলী কোথায় টানে- রক্তে নিতে আজ্ঞাবহ! বাঁশ উঁচিয়ে কোন উজানে! সাচী কিম্বা পরিবহ- যাই না কেনা কোন খানে! রক্তে ভাসি রক্ত ত্রাসে এরাই ছোটে, এরাই পাশে! অত আঘাত পারো কী ভাঙতে তাদের করোটি নিত‍্যনিতি কবর খুঁড়ে খোবলা করে মা ও মাটি!   

মূর্তি ভাঙো, সে তো মৃন্ময়ী- দেবশ্রী মজুমদার

Image
বাংলাদেশের বন্ধুদের জন্য: কবিতা: মূর্তি ভাঙো, সে তো মৃন্ময়ী- দেবশ্রী মজুমদার তুমি যেই হও বিশ্বাসী কিম্বা অবিশ্বাসী ভাঙো মূর্তি, সে তো মৃন্ময়ী যদি সহোদর না হও, যদি ভুলে যাও তুমি কোন জনমের ভ্রাতা ভগিনী মোর... ভুলোনা অনেকের বুকে জেগে তোর আলপনা হয়ে শিউলি ভোর উমা শুধু দেবী নয়,  ঘরের মেয়ে শাপলা হাতে শ‍্যামল বরণ সোনার গা'তে যে না হিন্দু, না অহিন্দু তোরই দোরে সাঁঝ পেরিয়ে আঁচল ভোর। যতই গড়ো ক্রীড়নক মুর্খ পুরুষ, চাও সম্ভোগ ত্রস্ত হবে কীর্তিনাশায়-- যতই তুমি ব‍্যস্ত থাক ধ্বংস নেশায়-- এপার কিম্বা ওপার গঙ্গা কিম্বা মেঘনা ধর্ম ধ্বজায় ঢাকো মুখ ইতিহাস তো ছাড়েনা লাগাবে চাবুক পেতে রেখো বুক ইতিহাস হবে ইতিহাসেই লুকোবে মুখ।।   

ভাষা বনাম ধর্ম- দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: ভাষা বনাম ধর্ম- দেবশ্রী মজুমদার ভাষা? তুমি হিন্দু না মুসলিম? লাশ? তুমি হিন্দু না মুসলিম? ভাষা আর লাশের যুদ্ধে শেষ রক্ত হাড় হিম। ভাষা জানে সংস্কৃত আরবী উর্দু ও একটা ভাষা প্রশ্ন করে নিজেকে ভাই তবে কোথা থাকবি? সংস্কৃত আজ মৃত ভাষা কে করেছে খুন? না হিন্দু না মুসলিম, ভাবুন! এখনও ভাবুন, ভাবুন।। ভাষা যদি হয় আগে ধর্ম ভাষা যদি হয় রাষ্ট্র বর্ম তবে ইশারায় কথা বলো ধর্ম যদি হয় গুমোট শুধু সূক্ত সূরার বুনোট তবে হবেই ফের ভাগ টুকরো দেশ,আগে ধর্ম একটাই বাণী- যাক যেখানে যাক এখন তো সব ভাগ, শুধু ভাগ।      

দুচোখ জোড়া অন্ধ:: দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা: দুচোখ জোড়া অন্ধ:: দেবশ্রী মজুমদার যারা বিদ‍্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিলে তারা ছিল অন্ধ। তাই তাঁকে চেনা না চেনার প্রশ্নই ওঠে না!! যারা সুকান্তের মূর্তি ভাঙো তারাও জন্মান্ধ! তাই তাঁকেও চেনা বা না চেনা গবাদি হাটে বিক্রেতা খোঁজার মত! যে ক্রমাগত দড় কঞ্চি অগ্রে সুক্ষ লৌহ শলাকায় রক্তাক্ত করে সব অবিরত! সে যেই মূর্তি ভাঙো লেলিন কিম্বা কাস্ত্রো হাতে লাঠি, মাথায় ফেট্টি, হাতে শানিত অস্ত্র। সে যেই মূর্তি ভাঙো এপারে কিম্বা ওপারে সে গ্রীক কিম্বা বৌদ্ধ তোমরা তো আজ বীর নখ দন্ত লব্ধ। এখানে মুখ ও মুখোশ এক! তাই বীর সিংহের সিংহ শিশু দেখ, গড়ায় ভূতলে লুন্ঠিত! এবাংলায় মিছিল হয়, মিছিল হবে বিদ‍্যাসাগরের মূর্তি সেতো আজ কিম্বা কাল লাঞ্ছিত, প্রতিনিয়ত। মিটিং কিম্বা মিছিলে, যে ভাষা কপচাই! সে তো দেয়, নিজের পরিচয়- কোথায়, কবে সেই বর্ণ পরিচয়? স্কুল যেখানে বন্ধ সেখানে কী নয় অবরূদ্ধ? হে বিদ‍্যাসাগর করুনা করো জেনো, মূর্তি তোমার দলিত যখন প্রতিদিন তুমি লাঞ্ছিত!!!   

প্রাগৈতিহাসিক: দেবশ্রী মজুমদার

Image
মানববোমায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধায়::: কবিতা:প্রাগৈতিহাসিক: দেবশ্রী মজুমদার হে নারী! যদি তোমার হৃদয় এ হিরণ‍্যগর্ভ অন্ধকারময়! হে পুরুষ! যদি তোমার উষ্ণ শোণিত--- ভুলে যায় হিত অহিত! সে স্রোত বইতে থাকে অন‍্য খাতে- হে পুরুষপাঞ্জা! সে কোন অন‍্য রাতে! হে ধর্ম! যদি সংখ্যায় বড় তবে মানুষ!প্রাগৈতিহাসিকে ফেরো। যখন ছিল দীর্ঘ নখর, ছিল দীর্ঘ শ্মশ্রু তবুও ছিল না এত রক্ত, এত অশ্রু! হে ধর্ম ! তুমি জনবিন‍্যাসে বিশ্বাসী তুমিই বিশ্বে আগ্রাসী! বুকে পিঠে মাথায় যত বাণী ঘোরায় তোমার সেই কেল্লা ফতে চাই! শুধু সংখ্যা বাড়াও, সংখ্যা বড়াই! তাই ধর্ম আজ নয়ত বর্ম ধর্ম বিজয় কেতন!  ধর্ম শুধু রাজনীতি তাই ক‍্যাডার পোষ‍্য মর্ম। তাই ধর্ম আজ নয়ত বর্ম।। ধর্ম ছিল ধর্ম চেতন। ধর্ম কেন বিজয় কেতন? ধর্ম এখন বারুদ জমা মানব দেহ মানব বোমা। এ ধর্ম যদি জগৎ জুড়ে ধর্ম তবে দাও গো ছুঁড়ে! মানুষ থাকুক সারাৎসারে!! মানুষ থাকুক সারাৎসারে!!      

হুজুর রাগ করেনা ছি! – দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা: হুজুর রাগ করেনা ছি! – দেবশ্রী মজুমদার হুজুর, তোমার মত বুদ্ধি? কখখনো না নাইকো আমার ঘটে! হুজু্‌র,  তোমায় রঙিন সেলাম প্রেম দিবসে, গোলাপ খুঁটে খুঁটে! তোমার মত বুদ্ধি যদি,  থাকত আমার ঘটে! কি আর করা! মাথা তো নয়,  নিরেট ! আধলা ইঁটে জোরসে ঠুকে ঠুকে,   বুঝিনি তো সে ফাঁকাই ছিল এক্কেবারে নিরেট! যা ঘটেছে, তার আগে পিছে হরেক কিসিম রিবেট! কার বাপের সাধ্যি বোঝে! তবে বুঝলো শেষে সেনা মরে নি, ভোট এসেছে, লাশগুলো সব মিছে!  গোমুত খেয়ে বুদ্ধি এমন! ধমক দিল কত্তা তখন- আমতা কন,  কত্তা হুজুর! বিদ্যে কোথা অত বোঝার! দেশের পোলা মরলে পরে এমন ঠ্যালা সোজার!       

আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার

Image
আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার বড়শাল। কোনভাবেই আজ আর তাকে প্রত্যন্ত গ্রাম বলা যায় না। এখন শহরের হাওয়া লেগেছে রামপুরহাট তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদের দৌলতে। তাই এখানে সেই পুরানো ঘ্রাণ আর পাওয়া যাবে না। অনেক আগে উত্তমকুমার অভিনীত সূর্য্যসাক্ষী সিনেমার একটি জায়গায় অজ পাড়া গাঁর এক দৃশ্যে মোনারপুকুর পাড়ের চলমান ছবি দেখেছি। খুব আনন্দ হয়েছে। আগে ধুলো উড়িয়ে চিত্রা, শ্যামা বাসগুলো রামপুরহাট তারাপীঠ রুটে চলত। এই গ্রাম বড়শাল। এই গ্রামকে ভাগ্নেদের গ্রাম বলা হয়। আদি বাসিন্দা বলতে গ্রামের জমিদাররা। তারপর আস্তে আস্তে খুদ্র জনপদ, বৃহৎ জনপদে পরিণত হল। গ্রামের ইতিহাস লিখতে শুরু করেছিলেন গ্রামের বাসিন্দা সুধাকিংকর মুখোপাধ্যায়। তিনি কোন কালে গত হয়েছেন। বুৎপত্তিগত হিসেবে গ্রামের নামের উৎস পাওয়া আজ মুশকিল। তবে শোনা গেছে, এই গ্রামে নাকি বড় বড় আখের শাল বসত। চলতো আখের গুড় তৈরির কাজ। আবার কেউ বলেন, বড় বড় শাল গাছ ছিল। সেই থেকেই বড়শাল। নাম যাই হোক, এই গ্রামের একটা সাংস্কৃতিক ইতিহাস আছে। বিশেষত নাটক,যাত্রা,থিয়েটার নিয়ে। প্রাচীনকালে প্রায় প্রতিটি গ্রাম না হলেও, অনেক গ্রাম এই সম্পদ ন...