নখের ডগায় হিন্দুত্ব দেব ঋষি 06/04/26

নখের ডগায় হিন্দুত্ব রেখে পট্ করে একটা শব্দ তোলার চেষ্টা অনেক দিনের। দরজা তার জন্য বন্ধ। মুখুজ্জের কথা মনে পড়লো কী? নখের ডগায় যাদের মারা হয়, সেই হিন্দুত্ব নিয়ে বললে তুমি অশিক্ষিত। প্রশ্ন উঠবে, নিশ্চয়ই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাও নি। সে যোগ্যতা নেই। সেই যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই বিধান সভায় যাওয়ার এক আকর্ষণ বটে। তবে বাকিরা সব অশিক্ষিত। বামপন্থা, কবিতা, আর বাঙালির ছাত্র জীবনে যৌবনের প্রেম আসে নি, এমন ঘটনা বিরল। তাই তাকে নিয়ে নাহক বলা যায় না। সব কিছুতেই বামপন্থীদের উন্নাসিকতা থাকবেই। হিন্দুত্ববাদ মানেই তাদের কাছে অশিক্ষা, কুসংস্কার, গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা, গোবর ও গোমূত্র। তারা সবাই 'দাস ক্যাপিটাল' পড়েছেন। আমিও পড়েছি। শ্রেণী হীন, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার এক দর্শন। ভালো লেগেছে। আন্দোলন তাদের রন্ধ্রে। তেভাগা থেকে বর্গা কত শত গণ আন্দোলন মানুষের জন্য সাধিত হয়েছে। তবুও ৩৪ বছর রাজত্বের পর সাংগঠনিক অতিকায়ত্ব ছাড়া সত্যি অমৃত কুম্ভের সন্ধান দিতে পেরেছি কি, কমরেড? এখন তরুণ তরুণী গীটার বাজিয়ে গান করে সেই সুরাসন্ধান কতটা সার্থক হবে, দেখা যাবে। যে দলের জন্ম একটা আদর্শ থেকে, সে অন্য বিপরীত আদর্শকে সহ্য করবে না, এটা স্বাভাবিক। ভগবান, না করুন, পুরো বাংলাদেশে হিন্দুদের মতো অবস্থা এখানে যেন না হয়। হলে, ওখানে বামপন্থীদের যা ভূমিকা, এখানেও তাই হবে। অন্ন চাই, চাকরি চাই, কাজ চাই। তবে মুক্ত বায়ু চাই। চাই, ঘরের কোনে একটি দেব ঘর। এটা বামপন্থীদের না হলেও চলবে। আমাদের চাই। এই চাওয়াটা কতটা, বামপন্থীরা জিজ্ঞেস করুন মুসলিমদের। যদি এই চাওয়া ভুল হয়, তাদের এই চাওয়া সমর্থন না করে প্রতিবাদ করুন।। পারবেন না। ওদের দ্বিচারিতা মজ্জায় মজ্জায়।ঔরঙ্গজেব এতো ক্ষতি হিন্দুদের করেন নি, যা এই বামপন্থা ও কংগ্রেস করেছে। আজ যখন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচাৰ্যকে বলতে শুনি, রাম মাংস খেতেন। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় সবাই গোমাংস খেতেন। সেটা কী 'ন হন্যতে'র মৈত্রেয়ী দেবীর যুক্তির সুরে বলতে চেয়েছেন, হাতির মাংস খেলে অধিক ভালো। কারণ একটা প্রাণী হত্যায়, অনেকের খাওয়া হয়?না , তা নয়। তার যদি ভট্টাচাৰ্য পদবী না থাকতো, বা সেলেব না হতেন, তিনি গোমাংস খেতেন না। ব্যক্তিগত রুচি আলোকিত করার উদ্দেশ্য একটাই, হিন্দুত্ববোধকে আঘাত। প্রকাশ্যে সেই বিষয়ে আলোচনাও একটি কারনেই। শুয়োরের মাংস যে তিনি খেতে পারবেন না, তা নয়। গোপনে খেলেও সেটা প্রকাশ্যে আনতে পারবেন না। কারণ তার টার্গেট হিন্দুত্ববাদ। অনেক সময় ইচ্ছে করে দ্বিচারিতা প্রদর্শন, বামপন্থার অন্যতম বৈশিষ্ট। বামপন্থীদের রেফারেন্স পুস্তকের বাইরে সমস্ত কিছুই হোয়াটস এ্যাপ ইউনিভার্সিটি। ঋষি অরবিন্দ - র বেদরহস্যের পূর্বার্ধ, উত্তরার্ধ তারা মানবেন না। বেদ উপনিষদের অনেক জায়গাই পশুহত্যা নিষেধ করা আছে। সেটাও মানবেন না। এই ধারণা ফলপ্রসূ করতে তাদের দোসর আরেকটা সমাজতান্ত্রিক ডানপন্থী দল যারা স্বাধীনতার পর থেকেই সে কাজে সিদ্ধ হস্ত ছিলেন। রমেশ চন্দ্র মজুমদার ও পণ্ডিত জওহর লাল নেহেরুর দ্বৈরথ সবার জানা। যখন মুসলিম লীগ পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে নি, তখন শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সোহরাওয়ার্দী সরকার সমর্থন নিয়ে একটা ককটেল তাদের মুখে মুখে। কিভাবে বঙ্গ বিভাজন তিনি চেয়েছিলেন সেটারও সমালোচনা তাদের মুখে মুখে। কিন্তু একবারও বলবে না, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হয় নি কাদের জন্য? কোলকাতা ওদের লোভের কেন্দ্র। বলবেন না পাকিস্তান সৃষ্টিতে তাদের মদত ছিল। এই দ্বিচারিতা তাদের আছে, থাকবে। চাকরি, রুজি, রোজগার, মজদুর, শ্রমিক, জমি, জঙ্গল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সবগুলো মানুষের মৌলিক চাহিদা। ইস্তাহারে না বললেও, এই গুলো সমস্ত সরকারকে করতে হবে। না করলে মানুষ আন্দোলন করবেই। এই আন্দোলনেও আজ বামফ্রন্টের আসা প্রায় অসম্ভব। তাদের ভালোও ছিল, মন্দও ছিল বিস্তর। দুর্নীতিও ছিলো। বর্তমানে আরও বেশি। তারা ভাবছে, মানুষ হয়তো মন্দের ভালো বাছবে। না। আজও তাদের সময়ে সুবিধাভোগী বেশ কিছু তাদের ঢাক পেটাতে ব্যস্ত। ভাবটা যেন সেই সময় কোন অন্যায় ছিলো না। ছিলো এক সুবর্ণ যুগ! কথাটা হচ্ছিলো হিন্দুত্ব বাদকে নখের ডগায় টিপে মারা। এখনকার প্রজন্ম কি উদ্বাস্তু হওয়ার দু:খ যন্ত্রনার কাহিনীর গ্লোরিফিকেশন করে ঋত্বিক ঘটকের চোখে দেখবেন? না বেঙ্গল ফাইলসের অগ্নি হোত্রির চোখে দেখবেন? বাঙালি হিন্দু হলোকষ্ট মিউজিয়াম বিদেশের মাটিতে হচ্ছে। একে অস্বীকার করার উপায় নেই। কার উস্কানিতে, কার অন্যায়ে এই ধরণের কুৎসিত কাজ হয়, হচ্ছে, বাম সহ অনেক দল বলতে সাহস পাবে না। কারণ তাদের জন্ম দ্বিচারিতার সূতিকাগারে। আজকে সমাজ মাধ্যমে নাজিয়া ইলাহি নামে একজন মুসলিম মহিলাকে বলতে দেখলাম হিন্দুদের মধ্যে কোন ঐক্য নেই। একদম ঠিক। শিক্ষিত হিন্দু ভাবেন, তিনি অন্যের থেকে বেশি বোঝেন। ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা একমাত্র তার দায় এবং সেটা বাকি হিন্দুদের নিতে হবে। কিন্তু এখন সেটা আর হচ্ছে না। তাই বাকি হিন্দুরা তাদের কাছে অশিক্ষিত এবং এমনকি ঘৃণার পাত্র। সাম্প্রতিক ঘটনা বাকিদের চোখ খুলে দিয়েছে। দু'তিনটে সহজ বোধ্য ঘটনা বলি। একজনকে পিছন থেকে রং সাইডে একটি লোহার রড বহনকারী মটোর ভ্যান চালক ধাক্কা মারলো। মৃত্যুর মুখ থেকে তিনি বাঁচলেন। আওয়াজ শুনে, দুই জন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে যখন দেখলেন ওই ভ্যান চালক অন্য সম্প্রদায়ের, সেই শিক্ষিত এবং আরেকজন অশিক্ষিত (বলতে স্কুল শিক্ষা না থাকার কথা বলা হয়েছে) লোক কোন রা না কেড়ে চলে গেলেন। আরেকজন টোটো চালক এলেন ভ্যান চালকের পাশে দাঁড়াতে। যে কথা বলা হল, তার তারিফ না করে পারা যায় না। দৈনিক গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা তার আয়। অবশ্যই পরিশ্রম করে। তারা সবাই অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনায় বস্তা বস্তা চাল পান। বিক্রি করে ভালো আয় হয়। বাঙালি নিম্ন মধ্যবিত্ত / মধ্যবিত্ত হিন্দু এখনও নিজেদের একতার কথা ভাবতে পারে না, সাম্প্রদায়িক তকমার ভয় করে। কে একজন তাকে আদর করে ইলিশ মাছ খাইয়েছে, সেটা মনে রাখে। তাহলে মমতা সরকারের ভাতা কেন যুগ যুগ জিও হবে না? শিক্ষিত প্রতিষ্ঠিত বাঙালি সংসারে, সংসারের বাইরে সমঝোতা করতে শিখে শিখে আজ পরাজয় তাদের মজ্জায়। ফটোকপির দোকানে কাদের লাইন বেশি? যাদের শিক্ষিত মডারেটরা বলে থাকেন, হিন্দু বিপদে নেই, মুসলিম বিপদে নেই, মানুষ বিপদে আছে। কেন্দ্রীয় ইউ জি সি আইন বিরোধিতায় এই মিলিত মানুষ কিন্তু বিপদে পড়ে নি। শুধু যারা পড়েছে তারা বোধহয় মানুষ নয়। প্রকল্প আদায়ে কাদের লাইন বেশি? কোন অধিকারের প্রশ্নে সে ভুল ঠিক যাইহোক, কারা ঐক্যবদ্ধ? শুধু ধর্মে নয়, সমস্ত ক্ষেত্রে শিক্ষিত অশিক্ষিত ধনী দরিদ্র এক জায়গাই। তবেই আজ তারা একটা কণ্ঠস্বর। তাদের কোন দলের প্রয়োজন নেই। সব দল তাদের পিছনে ছোটে। এইটা পৃথিবীর কোথাও এমনভাবে অন্য কাউকে দেখা যাবে না। আমাদের গ্রামে একদিন যারা জমিদার ছিলেন। তারা মাত্র দুই ঘর ভিন সম্প্রদায়ের মানুষ বসিয়েছিলেন, ঘরামি হিসেবে । কালের নিয়মে আজ তারা বিশাল সংখ্যায়। তাদের নাম তালিকায় আছে। যাদের আঁটকেছে বাকিদের নাম ট্রাইবুনালে উঠবে। সেই জমিদারের পরিবারের একজনের নাম বাদ। আবেদন করেন নি। কোরবেন না। বক্তব্য একটাই। ভোট যাদের দরকার তারাই করুন। আমি লাইনে দাঁড়াব না। আরেক জন হিন্দু পরিবার ( হিন্দু বলতে সনাতনী বোঝানো হয়েছে) যাদের আমি চিনি, তারা নির্বাচনের সময় হলিডে ট্যুরে যাচ্ছেন। এই হিন্দু এক সময় মাইরি মাইরি করে পরের অনুকম্পায় টিকে থাকতে চাইবে না তো কে চাইবে?

Comments

Popular

বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই:---দেবশ্রী মজুমদার

দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার

আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার