গেরুয়া রঙ পায়ের তলে, রক্তকরবী মঞ্চের সামনে দেবশ্রী মজুমদার
গেরুয়া রঙের অপমান প্রসঙ্গে সম্প্রতি সমালোচনায় মুখর হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রসাশনিক বৈঠকের সামনের চলাচলের রাস্তায় পাতা হয়েছে গেরুয়া রঙের ম্যাট বা ফরাস। তার উপর দিয়ে জুতো পায়ে চলাচল করছেন সবাই।
শুভেন্দু অধিকারী কী বলেছিলেন? একটু দেখে নেওয়া যাক,
যাদবপুর কাণ্ডে এক সংবাদপত্রের একটি প্রতিবেদনে‘ গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধ ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তিনি বলেন, "দম থাকলে লিখুন বিজেপির তাণ্ডব, শুভেন্দু বাহিনীর তাণ্ডব"। "কিন্তু পুরো গেরুয়া রং বা সম্প্রদায়কে জড়িয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, গেরুয়া রং স্বামী বিবেকানন্দ, প্রভু শ্রীচৈতন্যদেব এবং স্বামী প্রণবানন্দের ত্যাগের প্রতীক ও শৌর্য। এটি কোনো তাণ্ডবের প্রতীক হতে পারে না।" কথাগুলো সভামঞ্চের সামনে আসীন গেরুয়া বস্ত্র পরিহিত সাধু সন্ন্যাসীদের সামনেই তিনি বলেছিলেন।
কিন্তু রামপুরহাটে প্রশাসনিক বৈঠকের জন্য রক্তকরবী মঞ্চের সামনের চত্বর সাদা ও গেরুয়া রঙে ঢেকে দেওয়া হয়। আর মেঝে ঢেকে দেওয়া হয় গেরুয়া ফরাসে। যার উপর দিয়ে জুতো পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন সবাই।
সনাতনী শাস্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে, মুখ্যমন্ত্রী সেদিন যা বলেন, তা অবশ্যই অকাট্য ছিলো। কুণ্ডিকোপনিষদের সন্ন্যাস-বিধিতে কাষায় বা গেরুয়া বস্ত্রের সরাসরি উল্লেখ আছে। অর্থাৎ কাষায়বস্ত্র ও বৈরাগ্য-ধ্যানময় জীবন পাশাপাশি সহবস্থান আছে। "কাষায়বাসাঃ সততং ধ্যানযোগপরায়ণঃ।" অর্থাৎ “যিনি কাষায় বা গেরুয়া বস্ত্র পরিধান করেন এবং সর্বদা ধ্যানযোগে একনিষ্ঠভাবে নিবিষ্ট থাকেন।”
এখন দেখার বিষয়টি নজরে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি কেমনভাবে দেখেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Gadget
শিব দেব ঋষি
মস্তিষ্ক শিখরে স্থির আছে অজেয় ধীর সহস্র পাপড়ি যার অটল শিব। কৈলাস মস্তিস্কে নীড় নিষ্কম্প সুগভীর নিরাকার নির্বিকার পশুপতি জীব। পুত ...
Popular
-
বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই: দেবশ্রী মজুমদার ‘বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই, যাচ্ছে ফাটি বুকের ছাতি তোমার শোকে ভাই’। ব...
-
রম্যরচনা: দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার এখন আর সেই দুটি গ্রাম না থাকলেও, আই ডোন্ট নোউ, কেউ বলে না। তবে পাড়ায়...
-
আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার বড়শাল। কোনভাবেই আজ আর তাকে প্রত্যন্ত গ্রাম বলা যায় না। এখন শহরের হাওয়া লেগ...


No comments:
Post a Comment