Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Gadget
Popular
-
বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই: দেবশ্রী মজুমদার ‘বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই, যাচ্ছে ফাটি বুকের ছাতি তোমার শোকে ভাই’। ব...
-
রম্যরচনা: দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার এখন আর সেই দুটি গ্রাম না থাকলেও, আই ডোন্ট নোউ, কেউ বলে না। তবে পাড়ায়...
-
আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার বড়শাল। কোনভাবেই আজ আর তাকে প্রত্যন্ত গ্রাম বলা যায় না। এখন শহরের হাওয়া লেগ...
রম্যরচনা:
দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার
এখন আর সেই দুটি গ্রাম না থাকলেও, আই ডোন্ট নোউ, কেউ বলে না। তবে পাড়ায় পাড়ায় লড়াই আছে। আছে থিমের লড়াই। দুগগা পুজোয় তার বাড় বাড়ন্ত! পুজোর কর্ম কর্তারা সদা ব্যস্ত যেন থিম কোন ভাবেই বাইরে বেরিয়ে না যায়। ন’পাড়ার দুগগা পুজোর থিম- দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি! একজন পরামর্শ দিতে গিয়ে বলল, লুচির আগে ‘ফুলকো’ যোগ করলে হয় না? পুজো কমিটির সেক্রেটারি কেলোদা বলে উঠল, না, তা হবে না! ৪০৭ মিনি ট্রাকের পেছনে “লুচির” আগে “ফুলকো” লেখা ছিল না!! তার মানে? মানেটা জানা গেল অন্তর্তদন্তের পর! রোড কালেকশনের সময় কমিটির বিশ্বস্ত সৈনিকদের নির্দেশ ছিল, চাঁদা তোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে ৪০৭ গাড়ির পিছনে, কি লেখা আছে তা দেখার। চট পট তা লিখে ফেলতে হবে গোপনে, বিল বইয়ের পিছনে। কারন শত্রুর অভাব নেই। অনেক লেখাই নোট করেছিল তারা। তার মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছে – এই থিম-দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি! কিন্তু বেনে পাড়ার পুজো কমিটির মাথায় এই বুদ্ধি এলো কি করে? কেমনে ওরা পেরেছে সেটা জানতে? –দেশলাই কাঠির মত ফস করে জ্বলে বলে উঠল নেতাই, আমাদের মধ্যে কেউ ওদিকেও সিংকিং সিংকিং মানে ঢুকু ঢুকু করে। সবাই একবাক্যে সমর্থন করল। ওদিকে বেনেপাড়ার বুধুর হাতে যখন লিস্টি এল, সে বলল, একটাও ভালো না। এদের মগজে ঘিলু নেই। ব্যাটা আস্ত নিরেট। সাহস করে ন্যাদা বলল, কত থিম দিয়েছি— ‘৮০ বন্ধু আবার দেখা হবে’, ‘দেখলে হবে খরচা আছে’, ‘হিংসা করো না,তুমিও চেষ্টা করো’। বুধো রেগে বলল, এই এগুলো পুজোর থিম হয়? ৮০ বন্ধু? পুজোর আগেই আসি? লোকের মটকা গরম করার জন্য বলবো, ‘দেখলে হবে , খরচা আছে’? আর হিংসা করো না,তুমিও চেষ্টা করো’ – ওটা তো অনেকটা ‘ ওদের থিম—‘দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি’র মত। ভালো করে ওই মিনিট্রাকের পিছনে লেখাগুলো দেখ। এখনও সময় আছে। বস, গুনে গুনে একশ’টা মিনি ট্রাক দেখেছি, আবার?—হ্যাঁ- তাই, যাও, দূর হও এখান থেকে—বলে দাঁত মুখ খিচিঁয়ে উঠলো বুধো। আসলে পাড়ার প্রেস্টিজ, কে হ্যাম্পার করতে চাই! দেখবি আর জ্বলবি তো, লুচির মত ফুলবি—তো তাদের ইঙ্গিত করে বানানো থিম!! সেটা জানতে কারো বাকি নেই।।
পিচবোর্ডের সাহায্যে লুচির মত করে মণ্ডপের উপরটা সাজানো হয়েছে শ্রীশ্রী ন’পাড়া পুজো কমিটির মণ্ডপ। আর মণ্ডপের নিচের অংশটি অনেকটা উনুনের মত। লাইট ও সাউন্ডে মনে হচ্ছে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে।। কিন্তু আগুন তো জ্বলছে অন্যখানে। বেনে পাড়ার বুধো এন্ড কোংদের মনে!!! তাই খুশির অন্ত নেই ন’পাড়ার মনে। অবশ্য বেনে পাড়াও দিয়েছে মোক্ষম চাল। তাদের থিম—‘অতি বাড় বেড়ো না, ঝড়ে ঝরে যাবে’। অর্থ যাই দাঁড়াক, ভুল যা হবে হোক, ‘ভেঙে ’ বাদ দিয়ে ‘ঝরে’ যোগ করে নতুনত্ব এনেছে থিমে। গাছপালা, আর ঝড়ের থিম বেড়ে হয়েছে ‘লাইট এন্ড সাউন্ড ইফেক্টে’।। দুই কমিটি পুজোর অনুষ্ঠান আপলোড করছে ফেস বুক পেজে। একদিকে কেলো আর অন্যদিকে বুধো ফরমান জারি করেছে—নো লাইক!! আত্মীয় স্বজনদের বলে দেওয়া হয়েছে একই কথা!! নবমীর সকালে বুধোর মটকা গরম, মণ্ডপের সামনে একজনকে ওয়ার্নিং দিয়ে বলছে, মানে বোঝ না? ‘দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি’র ? সেই নির্জীবজন মিন মিনে গলায় বলছে, আমি তো লাইক দিই নি। আমার ফুলদি লাইক দিয়ে কমেন্ট করে লিখেছে, পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দারুণ হয়েছে। আমি কি করব? বুধো দ্বিগুন গলার আওয়াজ বাড়িয়ে বলে উঠল, এখুনি বল-লাইক তুলে নিতে। আর মেসেঞ্জারে আত্মীয়দের বল, কেউ যেন ন’পাড়ার কোন অনুষ্ঠানে ‘লাইক’ বা ‘কমেন্ট’ না দেয়। শ্রীমান ফের আরেকটা ভুল করে ফেলল। বলল, আমি যেখানে নেই, সেখানে আমার কোন আত্মীয় অনুষ্ঠান ভালো লাগলেও ‘ লাইক’ দেবে না। কেবল, ফুল দি’ই যা ভুল করল।।---এ্যাঁ, অনুষ্ঠান ভালো হয়েছে? এত বড় আস্পর্ধা! ওরে ওকে এখান থেকে সরা। আমার মাথায় রক্ত উঠে গেছে!! কেউ একজন ফিস ফাস করে বলল, জব্বর থিম দিয়েছে—ন’পাড়া—দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি—হিঁ হিঁ, যাই বাড়িতে লুচি আর মটরের ঘুগনি খাইগে। আজ বোধ হয়, ফুলকো লুচি মুখে দেবে না বুধোদা! এই চুপ! চুপ! তারপর যে যেখানে যাওয়ার চলে গেল!! আগুন যা লাগার লেগেই গ্যাছে। যা ফোলার ফুলেই গ্যাছে।। এখন মারামারিতে কারো কপাল ফলা বাকি!!
No comments:
Post a Comment