আসল বেইমান বনাম নকল বেইমান : খানদানি জি আই ট্যাগ কার? দেবশ্রী মজুমদার

আসল বনাম নকল লড়াই আছেই। তার জন্যে কেউ ঠকে, কেউ জেতে। কিন্তু বেইমানিতে কে আসল, এমন চ্যালেঞ্জ কদাচিৎ ঘটে। পাড়ার “মীরা বৌদি”-রা সাধারণত এরকমটি করে থাকেন। লীলা মজুমদারের চোর গল্পে চোরের নাম নেই। এখানে বেইমানেরও নাম নেই। সম্প্রতি বিধান সভার প্রেস কর্ণারে সাংবাদিক বৈঠক করে এই খানদানি বেইমানির জিআই ট্যাগ নিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রদর্শনী হলো। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বলেন, ‘ এক কোম্পানির সদ্য অভিষিক্ত ম্যিনেজিং ডিরেক্টর তথা প্রাক্তন সাংসদ নাকি দশ হাজার টাকা চাঁদা দিতেন। কিন্তু হাজার হাজার কোটির দুর্নীতি নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, সব খরচের পরে আরও ৩০ কোটি ছিল। এক জনের কাছে রাখা হয়েছিল কোথাও বিনিয়োগ করার জন্য। এই চিঠি দল তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর তখন থেকেই সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল। দলের সাংসদ সেই সময়ে কি বেইমানি করেছিলেন?’ প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেওয়া হলো কোন এক কর্ণারে। সেটি খপাৎ করে ধরে নিলেন সেই কোন এক প্রাক্তন সাংসদ। যিনি অবলীলায় বলে ফেললেন, আমার ধারণা দিদির ওই চিঠি পড়ে মুখস্থ হয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেন, তিনি প্রথম হুইসেল ব্লোয়ার। মুখে না বললেও, অভিব্যক্তি হলো, তিনি বেইমান নন। দলের দুর্দিনে পাশে আছেন এবং সমানে দলকে ডিফেণ্ড করে যাচ্ছেন। দলকে মাসিক চাঁদা দিয়ে গেছেন। ঋতব্রত কোন ভাবেই সেই আসল বেইমানের নাম মুখে আনলেন না।তবে আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন অনেকটাই। তাঁকে নাকি সেই উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি একবার কুইজ মাস্টার বলেছিলেন। যাইহোক, অনেকটা কুইজ মাস্টারের মতোই, বেশ কিছু হিন্টস দিলেন, সকলের সুবিধার্থে। এর পরেও, যদি কোন নিন্দুক বলেন, আমি মুখ্খু সুখ্খু মানুষ, নামটা খোলসা করে বলুন না? তাহলে দাদা, আপনি এই লাইনের-ই লোক না। বলা হলো, তৃণমূলের প্রাক্তন এক সাংসদ প্রায় এক দশক আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিবিআই ডিরেক্টরকে ৯১ পাতার চিঠি লিখে জোড়াফুল দলকে তুলে দেওয়ার সলতে পাকানোর কাজ শুরু করেছিলেন। দু'দিন ধরে সেই চিঠি পড়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যেন প্রশংসা করে বললেন, সামান্য দুই একটা জায়গায় কাটাকুটি। তার পড়তে কোনো অসুবিধা হয় নি। বিরোধী দলনেতা তিনি। তাই খুব দায়িত্বের সাথে বলেন, ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চিটফান্ডের টাকায় চলেন। চিট ফাণ্ডের সব থেকে বেনিফেশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, মোবাইলের স্টোরেজ থেকে সেই ঐতিহাসিক চিঠির সাবহেড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা অংশ বিশেষ কোট আনকোট পাঠ করলেন। যেটি বন্দি কালে লেখা হয়েছিলো এবং যার প্রতিলিপি কোনো সখা, কোন সাংবাদিকের কাছে শেষ বয়ান হিসেবে পাঠানো হয়েছিলো। সেই চিঠিতে, অমুক ব্যক্তি, তমুক ব্যক্তিকে চিটফান্ড উদবৃত্ত ৩০কোটি টাকা অন্যকোনো জায়গায় লগ্নি করতে বলেছিলো। অমুক ব্যক্তির নামটা ঋতব্রত উহ্য রাখেন। তবে মি. সেন নামটাও একবার বলেন। এরপর হেসে হেসে বলেন, এই চিঠি যদি ওই প্রাক্তন সাংসদ দিদিকে না দেখান বা পাশে বসে কোনো কোনো কাটাকুটির জায়গায় পড়তে সাহায্য না করেন, তাহলে ১৫ দিন পর, সেই চিঠি ক্যুরিয়ার করে থ্রি বি হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে পাঠিয়ে দেবেন। তারপর সমস্ত সংবাদ মাধ্যমকে সরবরাহ করে দেবেন। অর্থাৎ পাবলিক করে দেবেন। এসব শুনে মনে হয়েছিলো, বাছাধন। ঘুঘু দেখেছো, ফাঁদ দেখো নি। এই জন্যই বলে, শতং বদ, মা লিখ। যদিও প্রাক্তন সাংসদ বা ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাত্তা দিলেন না। অর্থাৎ তির নিক্ষেপ হলো। কিন্তু অর্জুন সিংয়ের " শকুনির" গায়ে লাগলো না। অর্থাৎ হিট হলো না। এ তো আর ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি ফাঁস নয়। অন ক্যামেরায় এসব কথা মানুষ আগেই শুনেছে। তাই যে কেলেঙ্কারির জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ আগস্ট Richard Nixon রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, তা হবে না। তেনার ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ খায় কে? তবে ঋতব্রতদের এই ফ্রন্টাল এ্যাটাকে নামহীন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নিশ্চয়ই ব্লোব্যাকে যাবেন না। তবে, রাগ তো হবেই। সায়নীকে বেইমান শুনতে হয়েছে। শতাব্দী রায়, নিজের এলাকায় এসে দিদির সাথে আছেন, বলেছেন। আবার এন সিপি আইয়ের কথা মুখে একবার বলেছেন। তবে, সেই দল মাথায় দেয় না কোথায় দেয়, কেউ জানে না। সবার ভয় 'ডিম' ও 'বেইমান' শব্দকে। তাই তো ঋতব্রত নাম না করে বলছেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর-ই, আসল বেইমান। আর তাঁর ম্যানেজিং ডিরেক্টর? তিনিও বলছেন, কোন প্রতীকে জিতেছেন? কার দেওয়া প্রতীকে জিতেছেন? নিজের এলাকায় মানুষের কাছে যান না? শুধু মুখে বলেন নি, ভাতারের ভাত খায়, নাঙ্গের গুণ গায়।।

Comments

Popular

বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই:---দেবশ্রী মজুমদার

দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার

আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার