গঙ্গাজল হাতে ‘কমিশন ভাগের শপথ’! উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর পুরনিগমের কাউন্সিলরদের ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সমাজমাধ্যম রীতিমতো তোলপাড়। "দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে—এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে॥"
‘নিগমের যা আয়, ৬০ জনে সমান ভাগ’—দাবি ভাইরাল ফুটেজে; বিপদে পড়লে একজোট থাকার শপথও।
শাহজাহানপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে মোট ৬০ জন নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং ১০ জন মনোনীত সদস্য রয়েছেন। ভাইরাল ফুটেজ ২০২৫ সালের পুরোনো বলে দাবি উঠেছে।
বিতর্কের মধ্যেই শাহজাহানপুরের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার সৌম্যা গুরুরানি জানিয়েছেন, ভিডিওটি সম্ভবত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে একটি ব্যক্তিগত জায়গায় ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি নয়; পুরনো ভিডিওই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই সময়ে অন্য একজন মিউনিসিপ্যাল কমিশনার দায়িত্বে ছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পুর প্রশাসন।
তদন্ত হোক। কিন্তু আমার বলার জায়গা এক আত্মতুষ্টি থেকে। ভারতবর্ষ তার প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারা এখনও ধরে রেখেছে। এটা গর্বের। দুর্নীতি কোথায় নেই? কোন সরকারি আমলে নেই? আছেই তো! হাতে তুলসী, তামা ও গঙ্গাজল নিয়ে (এই তিনটি একসাথে থাকলে শালগ্রাম শিলার সমান বলা হয়।) দুর্নীতি মরে গেছে বললে বিশ্বাস করবো না। তবে, হাতে পুত পবিত্র গঙ্গা জল নিয়ে কমিশন ভাগ বা দুর্নীতির নীতিবান শপথ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে নেই। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব সভায় দিদিমণি থেকে দোলাদি সবার কণ্ঠে কমিশনের পার্সেন্টেজের পক্ষে সওয়াল করতে সবাই শুনেছেন। কিন্তু এমন করে পদ্ধতি মেনে শপথ নেওয়া হয় নি। কংগ্রেস থেকে সপা, আম আদমি সব দলেই দুর্নীতি বা স্ক্যামে এমন শপথ নিতে দেখিনি। একজন তো আমাকে বললেন, আপনি শপথ করে দুর্নীতি নিয়ে বলছেন, সংবিধানের শপথ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হয়েই তো দুর্নীতি করেন কেউ কেউ। আমি বলি আলবৎ তাই হয়। কিন্তু এত মর্যাদা সহকারে, ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতি মেনে হয় না। যাই হোক, একটা পরম্পরা বজায় থাকবে না? বলেন কী!
আমাদের শাস্ত্র কী বলে? --
শপথ নিতেই হবে।
মনুস্মৃতি (৮.১১০) বলে,
মহর্ষিভিশ্চ দেবৈশ্চ কার্যার্থং শপথাঃ কৃতাঃ। বশিষ্ঠশ্চাপি শপথং শেপে পৈজবনে নৃপে॥
যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়-
মহর্ষি ও দেবতারাও কার্যসিদ্ধির প্রয়োজনে শপথ করেছেন। ঋষি বশিষ্ঠও পৈজবন রাজার কাছে শপথ করেছিলেন।
মূল বক্তব্য হলো শাহজাহান পুরের শপথকে প্রাচীন ধর্মীয় ও বিচারিক ঐতিহ্যের স্বীকৃত পরম্পরা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এর ফলে ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়ে দেশোদ্ধার করা নয়, গঙ্গার জল স্পর্শ সহ শপথের মাধ্যমে যদি সেই কার্য সিদ্ধ হয়, শপথকারীদের পিতৃও মাতৃকুল উভয় কুলের উদ্ধার সম্ভবপর। মহাভারতের অনুশাসন পর্বে তাই তো বলা আছে।
"ধারয়ন্ গঙ্গাং স্পৃষ্ট্বা চ স্নাত্বা চ সলিলে নরঃ।
তারয়েত্ পিতৃন্ সপ্ত সপ্ত চৈব পরান্ নরান্॥"
বাংলায় যার অর্থ হলো-
যে ব্যক্তি গঙ্গাকে ধারণ করে, তাঁকে স্পর্শ করে এবং তাঁর জলে স্নান করে, সে নিজের সাত পুরুষ পূর্বপুরুষ এবং সাত পুরুষ উত্তরপুরুষকেও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। দেখুন এই প্রতিবেদন যারা ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতির ধারক বা বাহক নন, তাদের জন্য নয়। আমি এমন ধারার এক সহকর্মীর কাছে শুনেছি। তার মাতুল পরলোক গমন করায় তাঁর বাড়িতে মায়ের চাপে অশৌচ ব্রত রাখতে এক প্রকার বাধ্য হয়েছিলেন। কর্মসূত্রে তাঁকে বাড়ির বাইরে আহার গ্রহণ করতে হতো। হোটেলে গিয়ে তিনি অর্ডার করেন, আমাকে তেল, রসুন, পেঁয়াজ ছাড়া নিরামিষ মাংস দেবেন। এটাও একটা সংস্কার। ক'জন রাখতে পারেন!


No comments:
Post a Comment