আইনের ফাঁস এড়াতে দল পরিবর্তন, "মূর্খের স্বর্গ বাস", সুকান্তর বরাভৈ দেবশ্রী মজুমদার

সম্প্রতি আর জি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত অধুনা লটারি কাণ্ডে জেল যাত্রার আশঙ্কা থেকে ঋতব্রত তৃণমূল বৈঠকে হাজির হন। সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে ভাবছেন বেঁচে যাবেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। হয়তো সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন। আমরা সবাই জানি, সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে নরক বাস। বর্তমান সরকারের আমলে মূর্খের স্বর্গ বাসের প্রকৃত রূপ কী হবে জানা নেই। সৎ ও অসৎ বিষয়টি বেশ গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। তবে নির্মলদের মতো এই মূর্খ -চতুরদের ক্ষেত্রে পৃথক ফল স্বাভাবিক কিনা, আজ হোক,বা কাল হোক, ক্রমশ প্রকাশ্য। যদিও সুকান্ত মজুমদারের বরাভৈকে বিশ্বাস করতেই হবে। কারণ এই সরকার মাত্র কয়েক মাস এসেছে। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অভয়ার মা প্রথম থেকেই সরব ছিলেন। পূর্বতন মমতা সরকার অভয়া কাণ্ডে আসল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থায় নেয় নি। এমনকি তার ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে দলীয় প্রার্থী করে দেয়। তাই অভয়ার বিচার চাইতে মা রত্না দেবনাথ মানুষের আশীর্বাদ চান এবং তা পেয়ে আজকে পানিহাটির বিধায়িকা। বিধান সভার প্রথম দিনে অভয়ার কথা বলতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেন রত্না দেবী। আর জি কর ফাইলস খোলে সরকার। বিষয়টি সিবিআইয়ের অধীন। অবশ্য কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সাত দিনের মধ্যেই কিছু একটা হবে আশা ছিলো তাঁর হয়তো বা। ১১ জুলাই নির্মল ঘোষ ফের খবরের শিরোনামে। লটারি মামলা থেকে বাঁচতে ঋতব্রত তৃণমূলের বৈঠকে যোগদান করেন তিনি? কেউ কেউ বলছেন, তিনিও কি তবে ভালো তৃণমূল হওয়ার পথে? আমরা রাজ্যবাসী সবার ভালো চাই। এমনকি "সবাই ভালো হোক" চাই। তবে নির্মল ঘোষের মতো লোক যেন ভালো না হন, এটাই চাই। "ভালো" বলতে 'ভালো তৃণমূল'। এই 'ভালো তৃণমূল' ট্যাগ একবার হয়ে গেলে, গরিব গাড়ি চালকটি ডিয়ার লটারির ১ কোটি টাকা ফেরৎ পাবেন না এবং সর্বোপরি রত্না দেবীর জীবনের লক্ষ্যটাই হারিয়ে যাবে। তবে সুকান্ত বাবু, সকলকে আশ্বস্ত করেছেন দোষীদের বিজেপিতে পুনর্বাসন হবে না। ঋতব্রত তৃণমূলে যে কেউ যেতেই পারেন। তবে, নির্মল ঘোষের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এমনটাই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠিত সত্য যে নির্মল ঘোষ লোকটি সহজ খেলোয়াড় নন। কারণ তিনি ঋতব্রত -তৃণমূলের তপসিয়া বৈঠকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ছাব্বিশের প্রাক নির্বাচন সময় কালে রত্না দেবনাথের মুখে ভয়ঙ্কর কথা ছিলো, "প্রশাসনিক ক্ষমতায় না থাকলে, মেয়ের বিচার পাবো না।" গণতন্ত্রের বিপক্ষে এমন বিপদজনক শব্দ আর হয় না। তাহলে অসাধারণ না হলে, ধর্ষিতা বিচার পাবে না। এর থেকে ভয়ঙ্কর আর কী হতে পারে? এক্ষেত্রে রত্নাদেবী সঠিক বিচার না পেলে তিনি, তাঁর পরিবার, রাতের রাস্তা যারা দখল করেছিলো এবং সমগ্র রাজ্যবাসী এক নুতন দৃষ্টান্তের সাক্ষ্মী হবেন। যা হবে খুবই হতাশাজনক। সবাই জানে, আর জি কর মেডিক্যালে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের। আর জি কর মেডিক্যালের নিহত চিকিৎসক যেখানে থাকতেন, তিনি সেখানকারই বিধায়ক। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, নির্মল ঘোষের তত্ত্বাবধানেই হাসপাতাল থেকে দেহ বের করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। ধর্ষণ-খুনের পর তাড়াহুড়ো করে দাহ করে ফেলা হয় চিকিৎসকের দেহ। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ। তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক অভিযোগ অস্বীকার করলেও চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের তদন্তে তাঁকে তলব করে সিবিআই। 'কালীঘাট-তৃণমূল' ছেড়ে এখন সেই নির্মল ঘোষ 'ঋতব্রত তৃণমূল'-র তপসিয়ার বৈঠকে আসায় অনেক বিতর্ক জন্ম দিয়েছে। তবে সেই জল্পনায় জল ঢালার চেষ্টা করেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। নির্মল ঘোষের কথায়, তিনি বৈঠকে আসেননি। জাভেদ খানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেপাত্তা থাকার পর হঠাৎ উদয়। এতদিন কোথায় ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তা কেউ জানেন না। লটারি প্রতারণা মামলায় ধরপাকড় শুরু হতেই কি তবে তাঁর এই শিবির বদল? 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর বৈঠক চলাকালীনই হাজির ছিলেন নির্মল ঘোষ। যদিও নির্মল ঘোষের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সুকান্তবাবুরাও ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের বক্তব্য দেবেন। শীর্ষ নেতৃত্ব যা বলবেন, তাই করতে বাধ্য হবেন। তারপর একটা ব্যাখ্যা দেবেন। তবে আপাতত পরকীয়া প্রেম নিয়ে ছোঁক ছোঁক না দেখিয়ে এমন ভাব যেন,অতি পীরিত যেখানে, নিত্য যাবে না সেখানে”।

Comments

Popular

বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই:---দেবশ্রী মজুমদার

দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার

আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার