স্বজন--দেবশ্রী মজুমদার

স্বজন
দেবশ্রী মজুমদার

স্বজন সে, নয় তো প্রভু
রক্ত চক্ষু নয় সে কভু।
যে আমার একান্ত আপন
আমার প্রাণ, সবটুকু মন।
যে আমার সবটুকু জানে
তার কাছে নাই নাই
কোন নিয়ম ভাঙার দোহাই
চেনো ভ্রুকুটি কুটিল-
শাস্ত্র যে পথে সর্পিল
আউট অফ সিলেবাসে
জীবন রুদ্ধশ্বাস যার ফাঁসে!
সে তো আমারই- আমারই
সে যদি তাই হয়-
অষ্ট ধাতবে কিম্বা শিলায়?
মরু বিজয় কেতনে,
অযথা সমাগমে
কিম্বা নিরালায়।
আছে সে বরং শোণিত ধারায়
অজস্র অগনিত শিরায় শিরায়!
যত বার গোনা বাড়ে
যতই বাঁধো তাঁরে ---
পরাভব সে জন
হৃদয় অচিন মন
বদ্ধ কাঁটা তারে!!
অধর্মে ধর্ম জানে
ধর্মই অধর্ম মানে
তমসাবৃত ভ্রান্ত পথে
হে পার্থ! সে তো অজ্ঞতা হতে!!
অযথা ভেবে ভেবে
অসহায় দুর্ভোগে!
দাও সাড়া দাও! মহা দুর্যোগে।
আপনার গৃহ কোনে
শুধু বলো মনে মনে-
তুমি বন্ধু, তুমি সখা, তুমি মাতাপিতা,
তুমি বিদ্যা, তুমি ধন, দেবের দেবতা।।
দেখ, সে নয় অন্ধ দুচোখ জোড়া!
সে কোন সকালে প্রেমেতে মোড়া!

     

পুরোচন -- দেবশ্রী মজুমদার

পুরোচন

দেবশ্রী মজুমদার

প্রবেশ নগরী যেন জতুগৃহ
শূন্য ঘর, শূন্য ঘরে কেহ!
মজুত জ্বালানি জতু কার দায় তবে?
দেখ ভেবে!
পুরোচন যদি হোতা
অনলে পোড়ে যত ঘর
মানুষ কোথা কোথা!
সেও পায় নি রেহাই
পাঁচ পুত্র তার আগুনে ঠাঁই!
কে দুঃশাসন?কে ধৃতরাষ্ট্র?
কে কর্ণ, শকুনি?
যত চাহনি, কান পেতে শুনি
দগ্ধে দগ্ধে দহিত রাষ্ট্র!
শোন! পুরোচন! এ বচন আমার!
নেই কোন খ্যাতির দায় তার,
অতি সাধারণ! সাধারণ জাগিছে।
যা বলো! যা করো! তারা বর মাগিছে!
গোপনে, অতি গোপনে মন্ত্রনা দেয় বিদুর!
সাবধান তুমি! নয় বেশি দূর!
কোথা হতে আসে জালা জালা জতু?
গড়েছে মানব সেতু।
হিসেব নেব যে যার--
ত্রয়োদশী অন্তর্বাস,জোড়া চটি তার!
আমরা সাধারণ! চাইনা--
অসময়ে চলে যাওয়া।
আমরা মেপে চলি ঠিকই
বাইরের অহর্নিশ
এই ধর্মীয় বিষ--
জ্বলে ধিকি ধিকি।
আর না! আর না!
চাইনা! চাই না!
জ্বলছে প্রিয়ার বাড়ি
দগ্ধ মায়ের দেহ
কাঁধের উপরে তারি-ই
হয়েছে অনেক ভারি!
দোকান জ্বলছে
দেখে দেখে চিনে
সব হিসেব নেব গুনে!
সব হিসেব নেব গুনে!

     

মৌলালী -- দেবশ্রী মজুমদার

মৌলালী
দেবশ্রী মজুমদার
জয়পুরিয়া থেকে দক্ষিণেশ্বরে
বাসটা ছুটছে সাঁ সাঁ করে...
চালকের মুখে উৎকণ্ঠা
যাত্রীরা তখনও নিশ্চিন্তে।
সকাল থেকে টিভির টকশোয়
অমুকের সাথে তমুকের এক ঘন্টায়
শুনে আদ্যোপান্ত অবসর প্রাপ্ত বাবা
বলেছেন, না, না, চিন্তার কারণ নেই
অধিকার চাওয়া দোষের কিছু নেই
ভুল ত্রুটি কোথাও তো কারো আছে!
তবুও ধর্ম যখন আছে, সব ঠিক আছে।
যা কলেজ, যা খুঁকি, যা কলেজ যা
কোন ক্লাস কামাই না, একদম -না
খুঁকিও দেখলো, কলেজ শান্ত
পড়া হলো আদ্যোপান্ত, হাওয়া পণ্ডিতের তত্ত্বজ্ঞানে
ছিল না আলোচনা কোন খানে,
না কারো রুচি,
বরং ফুচকা সূচি,
কুড়মুড়ে খেয়ে
হাসি গপ্পে নেয়ে
হুড়মুড় করে ওঠা
বাকি ছিল কটা কথা গোটা
ছিল কথকের ফুল ঝুড়ি
ছিল গা গতরে সুরসুরি
না ছিল মাথা, না মানে
এই থাকে সপার্ষদ অভিধানে।
বাস ছুটছে পাঁই পাঁই
হঠাৎ! বাসটা
থামলো মৌলালী চৌমাথা
সামনে জ্বলছে বাস দাউ দাউ!
সেই হাওমাও খাঁও
যেন হাট বসেছে ...
শমনের শ-স-স একদম ঘাড়ে
উপাসনা গৃহ থেকে বেরিয়ে
যেদিকেই চাও...
সবাই যেন হাওমাও খাঁও!
হাতে বড় লাঠি, চাপাতির আলো
তখন দিন আছে, দিগন্ত হয় নি কালো!
কে যেন এগিয়ে বলে, নামো, নামো সব
নাহলে পুড়ে খাক হয়ে হবে শব।
মৌলালী মোড় দেখেনি
বেগুন পোড়া বাস
এমনটা নয়...
সবই হয়...
বুড়ো কর্তা কারে যেন কয়
পেটে খেলে পিঠে সয়।
চকিতে সিঁদিয়ে গেল খুঁকি
অসহায় বাবার মুখ দিল উঁকি।
তারপর...
সেই হঠাৎ
আওয়াজ এল কট কটাৎ
স্টিয়ারিংয়ের মোচড়ে
হালকা ছুয়ে পাঁজরে
ছুটলো বাস পাঁই পাঁই
তখন খুঁকি যায় যায়।

     

Gadget

​"নাটক" সাড়ে সব্বনাশ- দেবশ্রী মজুমদার

                             ​"নাটক"                         ​     সাড়ে সব্বনাশ ​                      একাঙ্ক নাটক : কিশলয় নাটক :...

Popular