দীর্ঘ জীবন, মৃত্যু নাতিদীর্ঘ, আমাদের মাস্টারমশাই দেবশ্রী মজুমদার
একটা মানুষ, শত শত মানুষকে জড়িয়ে ছিলেন। মহীরুহ পতন হলে, বাসা পড়ে থাকে পাখি সব উড়ে যায়। মানুষের স্মৃতি শুধু দূর্বল নয়, স্বার্থপরও বটে। শুধু নিজের দাবি মেটাতে, রক্ত মাংসের মানুষকে অতিমানবীয় বানানো হয়। এটাই সমাজের মৃত্যু। কিন্তু যার জীবন একান্ত, তার খেয়াল কে রাখে! গুটি কয় বলতে পারে, "তোমার পরশ নাহি আর। কিন্তু কী পরশমণি রেখে গেছো অন্তরে আমার। সঙ্গীহীন এ জীবন শূন্যঘরে হয়েছে শ্রীহীন। সব মানি- সবচেয়ে মানি, তুমি ছিলে একদিন।" (মৃণালিনী দেবীকে উদ্দেশ্য করে, রবীন্দ্রনাথ লিখে ছিলেন।)
দেখলাম না, প্রকাশ্যে একটা শোক মিছিল, কোনো বড় শ্রদ্ধাবাসর। শুধু তরুণের আহ্বান ছাড়া। কেন?
মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী। পরিবারে বড় ভাই লক্ষ্মীদাস গান্ধীর চাপে চার্লস অলিভান্টের কাছে গেছিলেন। কিসের জন্য? পারিবারিক ইজারা টিকিয়ে রাখার সুপারিশ করতে। এমন বিখ্যাত মানুষকে অলিভান্ট প্রথমে চরম সম্মান জানিয়ে অভ্যর্থনা জানান, কিন্তু পরে যখন গান্ধীজির আসার কারণ জানতে পারেন, রেগে গিয়ে পিওন দিয়ে বের করে দিয়েছিলেন। গান্ধীজির মাই এক্সিপেরিমেন্ট উইথ ট্রুথ গ্রন্থে তার উল্লেখ আছে। এমনকি ক্রু বন্ধুর সঙ্গে জাহাজ থেকে নেমে বন্ধুর অনুরোধে এমন জায়গায় গেছিলেন, যা কহতব্য নয়। যদিও তিনি কোনো অন্যায় না করে সেখান থেকে বের হয়েছিলেন। এগুলো মনে করিয়ে দেয়, কোনো মানুষের ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও, তার গুণের জন্য সম্মান জানানো যায়। এটা আমার কথা নয়। মার্ক টোয়েনের। এই যোগ্যতা আমাদের দেশে কবে আসবে?
তাঁর ভুল ছিলো। অপরাধ ছিলো কি? যদি বার বার একই ভুল হয়, সেখানেও শিক্ষক সত্বা কাজ করেছে। এতটা ক্ষমাশীল না হলেও পারতেন। একবার এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে এক গ্রামবাসী মন্দিরের নাটমন্দির পুন:সংস্কারের কথা তুললেন। আশীষ বাবু, সেই গ্রামের এক টি আর ডি এ সদস্যের নাম ধরে বললেন, এখনও পর্যন্ত আগের খরচের হিসাব দিলে না। আর অর্থ কী করে দেব? সদস্য তাঁর ছাত্র ছিলেন। তিনি কী করতে পারতেন? কড়া শিক্ষক হতে পারতেন। হতে পারেন নি। আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতেন। না নেওয়ার দুটো কারণ থাকতে পারে। এক, ছাত্র স্নেহ। দুই, দলীয় চাপ। এখন দেখার, তিনি পাঁচ পাঁচটা টার্ম জনগণের কাজ কতটা করেছেন? সেই কাজ আমাদের চোখের সামনে। শুধুমাত্র রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির জন্য, তাঁকে রামপুরহাট মহকুমা সহ জেলার মানুষের মনে রাখার কথা। আসলে, সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জল্পনার জগৎ উপহার দিয়েছে। জল্পনা, বাতাসের আগে ছোটে। তাই কি তিনি আজ ব্রাত্যজন? তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন কি তাই শুধু দায়সারা? আত্মহনন, ঠিক কি বেঠিক - অন্য প্রসঙ্গ। আমাদের মনের গহিনের সন্ধান আমাদের কাছে নেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মানুষ যা ভাবতে পারেন, তার ব্যাখ্যা আমরা কী দিতে পারি!
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Gadget
শিব দেব ঋষি
মস্তিষ্ক শিখরে স্থির আছে অজেয় ধীর সহস্র পাপড়ি যার অটল শিব। কৈলাস মস্তিস্কে নীড় নিষ্কম্প সুগভীর নিরাকার নির্বিকার পশুপতি জীব। পুত ...
Popular
-
বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই: দেবশ্রী মজুমদার ‘বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই, যাচ্ছে ফাটি বুকের ছাতি তোমার শোকে ভাই’। ব...
-
রম্যরচনা: দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার এখন আর সেই দুটি গ্রাম না থাকলেও, আই ডোন্ট নোউ, কেউ বলে না। তবে পাড়ায়...
-
আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার বড়শাল। কোনভাবেই আজ আর তাকে প্রত্যন্ত গ্রাম বলা যায় না। এখন শহরের হাওয়া লেগ...
No comments:
Post a Comment