ওয়াশিং মেশিন v/s জার্মান স্মার্টার ড্রাম, এ যেন মজার প্রহসন রাজ্যরাজনীতিতে দেবশ্রী মজুমদার
রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতিতে ওয়াশিং মেশিনে ধোপদস্তুর হওয়া নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে AAP অভিযোগ তোলে যে বিজেপি “washing machine campaign” চালিয়ে অভিযুক্ত নেতাদের দলে নিচ্ছে, আর ২০২৬ সালে AAP-র কয়েকজন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কংগ্রেস আবার এই ব্যঙ্গ ফিরিয়ে আনে । পশ্চিমবঙ্গেও এই শব্দটি শোনা গেছে; ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে “ওয়াশিং মেশিন” বলে কটাক্ষ করেন, এবং ২০২৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেস-বিক্ষোভে আবার “ওয়াশিং মেশিন রাজনীতি”র অভিযোগ ওঠে। ওয়াশিং মেশিন তত্ত্ব’ বলতে মূলত বিরোধীদের এই অভিযোগকে বোঝানো হয় যে, বিজেপিতে যোগ দিলে অন্য দলের দুর্নীতির অভিযোগ চাপা পড়ে যায়। এই তত্ত্বের সমর্থনে সাধারণত বিজেপিতে যোগ দেওয়া অন্যান্য দলের নেতাদের উদাহরণ দেওয়া হয়, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের এনসিপি ও শিবসেনা-ঘনিষ্ঠ নেতাদের নাম ঘুরে ফিরে আসে ।
অজিত পওয়ার-কে প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে আনা হয়, কারণ বিজেপি-ঘনিষ্ঠ জোটে যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে “ক্লিন চিট” বা নরম অবস্থানের প্রসঙ্গ টানা হয় ।
বিরোধীদের বক্তব্যে “বিজেপিতে যাওয়ার পর তদন্তের গতি কমে যায়” — এই যুক্তি দেখাতে অন্যান্য রাজ্য/দলের শীর্ষ নেতাদেরও উল্লেখ করা হয়, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল ।
অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুত্ব হারায়—এই দাবিই “ওয়াশিং মেশিন” প্রতীকের ভিত্তি।
তবে রাজ্য রাজনীতিতে ওয়াশিং মেশিনকে ছাড়িয়ে গেছে জার্মানি স্মার্টার ড্রাম। জল টল ওসব হ্যাপা কিছুই নেই। কাপড় পরিষ্কার করতে গ্যালনের পর গ্যালন জল ও রাসায়নিক ডিটারজেন্ট ব্যবহারের বদলে, এই প্রযুক্তিতে পুনর্ব্যবহৃত (রিসাইকেল করা) কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে:
তরল CO₂ একটি সম্পূর্ণ সিল করা চেম্বারের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। নির্দিষ্ট চাপের অধীনে এটি একটি শক্তিশালী দ্রাবকের (সুপার-সলভেন্ট) মতো কাজ করে এবং কাপড়ের ময়লা, তেল ও ঘামকে আণবিক স্তরে দ্রুত দ্রবীভূত করে ফেলে। এবার বলি, কেন এটি ভালো?
এতে এক ফোঁটা জলও লাগে না।
আলাদা করে তাপ দিয়ে শুকানোরও প্রয়োজন হয় না।
জলজনিত টান বা ঘর্ষণ না থাকায় কাপড় ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, সঙ্কুচিত হয় না এবং রঙও ফিকে হয় না। ব্যবহৃত CO₂ সম্পূর্ণরূপে পুনর্ব্যবহৃত হয়ে আবার যন্ত্রের মধ্যেই ফিরে আসে।
বর্তমানে Tersus Solutions-এর মতো প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছে, বিশেষত পরিবেশবান্ধব পোশাক প্রস্তুতকারী ব্র্যান্ডগুলোর জন্য।
ঠিক এই প্রযুক্তিটাই ব্যবহার করেছে বর্তমান শাসক দল। এন সি পি আই এর মতো একটি ইঁদুরের গর্তে ঢুকে থাকা দলের রেজিস্ট্রেশনকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী শিবিরের একটি সংখ্যা গরিষ্ঠ দলকে নিজের দলে স্থান না দিয়েও, জোট সঙ্গী করে নিয়েছে। রাজ্যেও মুস্তাফার উটের গল্পের মতো হাতে গোনা মুস্তাফায় তৃণমূলে। ২০০৩ সালের ৯১তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে আগে প্রচলিত এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নিয়ে দলভাঙার সুবিধা বাতিল করা হয়। বর্তমানে বৈধ একীভবন (Merger) হিসেবে গণ্য হতে হলে কোনো দলের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যকে একসঙ্গে অন্য দলে যোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে কেউ অন্য দলে যোগ দিচ্ছে না। তবে ওই ধরি মাছ, না ছুঁয়ে পানি, উটেরাই তাঁবুর মালিক। মোস্তফারা তাঁবুর বাইরে, গুরুত্ব হীন। যদিও বিধান সভায় তৃণমূল বিধায়ক কুনাল ঘোষ বলছেন, বিজেপি ওয়াশিং মেশিন। তাই তিনি চান, ওয়াশিং মেশিন না হলে, যারা সরাসরি রাই কুলে, তাদেরও যেন শ্যাম কুলের মতো বিচার হয়। অর্থাৎ এজেন্সী থেকে বাঁচার জন্য এই মিল মহব্বত যেন বিচারের আঁচ থেকে ছাড় না পায়। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রায় বিরোধী শুন্য রাজনীতিতে দাবার বোড়েকে দাবায় প্রতিপক্ষ অন্য বোড়ের সামনেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে শাসকদল। কোনাকুনি খেয়ে বেরোবার সামর্থ্য রাই শ্যাম কোন কুলেরই নেই। এই এয়ার টাইট হাই টেক স্মার্ট ড্রামে না লাগছে জল, না লাগছে তাপ, না হচ্ছে কোনো ঘর্ষণ, এর ফলে ফেবরিক থাকছে অক্ষত তৃণমূল, রঙ ফিকে হচ্ছে না এতটুকু। শুধু মাত্র ব্যবহৃত কার্বন ডাই অক্সাইডকে যন্ত্রের মধ্যে রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে ফিরিয়ে এনে আড়ং ধোলাই হচ্ছে।।
Comments
Post a Comment