আর কত ধবধবে কালো, হবে কুচকুচে সাদা দেবশ্রী মজুমদার

"কুচ কুচে সাদা, ধবধবে কালো। তৃণমূলে নেই কোনো ভালো।" এই বাক্যটি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর। এখন তিনি কী বলবেন? লোকমুখে বিজেপির বি টিম বলে খ্যাত ঋতব্রত তৃণমূলে এবার স্থান পেলেন দিদির দীর্ঘদিনের সাথী অনুব্রত মণ্ডল। শুধু স্থান নয়, পেলেন জেলার দায়িত্বও। তবে ঋতব্রত তৃণমূলে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর পুরাতন কমিটি তো মমতা তৃণমূল আগেই ভেঙে দিয়েছে। বলাই বাহুল্য, শেষের দিকে, বিশেষ করে ছাব্বিশে কোন দায়িত্ব না থাকায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন দিদির কেষ্ট । অন্যদিকে, জেলার রাজনীতিতে অভিষেকের পছন্দের ছিলেন কাজল সেখ। অনুব্রতকে সরিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন আদি তৃণমূলে এক কথায় জেলার মধ্যমণি। তিনি আগেই ঋতব্রত তৃণমূলে যোগদান করেছেন। এবার সেই অনুব্রত ঋতব্রত তৃণমূলে জেলার দায়িত্ব পেলেন। ভাগ্যের উত্থান পতন কাকে বলে তা অনুব্রত মণ্ডলকে না দেখলে দুষ্কর। এই অনুব্রত মণ্ডল যার নির্দেশে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খায় সেই বেতাজ বাদশাকে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবাস ভোগ করতে হয়। তবে অনুব্রত মণ্ডল রাতারাতি এইভাবে বেতাজ বাদশা হয়ে উঠেছেন এমন নয়। একসময় তিনি ছিলেন সামান্য এক মুদিখানার দোকানের মালিক। শমীক বাবু বলতেই পারেন, এটা তৃণমূলের পারিবারিক বিবাদ। তৃণমূল ভেঙে আসল তৃণমূল এখন ঋতব্রত নেতৃত্বে প্রধান বিরোধী দল। তারা কমিশনের কাছে ঘাসফুল সিম্বলের দাবিদার। আইনি লড়াইয়ে জটিলতা থাকলে হাতের পাঁচ এন সি পি আই তো আছেই। এখন মমতার হাত ছাড়লেন কেষ্ট। মমতা দিদির আদরের ভাই কেষ্ট! বহুদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী। গুঞ্জন আগেই শুরু হয়েছিলো। কেউ কেউ বলেছিলো, পড়ল কথা হাটের মাঝে, যার ব্যথা তার বুকে বাজে। সেই ব্যাথা মমতা থুড়ি রাসমণির বুকে কতটা বাজে দেখার! " রাসমণির আর কোনো সন্ধান রহিল না। " গল্পের এমন পরিসমাপ্তি কবে হবে জানা নেই। (রবীন্দ্রনাথের দান প্রতিদানের রাসমণির মতো মর্যাদা সম্পন্ন মোটেই এখনকার কোন নেত্রী নন, হওয়া সম্ভবও নয়।) তবুও অনুগামীদের একাংশের মত। অত:পর আর কোন দুর্নীতিযুক্ত দল, পাপড়ি ও মূল রহিল না। শুধু "ভালো"-ই রহিয়া গেল। সখেদ কিনা জানি না। তবে, ধবধবে কালো, এখন হাত যশে কুচকুচে সাদা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য। খুবই বিশুদ্ধ, শিষ্ট মিষ্ট ভাষী। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, "কুচ কুচে সাদা, ধবধবে কালো। তৃণমূলে নেই কোনো ভালো।" তারপর থেকেই স্থানান্তরিত বিশেষণটি ফিগারস অফ স্পিচ হয়ে লোকমুখে ঘুরছে। কয়দিনের ঘটনাক্রমে স্পষ্ট যে ধবধবে কালো এবার কুচকুচে সাদা হবেই। সেই তালিকায় সদ্য তিন তৃণমূল সাংসদ, বিজেপি সাংসদ প্রার্থী হিসেবে সংসদের উচ্চ কক্ষে যাচ্ছেন। এটা নিশ্চিত। অতীতে এমনটা হয় নি তা নয়। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চন্দ্র শেখরের ছেলে নীরজ শেখর ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সমাজবাদী পার্টি (SP) ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দেন। আর তাতেই শুরু হয়েছে, হতাশা বিজেপির অনুগামীদের একাংশের মধ্যে। তারাই সমাজ মাধ্যমে শিক্ষাবিদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড.সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য তুলে ধরে এবং তৃণমূল নেতানেত্রীদের বিজেপিতে যোগদানের ছবি পাঞ্চ করে সুন্দর ককটেল বানাচ্ছেন। আর তাতে নেশাটাও জমে উঠেছে। যাকে একদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, গরু পাচারকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে ভাইপোর কাছে অর্থ পাঠানোর কথা বলছেন, তিনিই এখন বিজেপিতে যোগদানের পর কুচকুচে সাদা। এই নতুন তালিকায় আরও নিত্য নতুন নাম সংযোজন অনুব্রত মণ্ডল। আদি তৃণমূলের পুরো মেশিনারী নব্য তৃণমূলের চায়। এটা অস্তিত্বের লড়াই। এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই যে সাংগঠনিক দক্ষতা ছাড়া, একটা মেকানিজম ছাড়া রাজধানী থেকে রাজ্যপাট চালানো যায় না, দলও চালানো যায় না। এই পুরো মেকানিজমটা মাঠের বাইরে বেশিদিন শাসকদল রাখতে দেবে না, তাদেরও কুচকুচে সাদা করে দলে ঢোকাবে। অমৃতে অরুচি তো সুরাসুর কারো নেই। ভালো হলে তো ক্ষেতি কিছু নেই। শুধু ধবধবে কালো না হলেই হলো। তবে শমীকবাবুর আরেকটা বক্তব্য নিয়েও খটকা লাগছে। তিনি বলছেন, জনগণকে এই ভূখণ্ড রক্ষা করতে হবে। নাহলে, যতমত তত পথ থাকবে না, কমিউনিস্ট থাকবে না, তৃণমূল যদিও এখন নির্মূল, কেউ থাকবে না। শক্তিশালী ভূখণ্ড না হলে, বহুত্ববাদ থাকবে না। একটা অংশ যা বলবে, তাই শুনতে হবে। তাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং তাঁর ভাষায় প্রতিশোধ নিতে হবে। এই তিনটে 'প্রতি' যুক্ত শব্দ তিনি আপামর জনসাধারণের উদ্যেশে বললে, বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের যে সহ্য করতে হবে! তাদের আবেগকে মান্যতা দিতে হবে! এও কি সম্ভব? এই জন্যই যদি কেউ তাকে পিতামহ ভীষ্ম বা লুইস স্টিভেনসনের ড. জেকিল এবং মি. হাইডের মত এক বিখ্যাত দ্বৈত সত্তা বানিয়ে ফেলেন, খুব খারাপ লাগবে। সর্বপরি, তিনি একজন ভদ্র লোক।

Comments

Popular

বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই:---দেবশ্রী মজুমদার

দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার

আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার