​"নাটক" সাড়ে সব্বনাশ- দেবশ্রী মজুমদার




                             ​"নাটক"

                        ​    সাড়ে সব্বনাশ

​                      একাঙ্ক নাটক : কিশলয় নাটক :

                     উৎসর্গ: বড়শাল বান্ধব সমিতি ও

                     বড়শাল সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটি


         নির্দেশনায় - মহীতোষ চট্টোপাধ্যায় 

              রচনা: দেবশ্রী মজুমদার 


                             বিষয় : নন সিরিয়াস

                            মূল বিষয় : ভন্ডামি  

​                                       চরিত্র :

১) চপ্পল ঠাকুর (৬২) - হস্তবিশারদ, গঙ্গার ঘাটে বসেন। লোক ঠকানো ব্যবসা।

২) চেলা - হরেকম্ম (৫৬)। গুরু যা বলে তার দ্বিগুণ করে।

৩) দালাল - ধূর্তনারায়ণ সর্দার (৩২) খদ্দের ধরে।

৪) চপ্পল চোর - নদনারায়ণ ধর (২৮)

৫) ভক্ত - এক - বিছুটিবালা দাসী (৫৫)

৬) ভক্ত - দুই - ক্যাবলাচরণ হাতি (৫৬)

৭) ন্যায়রত্ন তর্কবাগীশ - চমৎকার চন্দ্র চক্রবর্তী।  


               নাটকের মুখবন্ধ:


​'সাড়ে সব্বনাশ' একাঙ্ক নাটকটির মূল উপজীব্য বিষয় হলো সমাজে রটে থাকা জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ভণ্ডামি ও অন্ধবিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে ঠকানো। চপ্পল ঠাকুর ও তার শিষ্য হরেকম্ম গঙ্গার ঘাটে পাঁজি, পাথর ও ভূয়ো জ্যোতিষের ভয় দেখিয়ে খদ্দেরদের থেকে টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। কিন্তু নাটকের শেষে তাদের সমস্ত কৌশল ধরা পড়ে যায়; প্রতারিত সাধারণ মানুষ, পুলিশ এবং পণ্ডিত ন্যায়রত্ন তর্কবাগীশের তাড়া খেয়ে ভণ্ডদের পরিণতি চরম দুর্গতিতে রূপ নেয়।  


​১

​: নাটক :

সাড়ে সব্বনাশ 


​            (প্রথম দৃশ্য) :


 চপ্পল ঠাকুরের বাড়ি। অন্ধকার (অর্ধেকটা)। হাতে পাঁজি। (আলো নিভু নিভু / আবছা)

চপ্পল ঠাকুর :- (পাঁজির পাতা ওলটাতে ওলটাতে বিড়বিড় করে বকে চলেছেন)

(দরজায় - ঠক্ ঠক্) – কে? কে?

হরেকম্ম (চেলা) :- আজ্ঞে, আমি।

চপ্পল ঠাকুর :- আমিও তো আমি। বলি, আমিটা কে?

হরেকম্ম :- আমি অধম হরে। আপনার দাসানুদাস।

চপ্পল ঠাকুর :- ভিতরে আয়। নাকি সুরে কথা বলছিস কেন? আমি তো ভাবছি, এত ভোরে 'ভুলো' ধরতে এলো নাকি?

হরেকম্ম :- কি যে বলেন কর্ত! একটু ঠান্ডা লাগসি তাই। তিনারা কি আপনার ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে? সেই সাবাস কি আছে? হেঁ হেঁ।

(ভিতরে প্রবেশ করে, হাত কচলাতে কচলাতে গুরুর পায়ের কাছে)  


​২


​চপ্পল ঠাকুর :- কী ব্যাপার হরে? এত ভক্তি কেন? উহুঁ লক্ষণ তো ভালো ঠেকছে না!

হরেকম্ম :- পায়ের ধুলো দিন কর্তা ঠাকুর।

চপ্পল ঠাকুর :- হঠাৎ?

হরেকম্ম :- ঘাটে যাওয়ার আগে তো? তাই।

চপ্পল :- ঘাটে যাবি মানে? এখনই তোর পরপারে ডাক এসে গেল নাকি?

হরেকম্ম :- না, কর্তাঠাকুর। আমি ভাবছি, আপনার আশীর্বাদে আমি গঙ্গার অন্য ঘাটে বসবো। আলাদা বসবো।

চপ্পল ঠাকুর :- মানে? এত সাহস! দুধকলা দিয়ে সাপ পোষা? (নকল কান্না ভেজা গলায়) তোদের জন্য সংসারই করলাম না। শেষে কিনা? এমন কথা শুনতে হলো।

হরেকম্ম :- আজ্ঞে সে তো আপনি পাত্রী পান নি, ইঁয়ে মানে আপনাকে কেউ বিয়ে করেনি, তাই!

চপ্পল ঠাকুর :- হরে! ভালো হবে না, বলে দিচ্ছি। যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা! আমি পাত্রী পেতাম না? বেয়াদপ! এ জন্যই বলে গুরু মারা ​বিদ্যা কাউকে শিখিয়ো না। যাকগে, তোর রাগের কারণটা বল? বলতো সোনা?

হরেকম্ম :- আমার পার্সেন্টেজটাই একটু বাড়াতে হবে। আর চুরি যাওয়া চপ্পল থেকে ভালো চপ্পল রোজ আমাকে দিতে হবে।

চপ্পল ঠাকুর :- ওরে বেইমান, ধম্মে সইবে না। আমি চপ্পল ঠাকুর। ভালো চপ্পল জোড়ায় আমার অধিকার। আর ব্যবসাপাতি বাড়লে, তোদের ভাগ দেব। সব্বার ভাগ বাড়িয়ে দেব।

হরেকম্ম :- আমি পরের কথা বলতে পারবো না। হলে বলুন, না হলে পাতু।

চপ্পল ঠাকুর :- ঠিক আছে বাপধন, তাই হবে। তুই কী আর বলবি রে! আমার সাড়ে সর্বনাশ হতে আর বাকি নেই। চল্, এবার সত্যি ঘাটে চল্।।  


​                               লাইট অফ  


​৪


​                     : দ্বিতীয় দৃশ্য :



: গঙ্গার ঘাট : সময়: সকাল  


​ঠাকুরের ছবি সামনে রেখে চাদর, আসন পেতে বসেছে চপ্পল ঠাকুর। গায়ে নামাবলী। আঁকা হাতের রেখা যুক্ত ছবি। বিভিন্ন গাছগাছড়া, মূলকো, পাথর। কপালে তিলক, টিকিতে ফুল।

চপ্পল ঠাকুর :- হরে - হরে - তুই এইদিকটাই বস। অ্যাই (হরে কাছে আসতেই) তোর টিকিতে অত বড় ফুল বাঁধা কেন রে?


হরেকম্ম :- সে বলছি ঠাকুর! তার আগে বলি, এখানে মানসের সামনে হরে - হরে - বলে চিল্লাচিল্লি করবেন না। আমারও তো একটা প্যাটিস আছে।

চপ্পল ঠাকুর :- মানে? ও--ওটা প্যাটিস না, প্রেসটিজ! শোন, আমার উপরে যাবি না। টিকির ফুল তোর লাগবে না। আর তোকে শ্রীহরি বলে ডাকবো, হবে তো? এখন রামায়ণ কথা সুর ধরে পড়া শুরু কর তো।  


​৫

(হরেকম্ম পড়তে শুরু করে)


​হরেকম্ম :- রামায়ণে রামচন্দ্র পিতারই কারণ

গিয়েছিল বনবাসে ছেড়ে সিংহাসন।

আমার কারণ তুমি আমার জীবন

জীবনের প্রতি পদে দুঃখ বরণ।।

চপ্পল ঠাকুর (খদ্দের আসতে দেখে উল্লসিত) :-

হরে জোরে, জোরে পড়। তবে শ্রীহরি।

(হরে কম্ম ওই চারলাইন আরও উচ্চস্বরে সুর করে দুলে দুলে পড়তে থাকে)

(ক্যাবলাচরণ হাতি এদিক ওদিক দেখতে থাকে)


(ধূর্তনারায়ণ সর্দার তাকে পথ দেখিয়ে চঞ্চল ঠাকুরের কাছে নিয়ে আসে)


ধূর্তনারায়ণ সর্দার :- এদিকে আসুন বাবু! একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। (কপালে হাত ঠেকিয়ে) চপ্পল ঠাকুর, অত্যন্ত জ্যোতিষী, কপাল দেখে ঝর ঝর করে সব বলে দিতি পারেন। একেবারে অন্নপ্রাশনে কি ভাত খেয়েছিলেন, মায় ভবিষ্যতে আপনার কপালে কী কী ফাঁড়া আছে। শনি, মঙ্গল, রাহু, কেতু সব এঁর হাতে বাঁধা।

ক্যাবলাচরণ :- (এড়িয়ে) কিন্তু আমি।

ধূর্তনারায়ণ :- বাক্যি ব্যয় করতে হবে না কত্তা, ও আমি ঠিক বুঝে গেছি।  


​৬


​(মুখে আঙুল দিয়ে) এই, এই— এই—

(হাত ধরে, টেনে একেবারে চপ্পল ঠাকুরের সামনে। হোঁচট খেয়ে একেবারে চপ্পল ঠাকুরের সামনে।)

(খপাৎ করে ধরে, আতশ কাঁচ চোখে রেখে, ক্যাবলাচরণের মুখ মণ্ডল দেখতে থাকে চপ্পল ঠাকুর)

ধূর্ত :- দেখুন কর্তা ঠাকুর! দোহাই উদ্ধার করুন।

(নগদনারায়ণের প্রবেশ। নিঃশব্দে নগদনারায়ণ ধূর্তনারায়ণ, ক্যাবলার চটি পায়ে গলিয়ে চম্পট)

হরেকম্ম :- কী দেখছেন কর্তা?

ক্যাবলাচরণ :- (হাঁড়িকাঠে মাথা রাখার মতন) – ভয়ে অস্থির হয়ে—

উঁঃ, উঁঃ — আমার কী হবে গো!

হরেকম্ম :- চুপ! চুপ! একদম চুপ!

চপ্পল ঠাকুর :- বালক! কাঁদছো কেন?

ক্যাবলাচরণ :- আজ্ঞে, আমি বালক নই। আমার মাথার চুল পেকে গেছে। নাতিপুতি নিয়ে আছি।  


​৭


​চপ্পল ঠাকুর :- আমার দুইশত আটাশ বছর বয়সের কাছে তুমি নেহাতই বালক! যাকগে—

হরেকম্ম: (উদ্গ্রীব চোখে, ক্যাবলার হাত দেখতে হাত বাড়িয়ে) :- আমি একবার দেখি—

চপ্পল ঠাকুর :- শ্রী হরি— হাতটা আমার দিকে দিক করে বাড়িয়ে দে।

হরেকম্ম :- আপনি কপাল দেখছিলেন তো, তাই আমি হাত—

চপ্পল ঠাকুর :- না, ওসব তোমার কম্ম নয়। রাহু, কেতু একেবারে ঘিরে রেখেছে। পদে পদে দুর্ঘটনা। একেবারে দু:স্থান। ষষ্ঠ, অষ্টম ও দ্বাদশ ভাব।

ক্যাবলাচরণ :- আমার কী হবে?

(আবার কান্না)

চপ্পল ঠাকুর :- ষষ্ঠভাবে রোগ, শত্রু, ঋণ, ও মানসিক চাপ!

ক্যাবলাচরণ :- ওগো বাবাগো! কী হবে গো! আমার গিন্নিকে কে দেখবে গো?

চপ্পল ঠাকুর :- অষ্টম ভাব! (চোখ বড় বড় করে) সাড়ে সর্বনাশ!

কাবলাচরণ :- হ্যাঁ?

হরেকম্ম :- হ্যাঁ  

​চপ্পল ঠাকুর :- অষ্টম ভাব বিপজ্জনক। বিপদ, দীর্ঘমেয়াদী রোগ, মৃত্যু ভয়, উত্তরাধিকার নিয়ে সমস্যা।

(হরেকম্ম শক্ত করে ধরে ক্যাবলাচরণকে)

ক্যাবলাচরণ :- (চোখ উল্টে, দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে) কী হবে গো গিন্নি তুমি কোথায়?

চপ্পল ঠাকুর :- হরে, চোখ মুখে জল দে!

হরেকম্ম :- অজ্ঞান হয়ে গেল নাকি? তখনই বলছিলাম, অত ভয় না দেখানোই ভালো।

চপ্পল ঠাকুর :- কথা বাড়াস নি। চোখ মুখে জল দে।

(জল দিতেই— ক্যাবলাচরণ উঠে বসে)

ক্যাবলাচরণ :- আমি কোথায়?

হরেকম্ম :- আপনি চপ্পল ঠাকুরের খপ্পরে!

চপ্পল ঠাকুর :- হরে—এ!

হরেকম্ম :- দ্বাদশ ভাবটা বলবেন না কত্তা?

চপ্পল ঠাকুর :- (লেন্সটা চোখের সামনে ধরে, ক্যাবলার হাত দেখতে দেখতে)

অর্থক্ষয়, বিদেশবাস, একাকিত্ব ও খরচ বৃদ্ধি।  


​৯


​ক্যাবলাচরণ :- আমার কী হবে?

হরেকম্ম :- সবেরই উপায় আছে, চিন্তা করবেন না। চপ্পল ঠাকুর আছেন। চিন্তা করবেন না। একদম না।

চপ্পল ঠাকুর :- এ দু'রতি নীলা নেন, একদম সব ঠিক হয়ে যাবে। দাম ১৫,০০০ টাকা।

ক্যাবলাচরণ :- অত পয়সা আমার নেই।

হরেকম্ম :- কত আছে?

ক্যাবলাচরণ :- বেশি নেই।

হরেকম্ম :- দেখি কত আছে?

(পকেটে হাত ঢোকায়— ৫০০ টাকার নোট বের করে)

এতেই হবে না কর্তা?

ক্যাবলাচরণ :- (কাঁদো কাঁদো গলায়) এভাবে মোর ডর—

হরেকম্ম :- ছিঃ ছিঃ! এমন বলবেন না। উপকারই আপনার।

চপ্পল ঠাকুর :- কী আপনি চান না, বাড়ির উত্তরাধিকারের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা মিটুক? আপনার স্ত্রীর হাড়ের ব্যথা কমুক?

তাহলে এই নিন (হাত থেকে একটা মূলকো দিয়ে), এই দিন। (বলে পকেটে টাকাটা পুরে নিলেন।


হরেকম্ম: যান, যান। খুব সস্তায় হয়ে গেলো। নেহাতই কত্তা নির্লোভী তাই। 

(প্রস্থান )  


                             লাইট অফ

 

​                                 দৃশ্য ৩: 


বিছুটিবালা দাসীর বাড়ির উঠোন

​সময়: বিকেল  

​স্থান: বাড়ির উঠোন  

​বিবরণ: বিছুটিবালা দাসী (বয়স ৫৫), চুল ছোট করে ছাঁটা, গলায় তুলসীমালা, আতার বিচির মতো দাঁত) উঠোন ঝাঁট দিচ্ছেন।  

​বিছুটিবালা দাসী: (ঝাঁট দিতে দিতে) এই মরেছে, কী অলুক্ষণে ব্যাপার রে! ডান চোখটা বারবার লাফাচ্ছে কেন? বলি, এই নগদনারায়ণ? বাবা নগদনারায়ণ কোথায় গেলি রে? এদিকে আয় দিকি!  

​নগদনারায়ণ: (মঞ্চে প্রবেশ করে) যাই পিসিমা— বলুন পিসিমা, নগদে বলে ফেলুন।  

​বিছুটিবালা: ও হ্যারে, গরুকে জাবনা দিয়েছিস? দেখিস পাতনা যেন খালি না থাকে। সাঁঝে গোয়াল ঘরে ধুনো দিস। যা মশা আর ডাঁশ, আমার ছিদেবীর যেন কষ্ট না হয়।  

​নগদনারায়ণ: হুঁ ছি দেবী! যা শিং লাড়ে! হ্যাঁ সব হবে 'খন। আগে কিছু ছাড়ো তো!  

​বিছুটিবালা: এই দ্যাখো! কী ছাড়বো আবার! নদাদে—  

​নগদনারায়ণ: ৫০ টা টাকা ছাড়ো!  

​বিছুটিবালা: ৫০ টাকা? প-ঞ্চা-শ? দেখছিস না— কাজেরর ক্ষেমী দু'দিন ধরে কাজে আসছে না। গায় গতরে একেবারে সব গেলে গা। সব আমপুরে চলে যাচ্ছে। গাঁ ঘরে আর কাজের লোক আর মিলবিনা।  

​নগদনারায়ণ: তোমার কাঁদুনি গাওয়া বন্ধ রাখ তো। ৫০ টাকাটা ছাড়ো। আমার মানে মানে নগদে বিদায় কর।  

​বিছুটিবালা: এই রে আবার ডান চোখটা লাফাচ্ছে। কী হবে রে নগদা।  

​নগদনারায়ণ: আরে দাঁড়াও তো—  

​বিছুটিবালা: দাঁড়া হাত ধুয়ে দিচ্ছি। ঝ্যাঁটা হাতে ছিলো তো। একে তো তোর পিসেমশাই সগ্গে যাওয়ার পর আমার অবস্থা হাঁড়ির হাল হয়েছো। চল্, চল্। হ্যাঁরে বাছা! আমার কী হবে?  

​নগদনারায়ণ: ও তুমি চিন্তা কোরোনা। কাল গঙ্গার ঘাটে হাত নাইতে যাওয়ার সময় চপ্পল ঠাকুরকে হাতটা দেখিয়ে নিও। চলো চলো। (প্রস্থান)  


                                ​দৃশ্য ৪: 


গঙ্গার ঘাট


​সময়: সকাল

​স্থান: গঙ্গার ঘাট  

​বিবরণ: আসন পাতা, ঠাকুরের ছবি, হস্তরেখার ছবি। চপ্পল ঠাকুর বসে আছেন। পাশে চ্যালা হরেকম্ম।  

​বিছুটিবালা: কইরে? তোদের চপ্পল ঠাকুর। কী নামরে বাবা। চপ্পল ছেঁড়া, ছ্যা ছ্যা। বমি, বমি। পায়ের জিনিস কি না মাথায়!

​নগদনারায়ণ: ও, তুমি বুঝবে না। এই এই ডান দিকে বসো। বল্, এই তো চপ্পল ঠাকুর মুশকিল আসান!  

​চপ্পল ঠাকুর: কী হলো নগদনারায়ণ?  

​নগদনারায়ণ: পিসির কপাল তো ঝরঝরে। তিনকালে গিয়ে এককালে ঠেকেছে। হাত দেখে দিন!  

​বিছুটিবালা: এই মুখপোড়া! এক কাল কিসের? আমি তো পা বাড়িয়েই আছি— যাগ— দেখো তো বাবা—  

​হরেকম্ম ও নগদনারায়ণ: চপ্পল ঠাকুর!  

​চপ্পল ঠাকুর: (হাত উল্টেপাল্টে দেখে) হুম হুম। ঘোরতর বিপদ!  

​বিছুটিবালা: আমি তোকে ঠিকই বলেছিলুম বাবা নগদনারায়ণ, আমার ডান চোখ কাঁপছে।  

​চপ্পল ঠাকুর: জ্যোতিষশাস্ত্রে একে—  

​বিছুটিবালা: রাখো তো তোমার জ্যোতিষশাস্ত্র— তুমি কী বলতে চাচ্ছো, বলো কত্তা ঠাকুর। ভয়ে, আমার আত্মারাম খাঁচা ছাড়া।  

​চপ্পল ঠাকুর: বলছি বলছি— শনির কোপ পড়েছে, তাই ডান চোখ লাফাচ্ছে। শনির প্রভাব সাড়ে সাত বছর চলে। একেই শনির সাড়ে সাতি বলে। আর একেই সবাই বলে— সাড়ে সর্বনাশ!  

​হরেকম্ম ও নদনারায়ন: সাড়ে সর্বনাশ!  

​বিছুটিবালা: (গলা ছেড়ে সুর করে) ওগো তুমি কোথায় গেলে গো— আমাকে কেন সঙ্গে করে নিয়ে গেলেনা গো...  

​নগদনারায়ণ: চুপ করো পিসিমা! চুপ করো, পিসেমশাই তোমার কান্না শুনে চলে এলে সে আরেক ফ্যাসাদ।  

​বিছুটিবালা: (কান্না থামিয়ে) নগদনারায়ণ, আমাকে নিয়ে যা বলিস বলিস। পিসেমশাইকে নিয়ে খারাপ বললে কিছু শুনবো না।  

​নগদনারায়ণ: শান্ত হও পিসিমা। চপ্পল ঠাকুর একদম উপায় বের করবে।  

​চপ্পল ঠাকুর: (চিন্তিত) উপায় একটা আছে, তবে খরচপাতি আছে।  

​বিছুটিবালা: কত?  

​চপ্পল ঠাকুর: (হাতে একটা পাথর নিয়ে) তিন রতি নীলা ২০,০০০ টাকা পড়বে।  

​বিছুটিবালা: (গলা ছেড়ে) ওগো কে আমার গা গতরে বিছুটি দিয়ে দিল গো...  

​হরেকম্ম: চুপ করুন মা। আচ্ছা কত্তা, এনার ডান চোখ লাফাচ্ছে, তুকতাক করে বাঁ চোখ লাফানোর ব্যবস্থা করলি হয় না?  

​চপ্পল ঠাকুর: চুপ, একদম চুপ!  

​হরেকম্ম: কেন বিষে বিষে বিষক্ষয়। ছেলেপুলেরা কী যেন বলে— প্লাসে প্লাসে মাইনাস।  

​চপ্পল ঠাকুর: ওটা প্লাসে মাইনাসে মাইনাস। তোমাকে আর বুদ্ধি খরচ করতে হবে না।  

​বিছুটিবালা: আমার ডান চোখ এখন তিড়িং তিড়িং করে লাফাচ্ছে। ওরে নগদনারায়ণ, মণি চোখের গোলক থেকে বেরিয়ে পড়বে না তো? কী হবে? যদি অন্ধ হয়ে যাই? সব লুটেপুটে খাবে।  

​চপ্পল ঠাকুর: আপনি শুধু ব্রাহ্মণ দক্ষিণা ১০১ টাকা দিন। কিচ্ছুটি লাগবে না, উপায় বাতলে দিচ্ছি। সব ঠিক হয়ে যাবে।  

​বিছুটিবালা: সেও তো কম না। বাড়িতে ছিদেবীর ছাড়া তো কিছু নেই। আর কয়েক বিঘা জমি, আর একটা পুষ্করিনী আছে।  

​চপ্পল ঠাকুর: আপনার নকল কান্না দেখে এত অভাবী দরিদ্র নিঃস্ব মানুষ আমি দেখিনি। (নকল কান্নার ভান করে) আপনি আমাকেই একসের দুধ দেবেন, তাহলেই হবে।  

​বিছুটিবালা: তাই হবে, ঠাকুর। (লাইট অফ)  


​                                দৃশ্য ৫: 


               অন্তিম দৃশ্য


​স্থান: চপ্পল ঠাকুরের বাড়ির সামনে উঠোন  

​নগদনারায়ণ: এইরে! প্রায় ২০ জোড়া চপ্পল বিক্রি করেছি। দুই-এক জোড়া এখনও পড়ে আছে। সামলে রাখি (প্রস্থান)।  

​ধূর্তনারায়ণ: আর থাকলে হবে না। যে খবর পেয়েছি, পিঠের চামড়া থাকবে না। ED/CBI, পাবলিক সব চলে আসবে। যাই, ভালোই ভালোই কেটে পড়ি (প্রস্থান)।  

​হরেকম্ম: (প্রবেশ করে) কর্তা ঠাকুর? কর্তা ঠাকুর? বাড়িতে আছেন?  

​চপ্পল ঠাকুর: ওরে হরে, এখন শ্রীহরিই ভরসা। নদনারায়ন ও ধূর্তনারায়ণরা কোথায়?  

​হরেকম্ম: সবাই কেটে পড়েছে।  

​চপ্পল ঠাকুর: জাহাজ ডুবির আগে, সবার আগে যে পালায়।  

​হরেকম্ম: ইঁদুর কর্তা!  

​চপ্পল ঠাকুর: হ্যাঁ। আমার তো সাড়ে সর্বনাশ হয়ে গেল!  

​বাইরে চিৎকার: কোথায় চপ্পল? চামড়া তুলে দেব!  

​চপ্পল ঠাকুর: এইরে!  

​হরেকৃষ্ণ: কর্তা— কোন দিকে যাওয়ার রাস্তা নাই। চলুন, বাড়িতে চালের ড্রাম থাকলে লুকিয়ে পড়ি।  

​বাইরে চিৎকার: এই চপ্পল? গামছা বেরিয়ে আয়।  

​বিছুটিবালা: (ঝাঁটা হাতে প্রবেশ করে) কোথায় বিটলে বামুন? এই সামনে পেলে ঝাঁটিয়ে বিষ ঝেড়ে দিতাম।  

​চমৎকার চন্দ্র চক্রবর্তী: (প্রবেশ করে) কোথায়? কোথায়? চপ্পল ছেঁড়া? জুতো ছেঁড়া চপ্পল? আমি কিনা ন্যায়রত্ন তর্কবাগীশ চমৎকার চন্দ্র চক্রবর্তী, আমাকে টপকে ডোন্ট কেয়ার? তুই শাস্ত্রের কী জানিস? জন্মকুন্ডলী নিয়ে পণ্ডিতি? যাকে তাকে কালসর্প দোষ? আমার বিচারের ওপর বিচার? খোদার ওপর খবরদারি! একবার কাছে পেলে হয়।  

​হরেকম্ম: (নিচু গলায়) কর্তা, বের হোন। এইবেলা কেউ নাই মনে হচ্ছে।  

​চপ্পল ঠাকুর: তুই আমার আসল শিষ্য রে। আই বাবা বুড়ে আয়।  

​হরেকৃষ্ণ: বুকে পর আসা যাবে। আগে মাথাটা বাঁচুক, হাত, পা অক্ষত থাকুক। চলুন—  


​ন্যাযরত্ন ও বিছুটিবালার প্রবেশ  


​ন্যায়রত্ন: কোথায় পালাবে? পুলিশ আসছে।  

​বিছুটিবালা: তার আগেই পাবলিক পেঁদিয়ে হাসপাতাল দেখিয়ে দেবে। যাবে কোথায় ঠাকুর? ঝাঁটা মারো, এমন জোচ্চোরের মুখে। আগে আমার গাইয়ের একসের দুধ হজম করে দিলে গা!  

আমার এক চোখ লাফাচ্ছিল। এখন দু চোখ লাফাচ্ছে। মার ব্যাটাকে—

​(চপ্পলকে ন্যায়রত্ন ধরতেই, হরেকৃষ্ণ পলাতক)

​হরেকম্ম: বাবারে! এ বেলা বাঁচলে বাপের নাম!

​চপ্পলঠাকুর: (জোড়হাত করে— মাপ করে দিন)

​ন্যায়রত্ন: মাপ করবো?

​বিছুটিবালা: (ঝ্যাঁঠা তুলে)—মাপ? (মাথার উপরে ঝ্যাঁঠা)

                        ​: লাইট অফ :

        : যবনিকা পতন :



​

চন্দ্র চূড় শিব পার্বতী - দেব ঋষি

      চন্দ্রচূড় শিব–পার্বতী 



     উৎসর্গ:  গীতাঞ্জলি শিক্ষা নিকেতনের          নিবেদন

           ১৫–২০ মিনিটের মঞ্চ-পরিবেশনা

              দৃশ্য ১ : কৈলাসে মহাদেব

[মঞ্চ অন্ধকার। ধীরে ধীরে নীল আলো জ্বলে উঠবে। পেছনে মৃদু তবলার বোল ও ঘণ্টাধ্বনি। শিব ও পার্বতী মঞ্চের এক পাশে স্থির ভঙ্গিতে থাকবেন।]

গান

চন্দ্র চূড় শিব শংকর পার্বতী রমন নিগে নমো নমো সুন্দর পিনাকধর হর নিগে নমো নমো।

চরণ ১: গঙ্গাধর গজচর্ম অম্বরধর হর নিগে নমো নমো ফালনেত্র শূলধর হর নিগে নমো নমো।

চরণ ২: বালচন্দ্র সমেত জটাধারী নিগে নমো নমো বাসুকী ভূষিত কণ্ঠধারী নিগে নমো নমো।।

[গানের শেষে আলো সামান্য ম্লান। রাবণ ও নন্দীর প্রবেশ।]

পাঠ:

মহাদেবের পরম ভক্ত রাবণের অহংকার চূর্ণ হওয়া এবং তাঁর ভক্তি প্রকাশের কাহিনিই শিব তাণ্ডব স্তোত্রের পটভূমি।

কৈলাসের পথে নন্দীর বাধা উপেক্ষা করে অহংকারী রাবণ পর্বত উপড়ে ফেলতে উদ্যত হন। তাঁর প্রবল শক্তিতে কৈলাস কেঁপে ওঠে। তখন মহাদেব পায়ের বুড়ো আঙুলের সামান্য চাপে পর্বতকে স্বস্থানে স্থাপন করেন। রাবণের হাত পর্বতের নিচে চাপা পড়ে যায়।

অসহ্য যন্ত্রণায় তাঁর চিৎকারে তিন ভুবন কেঁপে ওঠে। সেই থেকেই তাঁর নাম হয় ‘রাবণ’।

নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি মহাদেবের স্তব শুরু করেন। তাঁর সেই স্তবই—শিব তাণ্ডব স্তোত্রম্। রাবণের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে ক্ষমা করেন এবং প্রদান করেন চন্দ্রহাস।

[আলো দ্রুত পরিবর্তিত। তবলার গতি বাড়বে।]

নৃত্য

জটা টবী...

[তবলার সঙ্গে শুরু। এরপর শিব তাণ্ডবের আবহে নৃত্য।]

গান

সৃজন ছন্দে/প্রলয় নাচন

দৃশ্য ২ : শিব ও শক্তি

[মঞ্চে লাল-নীল মিশ্র আলো। ধীরে ধীরে নারী নৃত্যশিল্পীদের প্রবেশ।]

পাঠ

পাঠক:

শিব ও শক্তির মিলনেই জগৎ ছন্দময়। অশুভ শক্তির বিনাশে আবাহন ঘটে মা জগন্ময়ীর। কখনও তিনি দশমহাবিদ্যা, কখনও রণচণ্ডী। তিনি অকাল বোধিতা।

আশ্বিনের শারদ সন্ধ্যায় আলোকবিন্দুর আলো মালায় উদ্ভাসিত দিনের অবসানান্তে মানব সভ্যতার অরুণালোকে। ভূমি ভেদ করে যাবে ভূকন্দলী ফুল উন্মীলিত হয়ে ঘোষণা করবে আবার—এইবার পৃথিবী শস্যশ্যামলা হবে শান্তির ললিত বাণীরমঞ্জিরে। তোমার সেই শ্রবণ মধুর বার্তা বহন করে মানস যাত্রী নীলকণ্ঠ মুণালদল মুখে নিয়ে জানাবে ধরিত্রীর আগমন বার্তা। দিকে দিকে ফুটে উঠবে গগনশিরিষ, ছাতিম, কাশফুল, শেফালি বিগলিত মদিরায়।

গান

ইয়া চণ্ডী...

[গানের সঙ্গে দেবীর আবাহনী নৃত্য।]

দৃশ্য ৩ : দেবীর রূপ

[সোনালি আলো। দেবীর প্রতীকী আবির্ভাব।]

পাঠ

পাঠক:

দুর্গা দুর্গতিহারিণী ভবতু নো রজোলসৎকুণ্ডলা।

সিংহারূঢ়া শশিশেখরা, মরকত মণির তুল্য প্রভাময়ী, চারিহস্তে শোভিতা, কেয়ূর, হার ও নূপুর এবং মৃদুমধুরধ্বনিযুক্ত চন্দ্রহার ও নূপুর পরিহিতা।


গান

সিংস্থা শশী শেখরা...

[গানের শেষে দেবীর চারদিকে নৃত্যশিল্পীরা অর্ধবৃত্ত তৈরি করবেন।]

পাঠ

আপনি শঙ্করের ঘরণী শঙ্করী, সুরেশ্বরী, মহালক্ষ্মী, গায়ত্রী, মাতঙ্গী, বগলামুখী। আপনি চামুণ্ডা, চণ্ডিকা, কাত্যায়নী, মহিষমর্দিনী, ছিন্নমস্তা—আপনিই মর্ত্যের উমা, জগৎজননী।

[একটু বিরতি। আলো লাল হবে।]

পাঠক:

মা, তুমি জাগো! জাগো মা!

গান

জাগো, জাগো তুমি জাগো—

দৃশ্য ৪ : দেবীর আগমন

[আকাশি ও সাদা আলো। বাঁশির আবহ।]

পাঠ

ওঁ সতী সাধ্বী ভবপ্রীতা ভবানী ভবমোচনী।

আর্যা দুর্গা জয়া আদ্যা ত্রিনেত্রা শূলধারিণী।।

পিনাকধারিণী, চিত্রা, চন্দ্রঘণ্টা, মহাতপা—সর্বমন্ত্রময়ী, সত্যা, সত্যানন্দস্বরূপিণী।

হে দেবী, আপনার আগমনের আলোর বেণুর ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস ও দশদিক উদ্ভাসিত ও মুখরিত হোক।

গান

বাজলো তোমার আলোর বেণু...

[গানের সময় ধীরে ধীরে সব নৃত্যশিল্পীর প্রবেশ।]

দৃশ্য ৫ : অসুরবধ

[আলো গাঢ় লাল। ঢাকের শব্দ শুরু। অসুর চরিত্রগুলির প্রবেশ।]

পাঠ: অসুর কূলের অত্যাচারে জর্জরিত দেবকূল ত্রিদেবের স্মরণাপন্ন হলেন। দেবত্রয়ের তেজপুঞ্জে দেবকার্য সিদ্ধির কারণে আবির্ভূতা হলেন জ্যোতির্ময়ী দেবী দুর্গা। ইন্দ্র দিলেন বজ্র, বরুণ দিলেন শঙ্খ, অগ্নি দিলেন শক্তি, পবনদেব দিলেন ধনু ও বাণ।

অন্যান্য দেবগণও দেবীকে বিভিন্ন ভূষণ ও আয়ুধ দ্বারা সম্মানিত করিলেন। দেবী উচ্চৈঃস্বরে সাট্টহাসং মুহুর্মুহুঃ নাদ করিলেন।

সেই সিংহনাদে চতুর্দিক কম্পিত এবং পৃথিবী ও পর্বত সকল বিচলিত হইল। 

অগ্নির মতো তেজস্বিনী দেবী দুর্গা চিক্ষুর, চামর ও উদগ্র মহাসুরদের বধ করলেন। দেবতাদের দেওয়া অস্ত্র ও অলংকারে সজ্জিতা হয়ে দেবী সিংহনাদে চতুর্দিক কম্পিত করলেন। দেবী দুর্গা চিক্ষুর, চামর, উদগ্র মহাসুরদের ক্ষয় করিলেন।

যিনি সময় উপস্থিত রবিচূলা রক্তবর্ণা, রক্তবর্ণ কেশে রূপ পরিচিতা, নয়নমালিনী, যাঁর চক্ষুদ্বয় জ্বলন্ত অগ্নিশিখার ন্যায়, যাঁর মুখমণ্ডল তিন নয়ন শোভিত এবং কমলবৎ সুন্দর, যাঁহার মুকুটে চন্দ্র রত্নরূপে নিবদ্ধ—সেই ঐশী মহাশক্তিময়ী দেবীকে আমি বন্দনা করি। অতঃপর কবন্ধ মহাসুর পুনরায় মহিষাকৃতি ধারণ করিল। অনন্তর জগন্মাতা চণ্ডিকা ক্রুদ্ধা হইয়া পুনঃ পুনঃ দিব্য সুরাপান করিয়া অট্টহাস্য করিয়া বলিলেন—

ময়া ত্বয়ি হতেহত্রৈব গর্জিষ্যন্ত্যাশু দেবতাঃ।।

[দেবী ত্রিশূল ধারণ করবেন।]

[ঢাকের তীব্র বোল। যুদ্ধনৃত্য।]

গান

ওগো তোমার আগমনী...

দৃশ্য ৬ : দেবীর আবির্ভাব

[আলো ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হবে। ]

পাঠ

সবাহনায় স আয়ুধ রমনীয় নারী-মূর্তি শঙ্করের তেজে মুখমণ্ডল দীপ্ত, যমের তেজে কেশে তমসাময়ী, বিষ্ণুর তেজে সুদৃঢ় বাহু সমন্বিতা জগন্মাতৃকা, যোগমায়া দেবী দুর্গা।

ঋক্ মন্ত্রে দেবী ঘোষণা করলেন—

“অহং রুদ্রেভির্বসুভিশ্চরাম্যহম্

আদিত্যৈরুত বিশ্বদেবৈঃ।”

গান

অহম রুদ্রেভী...

দৃশ্য ৭ : দেবীর মহিমা

[সাদা আলো। দেবী স্থির ভঙ্গিতে।]

পাঠ

হে দেবী! আপনি দেবগণের প্রতি সৌম্যা, আবার অসুরের প্রতি রুদ্ররূপিণী। আপনি পরমেশ্বরের মহাশক্তি, সকল সুন্দর বস্তুর চেয়েও সুন্দরী।

আপনার শুভ্র শঙ্খের ধ্বনিতে সমগ্র নিখিল ধ্বনিত হোক।

গান

শুভ্রশঙ্খ রবে...

দৃশ্য ৮ : দেবীর মহারূপ

[আলো ধীরে ধীরে দেবীর মুখে কেন্দ্রীভূত।]

পাঠ

জটাজুটে শোভিত, অর্ধচন্দ্রধারিণী, ত্রিনয়না, পূর্ণিমার চাঁদের মতো মুখমণ্ডল, অতসী পুষ্পের মতো বর্ণ এবং সর্বাভরণভূষিতা—এই মহাশক্তিময়ী দেবীকে আমরা বন্দনা করি। 

জটাজুট সমাযুক্তামর্ধেন্দু কৃতশেখরাম্।

লোচনত্রয় সংযুক্তাং পূর্ণেন্দু সদৃশাননাম্।।২।।

অতসীপুষ্প বর্ণাভাং সুপ্রতিষ্ঠাং সুলোচনাম্।

নবযৌবনসম্পন্নাং সর্বাভরণভূষিতাম্।।৪।।

গান

জটাজুট...

[গানের শেষে ৩–৪ সেকেন্ড নীরবতা।]

পাঠ: দেবী প্রপন্নার্তিহরে প্রসীদ

প্রসীদ মাতর্জগতোখিলস্য।

প্রসীদ বিশ্বেশ্বরি পাহি বিশ্বং

ত্বমীশ্বরী দেবি চরাচরস্য॥

আধারভূতা জগতস্ত্বমেকা

মহীস্বরূপেণ যতো স্থিতাসি।

অপাং স্বরূপস্থিতয়া ত্বয়ৈতৎ

আপ্যায়তে কৃত্স্নমলঘ্যবীর্যে।

ত্বং বৈষ্ণবী শক্তিরনন্তবীর্যা

বিশ্বস্য বীজং পরমাসি মায়া।

সম্মোহিতং দেবি সমস্তমেতৎ

ত্বং বৈ প্রসন্না ভুবি মুক্তিহেতুঃ॥

দৃশ্য ৯ : চণ্ডীর বন্দনা

[ঢাকের মৃদু বোল। লাল আলো।]

পাঠ:যা চণ্ডী মধুকৈটভদৈত্যদলনী যা মাহিষোন্মূলিনী

যা ধূম্রলোচনচণ্ডমুণ্ডমথনী যা রক্তবীজাশনী।

শক্তিঃ শুম্ভনিশুম্ভদৈত্যদলনী যা সিদ্ধিদাত্রী পরা

সা দেবী নবকোটিমূর্তিসহিতা মাং পাতু বিশ্বেশ্বরী।।

যে চণ্ডিকা মধুকৈটভ দৈত্যনাশিনী, যিনি মহিষাসুর মর্দিনী, যিনি ধূম্রলোচন, চণ্ড ও মুণ্ডাসুর সংহারিণী, রক্তবীজ ভক্ষয়িত্রী, যে মহাশক্তি শুম্ভ-নিশুম্ভাসুর বিনাশিনী ও শ্রেষ্ঠা সিদ্ধিদাত্রী এবং নবকোটী সহচরী পরিবৃতা, সেই জগদম্বা দেবী আমাকে পালন করুন। 

গান: 

নমঃ চণ্ডী...

দৃশ্য ১০ : দেবী সর্বভূতে

[আলো কোমল হবে। বিভিন্ন বয়সের নৃত্যশিল্পীরা দেবীর চারপাশে অবস্থান করবেন।]

পাঠ

ত্রিগুণে তমসী দেবী সান্ত্বিকী যা নিরূপিতা।

সা শর্বা চণ্ডিকা দুর্গা ভদ্রা ভগবতীর্ভতে।।

ত্রিগুণময়ী দেবী তামসী, রাজসী, সাত্ত্বিকী — ত্রিবিধা। আপনি শর্বা, চণ্ডিকা, দুর্গা, ভদ্রা, ভগবতী।

নমো দেব্যৈ মহাদেব্যৈ শিবায়ৈ সততং নমঃ।

নমঃ প্রকৃত্যৈ ভদ্রায়ৈ নিয়তাঃ প্রণতাঃ স্ম তাম্।।

দুর্গায়ৈ দুর্গপারায়ৈ সারায়ৈ সর্বকারিণ্যৈ।

নমো জগৎ প্রতিষ্ঠায়ৈ দেব্যৈ কৃত্যে নমো নমঃ।। দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোহস্তে তে।।

মধুকৈটভবিধ্বংসী বিধাতৃবরদে নমঃ। রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি।।


১৩) রূপং দেহী জয়ং দেহী...


গান

রূপং দেহী জয়ং দেহী...

দৃশ্য ১১ : দেবীর করুণা

[আলো উজ্জ্বল। পেছনে মৃদু আবহসংগীত।]

পাঠ: 

দেবী আপনি অনন্তবীর্যা বৈষ্ণবী শক্তি। আপনি বিশ্বের আদি কারণ মহামায়া। আপনি সমগ্র জগৎকে মোহগ্রস্ত করিয়াছেন। আবার আপনি প্রসন্ন হইলে ইহলোকের অশরণাগত ভক্তকে মুক্তি প্রদান করেন। 

রোগানশেষানপহংসি তুষ্টা

রুষ্টা তু কামান্ সকলানভীষ্টান্।

স্বামীতানাং ন বিপন্নরাণাং

স্বামীত্বা হ্যাস্যতাং প্রযান্তি।।

দেবী! আপনি সন্তুষ্ট হইলে সকল প্রকার রোগ বিনাশ করেন। আবার রুষ্ট হইলে অভীষ্ট বস্তু সমূহ নাশ করেন।

হে জগদীশ্বরী! দুর্গতিনাশিনী! 

মর্ত্যবাসীর সাধনা সার্থক করেন। 

হে জগদীশ্বরী! আপনি বিশ্ব পরিপালন করেন। হে বিশ্বরূপিণী বরদাত্রী। আপনার কৃপায় চতুর্বর্গ ফল লাভ হয়।  আপনি দুর্গতিনাশিনী...

গান

দুর্গে দুর্গে দুর্গতিনাশিনী...

দৃশ্য ১২ : মাতৃরূপে দেবী

[সোনালি আলো। ধীর নৃত্য।]

পাঠ

ষড়ৈশ্বর্যময়ী দেবী নিত্যা হয়েও বারংবার আবির্ভূতা হন। তিনি জগৎকে রক্ষা করেন। তাঁর করুণায় বিশ্ব বিমোহিত এবং তাঁর অমৃতময় রূপে ধরিত্রী পায় নতুন প্রাণ।

গান

ও মা ত্রিনয়নী...

দৃশ্য ১৩ : মহাশক্তি

[মঞ্চে শান্ত পরিবেশ। ঘণ্টাধ্বনি।]

পাঠ

ত্বং স্বাহা ত্বং স্বধা ত্বং হি বষট্কারঃ স্বরাত্মিকা।

সুধা ত্বমক্ষরে নিত্যে ত্রিধা মাত্রাত্মিকা স্থিতা।। আপনিই স্বাহা, স্বধা, বষট্কার ও স্বরাত্মিকা। আপনি নিত্যা, আপনি ব্রহ্মতত্ত্বের প্রকাশিকা। আপনাকে দিবারাত্র সারা বেলা প্রণাম করি।

গান

সারা বেলা...

দৃশ্য ১৪ : জয়ধ্বনি

[ঢাক ধীরে ধীরে জোরালো হবে।]

পাঠ

হে নন্দা ভগবতী, আপনার স্তব, পূজা ও ধ্যানে জগৎ পবিত্র হয়। হে নীলকণ্ঠ মহাদেবের সহধর্মিণী, হিমালয়ের কন্যা, মহিষাসুরমর্দিনী—আপনার জয় হোক, জয় হোক।

গান

জয় জয় জপ্য...

দৃশ্য ১৫ : চূড়ান্ত আবাহন

[সমস্ত শিল্পী মঞ্চে। দেবী কেন্দ্রে। প্রথমে অন্ধকার, তারপর ধীরে ধীরে পূর্ণ আলো।]

পাঠ: 

যে দেবী সর্বভূতে বিষ্ণুমায়া, চেতনা, বুদ্ধি, নিদ্রা, ক্ষুধা, শক্তি, শান্তি, শ্রদ্ধা, দয়া ও মাতৃরূপে বিরাজিতা—

তিনি আমাদের জীবনের শক্তি, তিনি আমাদের আশ্রয়, তিনি জগজ্জননী।

[৩ সেকেন্ড নীরবতা।]

পাঠ: 

যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু চেতনেত্যভিধীয়তে।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।


যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু ছায়ারূপেণ সংস্থিতা।

যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু দয়ারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

শ্রীচরণবিন্দে--দেবশ্রী মজুমদার

গান ও নৃত্য

অয়ি গিরি নন্দিনী + যুদ্ধ

[শেষে ঢাকের তীব্র বোল → একসঙ্গে সব শিল্পীর স্থির ভঙ্গি → দেবীর দিকে প্রণাম।]

         আলো ধীরে ধীরে নিভে যাবে।

               সমাপ্তি: ওঁ শান্তি।

                  শ্রীচরণবিন্দে—

                   দেবশ্রী মজুমদার

ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পত্তি লেনদেনের অভিযোগে তদন্তের দাবি

 ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পত্তি লেনদেনের অভিযোগে তদন্তের দাবি






রামপুরহাট : রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক  ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পত্তি লেনদেনের অভিযোগে FIR নথিভুক্ত করে CBI তদন্ত শুরু করার জন্য অনুরোধ জানান জনৈক নলহাটির বাসিন্দা সুবোধ কুমার শ। সেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি জানতে তথ্য জানার অধিকারে ফের আবেদন জানান সুবোধবাবু। 

চলতি বছরের ১১ অগাস্ট তারিখের আবেদনের ভিত্তিতে মাত্র ষোলো দিনের মধ্যেই "২০০৫-এর অধীনে তথ্য প্রদানে"র  জবাবি উত্তরে জানানো হয়েছে যে, রামপুরহাট বিধায়ক ধ্রুব সাহার বিরুদ্ধে বিষয়টি নলহাটি থানার GDE নং 1487, তারিখ 24.06.2026-এর মাধ্যমে ডায়েরিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আরটি আই উত্তরে সন্তুষ্ট না হলে, চিঠি প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল কর্তৃপক্ষের (গাইকওয়াড নিলেশ শ্রীকান্ত, IPS অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (H.Q.), বীরভূম)  কাছে প্রথম আপিল দায়ের করা যেতে পারে। এছাড়াও, নলহাটি থানার কেস নং 292/26-এর সঙ্গে সম্পর্কিত তাঁর গ্রেফতারের বিষয়ে সুবোধ বাবু আপত্তি জানান এবং এটিকে একটি মিথ্যা মামলা বলে দাবি করেন। তিনি চিকিৎসা-সংক্রান্ত মূল্যায়ন/পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও অভিযোগ করেন এবং নলহাটি হাসপাতাল ও BJP অফিসের CCTV ফুটেজ পর্যালোচনা করার জন্য অনুরোধ জানান। সেই বিষয়টিও SI অরিন্দম দেবনাথের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে তিনি বিষয়টি বিশদভাবে তদন্ত করে সেই অনুযায়ী রিপোর্ট জমা দেন।

বাবা বাগেশ্বর ও চিট্টি আয়ি হ্যায়: বাবা বাগেশ্বরের আরেক কম্ম= দেব ঋষি

 বাবা বাগেশ্বর ও চিট্টি আয়ি হ্যায়: বাবা বাগেশ্বরের আরেক কম্ম



কাল্পনিক শিশুর চিঠিতে বাবাজির ভয়! ভাবা যায়!NCERT-এর তৃতীয় শ্রেণীর পরিবেশ বিজ্ঞান বইয়ে 'চিঠি আই হ্যায়' (চিঠি এসেছে) নামে একটি সাধারণ চ্যাপ্টার বা অধ্যায় ছিল। সেখানে দ্য ওয়ার্ল্ড এ্যারাউণ্ড ইউ একটা চ্যাপ্টার আছে। সেখানে একটি ছোট বাচ্চার চিঠির নমুনা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে 'রীনা' নামের একটি কাল্পনিক শিশু চরিত্র তার বন্ধু 'আহমদ'-কে ছুটিতে আগরতলা বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লেখে এবং শেষে লেখে "তোমার রীনা"। ব্যস! এটাই তাঁর কাছে শিশু লাভ জেহাদ। চিঠির মূল উদ্দেশ্য ছিল, শিশুদের বোঝানো যে কীভাবে ডাকযোগের মাধ্যমে চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা হয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী NCERT-এর তৃতীয় শ্রেণির পরিবেশবিদ্যার (EVS) পুরনো বই 'আস-পাস' (Aas-Pass বা দ্য ওয়ার্ল্ড এ্যারাউণ্ড ইউ )-এর এই 'চিঠি আয়ি হ্যায়' পাঠটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। এই বিতর্কটির মূল আপত্তির জায়গা ছিল যে পাঠ্য বিষয়টিতে 'রীনা' নামের একটি হিন্দু মেয়ে তার মুসলিম বন্ধু 'আহমদ'-কে চিঠি লিখছে। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী অভিযোগ করেন যে, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর মাধ্যমে ছোট শিশুদের মনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা লাভ জেহাদ। তিনি অবিলম্বে এই পাঠটি বই থেকে বাদ দেওয়ার বা সংশোধন করার দাবি ওঠে। প্রথমে অভিযোগ খারিজ করলেও, NCERT পরে জানায় যে, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা (NCF 2023) অনুযায়ী ইতিমধ্যেই পুরনো পরিবেশবিদ্যার বইটি পরিবর্তন করা হয়েছে। এভাবেই তিনি বিভিন্ন সময়ে হিন্দু ধর্মের রক্ষা করে আসছেন, বলে তিনি হয়তো ভেবে থাকেন। 

আবার এটাও সত্যি যে তাঁর এই ধরণের মন্তব্যর জন্য একবার মহারাষ্ট্রের সরকারি পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিলো। কারণ মানুষের বিক্ষোভ। 

 বাবাজি নিজেও আগত ভক্তদের মনের কথা কাগজে হুবহু লিখে তাক লাগিয়ে দেন। আর তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই, বাবা পলায়ন করেন, এই দাবি আমার আপনার না। দাবি, অখিল ভারতীয় অন্ধ শ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির প্রধান শ্যাম মানবের। তিনি বাবাজির তথাকথিত চিরকুট প্রণালীর অলৌকিক ক্ষমতা বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রমাণ করার জন্য ৩০ লক্ষ টাকার এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাবার ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিলো মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বাগেশ্বর ধামে। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বাবা ১১ জানুয়ারি স্থান ত্যাগ করেন। আর তাকেই পলায়ন বলে ধরে নেন অনেকেই।।

মণ্ডপের পিছনে চিকেন বার্গার ভোজীরা বাগেশ্বর বাবাজির কাছে পাখণ্ডী- দেব ঋষি

 মণ্ডপের পিছনে চিকেন বার্গার ভোজীরা বাগেশ্বর বাবাজির কাছে পাখণ্ডী



 মুখ্যসচিব থেকে মুখ্যমন্ত্রী যাঁর কাছে ভক্তিতে গদগদ হয়ে দণ্ডায়মান, তিনি অনেক কিছু ফরমান জারি করার অধিকারী হন। এটা বলার জন্য সংবিধানের জ্ঞান অত্যন্ত নগন্য বিষয়। এর আগেও ২০২৪ সালে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী NCERT-এর তৃতীয় শ্রেণির পরিবেশবিদ্যার (EVS) পুরনো বই 'আস-পাস' (Aas-Pass)-এর 'চিঠি আই হ্যায়' পাঠটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। এই বিতর্কটির মূল বিষয় ছিল যে পাঠ্য বিষয়টিতে 'রীনা' নামের একটি হিন্দু মেয়ে তার বন্ধু 'আহমদ'-কে চিঠি লিখছে। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী অভিযোগ করেন যে, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর মাধ্যমে ছোট শিশুদের মনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই পাঠটি বই থেকে বাদ দেওয়ার বা সংশোধন করার দাবি ওঠে। NCERT পরে জানায় যে, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা (NCF 2023) অনুযায়ী ইতিমধ্যেই পুরনো পরিবেশবিদ্যার বইটি পরিবর্তন করা হয়েছে। এভাবেই তিনি বিভিন্ন সময়ে হিন্দু ধর্মের রক্ষা করে আসছেন, বলে মনে করেন। 

বাগেশ্বর বাবাজিকে এই কারণে কেউ কেউ বাগাড়ম্বরেশ্বর বললেও দোষের হবে কি? বলছেনও তাই। ব্রাহ্মণ্যবাদ বলতে যেটা সবাই বোঝে। এই বাংলায় তার শিকড় ভারতের অন্য প্রান্তে যতটা গভীরে যেতে পেরেছে তা এই বাংলায় পারে নি। কারণ বাঙালি। বিদ্যাসাগর থেকে রামমোহন রায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কেশব চন্দ্র সেন, মহর্ষি দেবেন্দ্র নাথ ঠাকুর আর কত নাম বলবো। সারদা মা বলেছেন, আমার ছেলেপুলেরা আমিষ চেটেপুটে খাবে। নিরামিষ খাবে না। আমি বলছি। স্বয়ং রামকৃষ্ণ দেব বলেছেন, হবিষ্যি করেও, আমিষাশী নরেণের উচ্চতায় পৌঁছুনো অসম্ভব। এরকম উদাহরণের শেষ নেই। 

বাগেশ্বর বাবাজি বাংলার বাঙালির চব্য চোষ্য লেহ্য পেয় খাদ্যাভাষের উপর কড়া ফতোয়া না দিয়ে ধর্মীয় অজ্ঞতা বা ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারতেন। কালিকা পুরাণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে পারতেন, ওরে, মুঢ, বাঙালি সন্তান, মা মদ্যপায়ী নন। সাধনমার্গে একজন সিদ্ধ সাধক মদের উপর ভর করেন নি। নিজের মার মুখে মদ তুলে দিতে পারবি?-- “সোমধারা ক্ষরে যাতু ব্রহ্মরন্ধ্রাদ্ বরাননে। পীত্বানন্দময়ীং তাং যঃ স মদ্যসাধকঃ।” অর্থাৎ ব্রহ্ম তালুতে সুধারস ক্ষরিত হলে, তাহাই মদ্য। স্থুল মদ বা সুরা নয়। মাংস, মায়ের সামনে বলির মাংস না। 

“মা শব্দে রসনা শ্রেয়ো তদংশং রসনাপ্রিয়ে। সদা যো ভক্ষয়েদ্বি স এব মাংসসাধকঃ।” মৎস বা মাছ মায়ের জন্য পুকুর থেকে ধরে বা কিনে আনতে হবে না। “গঙ্গা যমুনয়োর্মধ্যে মৎস্যৌ চরতঃ সদা।

তৌ মৎস্যৌ ভক্ষয়েদ্ যস্তু স ভবেত্ মৎস্যসাধকঃ।” প্রাণায়ামের ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুন্মা জাগ্রত করে কুম্ভকে সেই মাছের সাঁতার হবে। মৈথুন হবে ষটচক্র ভেদ করে আজ্ঞাচক্রে সহস্রার শিব ও শক্তির মিলনে। না, এসব কথা না বলে, উনি কখনও শিশু লাভ জেহাদ, আবার কখনও আমিষ জেহাদে পড়ে রইলেন। বাঙালির মস্তিস্ক এতো স্থুল নয়। এই রাজ্যে বিজেপি তাঁর বক্তৃতায় আসে নি। তৃণমূল সরকারের অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে এসেছে। জনতা আম ও দুধের মাখো মাখো মিলন দেখছে। এসব দৃশ্যপট ঘোরাতেই কি বাজে বকবকানি? বাংলায়, বিভিন্ন খাদ্যাভাস আছে। পোশাক থেকে বিভিন্ন রুচির পোশাক ও উৎসব পালনের রেওয়াজ আছে। সেখানে হাত দিলে, বিজেপির কপালে নির্ঘাৎ শনি আছে। মনে আছে? ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান (বাংলার লিলুয়ায় হনুমান কথার মতো শ্রীরাম কথা) চলছিল। সেই সময় 'অখিল ভারতীয় অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি'-র প্রধান শ্যাম মানব তাঁকে তাঁর তথাকথিত অলৌকিক ক্ষমতা বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রমাণ করার জন্য ৩০ লক্ষ টাকার একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। অনুষ্ঠানটি ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ১১ জানুয়ারি নাগপুর ত্যাগ করেন। এর জেরে শ্যাম মানব এবং সমালোচকরা দাবি করেন যে, বাগেশ্বর বাবা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে ভয় পেয়ে দুই দিন আগেই নাগপুর থেকে পালিয়ে গেছেন। এই অভিযোগ নিয়ে চাপান উতোর নিশ্চয়ই আছে। তবে এটাও সত্যি মহারাষ্ট্রের সরকারি পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিলো, মানুষের বিক্ষোভের কারণে। বাংলায় কংগ্রেসের পক্ষে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে পেটরোগা (প্রতিবাদ হলে, অন্ধ ভক্তরা পেট রোগা বলে মনের ঝাল মেটাতে পারেন) বাঙালির মধ্যে ইতিমধ্যে পেটে ভুটভাট শুরু হয়েছে। বাবাজির কথা বাঙালির হজম হয় নি। আর সেজন্যই কৌরবকুলের পিতামহ ভীষ্মের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বলতে হচ্ছে - "বাঙালি নবমীতে কচি পাঁঠার ঝোলও খাবে, আবার অষ্টমীতে মায়ের ভোগের লুচি-তরকারি, খিচুড়ি, পায়েসও খাবে। বাঙালি কী খাবে, কীভাবে পুজো করবে, সেটা কোনো রাজনৈতিক দল ঠিক করে দেবে না। তাই কিছু হেরে যাওয়া রাজনৈতিক দলের অপপ্রচারে কান দেবেন না। বাঙালি তার নিজের দুর্গাপুজো, নিজের ঘরের মেয়ে উমাকে যেভাবে বছরের পর বছর আপন করে, আনন্দ করে, ভালোবেসে উদযাপন করে এসেছে, এবারও ঠিক সেভাবেই করবে। দুর্গাপুজো দুর্গাপুজোর মতোই হবে।।"

ব্রহ্মাণ্ডে কে আমিষ, কে নিরামিষ? দেবশ্রী মজুমদার

          ব্রহ্মাণ্ডে কে আমিষ, কে নিরামিষ?



একাদশীর উপবাসের পর চড়চড়িয়ে খিদে বাড়ে। অবশ্য কিছুটা রসিকতার সুরে স্বামী বিবেকানন্দ এব্যাপারে বলেছিলেন, তাঁর ক্ষুধা এত বেড়েছিল যে "কষ্ট করে থালা-বাটিগুলো খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি।"

স্বামী বিবেকানন্দ-র মহাপ্রয়াণের দিন ১৯০২ সালের ৪ জুলাই দুপুরের আহার সম্পর্কে প্রচলিত স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে যে তিনি সেদিন সকলের সঙ্গে বসে খেয়েছিলেন— ভাত, প্রিয় ইলিশ মাছের ঝোল, ভাজা, অম্বল ইত্যাদি। একবার রামকৃষ্ণদেবের কাছে নরেনের মাছ মাংস প্রীতি নিয়ে কিছু ভক্ত অনুযোগ করেন। তার উত্তরে তিনি বলেন, তোরা হবিষ্যি করলেও নরেনের উচ্চতায় পৌঁছুতে পারবি না। 

মা সারদাও বলেছেন, আমার সন্তানেরা কেউ নিরামিষ খাবে না, সবাই আমিষ খাবে। 

এই আমিষ - নিরামিষ প্রসঙ্গর অবতারণা, সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী বা বাগেশ্বর বাবার একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে। 

হাওড়ার লিলুয়ায় আয়োজিত একটি ধর্মীয় সভায় তিনি মন্তব্য করেন যে, দুর্গাপূজার সময় প্যান্ডেলের পেছনে বা প্রতিমার পাশে আমিষ খাবার রান্না ও বিক্রি করা অনুচিত। এমনকি নবরাত্রির দিনগুলোতে যারা মাছ-মাংস খায়, তাদের তিনি ‘পাখণ্ডী’ বলেন। তিনি বলতেই পারেন। ব্রহ্মান্ড তো একটি অণ্ড বা ডিম। সেই ব্রহ্মাণ্ড কি নিরামিষ? 

মনুস্মৃতি-র (১.৯) বলেছে- তৎ অণ্ডম অভবদ্ ধৈমং সহস্রাংশুসমপ্রভম্। তস্মিন যজ্ঞে স্বয়ং ব্রহ্মা সর্বলোকপিতামহ:।। অর্থাৎ আদি সৃষ্টির এই অণ্ড যা ব্রহ্মাণ্ড বা হিরণ্যগর্ভ তা ছিল সুবর্ণময়, সহস্র সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল। তার মধ্যেই ব্রহ্মার আবির্ভাব। তিনি সমগ্র জগতের পিতামহ বা সৃষ্টিকর্তা। তিনি আমিষ না নিরামিষ? ছাত্রবয়সে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ইংলণ্ডে বই পড়ে জেনেছিলেন, ডিম নিরামিষ। খেয়েও ছিলেন। তারপর পিতাশ্রীর কাছে তাঁর অপরাধ স্বীকার করে মার্জনাও চেয়েছিলেন। 

 প্রাক নির্বাচন প্রচারে যতই য়াব্বড় মাছ হাতে বিজেপি প্রার্থীরা প্রচার করেন, এখন বাগেশ্বর বাবা বলছেন, আমিষ ভোজীরা পাষণ্ড। তন্ত্রমতে, তারাপীঠে মায়ের ভোগে বিভিন্ন প্রকারের মৎস ও পাঁঠার মাংস দেওয়া হয়। দক্ষিনেশ্বরেও মায়ের ভোগে বিভিন্ন প্রকারের মৎস পদ থাকে। যদিও তন্ত্রমতের সাথে মানুষের খাদ্যাভাষের কোনো সম্পর্ক নেই। বাগেশ্বর বাবা তন্ত্রের পঞ্চ "ম" নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিতেই পারতেন। কিন্তু, "না"। তিনি বলতে পারতেন, পঞ্চ ম-কার কী? ​'মদ্যং মাংসং তথা মৎস্যং মুদ্রা মৈথুনমেব চ শক্তিপূজাভিধানে পঞ্চতত্ত্বং প্রকীৰ্তিতম্।।'

​—মহানির্বাণ তন্ত্র, ৫ম উল্লাস।

​অর্থাৎ শক্তিপূজা-প্রকরণে মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা ও মৈথুন—এই পঞ্চতত্ত্ব সাধনস্বরূপে কীর্তিত হইয়া থাকে।

​মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা, মৈথুন এই পাঁচটি ‘ম’। পঞ্চ ম-কার বাইরে থেকে দেখলে অত্যন্ত স্থূল। এর গভীরেই অত্যন্ত গভীর সূক্ষ্ম তত্ত্বটি বিদ্যমান। একেই বলে পঞ্চ-তত্ত্ব। “সোমধারা ক্ষরে যাতু ব্রহ্মরন্ধ্রাদ্ বরাননে। পীত্বানন্দময়ীং তাং যঃ স মদ্যসাধকঃ।” অর্থাৎ, ভক্তের রাতুল হৃদয়, মা মা, তুমি মদ খাও বলে যে আকুতি দেখায়, তা ভুল। ভক্তের ব্রহ্মরন্ধ্র থেকে নি:সরিত রস বা সুধা হলো মদ। একইভাবে মাংস সাধক বলতে মায়ের সামনে পাঁঠা বলি দেওয়া নয়। বাক্য সংযমী হয়ে ইন্দ্রিয় সংযত হলেই মাংস সাধক হওয়া সম্ভব। “মা শব্দে রসনা শ্রেয়ো তদংশং রসনাপ্রিয়ে। সদা যো ভক্ষয়েদ্বি স এব মাংসসাধকঃ।” আর মৎস্য কী? “গঙ্গা যমুনয়োর্মধ্যে মৎস্যৌ চরতঃ সদা। তৌ মৎস্যৌ ভক্ষয়েদ্ যস্তু স ভবেত্ মৎস্যসাধকঃ।” প্রাণায়ামের মধ্যে কুম্ভককে ব্যবহার করে ঈশ্বর চেতনা লাভ। এসব ব্যাখ্যা দিতে পারতেন। কিন্তু, "না"। তিনি মন্তব্য করলেন, বাঙালির খাদ্যাভাষ নিয়ে। শাসকদলকে বুঝতে হবে, এটা বিজেপি শাসিত রাজ্য হলেও, গোবলয় হয়ে যায় নি। বাঙালি অত্যাচারিত হয়ে বাংলায় বিজেপিকে এনেছে। বাংলায় ভেদাভেদহীন একটা মিশ্র সংস্কৃতি চলে। পুজো ক'দিন চিকেন বার্গার, চিকেন / মাটন বিরিয়ানি, সিফুড নুডলস, চাইনিজ থেকে চিজি পনির টিক্কা, চিজি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, মাশরুম চিলি সবই চলে। পোশাকেও গামছা শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, পালাজো, জিন্স ও বিভিন্ন ফিউশন তো আছেই। এসব নিয়ে দারোয়ানী বাঙালি বরদাস্ত করবে না। বাঙালি শুধু ধুতি পরে না, ধুতি থেকে সব কাপড় খুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেবে। তাই সাধু সাবধান। বিজেপির মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেছেন, বাগেশ্বর বাবার সাধু হিসেবে নিজের বক্তব্য থাকতেই পারে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য অবশ্য বলেছেন, বাঙালি নবমীতে পাঁঠা খাবেই। রসিক বাঙালির পদ এবার পদ্যময় হোক। একটুকু প্রার্থনা।

প্যারা কনহা- দেব ঋষি ০৬/০৯/২৬







প্যারা কানহা


কান্হা কি তোমার একা
জড়িয়ে আমি কি রাই,
জড়িয়ে সারা বরসোনা। 
আমি না হয় গোলাপ কুঁড়ি
খোসবাগেতে ফুটি,
মরু কাবায় সেজদা দি,
নবীর পায়ে লুটি।।
তবুও কানু আমার সোনা
পৃথক ভেবো না।।
জড়িয়ে আমি কি রাই,
জড়িয়ে সারা বরসোনা। 

Gadget

​"নাটক" সাড়ে সব্বনাশ- দেবশ্রী মজুমদার

                             ​"নাটক"                         ​     সাড়ে সব্বনাশ ​                      একাঙ্ক নাটক : কিশলয় নাটক :...

Popular