ব্রহ্মাণ্ড বা কসমিক এগ কি আমিষ? প্রাণীজ অণ্ড দেখি কখনও পাতে, কখনও মাথে দেবশ্রী মজুমদার

একাদশীর উপবাসের পর রসিকতার সুরে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন যে, তাঁর ক্ষুধা এত বেড়েছিল যে "কষ্ট করে থালা-বাটিগুলো খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি।" স্বামী বিবেকানন্দ-র মহাপ্রয়াণের দিন ১৯০২ সালের ৪ জুলাই দুপুরের আহার সম্পর্কে প্রচলিত স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে যে তিনি সেদিন সকলের সঙ্গে বসে খেয়েছিলেন— ভাত, প্রিয় ইলিশ মাছের ঝোল, ভাজা, অম্বল ইত্যাদি। যিনি বিশ্ব ব্রহ্মান্ডকে এতো ভালো বুঝেছিলেন, তাঁকেই প্রশ্নটা করা যেত, ব্রহ্মাণ্ড বা কসমিক এগ কি আমিষ? মনুস্মৃতি-র (১.৯) বলেছে- তৎ অণ্ডম অভবদ্ ধৈমং সহস্রাংশুসমপ্রভম্। তস্মিন যজ্ঞে স্বয়ং ব্রহ্মা সর্বলোকপিতামহ:।। অর্থাৎ আদি সৃষ্টির এই অণ্ড যা ব্রহ্মাণ্ড বা হিরণ্যগর্ভ তা ছিল সুবর্ণময়, সহস্র সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল। তার মধ্যেই ব্রহ্মার আবির্ভাব। তিনি সমগ্র জগতের পিতামহ বা সৃষ্টিকর্তা। তিনিই একমাত্র আমিষ ও নিরামিষে ব্যাখ্যা দিতে পারেন। এই দ্বিধা আজকের নয়। ছাত্রবয়সে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ইংলণ্ডে বই পড়ে জেনেছিলেন, ডিম নিরামিষ। খেয়েও ছিলেন। তারপর পিতাশ্রীর কাছে তাঁর অপরাধ স্বীকার করে মার্জনাও চেয়েছিলেন। যাই হোক, এই প্রাণীজ অণ্ড দেখি কখনও পাতে, কখনও মাথে। মাথার চুল পরিচর্যা, ফেস মাস্ক, এলার্জি না থাকলে ত্বক পরিচর্যাতেও ব্যবহৃত। বর্তমানে বিদ্যালয় শিক্ষায় দু'একদিন পাতে ডিম পড়ে। আর সেদিন কচিকাচাদের ভিড় বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে সরকারি সিদ্ধান্তে সেই ডিম বন্ধ। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে পুষ্টিকর সোয়াবিন বরাবর থেকেছে। এবার পরিবর্তে পাল্টি খাবার হিসেবে থাকবে রাজমা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে পনির থাকতেও পারে। ইসকন সম্প্রদায় এই খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকবে। এরফলে কোন সমস্যা হবে কি হবে না, সেটা মিডডে মিল/ সেল্ফ হেলফ গ্রূপ ও ইসকন সম্প্রদায়ের ঘরোয়া মামলা। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের রাজ্য সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র কে সমাজ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে শোনা গেলো। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানালেন, এই প্রাণীজ অণ্ড বা ডিম একটি সহজলভ্য সুষম প্রোটিন। বায়োএবসর্পসন খুব ভালো। ৯টি প্রয়োজনীয় এ্যামাইনো এ্যাসিড, ফ্যাট, পলি/ মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এ্যাসিড, ভিটামিন, মিনারেল প্রাচুর্যে ভরপুর । কার্বোহাইড্রেট প্রায় নেই বললেই হয়। এর ফলে প্রাণীজ প্রোটিন বাদ পড়লে শিশুরা বঞ্চিত হবে। উত্তর -দক্ষিণ ভারতে ভূ- সাংস্কৃতিক খাদ্যাভাস বঙ্গ বান্ধব কতটা হবে সেটা পরীক্ষা প্রার্থনীয়। যারা নিরামিষ স্বাদিষ্ট ও পুষ্টিকর আহারের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করছেন, তারা বলছেন, সপ্তাহে দু'দিন ডিমের থেকে ছ'দিন ডালের পাওয়ার হাউস, প্রোটিন রিচড্ রাজমা, সোয়াবিন ও পনির পেলে ক্ষতি কি? বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বলছেন, বলেছিলাম না? প্রাক নির্বাচন প্রচারে যতই য়াব্বড় মাছ হাতে বিজেপি প্রার্থীরা প্রচার করুক না, আমিষ বন্ধ করে দেবে। হুঁহুঁ ঠিক কিনা? একদম গোঁড়া থেকেই খাদ্যাভাষ ত্যাগ করিয়েই ছাড়বে। কেউ কেউ বলছেন, খরচ বাঁচবে। চালচুরি বাঁচবে। আর ডিমের যা দাম! আবার কেউ বলছেন, দাম তো বেশি বাড়লো সেদিন থেকে যেদিন ডিম অস্ত্র হিসেবে উন্নীত হলো। অর্থাৎ ডিম্বাস্ত্র এবং সঠিক প্রয়োগ। খেলার মাঠে বল ছুঁড়ে কোন স্টাম্প ছুঁড়তে পেরেছে কিনা জানা নেই। কিন্তু নিখুঁত নিশানা। যেই কোন অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলীয় নেতা কর্মী আটক হয়ে থানা বা আদলতে যাচ্ছেন, পুলিশের সামনেই একদম মাথার মিডল স্টাম্প উড়িয়ে দেওয়ার যোগাড়। ভয়ঙ্কর ডিম্বাস্ত্র। নিত্যনন্দন তার আগের এডিশনে যে সংবাদ বের করেছে, তাতে জানা গেছে, প্রশাসন এবার ডিম্বাস্ত্র প্রয়োগকারীদের তালিকা করছে। তাই সমঝে চলাই ভালো। আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এক অনুষ্ঠানে 'ডিম্বাস্ত্র' ব্যবহারের সাম্প্রতিক প্রবণতার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, "ডিম ছোড়ার এই সংস্কৃতি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না এবং এতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল হচ্ছে না।" বিজেপির রাজ্য সভাপতি খুব সুন্দর কথা বলেন। এক একটি পদ। উপাদেয়। এখন দেখার ডিম্বাস্ত্র মাথায় পড়ে, না পাতে পড়ে।।

কেশ ও নিকেশ রাজনীতি : রসে টইটুম্বুর হলেও ভবি ভোলে না দেবশ্রী মজুমদার

অভিনেতা অনুপম খেরের টাঁকে চুল গজায় নি, উনি খুব খুশি। সম্প্রতি কোলকাতায় বিজেপির রাজ্য সম্পাদক শমীক ভট্টাচাৰ্য -র সঙ্গে দেখা করে, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গেলেন তিনি , তাঁর মন্তব্যের জন্য। তিনি বললেন, ঈশ্বরের কাছে তাঁর প্রার্থনা ছিল, তাঁর টাঁকে যেন কেশ সঞ্চার না হয়। অর্থাৎ যাক তাঁর কেশ, তবুও নিকেশ হোক তৃণমূল সরকার। এই হোল "কেশ ও নিকেশ" রাজনীতি। বলিউড অভিনেতা অনুপম খেরকে আমরা মস্তক মুণ্ডিত অবস্থায় দেখে অভ্যস্ত। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী কিরণ খের বিজেপির সাথে যুক্ত। সেই সুবাদে তিনিও বিজেপির দিকে ঢলে আছেন। সারা বাংলায় পট পরিবর্তনে তিনিও আশাবাদী ছিলেন। তিনি যেহেতু বাংলার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন, তাই বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর মতো তার ভীষণ কেশ প্রতিজ্ঞা ছিলো না। দ্রৌপদীও (যদিও মহিলা, অবশ্যই অবলা নন) কেশ উন্মুক্ত রেখে তাঁর প্রতিজ্ঞা রেখেছিলেন ও কৌরব বংশ নিকেশ করেছিলেন। এক্ষেত্রে কেশের-ই নিকেশের জয়। প্রাক নির্বাচনে শমীক ভট্টাচাৰ্য কী বলেছিলেন? "আকাশ মাটিতে নেমে আসতে পারে, সমুদ্র আকাশে উঠে যেতে পারে, এমনকি অনুপম খেরের টাঁক মাথায় চুলও গজাতে পারে, কিন্তু বাংলায় তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরবে না।" এই মন্তব্যের পর অনুপম খের রসিকতার সুরে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন: "আরে ভাইয়া জি! আমি আপনার কী ক্ষতি করলাম? আপনি কেন চান যে আমার মাথায় আবার চুল গজাক? আমি তো কোনওদিনই সেটা চাই না!" মহাকবি কালিদাসের সুন্দর উপমা দিয়ে একটু ভাবুন, সরকারের পট পরিবর্তন হলো না। কিন্তু অনুপম খেরের মাথায় সুন্দর নয়নাভিরাম কেশ সঞ্চার হলো। কালিদাস লিখলেন, "সনীলালক-মধ্যশোভি মুখম্।" ঘন কৃষ্ণবর্ণ অলকের (কুঞ্চিত কেশের) মাঝখানে শোভিত মুখমণ্ডল। আহা, কী অপূর্ব! কুমার সম্ভবের আগমন হলো, কার্ত্তিক কোন্ অসুর বধ করলেন, কতো শ্লোক রচিত হয়েছিল, আরও কত রচিত হবে, সে অন্য বিষয়। কিন্তু এই রসাস্বাদন খালি পেটে কতটা সইবে, বাংলার কেশবতী কন্যেরা বুঝবে। যখন ঝাড়াই মারাইয়ের পর এককোটি চল্লিশ লক্ষ মা জননীরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ পড়বেন। কারন বাজেটে রাহা খরচ বাবদ তো বরিদ্দ এক কোটির। সাকুল্যে ৩৬ হাজার কোটি। আগের সরকারের বরাদ্দ বাজেট থেকে এক কোটি বেশি মাত্র। কিন্তু ডবল ইঞ্জিন সরকারের ডবল পেমেন্ট তিন হাজার টাকা। পাশাপাশি, এই বাজেটে চুক্তি ভিত্তিক রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের একটাকাও বাড়ে নি। শুধুমাত্র আংশিক চুক্তি ভিত্তিকদের আংশিক বেড়েছে। আরেকটা দেখা গেছে, সেটা প্রমাদ বলে মনে হচ্ছে, শিক্ষা ক্ষেত্রে এজেন্সী চালিত সংস্থার শিক্ষা কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধি ঘটানো হয়েছে। এটাও কি আদৌ সম্ভব? সদ্য এসেছে এই সরকার। শোনা যাচ্ছে, আগের সরকারে বিস্তর দুর্নীতি। বাড়ির দেওয়ালে অপরিচর্যার বেহালে শ্যাওলা পড়ে গেছে। ঘষা মাজা করে রঙ হবে। ঝাঁ চকচকে না হলেও, তক তকে হবে। কারণ পূর্বতন সরকার প্রচুর ঋণ করেছেন। ঘি খেয়েছেন। ক্ষমতার বাইরে থাকা বিজেপি, আর ক্ষমতার অলিন্দে থাকা বিজেপি এক নয়। প্রতি ইঞ্চিতে মানুষ মাপবে। বিজেপি যেটা বলছে, পূর্বতন সরকারের (ভালো তৃণমূল বাদে) সবাই হয় সরাসরি দুর্নীতি পরায়ন, না হয় দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। জনগণের একাংশও দুর্নীতিকে আশ্রয় করে বিভিন্ন প্রাকল্পিক সুবিধা ভোগী হয়েছে। দুই একজনের শাস্তিও হয়েছে। এক্ষেত্রে বিজেপি এখন আগমার্কা সততার প্রতীক। যদিও এটা তারা মুখে বলে নি। বরং আগের সরকার সেটা বড়াই করে বলতে অভ্যস্ত ছিলো। জনগণ শুধু নজরে রাখছে। নিট পেপার লিক নিয়ে সারা দেশে শুধু তেলেপোকা নয়, আপামর যুবক সমাজ ক্ষুব্ধ। এই আংশিক বাজেটে সব দিশা দেখানো সম্ভব নয়। যতদিন বিজেপি ক্ষমতায় ছিলো না, ততদিন ইস্যুগুলো ছিলো অনেকটাই ভার্চুয়াল। বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ, মুর্শিদাবাদে এক পরিবারের দুই সদস্যদের খুন। দাঙ্গার পরিবেশ। বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশে আক্রমণ, এগুলো ছিলো ক্ষমতায় আসার অগ্নি -ইন্ধন মাত্র। এখন সরকারে আসার পর, এই ইস্যুগুলো আর নেই। মানুষ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আনন্দ মেলা নিয়ে মেতে থাকে, যতদিন পেটে সয়। অর্থাৎ পিঠে খেলে পেটে সয়। এখন হকার উচ্ছেদ থেকে বেশ কিছু বাস্তব ইস্যু মানুষের ধর্মীয় প্রকোষ্ঠেও অনুপ্রবেশ করতে শুরু করেছে। মাইকে আজানের আওয়াজ বাড়লো, কি কমলো, এই বিষয় ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। মানুষ যেদিন বুঝে যাবে, অর্জুনকে ভগবান কৃষ্ণের সেই উপদেশ- যে বিধি না মেনেও অন্য কারো উপাসনা করে, সে আমার-ই উপাসনা করে। "যে অপি অন্যদেবতা ভক্তা যজন্তে শ্রদ্ধয়ান্বিতা । তে অপি মামেব কৌন্তেয় যজন্ত্যবিধিপূর্বকম্ ॥ ২৩ ॥" তখন মাইকের আজান নিয়ে যারা ভাবতো, সেই মানুষগুলো আর ভাবিত হবে না। এখানেই বিজেপির বিপদ। বিজেপি ক্ষমতায় এলে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ অসাম্প্রদায়িক হতে বাধ্য। এই কৃতিত্ব অবশ্যই বিজেপির। মুসলিম সম্প্রদায় নিজেরাই বলতে আরম্ভ করে, গোরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করা হোক। মহরমেও কোন অস্ত্র প্রদর্শন হয় নি। অর্থাৎ প্রতিটি ইস্যু শুধু প্রশাসন নয়, মুসলিম ভাইয়েরা ইতি টেনে দিচ্ছেন। তাহলে এবার পড়ে থাকলো শুধু কাজ। কাজ আর কাজ। পাঁচটা বছর খুব বেশি নয়। কাজ বলতে শুধু হকার উচ্ছেদ নয়। পুনর্বাসন হলো, সমাধান, পরিসমাপ্তি। সেটা পূর্বে কে করেছিলো, করেনি সেটা মানুষের কাছে আজ আর কোন বিষয় নয়। সিস্টেম ঠিক করতে গিয়ে "Boiling Frog Syndrome" ভুলে, জনগণকে একেবারে গরম জলে ফেললে, উল্টো ফল অবশ্যম্ভাবী। তখন বিজেপি গোপ-গোপীদের কেশ সজ্জাও হবে না, কুঞ্জ সাজানোও হবে না। গাইতে হবে--আমায় যেন (শ্যাম) ছেড়ে যায় না, প্রবোধ দিও তারে”।

"নেতাজি বনাম শ্যামা প্রসাদ" -রাস্তার নাম পরিবর্তনের গিমিক রামপুরহাটে দেবশ্রী মজুমদার

বেশি দিনের ঘটনা না। ৬ জুলাই রামপুরহাটের একটি পুরাতন রাস্তার নাম ছিলো নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু রোড।সুভাষ নামাঙ্কিত রাস্তাটি বদলে শাসকদল ড. শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় রাখলেন। এই নাম পরিবর্তন একটি সরকারি পদ্ধতির মধ্যে হয়ে থাকে। সময় সাপেক্ষ। কিন্তু যে ঘোষণায় কমলা উত্তরীয় পরিহিত পুরপিতা সৌমেন ভকত এবং বিধায়ক ধ্রুব সাহা উপস্থিত থাকেন। তার একটা গুরুত্ব থাকে। আর সেখানেই বিতর্ক। রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড় থেকে ঝনঝনিয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার নতুন নাম ঘোষণা করা হয় শাসক দলের পক্ষে। এই রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয় ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড’। ইতিমধ্যেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ছ’টি নামফলক ও কাট-আউট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই রাস্তার সঙ্গে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান বিধায়ক ধ্রুব সাহা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সম্মান জানানো হয়েছে, তেমনি শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থারও আরও উন্নয়ন হবে। নাম বদলের এই রাজনীতির ঘা, নেতাজিকে ছুঁতে পারবে না, তিনি তো হৃদয়ে, আমরা সবাই জানি। ১৯৩৯ সালের ১৯ আগস্ট মহাজাতি সদনের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে দেশ নায়ক অভিধায় ভূষিত করেন। এটাও স্পষ্ট করে বলি, ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান কোন অংশে খাটো করে দেখার নয়। তাঁর অবদান কারো থেকে কোনো অংশে কম নয়। দেখুন, তালাত মাহমুদের কাঁপা গলায় গান, আমার ভালো না লাগতেই পারে। তার পরিবর্তে লতা মঙ্গেশকরের গান বহু গুণে ভালো মনে হতেই পারে। কিন্তু এটা জানা দরকার, লতাজীর অন্যতম প্রিয় গায়ক ছিলেন তালাত মাহমুদ। তিনি তাঁর গান শুনতে ভালো বাসতেন। মতাদর্শের পার্থক্য থাকা সত্বেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নেতাজিকে কতটা শ্রদ্ধা করতেন, তাঁর লেখা ডায়েরির পাতা থেকে উদ্ধৃতি দিলে পরিষ্কার হবে। তিনি বলেছেন, "আমরা—বিশেষ করে আমি—সুভাষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ পোষণ করতাম না। বরং তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ ছিল। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করতাম যে, ভারতের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, বিশেষত বাংলায়, তাঁর সমকক্ষ আর কেউ ছিলেন না।" এখন প্রশ্ন, এই নাম পরিবর্তনে আসলেই কি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সম্মান প্রদর্শন করা হলো? নাম বদল, রঙ বদল, ভোল বদল, পালা বদলের পরেও কতটা প্রাসঙ্গিক, রাজনীতিকরা কি এব্যাপারে কোনোদিন ভাববেন না? না, মানুষের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করবেন না? প্রশ্ন থাকলো। হিন্দু সভা নিয়ে যেমন নেতাজির ব্যক্তিগত মতামত ছিলো। তিনি হিন্দু সভার রাজনৈতিক মতাদর্শের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মুসলিম লীগের সঙ্গে জোট সঙ্গী হওয়ার বিরোধী ছিলেন। নেতাজির রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু চিত্ত রঞ্জন দাসের স্বরাজ্য দল ১৯২৩ সালে যে বেঙ্গল প্যাক্ট এনেছিল। ইন্টারনেটে সার্ফ করলে বোঝা যাবে তখন কার দিনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি কী ছিলো। এই গোটা বেঙ্গল প্যাক্টকে মৌলনা আবুল কালাম আজাদ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, তাঁর ইণ্ডিয়া উইনস ফ্রিডম গ্রন্থে। তিনি বলেছেন, বেঙ্গল প্যাক্ট অনুসারিত হলে, দেশের বিভাজন থেমে যেতো। তিনিও মৌলবাদের শিকার হন। ট্রেন থেকে তাঁকে নামিয়ে মুখে কালিঝুলি মাখিয়ে দেন চরমপন্থীরা। দূর্ভাগ্যের বিষয়, তাঁরা ছিলেন নিজের সম্প্রদায়ের মানুষ। নেতাজিও ছিলেন চরমতম অসাম্প্রদায়িক মানুষ। আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাবাহিনীর খাবার পরিবেশনে ঝটকা মাংস ও জবাই মাংস মিশিয়ে দিয়ে বলতেন, হিন্দু মুসলিম উভয়ের জাত মেরে দিলাম (সুভাষ ঘরে ফেরে নাই)। সেই নেতাজির নামাঙ্কিত রাস্তা পরিবর্তন হলে সবাই ব্যাথা পাবেন, এটাই স্বাভাবিক। প্রতিবাদ না হওয়াটা অস্বাভাবিক। এসইউসিআই দলের বীরভূম জেলা সম্পাদক মদন ঘটক এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে বিকৃত করার উদ্দেশ্যেই জাতীয় নেতাদের গুরুত্ব খর্ব করার চেষ্টা চলছে। নেতাজির নামে দীর্ঘদিনের একটি রাস্তার নাম পরিবর্তন সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেরই অংশ বলে দাবি করেছে তাদের দল। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু নেতাজির স্মৃতির প্রতি অসম্মান নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের প্রতিও আঘাত। এসইউসিআই অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে 'নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু রোড' নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত উদ্ধৃতি থেকে জেনে নিই, বিজেপি কী ভাবছে, কতটা ভাবছে? বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি ঠিক জানা নেই। তাই না জেনে মন্তব্য করবো না।

আইনের ফাঁস এড়াতে দল পরিবর্তন, "মূর্খের স্বর্গ বাস", সুকান্তর বরাভৈ দেবশ্রী মজুমদার

সম্প্রতি আর জি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত অধুনা লটারি কাণ্ডে জেল যাত্রার আশঙ্কা থেকে ঋতব্রত তৃণমূল বৈঠকে হাজির হন নির্মল ঘোষ, যার হৃদয়ে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, যারা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়িয়ে ভাবছেন বেঁচে যাবেন, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। তাদের শাস্তি পেতেই হবে। হয়তো সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন। আমরা সবাই জানি, সৎ সঙ্গে স্বর্গ বাস, অসৎ সঙ্গে নরক বাস। বর্তমান সরকারের আমলে মূর্খের স্বর্গ বাসের প্রকৃত রূপ কী হবে জানা নেই। সৎ ও অসৎ বিষয়টি বেশ গোলমেলে হয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন। তবে নির্মলদের মতো এই মূর্খ -চতুরদের ক্ষেত্রে পৃথক ফল স্বাভাবিক কিনা, আজ হোক,বা কাল হোক, ক্রমশ প্রকাশ্য। যদিও সুকান্ত মজুমদারের বরাভৈকে বিশ্বাস করতেই হবে। কারণ এই সরকার মাত্র কয়েক মাস এসেছে। পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে অভয়ার মা প্রথম থেকেই সরব ছিলেন। পূর্বতন মমতা সরকার অভয়া কাণ্ডে আসল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থায় নেয় নি। এমনকি তার ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে দলীয় প্রার্থী করে দেয়। তাই অভয়ার বিচার চাইতে মা রত্না দেবনাথ মানুষের আশীর্বাদ চান এবং তা পেয়ে আজকে পানিহাটির বিধায়িকা। বিধান সভার প্রথম দিনে অভয়ার কথা বলতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেন রত্না দেবী। আর জি কর ফাইলস খোলে সরকার। বিষয়টি সিবিআইয়ের অধীন। অবশ্য কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সাত দিনের মধ্যেই কিছু একটা হবে আশা ছিলো তাঁর হয়তো বা। ১১ জুলাই নির্মল ঘোষ ফের খবরের শিরোনামে। লটারি মামলা থেকে বাঁচতে ঋতব্রত তৃণমূলের বৈঠকে যোগদান করেন তিনি? কেউ কেউ বলছেন, তিনিও কি তবে ভালো তৃণমূল হওয়ার পথে? আমরা রাজ্যবাসী সবার ভালো চাই। এমনকি "সবাই ভালো হোক" চাই। তবে নির্মল ঘোষের মতো লোক যেন ভালো না হন, এটাই চাই। "ভালো" বলতে 'ভালো তৃণমূল'। এই 'ভালো তৃণমূল' ট্যাগ একবার হয়ে গেলে, গরিব গাড়ি চালকটি ডিয়ার লটারির ১ কোটি টাকা ফেরৎ পাবেন না এবং সর্বোপরি রত্না দেবীর জীবনের লক্ষ্যটাই হারিয়ে যাবে। তবে সুকান্ত বাবু, সকলকে আশ্বস্ত করেছেন দোষীদের বিজেপিতে পুনর্বাসন হবে না। ঋতব্রত তৃণমূলে যে কেউ যেতেই পারেন। তবে, নির্মল ঘোষের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এমনটাই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠিত সত্য যে নির্মল ঘোষ লোকটি সহজ খেলোয়াড় নন। কারণ তিনি ঋতব্রত -তৃণমূলের তপসিয়া বৈঠকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। নির্মল ঘোষ বলছেন, তিনি আমন্ত্রিত ছিলেন। ঋতব্রতর সাথে কথা হয়েছে। আবার কথা হবে। চাপান উতোরে ঋতব্রত উল্টো গেয়ে বলেন, নির্মল ঘোষকে তারা কেউ আমন্ত্রণ জানান নি। তাঁকে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। ছাব্বিশের প্রাক নির্বাচন সময় কালে রত্না দেবনাথের মুখে ভয়ঙ্কর কথা ছিলো, "প্রশাসনিক ক্ষমতায় না থাকলে, মেয়ের বিচার পাবো না।" গণতন্ত্রের বিপক্ষে এমন বিপদজনক শব্দ আর হয় না। তাহলে অসাধারণ না হলে, ধর্ষিতা বিচার পাবে না। এর থেকে ভয়ঙ্কর আর কী হতে পারে? এক্ষেত্রে রত্নাদেবী সঠিক বিচার না পেলে তিনি, তাঁর পরিবার, রাতের রাস্তা যারা দখল করেছিলো এবং সমগ্র রাজ্যবাসী এক নুতন দৃষ্টান্তের সাক্ষ্মী হবেন। যা হবে খুবই হতাশাজনক। সবাই জানে, আর জি কর মেডিক্যালে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের। আর জি কর মেডিক্যালের নিহত চিকিৎসক যেখানে থাকতেন, তিনি সেখানকারই বিধায়ক। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, নির্মল ঘোষের তত্ত্বাবধানেই হাসপাতাল থেকে দেহ বের করে বাইরে নিয়ে আসা হয়। ধর্ষণ-খুনের পর তাড়াহুড়ো করে দাহ করে ফেলা হয় চিকিৎসকের দেহ। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ। তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক অভিযোগ অস্বীকার করলেও চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের তদন্তে তাঁকে তলব করে সিবিআই। তাই তো রত্না দেবী বলেন, পুলিশ নির্মল ঘোষকে খুঁজে পাচ্ছে না। আসলে ধরছে না। আমি পুলিশকে ফোন করেছি। কেউ ছাড়া পাবে না। আমি ছাড়বো না। আমার অভিশাপে একটা বড়ো দল ছিন্নভিন্ন হলো। অনেকে মনে করছেন, 'কালীঘাট-তৃণমূল' ছেড়ে এখন সেই নির্মল ঘোষ 'ঋতব্রত তৃণমূল'-র তপসিয়ার বৈঠকে আসছে, নিজ স্বার্থে। আর তাতেই, অনেক বিতর্ক জন্ম দিয়েছে। তবে সেই জল্পনায় জল ঢালার চেষ্টা করেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। নির্মল ঘোষ এও বলেন যে, তিনি জাভেদ খানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেপাত্তা থাকার পর হঠাৎ উদয়। এতদিন কোথায় ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তা কেউ জানেন না। লটারি প্রতারণা মামলায় ধরপাকড় শুরু হতেই কি তবে তাঁর এই শিবির বদল? 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর বৈঠক চলাকালীনই হাজির ছিলেন নির্মল ঘোষ। যদিও নির্মল ঘোষের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সুকান্তবাবুরাও ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের বক্তব্য দেবেন। শীর্ষ নেতৃত্ব যা বলবেন, তাই করতে বাধ্য হবেন। তারপর একটা ব্যাখ্যা দেবেন। তবে আপাতত পরকীয়া প্রেম নিয়ে ছোঁক ছোঁক না দেখিয়ে এমন ভাব যেন,অতি পীরিত যেখানে, নিত্য যাবে না সেখানে”।

পুশ ইন - পুশ ব্যাক কোন মুভি থ্রিলার থেকে কম নয়, সুনালি, দানেশ ও সুইটি বিবিদের। পিছন ফিরে তাকালেই, গুলি... দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম :

Green Border (২০২৩) পোল্যান্ড–বেলারুশ সীমান্তে শরণার্থীদের বারবার পুশব্যাক ঘটনার উপর নির্মিত বাস্তবধর্মী ও আবেগঘন ছবি হাত তালি কুড়িয়েছে অনেকের। কিন্তু আমাদের দেশের নাগরিকদের পুশ - ইনের ছবি এখনো নির্মিত হয় নি। হতভাগ্য সুনালী সুইটি বিবিদের জীবনের এক বছর চোদ্দ দিন, কম মর্মস্পর্শী, হৃদয় বিদারী নয়। এই ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। নাগরিকের বেনাগরিক করে তোলার কাহিনী। অবশ্যই স্যালুট ভারতীয় বিচার ব্যবস্থাকে! ২০-২১ বছর দিল্লির রোহিনী পল্লিতে থেকে কাজ করে দিন গুজরান করতো সুনালী খাতুন ও সুইটি বিবিদের পরিবার। কিন্তু গতবছর ২৪ শে জুন নেমে এলো সেই ভয়ঙ্কর দিন। রোহিনী পল্লী থেকে দানেশ সেখ ও সুইটি বিবিদের বাংলাদেশী সন্দেহে ধরে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আগেই হাতিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি অন্তস্বত্বা সুনালীর ডাক্তারি কাগজ, মোবাইল ফোন। হুমকি দেয়, কথা না শুনলে, সুনালিকে আলাদা পাচার করে দেবে। দানেশ সেখ নিজের জবানিতে বলেন, পুলিশ তার কাছে তিন লক্ষ টাকা চেয়েছিলো। দানেশ জানিয়েছিল, তাদের কাছে রয়েছে ২৫-৩০ হাজার কারণ গ্রামের বাড়ি পাইকর থেকে কুরবানী সেরে সদ্য ফিরেছে। পুলিশ দানেশের কাজের জায়গার ম্যানেজার, এলাকার সাফাইকর্মী কারো কথায় শোনে নি। সবাই তাদের হয়ে অনুরোধ করেছিলো, ছেড়ে দিন। গরীব মানুষ। আম্বেদকর মেডিক্যাল হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্ট করে, কোর্টে তাদের তুলে মিথ্যা তথ্য জমা দিয়ে পুলিশ জানালো তারা বাংলাদেশী, কোনো কাগজ তারা জমা দিতে পারে নি। ২৬ শে জুন তাদের নিয়ে মোট ৭০ জনকে এয়ারপোর্ট থেকে আসামের ধুবড়ির কাছে বাংলাদেশ কুড়ি গ্রাম সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্যাম্পে বাংলাদেশীদের হাতে বাংলাদেশী মুদ্রা দেওয়া হয়। দানেশ সেখদের সঙ্গে দুজন বাংলাদেশী ছিল। একজন একটি পোস্টের কাছে নেমে যায়। আরেকজন দালাল গোছের লোক গাড়ি থেকে তাদের মাঝপথে নামিয়ে দেয়। সেখানে বি এস এফ তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে বলে। দানেশ জানায়, তখন রাত বারোটা না একটা ঠাউর করতে পারছিলাম না। বর্ষার সময়। ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছিল। হঠাৎ আমাদের ছয় জনকে বি এস এফের একজন বললেন, সামনে ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড় দিয়ে সরসর করে চলে যাবি। পিছনে তাকালে গুলি করে দেবো। ছেলে বৌ সবাই তাদের হাতে পায়ে ধরে কাঁদতে থাকলাম, শুনলো না। বললে, এই সামনের জঙ্গলে বাঘমারারা আসে, ওরা জানতে পারলে বিপদে পড়বি, কাঁদিস না। অগত্যা এক পা জল ভুঁইয়ে দেড় থেকে দু'দিন হেঁটে চলেছি, বলে চলে দানেশ। সারা রাতা মহিলা ও শিশুদের নিয়ে জংলি পথে হাঁটা। দিনের আলো ফুটলে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর হয়ে নদীর জল আর কলার বন থেকে কাঁচা কলা খেয়েই জীবন বাঁচাতে হয়েছে। তারপর কুড়ি গ্রামের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সেখানে প্রাণ ভরে একদিন একটু খাওন দাওন হয়েছিল। কিন্তু সেখানে আশ্রয় গেল। দানেশ বলেন, আসলে ওটা ছিলো দালালের বাড়ি। যারা বিজিবি ও বিএস এফের মিডলম্যান। সেই বিজিবিকে ফোন করে আমাদের ধরিয়ে দেয়। তারপর শুরু হলো আরেক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। দানেশ জানান, বিজিবি অফিসার তাদের কাদা জল মাখা পোশাক দেখে বাঘমারা চোরা শিকার পাচারকারি মনে করে। দানেশের কাছে নেই টাকা, নেই কোনো নথি। হিন্দিতে নিজের নাম লিখতে পারতো। সেটা দেখেই বিজিবি নিসন্দেহ হয়, তারা ইণ্ডিয়ান। এতক্ষণ পুশ ইন কবলে তারা ভুগলো। এবার পুশব্যাক। এবার সেই দালাল তাদের দায়িত্ব নিয়ে, বিজিবিকে জানিয়ে দিলো, সেই ম্যানেজ করে দিচ্ছে। কিন্তু কিছুটা হেঁটে কুড়ি গ্রামের একটা ফাঁকা পথ দেখিয়ে সেই দালাল বলে দিলো, সোজা হাঁটবে। আধ ঘন্টা গেলেই, আমার লোক থাকবে। সেই তোদের বর্ডার পার করে দেবে। যেহেতু আমরা টাকা দিতে পারি নি, তাই সে সাথে গেলো না। বহু অনুরোধ করেও কোনো লাভ হলো না। বিএস এফ হেড লাইটে তাদের যথারীতি দেখে ফেলে চিৎকার করে ওঠে, রুক্ রুক্। গুলি করে দেবো। ক্যাম্পে নিয়ে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয় আমাকে, বলে দানিশ। লাঠি, ঘুষি চালায়। বন্দুক দিয়ে মারতে গেলে আমি সরে যেতেই, সেই বন্দুকের আঘাত লাগে আমার ওই টুকু ছেলে সাবের সেখের মাথায়। সুনালীকে থাপ্পড় মারা হয়। সন্তান সম্ভবা বলে মাফ করা হয় নি। সুইটিকেও চড় থাপ্পড় মারা হয়। পরে আমার জামা খুলে পিঠে মারের দাগ দেখে ওষুধ দেয়। খাবার ও দেয়। তারপর রাত বারোটা নাগাদ গাড়িতে চাপিয়ে ফের একটা জায়গাতে নামিয়ে দেওয়া হয়। দানেশ বলেন, বিএস এফ বর্ডারে হ্যালোজেন নিভিয়ে বলে সামনের রাস্তা ধরে চলে যা। বুঝলাম, আবার পুশ ইন। আল্লাহ কে ডাকতে ডাকতে অন্ধকারে সবাই চলতে লাগলাম। পিছনে দেশের সৈন্য। তারা বন্ধুক তাক করে আমাদের দিকে। সামনে বিদেশী সৈন্য। আমরা কোথাকার! কোন দেশের! ঠিকানা ছাড়া, ঠিকানার খোঁজে। ছেলেরা ভয়ে কাঁদতে ভুলে গেছে। সুনালীর হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। উপায় নেই। ১০ কিমি হেঁটে একটা নদী পেলাম আমরা। পড়ে শুনেছি ওটার নাম নাকি দুধকুমার। ভারতে শঙ্কোস বলে। জিঞ্জির নৌকা টেনে পেড়িয়ে একটা বড়ো নদী দেখলাম। সেখানে বাঁশের সেতু। ধরলা নদী পেরিয়ে সোনাহাটি বন্দর যাওয়া যায়। এরপর দেখলাম আরেকটা বড়ো নদী। এক ফোঁটা পানি নাই। হেঁটে পেরোলাম। বোধহয় ওটা তিস্তা নদী। দানেশ বলে, সোজা ঢাকা মেট্রো শহরে হাজির হলাম আমরা। একটা বাড়িতে বললাম, আমাদের কাছে একটা ফোন নাম্বার আছে, একটু ফোন করতে দিন। বাড়িওয়ালা বললো, কাজ করো তারপর ফোন করতে দেবো। তার বাড়িতে তিন দিন রাজমিস্ত্রির কাজ করার পর, একটু খেতে আর ফোন করতে দেয়। দানেশ জানায়, সুইটিবিবির মামাতো ভাই আমির খানের কাছ থেকে ঢাকার ফারুক সেখের নাম্বার পায় সে। সেই নাম্বারে ফোন করে অনেক সমস্যা মিটে যায়। ততদিনে সুনালী, সুইটি ও ছেলেরা হোটেলে বাসন ধোয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে। ফারুক সেখ একজন চিকিৎসকের ছেলে ও ব্যবসায়ী। তিনি তাঁর নিজের বাড়িতে তিন চার দিন রাখার পর, বাসা বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। জামা কাপড়, খাবার দাবারের ব্যবস্থা করে দেন। ইতিমধ্যে জানাজানি হয়ে যায় আমাদের কথা। পুলিশ আমাদের জেলে পাঠিয়ে দেয়। তারপর ভারত থেকে মোফাজিল সেখ বাংলাদেশে এসে মামলার তদবির করে। তিন মাস দশ দিন পর সুনালি ও ছেলে সাবেরের জামিন হয়। ক্যাপশন: ছেলে আপনকে কোলে নিয়ে দানেশ সেখ

বিধবা মাছ ছোবে না ছ'মাস, ক্রান্তিকাল কি তার আগেই উত্তীর্ণ? দেবশ্রী মজুমদার

সহজে অনুমেয়। সেই মহা সন্ধিক্ষণ সমুপস্থিত। বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির তিন নেতৃত্বের হাতে পদ্ম পতাকা ধরিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বললেন, ‘এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়, তাঁরা বিজেপি কর্মী।’ তিনি আরও বলেন, ‘চার ঘণ্টার তৃণমূলের জন্য দরজা বন্ধ। যাঁরা মানুষকে লুঠ করেছে তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ।’ রঙ্গিলা রসিকতা করবে। অনেক নিন্দুক বলতে শুরু করেছে, জানতুম, বিধবা ছ'মাস মাছ ছোঁবে না। এতো দেখছি, এদের এতো দেরিও সয় না! আই এ্যাম তো অবাক! অবাক হওয়ার কিছু নেই। জার্সি বদল করে দল বদল খেলারই অঙ্গ। দর্শকের কাজ দেখা, শুধু দেখা সে কেমন খেলছে। কেউ কেউ তো তলে তলে একাদশী বিধবার মতো নিরম্বু উপবাস রেখে পুকুরে ডুব দিতে যাওয়ার নাম করে ডুবে ডুবে জল খায়। মহাভারতে মহামতি ভীষ্ম একবার যুধিষ্টিরকে বলেন- "শত্রুর্ মিত্রং ভবত্যেব, মিত্রং চাপি প্রদুষ্যতি। কার্যাকার্যবশাদ্ রাজন্, নিত্যং লোকস্য বর্তনম্॥" যার বাংলা অর্থ হলো- হে রাজন, শত্রুও মিত্র হয়ে যায়, আবার মিত্রও শত্রু হয়ে যায়। মানুষের সম্পর্ক কার্য, প্রয়োজন ও পরিস্থিতির কারণেই পরিবর্তিত হয়। তাই অবাক হওয়ার কিছুই নেই। ইহাও সম্ভব, উহাও সম্ভব, সম্ভব তো যুগে যুগে। রাজনীতি যারা করেন, তারা জানেন, রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী শত্রু বলে কিছু নেই; স্থায়ী থাকে স্বার্থ, লক্ষ্য ও পরিস্থিতি। রাজনীতির মতো যতো কিছু জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সব ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে। পুরাণে দেখা যায়, রাম–সুগ্রীব: প্রয়োজনে মৈত্রী। দ্রোণ–দ্রুপদ: বন্ধু থেকে শত্রু। বিভীষণ–রাম: ধর্মের জন্য পক্ষ পরিবর্তন। দেবতা–অসুর: স্বার্থে সাময়িক জোট। স্বার্থ একটা থাকেই। একটু বৃহৎ পরিমণ্ডলে দেখলে আরও ভালো পরিষ্কার হবে। ইতিহাসের পাতায়, এমন বহু উদাহরণ আছে যেখানে দেখা যায়—স্থায়ী শত্রু বা স্থায়ী মিত্র বলে কিছু নেই; পরিস্থিতি ও ব্যবহারের ভিত্তিতেই সম্পর্ক বদলে যায়। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ দেওয়াই যেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে যুক্ত রাজ্য ও সোভিয়েত ইউনিয়ন আদর্শগতভাবে একে অপরের বিরোধী ছিল। কিন্তু হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করার পর তারা একই জোটে যোগ দেয়। যুদ্ধ শেষে আবার ঠাণ্ডা লড়াইয়ে তারা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। পুরন্দরের সন্ধি চুক্তি হয় শিবাজী ও জয় সিংহের মধ্যে। পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে আবার সংঘাত শুরু হয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বহুল উদ্ধৃত নীতি রয়েছে: "Nations have no permanent friends or permanent enemies, only permanent interests." বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তো এব্যাপারে রাজনৈতিক নজির স্থাপন করেছে। এব্যাপারে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো: ভারতীয় জনতা পার্টি ও জনতা দল (ইউনাইটেড) বহু বছর জোটসঙ্গী। তাবলে কি মাঝে মাঝে তাদের মধুচন্দ্রিমা ভঙ্গ হয় নি? ২০১৩ সালে তাদের জোট ভাঙে। ২০১৭ সালে আবার জোট। ২০২২ সালে আবার বিচ্ছেদ। ২০২৪ সালে পুনরায় জোটে ফেরা। ফের ২০২৬ শে জোট সঙ্গী। শিবসেনা ও ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র। ২০১৯ মহারাষ্ট্র সরকার গঠন-এর পর জোট ভেঙে যায়। পরে শিবসেনার একাংশ একনাথ শিন্ডে-র নেতৃত্বে আবার বিজেপির সঙ্গে সরকার গঠন করে। পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও ভারতীয় জনতা পার্টি মতাদর্শে ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও জম্মু ও কাশ্মীর-এ সরকার গঠন করে। তাই নীতি ও আদর্শ এই কথাটা কাঁঠালের আমসত্ত্বের মতো শোনায়। অনর্গল সুন্দর কথার ফাঁকে শমীকবাবু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য অর্গল খোলা হবে। এদিন তার সূচনা হলো। এটা অনেকের কাছে শুধু আবেগ নয়, বেগের। কারণ উন্নয়ন থেমে আছে। পঞ্চায়েত ত্রিস্তরে, পৌরসভায় এই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য অনেক খেলোয়াড় প্রায় বসে আছে। দাঁতে বসা রস আর রসিকতা, এক নয় বস। রসায়নের পরিভাষায়, এই ধারণাকে বলে, কালেক্টিভ ইফেক্ট। অনেক মৌল, আয়ন, বা অনু একসঙ্গে যুক্ত হলে এমন আচরণ দেখা দিতে পারে যা একক কণার পক্ষে সম্ভব নয়। সমবায়ী বন্ধন, আয়নীয় আকর্ষণ, বা জালিকা গঠনের মাধ্যমে তা সমষ্টিগত বৈশিষ্ট্যে রূপ নেয়। পদার্থ বিদ্যায়, যেমনটা তড়িৎ পরিবাহিতা, চৌম্বকত্ব। সমাজ বিজ্ঞানে এমার্জেন্ট সোশ্যাল ফোর্স। এরা ডিম ছুঁড়তে পারে। এরা কি না পারে। একুশের বিধান সভার নির্বাচনোত্তর সহিংসতা দেখলে, এখন তাদেরই আচরণ দেখলে সহিষ্ণুতা বলে ভ্রম হতে পারে। এই বিচিত্রতা আছে। অনেকেই কোন রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যত নিয়ে ইতি টানছেন। অনেক সময় অনেক শাসক দল রিবাউণ্ড ইফেক্ট বুঝতে পারেনা। জার্মানিতে নাৎসি দল আর ফেরে নি। তবে নব্য নাৎসি ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক পার্টি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাই কোন দলকে না ভেঙে, শর্ত দিয়ে দমাতে চায় অনেকে। কিন্তু তাতেও খুব ফল হয় নি। প্রতিবেশী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ: ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করেছিল; পরে স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে পুনর্জীবিত হয়, আর বহুদলীয় রাজনীতি ফিরে এলে আবার সক্রিয়ভাবে সংগঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামী: স্বাধীনতার পর দলটি নিষিদ্ধ ছিল; ১৯৭৯ সালে আবার সক্রিয় হয়, যদিও পরে আবার নানা আইনি ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে নাস্তানাবুদ হয়। প্রতিক্ষেত্রে পট পরিবর্তনে রাজনৈতিক বিশ্বস্ততা থাকে, আবার অবিশ্বস্ততা থাকে। এব্যাপারে বিদুরনীতিই শ্রেষ্ঠ : "ন বিশ্বসেদ্ অবিশ্বতে, বিশ্বস্তে নাতি বিশ্বসেদ্। বিশ্বাসাত্ ভয়মুৎপন্নং, মূলান্যপি নিকৃন্ততি। অবিশ্বস্ত কে বিশ্বাস করবে না। আবার বিশ্বস্তকেও অতিরিক্ত বিশ্বাস করবে না। অতি বিশ্বাস যে কোন শিকড় পর্যন্ত কেটে ফেলতে পারে।

আসল বেইমান বনাম নকল বেইমান : খানদানি জি আই ট্যাগ কার? দেবশ্রী মজুমদার

আসল বনাম নকল লড়াই আছেই। তার জন্যে কেউ ঠকে, কেউ জেতে। কিন্তু বেইমানিতে কে আসল, এমন চ্যালেঞ্জ কদাচিৎ ঘটে। পাড়ার “মীরা বৌদি”-রা সাধারণত এরকমটি করে থাকেন। লীলা মজুমদারের চোর গল্পে চোরের নাম নেই। এখানে বেইমানেরও নাম নেই। সম্প্রতি বিধান সভার প্রেস কর্ণারে সাংবাদিক বৈঠক করে এই খানদানি বেইমানির জিআই ট্যাগ নিয়ে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রদর্শনী হলো। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত বলেন, ‘ এক কোম্পানির সদ্য অভিষিক্ত ম্যিনেজিং ডিরেক্টর তথা প্রাক্তন সাংসদ নাকি দশ হাজার টাকা চাঁদা দিতেন। কিন্তু হাজার হাজার কোটির দুর্নীতি নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, সব খরচের পরে আরও ৩০ কোটি ছিল। এক জনের কাছে রাখা হয়েছিল কোথাও বিনিয়োগ করার জন্য। এই চিঠি দল তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আর তখন থেকেই সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল। দলের সাংসদ সেই সময়ে কি বেইমানি করেছিলেন?’ প্রশ্নটা ছুঁড়ে দেওয়া হলো কোন এক কর্ণারে। সেটি খপাৎ করে ধরে নিলেন সেই কোন এক প্রাক্তন সাংসদ। যিনি অবলীলায় বলে ফেললেন, আমার ধারণা দিদির ওই চিঠি পড়ে মুখস্থ হয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেন, তিনি প্রথম হুইসেল ব্লোয়ার। মুখে না বললেও, অভিব্যক্তি হলো, তিনি বেইমান নন। দলের দুর্দিনে পাশে আছেন এবং সমানে দলকে ডিফেণ্ড করে যাচ্ছেন। দলকে মাসিক চাঁদা দিয়ে গেছেন। ঋতব্রত কোন ভাবেই সেই আসল বেইমানের নাম মুখে আনলেন না।তবে আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন অনেকটাই। তাঁকে নাকি সেই উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি একবার কুইজ মাস্টার বলেছিলেন। যাইহোক, অনেকটা কুইজ মাস্টারের মতোই, বেশ কিছু হিন্টস দিলেন, সকলের সুবিধার্থে। এর পরেও, যদি কোন নিন্দুক বলেন, আমি মুখ্খু সুখ্খু মানুষ, নামটা খোলসা করে বলুন না? তাহলে দাদা, আপনি এই লাইনের-ই লোক না। বলা হলো, তৃণমূলের প্রাক্তন এক সাংসদ প্রায় এক দশক আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিবিআই ডিরেক্টরকে ৯১ পাতার চিঠি লিখে জোড়াফুল দলকে তুলে দেওয়ার সলতে পাকানোর কাজ শুরু করেছিলেন। দু'দিন ধরে সেই চিঠি পড়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যেন প্রশংসা করে বললেন, সামান্য দুই একটা জায়গায় কাটাকুটি। তার পড়তে কোনো অসুবিধা হয় নি। বিরোধী দলনেতা তিনি। তাই খুব দায়িত্বের সাথে বলেন, ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চিটফান্ডের টাকায় চলেন। চিট ফাণ্ডের সব থেকে বেনিফেশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, মোবাইলের স্টোরেজ থেকে সেই ঐতিহাসিক চিঠির সাবহেড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা অংশ বিশেষ কোট আনকোট পাঠ করলেন। যেটি বন্দি কালে লেখা হয়েছিলো এবং যার প্রতিলিপি কোনো সখা, কোন সাংবাদিকের কাছে শেষ বয়ান হিসেবে পাঠানো হয়েছিলো। সেই চিঠিতে, অমুক ব্যক্তি, তমুক ব্যক্তিকে চিটফান্ড উদবৃত্ত ৩০কোটি টাকা অন্যকোনো জায়গায় লগ্নি করতে বলেছিলো। অমুক ব্যক্তির নামটা ঋতব্রত উহ্য রাখেন। তবে মি. সেন নামটাও একবার বলেন। এরপর হেসে হেসে বলেন, এই চিঠি যদি ওই প্রাক্তন সাংসদ দিদিকে না দেখান বা পাশে বসে কোনো কোনো কাটাকুটির জায়গায় পড়তে সাহায্য না করেন, তাহলে ১৫ দিন পর, সেই চিঠি ক্যুরিয়ার করে থ্রি বি হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটে পাঠিয়ে দেবেন। তারপর সমস্ত সংবাদ মাধ্যমকে সরবরাহ করে দেবেন। অর্থাৎ পাবলিক করে দেবেন। এসব শুনে মনে হয়েছিলো, বাছাধন। ঘুঘু দেখেছো, ফাঁদ দেখো নি। এই জন্যই বলে, শতং বদ, মা লিখ। যদিও প্রাক্তন সাংসদ বা ম্যানেজিং ডিরেক্টর পাত্তা দিলেন না। অর্থাৎ তির নিক্ষেপ হলো। কিন্তু অর্জুন সিংয়ের " শকুনির" গায়ে লাগলো না। অর্থাৎ হিট হলো না। এ তো আর ওয়াটার গেট কেলেঙ্কারি ফাঁস নয়। অন ক্যামেরায় এসব কথা মানুষ আগেই শুনেছে। তাই যে কেলেঙ্কারির জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ আগস্ট Richard Nixon রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, তা হবে না। তেনার ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ খায় কে? তবে ঋতব্রতদের এই ফ্রন্টাল এ্যাটাকে নামহীন নির্দিষ্ট ব্যক্তি নিশ্চয়ই ব্লোব্যাকে যাবেন না। তবে, রাগ তো হবেই। সায়নীকে বেইমান শুনতে হয়েছে। শতাব্দী রায়, নিজের এলাকায় এসে দিদির সাথে আছেন, বলেছেন। আবার এন সিপি আইয়ের কথা মুখে একবার বলেছেন। তবে, সেই দল মাথায় দেয় না কোথায় দেয়, কেউ জানে না। সবার ভয় 'ডিম' ও 'বেইমান' শব্দকে। তাই তো ঋতব্রত নাম না করে বলছেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর-ই, আসল বেইমান। আর তাঁর ম্যানেজিং ডিরেক্টর? তিনিও বলছেন, কোন প্রতীকে জিতেছেন? কার দেওয়া প্রতীকে জিতেছেন? নিজের এলাকায় মানুষের কাছে যান না? শুধু মুখে বলেন নি, ভাতারের ভাত খায়, নাঙ্গের গুণ গায়।।

Gadget

অপছন্দ: দেব ঋষি ২৮.০৯.২৬

                                  অপছন্দ  আমি রবাহুত হতে পারি যদি সেখানে কোনো ভান না থাকে।  জানি, তুমি আমাকে অপছন্দ করো।  সে তোমার অধিকার। ত...

Popular