এখন লু বইছে -- দেবশ্রী মজুমদার

এখন লু বইছে!

দেবশ্রী মজুমদার

এখন লু বইছে দেশে
কথা হোক একপেশে।
যাহা বাহান্ন,তাঁহাই তেপান্ন
এদিকে ডিগ্রি একান্ন
তখনও সে ছুঁই ছুঁই!
সময় নেই, সময় নেই
রুমাল বাঁধার--
সোজাকে সোজা বলার
কবির পথ্য যে টক দই!
সচেতন জুতসই
খাবারের ভিড়ে
চোঁয়া ঢেকুরে
গলদঘর্মে ভাসে।
লু দহন বইছে এখন
ধোঁয়ায় চারপাশে।
হ্যাঁ কে হ্যাঁ, না কে না বলা
যাই না, যাই না বলা--
গেছে সব অভ্যেস।
যেটুকু ছিল হবে তো নিঃশেষ।
তোমার ভুল, নির্ভুল ভুল
যদিও মনে হয় ওটা বিলকুল...
চুপ করে থাকো, ধ্বজা বুঝে
মাথা নাও খুঁজে ---
না হলে চক্ষু শূল!
ব্যষ্টি যখন সমষ্টির!
গায়ে পেতে নেয় দোষ
বিচার গুটোবে হাত
নির্ঘোষ হবে রোষ!

     

নিগড়-- দেবশ্রী মজুমদার

নিগড়
দেবশ্রী মজুমদার

যখন কেউ বুঝতে চাই না
চলো নিজেরাই একটা হলোকষ্ট
গড়ে তুলি...
পা যখন অদ্ভুত শৃঙ্খলার নিগড়ে অভ্যস্ত
ভদ্র, অভদ্র, ভব্য, অভব্য, শিক্ষিত, অশিক্ষিত
একই বন্ধনীতে শব্দ মাত্র...
শুধু সময়ের হের ফের...
চলো, জ্বালামুখের দিকে এগিয়ে যায়।
দেখি কে বাঁচায়!!
গম্বুজ, মিনার, শিখর, চূড়া আরও কত কি!
দাড়িয়ে আছে! বিশ্বাসীর কেতাবে
হাল ফেরে নি তাঁর এখনও...
তাই এখনও একদল পুজো পাঠ,যজ্ঞ,
মজলিশ, মার্কজে বাঁচাতে চাইছে তাঁকে...
হায় রে বিড়ম্বিত অস্তিত্ব ঐশী সঙ্কটে!
সব দরজায় তালা পড়ে গেছে...
তবু ভয় বিশ্বাসে ঝাড়পোঁছে
চক চকে তালা ঘষে ঘষে।
হে! এক শতাব্দীর মানুষ দেখ!
যা বিশ্বাস করেছো এতদিন
তা কোন সুতোয় বাঁধা?
করোনা করেছে মানা
কোন প্রবোধে হবে না
নিশ্চয় নিশ্চিত মৃত্যু পরোয়ানা!
এখনও ফিরতে পারো,
হারাতেও পারো পথ।
পথিক! এ বিস্তীর্ণ জনপদে
মরিচিকা ছড়ানো বীথি পথ।
এক মুষ্ঠি এক অঙ্গুষ্ঠ সীমান্তে
আঙুলে আঙুল জড়িয়ে, কোন অজান্তে
চড়াইয়ের স্বপ্নে মশগুল হতে হতে
ইতিহাস হও, চেপে রাখো 'হা হতোস্মি' শ্বাস!!
করতালি শোন, জনে জনে দেখাও নিজের
সর্বনাশ!!

     

স্বজন--দেবশ্রী মজুমদার

স্বজন
দেবশ্রী মজুমদার

স্বজন সে, নয় তো প্রভু
রক্ত চক্ষু নয় সে কভু।
যে আমার একান্ত আপন
আমার প্রাণ, সবটুকু মন।
যে আমার সবটুকু জানে
তার কাছে নাই নাই
কোন নিয়ম ভাঙার দোহাই
চেনো ভ্রুকুটি কুটিল-
শাস্ত্র যে পথে সর্পিল
আউট অফ সিলেবাসে
জীবন রুদ্ধশ্বাস যার ফাঁসে!
সে তো আমারই- আমারই
সে যদি তাই হয়-
অষ্ট ধাতবে কিম্বা শিলায়?
মরু বিজয় কেতনে,
অযথা সমাগমে
কিম্বা নিরালায়।
আছে সে বরং শোণিত ধারায়
অজস্র অগনিত শিরায় শিরায়!
যত বার গোনা বাড়ে
যতই বাঁধো তাঁরে ---
পরাভব সে জন
হৃদয় অচিন মন
বদ্ধ কাঁটা তারে!!
অধর্মে ধর্ম জানে
ধর্মই অধর্ম মানে
তমসাবৃত ভ্রান্ত পথে
হে পার্থ! সে তো অজ্ঞতা হতে!!
অযথা ভেবে ভেবে
অসহায় দুর্ভোগে!
দাও সাড়া দাও! মহা দুর্যোগে।
আপনার গৃহ কোনে
শুধু বলো মনে মনে-
তুমি বন্ধু, তুমি সখা, তুমি মাতাপিতা,
তুমি বিদ্যা, তুমি ধন, দেবের দেবতা।।
দেখ, সে নয় অন্ধ দুচোখ জোড়া!
সে কোন সকালে প্রেমেতে মোড়া!

     

পুরোচন -- দেবশ্রী মজুমদার

পুরোচন

দেবশ্রী মজুমদার

প্রবেশ নগরী যেন জতুগৃহ
শূন্য ঘর, শূন্য ঘরে কেহ!
মজুত জ্বালানি জতু কার দায় তবে?
দেখ ভেবে!
পুরোচন যদি হোতা
অনলে পোড়ে যত ঘর
মানুষ কোথা কোথা!
সেও পায় নি রেহাই
পাঁচ পুত্র তার আগুনে ঠাঁই!
কে দুঃশাসন?কে ধৃতরাষ্ট্র?
কে কর্ণ, শকুনি?
যত চাহনি, কান পেতে শুনি
দগ্ধে দগ্ধে দহিত রাষ্ট্র!
শোন! পুরোচন! এ বচন আমার!
নেই কোন খ্যাতির দায় তার,
অতি সাধারণ! সাধারণ জাগিছে।
যা বলো! যা করো! তারা বর মাগিছে!
গোপনে, অতি গোপনে মন্ত্রনা দেয় বিদুর!
সাবধান তুমি! নয় বেশি দূর!
কোথা হতে আসে জালা জালা জতু?
গড়েছে মানব সেতু।
হিসেব নেব যে যার--
ত্রয়োদশী অন্তর্বাস,জোড়া চটি তার!
আমরা সাধারণ! চাইনা--
অসময়ে চলে যাওয়া।
আমরা মেপে চলি ঠিকই
বাইরের অহর্নিশ
এই ধর্মীয় বিষ--
জ্বলে ধিকি ধিকি।
আর না! আর না!
চাইনা! চাই না!
জ্বলছে প্রিয়ার বাড়ি
দগ্ধ মায়ের দেহ
কাঁধের উপরে তারি-ই
হয়েছে অনেক ভারি!
দোকান জ্বলছে
দেখে দেখে চিনে
সব হিসেব নেব গুনে!
সব হিসেব নেব গুনে!

     

মৌলালী -- দেবশ্রী মজুমদার

মৌলালী
দেবশ্রী মজুমদার
জয়পুরিয়া থেকে দক্ষিণেশ্বরে
বাসটা ছুটছে সাঁ সাঁ করে...
চালকের মুখে উৎকণ্ঠা
যাত্রীরা তখনও নিশ্চিন্তে।
সকাল থেকে টিভির টকশোয়
অমুকের সাথে তমুকের এক ঘন্টায়
শুনে আদ্যোপান্ত অবসর প্রাপ্ত বাবা
বলেছেন, না, না, চিন্তার কারণ নেই
অধিকার চাওয়া দোষের কিছু নেই
ভুল ত্রুটি কোথাও তো কারো আছে!
তবুও ধর্ম যখন আছে, সব ঠিক আছে।
যা কলেজ, যা খুঁকি, যা কলেজ যা
কোন ক্লাস কামাই না, একদম -না
খুঁকিও দেখলো, কলেজ শান্ত
পড়া হলো আদ্যোপান্ত, হাওয়া পণ্ডিতের তত্ত্বজ্ঞানে
ছিল না আলোচনা কোন খানে,
না কারো রুচি,
বরং ফুচকা সূচি,
কুড়মুড়ে খেয়ে
হাসি গপ্পে নেয়ে
হুড়মুড় করে ওঠা
বাকি ছিল কটা কথা গোটা
ছিল কথকের ফুল ঝুড়ি
ছিল গা গতরে সুরসুরি
না ছিল মাথা, না মানে
এই থাকে সপার্ষদ অভিধানে।
বাস ছুটছে পাঁই পাঁই
হঠাৎ! বাসটা
থামলো মৌলালী চৌমাথা
সামনে জ্বলছে বাস দাউ দাউ!
সেই হাওমাও খাঁও
যেন হাট বসেছে ...
শমনের শ-স-স একদম ঘাড়ে
উপাসনা গৃহ থেকে বেরিয়ে
যেদিকেই চাও...
সবাই যেন হাওমাও খাঁও!
হাতে বড় লাঠি, চাপাতির আলো
তখন দিন আছে, দিগন্ত হয় নি কালো!
কে যেন এগিয়ে বলে, নামো, নামো সব
নাহলে পুড়ে খাক হয়ে হবে শব।
মৌলালী মোড় দেখেনি
বেগুন পোড়া বাস
এমনটা নয়...
সবই হয়...
বুড়ো কর্তা কারে যেন কয়
পেটে খেলে পিঠে সয়।
চকিতে সিঁদিয়ে গেল খুঁকি
অসহায় বাবার মুখ দিল উঁকি।
তারপর...
সেই হঠাৎ
আওয়াজ এল কট কটাৎ
স্টিয়ারিংয়ের মোচড়ে
হালকা ছুয়ে পাঁজরে
ছুটলো বাস পাঁই পাঁই
তখন খুঁকি যায় যায়।

     

যদি সিসিফাস হই!
দেবশ্রী মজুমদার

যদি সিসিফাস হই!
কার কী বলার আছে!
কার কী বলার আছে বলো?
পুরুষকারের দমে নয়, চালাকিতে পগার পার
যদি হয়?
তুমি কী থাকবে বন্ধু! হয়তো না, হয়তো কেউ বা
হ্যাঁ!
একদিন ঠিকই লেগে পড়বো - আওয়াজ উঠবে-
হেঁইয়ো- ফের বোলো জোরসে-
পাথরটা উঠবে নামবে।
চোখে মুখে শ্লাঘার নদী। পাথরটা উঠতে উঠতে-
বইবে ঘাম নধর দেহে। নেয়ে উঠবে, তবুও নদী
হবে না কখ্খনো। গড়িয়ে গড়িয়ে পাথরটা নেমে
আসবে যেখানে--- সেখানে একা নও তুমি
সিসিফাস! অজস্র মৃতদেহ! তার মধ্যে তোমার
শব দেহর গন্ধ!
যে মহিলা আর্তনাদ করে বলে আগুনে সব শেষ, কী খাওয়াবে কাল?
যে ন' বছরের শিশু পেল দুধের বদলে খুন!
যে প্রীতিহীন সমাজ দোতলা থেকে ছুঁড়ে ফেলে
পাঁচ- নয় বছরের শিশুকে লক লকে জিহ্বা
থেকে বাঁচাতে! বলো কার দোষ?
যে বিবেকহীন সমাজে বিবেকের ভিতরে ড্রিল
করা হয় আতঙ্ক! --
এর চেয়ে বলো হে লেলিহান শিখা, শানিত অস্ত্র!
আমি বলি তোমরা অনেক ধর্ম নিরপেক্ষ!
অনলে জ্বলে ঘর, বৃদ্ধা মা,
আসিডে, পেট্রোলবোমায়
স্কুল, বই, শিশু, দোকানপাট
অনলে পোড়ে শোক...
জানার নেই প্রয়োজন তার কোন আত্মপরিচয়,
সে যেই হোক--
খুলি চেনে গুলি, চারশো ক্ষত,
গুনে চলে চাপাতির কোপ...
কুপিত আক্রোশ জমা হয় নর্দমায়.. হাত উঁচু করে বলে
আমি আছি...বলতো আমি কে? কে আমি?
আমি তোমাদের ভিড়ে...
লড়াইয়ের ময়দানে ভীরু কেউ পিছটানে...
অফিস ফেরতা কোন অভাজন!
শ্লোগানের আহ্বানে স্থবির হতে চাওয়া অবরুদ্ধ
কোন পথে ক্লান্ত কেউ...কি আমার দোষ?
বিশ্বাস নেই কিছুতেই... অধিকার চাওয়া বা
কেড়ে নেওয়া...
আমি নেই সিসিফাস তোমাদের ভিড়ে।
আমি একা হাত তুলে-
জিউসকে হারাতে নয়
আমার এ হাতছানি
শুধু বলে জঞ্জাল সরাও
আমাকে দেখ...
আমি একদিন নাস্তিক হবো
তোমাদের ঘরে ঘরে।
বীতশোক হবে এ মাটি আবার
এ পৃথিবী সেদিন আমার!

     

মায়ামৃগ: দেবশ্রী মজুমদার

মায়ামৃগ-- দেবশ্রী মজুমদার
ভুলটা যতটা ভুল হোক
ভুল বোঝানো ছিল সঠিক।
আয়নায় ডান হাতকে বাম দেখাটা
নিশ্চয় ভুল। তবে, ডানটা তো ডান!
সে তো বক্ষবন্ধনী থেকে ডানা মেলে
না কোন দিন! সেটা তুমি জানতে!
উঁহু, না বলো না কোনদিন, তুমি হা হন্ত!
দেখ এই যে স্বরবর্ণ থেকে ব্যঞ্জন বর্ণ,
যুক্তাক্ষর শব্দ তৈরি করে মাত্র, ধ্বনি তৈরি
করো তুমি! তাই পার পেয়ে যাও, কি বলো?
অনাঘ্রাতা তোমার পালিত চোখ,
পদ্মনাভ ঘুম চোখ জুড়ে,কাব্য রচ দিবারাত্র!
আরো আরো কবিতায় হও রমণীয়!
কোন দায় নেই তোমার! জনগণনা পঞ্জি
থেকে কাঁটাতারের সীমান্ত - সবটা রমণীয়
গোলাপের মত।
কারো অধিকার, তোমার হুজুগে সত্যের
অপলাপ যখন, তুমি নির্বিঘ্নে শব্দের জাল
বোনো।সুনামের সুনামীতে ভাসবে বলে,
হাওয়া বুঝে হাল ধরো, মাধুকরী করো,
যযাতির অষ্টকা হও কৃষ্ণাষ্টমীতে!
কি যায় আসে তোমার, মুক্তাগাছায়
কে ধর্ষিতা হলো, ভিটেমাটি ছেড়ে আবার...
থাক! তোমার তো মুক্তাগাছি মেঠাই হলেই চলে-
কাব্যের সুঘ্রাণে! কি এসে যায়, নানকানার
কে কবে অন্ধ হলো জেনে!
কেউ বাঘ, তুমি খ্যাতির সওয়ারী বন্ধু!
তুমি ডান হাতকে আয়নায় বাম ভাবো!
ভুলকে ভুল নয় বিলকুল, ভুল বোঝানোটা
যেন‌ হয় সঠিক! গাত্রদাহ হতে হতে জ্বলে যাক
সব! পুড়ুক ট্রেন, স্টেশন, বাড়ি, ঘর, বাহির, বাস
কলেজ, মগজ, সব- সব- সবটুকু শ্বাস!!

     

Gadget

​"নাটক" সাড়ে সব্বনাশ- দেবশ্রী মজুমদার

                             ​"নাটক"                         ​     সাড়ে সব্বনাশ ​                      একাঙ্ক নাটক : কিশলয় নাটক :...

Popular