চন্দ্র চূড় শিব পার্বতী - দেব ঋষি

      চন্দ্রচূড় শিব–পার্বতী 



     উৎসর্গ:  গীতাঞ্জলি শিক্ষা নিকেতনের          নিবেদন

           ১৫–২০ মিনিটের মঞ্চ-পরিবেশনা

              দৃশ্য ১ : কৈলাসে মহাদেব

[মঞ্চ অন্ধকার। ধীরে ধীরে নীল আলো জ্বলে উঠবে। পেছনে মৃদু তবলার বোল ও ঘণ্টাধ্বনি। শিব ও পার্বতী মঞ্চের এক পাশে স্থির ভঙ্গিতে থাকবেন।]

গান

চন্দ্র চূড় শিব শংকর পার্বতী রমন নিগে নমো নমো সুন্দর পিনাকধর হর নিগে নমো নমো।

চরণ ১: গঙ্গাধর গজচর্ম অম্বরধর হর নিগে নমো নমো ফালনেত্র শূলধর হর নিগে নমো নমো।

চরণ ২: বালচন্দ্র সমেত জটাধারী নিগে নমো নমো বাসুকী ভূষিত কণ্ঠধারী নিগে নমো নমো।।

[গানের শেষে আলো সামান্য ম্লান। রাবণ ও নন্দীর প্রবেশ।]

পাঠ:

মহাদেবের পরম ভক্ত রাবণের অহংকার চূর্ণ হওয়া এবং তাঁর ভক্তি প্রকাশের কাহিনিই শিব তাণ্ডব স্তোত্রের পটভূমি।

কৈলাসের পথে নন্দীর বাধা উপেক্ষা করে অহংকারী রাবণ পর্বত উপড়ে ফেলতে উদ্যত হন। তাঁর প্রবল শক্তিতে কৈলাস কেঁপে ওঠে। তখন মহাদেব পায়ের বুড়ো আঙুলের সামান্য চাপে পর্বতকে স্বস্থানে স্থাপন করেন। রাবণের হাত পর্বতের নিচে চাপা পড়ে যায়।

অসহ্য যন্ত্রণায় তাঁর চিৎকারে তিন ভুবন কেঁপে ওঠে। সেই থেকেই তাঁর নাম হয় ‘রাবণ’।

নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি মহাদেবের স্তব শুরু করেন। তাঁর সেই স্তবই—শিব তাণ্ডব স্তোত্রম্। রাবণের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে ক্ষমা করেন এবং প্রদান করেন চন্দ্রহাস।

[আলো দ্রুত পরিবর্তিত। তবলার গতি বাড়বে।]

নৃত্য

জটা টবী...

[তবলার সঙ্গে শুরু। এরপর শিব তাণ্ডবের আবহে নৃত্য।]

গান

সৃজন ছন্দে/প্রলয় নাচন

দৃশ্য ২ : শিব ও শক্তি

[মঞ্চে লাল-নীল মিশ্র আলো। ধীরে ধীরে নারী নৃত্যশিল্পীদের প্রবেশ।]

পাঠ

পাঠক:

শিব ও শক্তির মিলনেই জগৎ ছন্দময়। অশুভ শক্তির বিনাশে আবাহন ঘটে মা জগন্ময়ীর। কখনও তিনি দশমহাবিদ্যা, কখনও রণচণ্ডী। তিনি অকাল বোধিতা।

আশ্বিনের শারদ সন্ধ্যায় আলোকবিন্দুর আলো মালায় উদ্ভাসিত দিনের অবসানান্তে মানব সভ্যতার অরুণালোকে। ভূমি ভেদ করে যাবে ভূকন্দলী ফুল উন্মীলিত হয়ে ঘোষণা করবে আবার—এইবার পৃথিবী শস্যশ্যামলা হবে শান্তির ললিত বাণীরমঞ্জিরে। তোমার সেই শ্রবণ মধুর বার্তা বহন করে মানস যাত্রী নীলকণ্ঠ মুণালদল মুখে নিয়ে জানাবে ধরিত্রীর আগমন বার্তা। দিকে দিকে ফুটে উঠবে গগনশিরিষ, ছাতিম, কাশফুল, শেফালি বিগলিত মদিরায়।

গান

ইয়া চণ্ডী...

[গানের সঙ্গে দেবীর আবাহনী নৃত্য।]

দৃশ্য ৩ : দেবীর রূপ

[সোনালি আলো। দেবীর প্রতীকী আবির্ভাব।]

পাঠ

পাঠক:

দুর্গা দুর্গতিহারিণী ভবতু নো রজোলসৎকুণ্ডলা।

সিংহারূঢ়া শশিশেখরা, মরকত মণির তুল্য প্রভাময়ী, চারিহস্তে শোভিতা, কেয়ূর, হার ও নূপুর এবং মৃদুমধুরধ্বনিযুক্ত চন্দ্রহার ও নূপুর পরিহিতা।


গান

সিংস্থা শশী শেখরা...

[গানের শেষে দেবীর চারদিকে নৃত্যশিল্পীরা অর্ধবৃত্ত তৈরি করবেন।]

পাঠ

আপনি শঙ্করের ঘরণী শঙ্করী, সুরেশ্বরী, মহালক্ষ্মী, গায়ত্রী, মাতঙ্গী, বগলামুখী। আপনি চামুণ্ডা, চণ্ডিকা, কাত্যায়নী, মহিষমর্দিনী, ছিন্নমস্তা—আপনিই মর্ত্যের উমা, জগৎজননী।

[একটু বিরতি। আলো লাল হবে।]

পাঠক:

মা, তুমি জাগো! জাগো মা!

গান

জাগো, জাগো তুমি জাগো—

দৃশ্য ৪ : দেবীর আগমন

[আকাশি ও সাদা আলো। বাঁশির আবহ।]

পাঠ

ওঁ সতী সাধ্বী ভবপ্রীতা ভবানী ভবমোচনী।

আর্যা দুর্গা জয়া আদ্যা ত্রিনেত্রা শূলধারিণী।।

পিনাকধারিণী, চিত্রা, চন্দ্রঘণ্টা, মহাতপা—সর্বমন্ত্রময়ী, সত্যা, সত্যানন্দস্বরূপিণী।

হে দেবী, আপনার আগমনের আলোর বেণুর ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস ও দশদিক উদ্ভাসিত ও মুখরিত হোক।

গান

বাজলো তোমার আলোর বেণু...

[গানের সময় ধীরে ধীরে সব নৃত্যশিল্পীর প্রবেশ।]

দৃশ্য ৫ : অসুরবধ

[আলো গাঢ় লাল। ঢাকের শব্দ শুরু। অসুর চরিত্রগুলির প্রবেশ।]

পাঠ: অসুর কূলের অত্যাচারে জর্জরিত দেবকূল ত্রিদেবের স্মরণাপন্ন হলেন। দেবত্রয়ের তেজপুঞ্জে দেবকার্য সিদ্ধির কারণে আবির্ভূতা হলেন জ্যোতির্ময়ী দেবী দুর্গা। ইন্দ্র দিলেন বজ্র, বরুণ দিলেন শঙ্খ, অগ্নি দিলেন শক্তি, পবনদেব দিলেন ধনু ও বাণ।

অন্যান্য দেবগণও দেবীকে বিভিন্ন ভূষণ ও আয়ুধ দ্বারা সম্মানিত করিলেন। দেবী উচ্চৈঃস্বরে সাট্টহাসং মুহুর্মুহুঃ নাদ করিলেন।

সেই সিংহনাদে চতুর্দিক কম্পিত এবং পৃথিবী ও পর্বত সকল বিচলিত হইল। 

অগ্নির মতো তেজস্বিনী দেবী দুর্গা চিক্ষুর, চামর ও উদগ্র মহাসুরদের বধ করলেন। দেবতাদের দেওয়া অস্ত্র ও অলংকারে সজ্জিতা হয়ে দেবী সিংহনাদে চতুর্দিক কম্পিত করলেন। দেবী দুর্গা চিক্ষুর, চামর, উদগ্র মহাসুরদের ক্ষয় করিলেন।

যিনি সময় উপস্থিত রবিচূলা রক্তবর্ণা, রক্তবর্ণ কেশে রূপ পরিচিতা, নয়নমালিনী, যাঁর চক্ষুদ্বয় জ্বলন্ত অগ্নিশিখার ন্যায়, যাঁর মুখমণ্ডল তিন নয়ন শোভিত এবং কমলবৎ সুন্দর, যাঁহার মুকুটে চন্দ্র রত্নরূপে নিবদ্ধ—সেই ঐশী মহাশক্তিময়ী দেবীকে আমি বন্দনা করি। অতঃপর কবন্ধ মহাসুর পুনরায় মহিষাকৃতি ধারণ করিল। অনন্তর জগন্মাতা চণ্ডিকা ক্রুদ্ধা হইয়া পুনঃ পুনঃ দিব্য সুরাপান করিয়া অট্টহাস্য করিয়া বলিলেন—

ময়া ত্বয়ি হতেহত্রৈব গর্জিষ্যন্ত্যাশু দেবতাঃ।।

[দেবী ত্রিশূল ধারণ করবেন।]

[ঢাকের তীব্র বোল। যুদ্ধনৃত্য।]

গান

ওগো তোমার আগমনী...

দৃশ্য ৬ : দেবীর আবির্ভাব

[আলো ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হবে। ]

পাঠ

সবাহনায় স আয়ুধ রমনীয় নারী-মূর্তি শঙ্করের তেজে মুখমণ্ডল দীপ্ত, যমের তেজে কেশে তমসাময়ী, বিষ্ণুর তেজে সুদৃঢ় বাহু সমন্বিতা জগন্মাতৃকা, যোগমায়া দেবী দুর্গা।

ঋক্ মন্ত্রে দেবী ঘোষণা করলেন—

“অহং রুদ্রেভির্বসুভিশ্চরাম্যহম্

আদিত্যৈরুত বিশ্বদেবৈঃ।”

গান

অহম রুদ্রেভী...

দৃশ্য ৭ : দেবীর মহিমা

[সাদা আলো। দেবী স্থির ভঙ্গিতে।]

পাঠ

হে দেবী! আপনি দেবগণের প্রতি সৌম্যা, আবার অসুরের প্রতি রুদ্ররূপিণী। আপনি পরমেশ্বরের মহাশক্তি, সকল সুন্দর বস্তুর চেয়েও সুন্দরী।

আপনার শুভ্র শঙ্খের ধ্বনিতে সমগ্র নিখিল ধ্বনিত হোক।

গান

শুভ্রশঙ্খ রবে...

দৃশ্য ৮ : দেবীর মহারূপ

[আলো ধীরে ধীরে দেবীর মুখে কেন্দ্রীভূত।]

পাঠ

জটাজুটে শোভিত, অর্ধচন্দ্রধারিণী, ত্রিনয়না, পূর্ণিমার চাঁদের মতো মুখমণ্ডল, অতসী পুষ্পের মতো বর্ণ এবং সর্বাভরণভূষিতা—এই মহাশক্তিময়ী দেবীকে আমরা বন্দনা করি। 

জটাজুট সমাযুক্তামর্ধেন্দু কৃতশেখরাম্।

লোচনত্রয় সংযুক্তাং পূর্ণেন্দু সদৃশাননাম্।।২।।

অতসীপুষ্প বর্ণাভাং সুপ্রতিষ্ঠাং সুলোচনাম্।

নবযৌবনসম্পন্নাং সর্বাভরণভূষিতাম্।।৪।।

গান

জটাজুট...

[গানের শেষে ৩–৪ সেকেন্ড নীরবতা।]

পাঠ: দেবী প্রপন্নার্তিহরে প্রসীদ

প্রসীদ মাতর্জগতোখিলস্য।

প্রসীদ বিশ্বেশ্বরি পাহি বিশ্বং

ত্বমীশ্বরী দেবি চরাচরস্য॥

আধারভূতা জগতস্ত্বমেকা

মহীস্বরূপেণ যতো স্থিতাসি।

অপাং স্বরূপস্থিতয়া ত্বয়ৈতৎ

আপ্যায়তে কৃত্স্নমলঘ্যবীর্যে।

ত্বং বৈষ্ণবী শক্তিরনন্তবীর্যা

বিশ্বস্য বীজং পরমাসি মায়া।

সম্মোহিতং দেবি সমস্তমেতৎ

ত্বং বৈ প্রসন্না ভুবি মুক্তিহেতুঃ॥

দৃশ্য ৯ : চণ্ডীর বন্দনা

[ঢাকের মৃদু বোল। লাল আলো।]

পাঠ:যা চণ্ডী মধুকৈটভদৈত্যদলনী যা মাহিষোন্মূলিনী

যা ধূম্রলোচনচণ্ডমুণ্ডমথনী যা রক্তবীজাশনী।

শক্তিঃ শুম্ভনিশুম্ভদৈত্যদলনী যা সিদ্ধিদাত্রী পরা

সা দেবী নবকোটিমূর্তিসহিতা মাং পাতু বিশ্বেশ্বরী।।

যে চণ্ডিকা মধুকৈটভ দৈত্যনাশিনী, যিনি মহিষাসুর মর্দিনী, যিনি ধূম্রলোচন, চণ্ড ও মুণ্ডাসুর সংহারিণী, রক্তবীজ ভক্ষয়িত্রী, যে মহাশক্তি শুম্ভ-নিশুম্ভাসুর বিনাশিনী ও শ্রেষ্ঠা সিদ্ধিদাত্রী এবং নবকোটী সহচরী পরিবৃতা, সেই জগদম্বা দেবী আমাকে পালন করুন। 

গান: 

নমঃ চণ্ডী...

দৃশ্য ১০ : দেবী সর্বভূতে

[আলো কোমল হবে। বিভিন্ন বয়সের নৃত্যশিল্পীরা দেবীর চারপাশে অবস্থান করবেন।]

পাঠ

ত্রিগুণে তমসী দেবী সান্ত্বিকী যা নিরূপিতা।

সা শর্বা চণ্ডিকা দুর্গা ভদ্রা ভগবতীর্ভতে।।

ত্রিগুণময়ী দেবী তামসী, রাজসী, সাত্ত্বিকী — ত্রিবিধা। আপনি শর্বা, চণ্ডিকা, দুর্গা, ভদ্রা, ভগবতী।

নমো দেব্যৈ মহাদেব্যৈ শিবায়ৈ সততং নমঃ।

নমঃ প্রকৃত্যৈ ভদ্রায়ৈ নিয়তাঃ প্রণতাঃ স্ম তাম্।।

দুর্গায়ৈ দুর্গপারায়ৈ সারায়ৈ সর্বকারিণ্যৈ।

নমো জগৎ প্রতিষ্ঠায়ৈ দেব্যৈ কৃত্যে নমো নমঃ।। দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোহস্তে তে।।

মধুকৈটভবিধ্বংসী বিধাতৃবরদে নমঃ। রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি।।


১৩) রূপং দেহী জয়ং দেহী...


গান

রূপং দেহী জয়ং দেহী...

দৃশ্য ১১ : দেবীর করুণা

[আলো উজ্জ্বল। পেছনে মৃদু আবহসংগীত।]

পাঠ: 

দেবী আপনি অনন্তবীর্যা বৈষ্ণবী শক্তি। আপনি বিশ্বের আদি কারণ মহামায়া। আপনি সমগ্র জগৎকে মোহগ্রস্ত করিয়াছেন। আবার আপনি প্রসন্ন হইলে ইহলোকের অশরণাগত ভক্তকে মুক্তি প্রদান করেন। 

রোগানশেষানপহংসি তুষ্টা

রুষ্টা তু কামান্ সকলানভীষ্টান্।

স্বামীতানাং ন বিপন্নরাণাং

স্বামীত্বা হ্যাস্যতাং প্রযান্তি।।

দেবী! আপনি সন্তুষ্ট হইলে সকল প্রকার রোগ বিনাশ করেন। আবার রুষ্ট হইলে অভীষ্ট বস্তু সমূহ নাশ করেন।

হে জগদীশ্বরী! দুর্গতিনাশিনী! 

মর্ত্যবাসীর সাধনা সার্থক করেন। 

হে জগদীশ্বরী! আপনি বিশ্ব পরিপালন করেন। হে বিশ্বরূপিণী বরদাত্রী। আপনার কৃপায় চতুর্বর্গ ফল লাভ হয়।  আপনি দুর্গতিনাশিনী...

গান

দুর্গে দুর্গে দুর্গতিনাশিনী...

দৃশ্য ১২ : মাতৃরূপে দেবী

[সোনালি আলো। ধীর নৃত্য।]

পাঠ

ষড়ৈশ্বর্যময়ী দেবী নিত্যা হয়েও বারংবার আবির্ভূতা হন। তিনি জগৎকে রক্ষা করেন। তাঁর করুণায় বিশ্ব বিমোহিত এবং তাঁর অমৃতময় রূপে ধরিত্রী পায় নতুন প্রাণ।

গান

ও মা ত্রিনয়নী...

দৃশ্য ১৩ : মহাশক্তি

[মঞ্চে শান্ত পরিবেশ। ঘণ্টাধ্বনি।]

পাঠ

ত্বং স্বাহা ত্বং স্বধা ত্বং হি বষট্কারঃ স্বরাত্মিকা।

সুধা ত্বমক্ষরে নিত্যে ত্রিধা মাত্রাত্মিকা স্থিতা।। আপনিই স্বাহা, স্বধা, বষট্কার ও স্বরাত্মিকা। আপনি নিত্যা, আপনি ব্রহ্মতত্ত্বের প্রকাশিকা। আপনাকে দিবারাত্র সারা বেলা প্রণাম করি।

গান

সারা বেলা...

দৃশ্য ১৪ : জয়ধ্বনি

[ঢাক ধীরে ধীরে জোরালো হবে।]

পাঠ

হে নন্দা ভগবতী, আপনার স্তব, পূজা ও ধ্যানে জগৎ পবিত্র হয়। হে নীলকণ্ঠ মহাদেবের সহধর্মিণী, হিমালয়ের কন্যা, মহিষাসুরমর্দিনী—আপনার জয় হোক, জয় হোক।

গান

জয় জয় জপ্য...

দৃশ্য ১৫ : চূড়ান্ত আবাহন

[সমস্ত শিল্পী মঞ্চে। দেবী কেন্দ্রে। প্রথমে অন্ধকার, তারপর ধীরে ধীরে পূর্ণ আলো।]

পাঠ: 

যে দেবী সর্বভূতে বিষ্ণুমায়া, চেতনা, বুদ্ধি, নিদ্রা, ক্ষুধা, শক্তি, শান্তি, শ্রদ্ধা, দয়া ও মাতৃরূপে বিরাজিতা—

তিনি আমাদের জীবনের শক্তি, তিনি আমাদের আশ্রয়, তিনি জগজ্জননী।

[৩ সেকেন্ড নীরবতা।]

পাঠ: 

যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু চেতনেত্যভিধীয়তে।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।


যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু ছায়ারূপেণ সংস্থিতা।

যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু দয়ারূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।

নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ।।

শ্রীচরণবিন্দে--দেবশ্রী মজুমদার

গান ও নৃত্য

অয়ি গিরি নন্দিনী + যুদ্ধ

[শেষে ঢাকের তীব্র বোল → একসঙ্গে সব শিল্পীর স্থির ভঙ্গি → দেবীর দিকে প্রণাম।]

         আলো ধীরে ধীরে নিভে যাবে।

               সমাপ্তি: ওঁ শান্তি।

                  শ্রীচরণবিন্দে—

                   দেবশ্রী মজুমদার

No comments:

Post a Comment

Gadget

​"নাটক" সাড়ে সব্বনাশ- দেবশ্রী মজুমদার

                             ​"নাটক"                         ​     সাড়ে সব্বনাশ ​                      একাঙ্ক নাটক : কিশলয় নাটক :...

Popular