নারী ও মা



নারী ও মা

--- দেবশ্রী মজুমদার

(আন্তর্জাতিক মাতৃদিবসে)

ম্যাক্সিম গোর্কির "মা" উপন্যাসের পেলাগোয়া
নিলভোনাকে আমরা কেউ ভুলি নি। ভুলতে
পারি না তাঁর আদর্শ ছেলে পাভেল
মিখাইলভিচকে। কিন্তু মনে আছে কী মিখাইল
ভ্লাসভকে?
যে প্রতিদিন নিলভোনাকে স্বামীত্বের অধিকারে
নিদারুণ অত্যাচার চালাতো?
আসলে আমরা অনেকেই বনি চেম্বারলিনের দ্য
ফেস অফ জুডাস ইসক্যারিয়ট গল্পের সেই
চিত্রকরের নির্মাণ মুখ। শৈশবে যার মুখ ছিল দেবদূতের
মতো। কিন্তু বহু বছর পর তাঁর অসমাপ্ত যীশুর
মুখের আদলের জন্য যে মডেল পেল, আদতে
সেই একই মানুষ। যা শিল্পীর চোখে বিশ্বাস
ঘাতক জুডাস!
প্রতিদিন যে মেয়েটিকে রাস্তায় দেখি, তার জন্য
আমার অন্য চোখ, অন্য খোঁজে। তার
পোশাকের দোষ! তাই বক্ষ বিভাজিকার
ইতিউতি উঁকি মারে সন্দিগ্ধ লোলুপ!
সেও তো অনাগত মা! কিম্বা কোন পরস্ত্রী!
হায়! মাতৃবৎ পরদারেষু। সে তো পুস্তকেই আছে
পরম নিশ্চিন্তে!
মা কি? অনির্বচনীয় শব্দ- অনুভূতি! না থাক,
রক্তের সম্পর্ক। যেমন ধরুন বনফুলের ছোট
গল্প "দুধের দাম" এর কুলি ও সেই বৃদ্ধার
কথোপকথন। ----- "আমি তো তোমাকে দুধ
খাওয়ানি বাবা। সামান্য যা দিচ্ছি তা দুধের দাম
মনে করেই নাও।"
আবার ফিরে আসি সেই অনুভূতির আঁচলে।
বাবা মা! কি স্বর্গীয় অনুভূতি!
মাতরং পিতরঞ্চৈব সাক্ষাৎ প্রত্যক্ষ দেবতাম।
বা-- জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপী গরিয়সী। শুধু
মাত্র গর্ভধারণের কারণে তিনি পিতার অধিক।
এতো সবার পড়া।
এবার সরলীকরণের জন্য এক গল্পে আসা
যাক।--
একবার চুরি করার অপরাধে মঠের এক
পরিচারককে স্বামীজি তাড়িয়ে দেন। চতুর চোর
মা সারদার স্মরণাপন্ন হন। মা বাবুরাম
মহারাজকে বললেন, তোমরা সন্যাসী অত বোঝ
না। লোকটি গরীব। অভাবের তাড়নায় চুরি
করেছে। ওকে ফিরিয়ে নাও। বাবুরাম পড়লেন
উভয় সঙ্কটে। স্বামীজি ফের ওই পরিচারককে
দেখে রেগে উঠলেন। কিন্তু যেই শুনলেন "মা"
রেখেছেন। এই মা ছিলেন সবার মা। হেসে
ফেললেন স্বামীজি। আর বললেন, ব্যাটা
হাইকোর্ট চিনেছে। হ্যাঁ, এই হাইকোর্ট হলো মা।
আগাগোড়া যেটা বলবার বিষয়, তা হলো: মা
একজন নারী। আন্তর্জাতিক মাতৃদিবসে মনে হয়
একটি কথা। যাঁরা বৃদ্ধাশ্রমে আছেন, তাঁদের
কথা স্বতন্ত্র। কিন্তু আমাদের অনেকের ঘরে এক
একটি বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠেছে পৃথক চৌহদ্দির
মধ্যে। সেটাও কম বেদনার নয়!
আমরা প্রায় ভুলে যায়, মাও একজন নারী!
"নারীর মূল্য" প্রবন্ধে শরৎ চাটুজ্জে কি বলেন,
একবার মনে করা যাক। ----- "নারীত্বের মূল্য
কি? অর্থাৎ কি পরিমানে তিনি সেবাপরায়না,
স্নেহ শীলা, সতী এবং দুঃখ কষ্টে মৌনা। অর্থাৎ
তাঁহাকে লইয়া কি পরিমানে মানুষের সুখ ও
সুবিধা ঘটিবে ... ।"
সেক্ষেত্রে বৈকুণ্ঠের উইলের গোকুল - বিনোদের
মা হোক! কিম্বা আপনার আমার! যে কেউ
বলতে পারেন, সান্নিধ্য না পেয়ে-- "আমি কি
তোমার ছেলে নয়? আমাকে তোমার মানুষ
করতে হয় নি?"
সেক্ষেত্রেও বোধহয় বিধাতার অন্যসময় কিছু
বলার আছে! তাই অপেক্ষা ছাড়া উপায় থাকে
না।
তবে, জন্ম থেকে লালন পালন সমগ্র ঘটনার
স্মৃতি এক বিষয়, এক আবেগ নিশ্চয়। তবে ঘটা
করে পালনের সময় অনেক ক্ষেত্রে অনাদরে
গড়ে ওঠা বার্ধক্য আমাদের দিকে তীর্যক দৃষ্টিতে
চাইবেই! এর কারণ একটাই! আদর্শ ছেলে
পাভেল মিখাইলভিচের মা নিলভোনাকে
সহজেই আমরা গৌরাবান্বিত করতে পারি! কিন্তু
ভুলে যেতে চাই মিখাইল ভ্লাসভকে যে প্রতিদিন
অত্যাচার চালাতো নিলভোনার উপর!
পুরুষের হাত ধরে আলোর পথে!
বড় কথা, তুমি পূজার্হা!
কিন্তু এখানেও যেন সেই ভাবনা
হে মানবী তুমি যতই মা হও, তুমি নারী
--- প্রজাতন্তুং মা ব্যবচ্ছেৎসি--
সন্তান ধারাকে বিচ্ছিন্ন করো না।
সত্যি! তোমার গরিমা অটুট!
প্রজনার্থং মহাভাগাঃ পূজার্হা গৃহদীপ্তয়ঃ।
স্ত্রিয়ঃ শ্রিয়শ্চ গেহেষু ন বিশেষোহস্তি কশ্চন।। (৯/২৬)।
অর্থাৎ, স্ত্রী লোকেরা সন্তানাদি প্রসব ও পালন করে
বলে তারা অত্যন্ত সৌভাগ্যবতী।
তারা গৃহের দীপ্তি বা প্রকাশস্বরূপ।
এই কারণে স্ত্রীলোকদের সকল সময়ে
সম্মান-সহকারে রাখা উচিত।
বাড়ীতে স্ত্রী আর শ্রী এদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
এতো শাস্ত্রের বচন! শুধু তাতেই স্বস্তি!
অন্যথায়, সে তোমার কপালে যা জোটে জুটুক!

     

শুধু একটা গ্রেটা টুনবার্গ দাও, বাংলাদেশ!---দেবশ্রী মজুমদার



শুধু একটা গ্রেটা টুনবার্গ দাও, বাংলাদেশ!

-- দেবশ্রী মজুমদার

কে বলবে, কত ঔধত্য তোমাদের, তোমরা
আমার স্বপ্ন ও শৈশব নষ্ট করেছো- তোমাদের
অন্তঃসারশূন্য শব্দে-- তোমরা এখন কথা বলছো
(ধর্ম) নিয়ে-- কি করে সাহস হয় তোমাদের?
গর্জে ওঠো, করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশে
ওসমানী নগরে কোন গ্রেটা টুনবার্গ!
কিম্বা মাত্র তিন বছরের সিরিয় শিশুর মতো
কোন প্রতিবাদী কণ্ঠে উচ্চারিত হোক-- "আমি
ভগবানকে সব বলে দেব!"
এ পৈশাচিকতা যা থামাতে পারে নি মহামারী! হে
বাংলাদেশ! বলো কি সে গরবিনী তুমি আজ?
কেন তবে রাজশাহী মুখ লুকোয় যবে অষ্টমী নষ্ট
হয় হাটখোলায়?
কেন নড়াইলে, কেন ফরিদপুরে ভুমি দস্যু দাপটে
গৃহহীন অসহায় কোন পথে? কেন যশোরের
চৌগাছায় মিত্র পাটনি আপন সন্তানে থাকে না
দুধে ভাতে?
কেন তবে কেশবকাঠির ইন্দ্রানী কিম্বা শোভা
বাড়ৈ ছুটে ছুটে ধর্ম খোঁটে প্রতি ইঁটে?
চাবুক ছুটেছে সাঁই সাঁই--
বিচার যেখানে নাই--
দেশ, চৌহদ্দি, কোথা ঠাঁই!
বসন্ত কুদার ছোটে পশ্চিমে-
চেয়ে একটুকু বাঁচার আশ্রয়!
চেয়ে দেখ, বাংলা থেকে গান্ধারে ফারখুণ্ডার
জয়!বেদাক্সনে পাহাড় খুদে
ছুটেছে স্বচ্ছতোয়া, কুসুমের স্বপ্ন দেখে বাদাম,
আপেল,খুবানি---
আরও কত কি?
হে বাংলাদেশ বলো! গ্রেটার কথা, সিরিয় শিশুর
কথা, বলো ফারখুণ্ডার কথা!
যে কোন সম্পন্নার ঘরকন্না
দেখায় মৃত পৃথিবীকে!
যে পৃথিবী দুর্ভিক্ষ ভালোবেসে, জাল বুনে ক্লান্ত
হয়ে শেষে
মৃত শব ঢেকে রাখে।
সমাপ্ত
-----------

প্রসঙ্গ:: করোনা মহামারী থামাতে পারেনি
ধর্মান্ধতার অভিশাপ! গ্রেটা টুনবার্গ জলবায়ু
পরিবর্তনের জন্য অর্থ গৃধ্নু শক্তিশালী রাষ্ট্র
নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন।
মানুষের মানসিক জলবায়ু পরিবর্তন ঘটিয়েছে
অমানবিকতা। তার প্রমাণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র
বাংলাদেশে। সেখানে দরকার গ্রেটা টুনবার্গের
মত কোন চরিত্র। যে হবে মানবতার পূজারী।
ফারখুণ্ডার ( পার্সি শব্দ) অর্থ সম্পন্না।

     

স্যান্টা ও মোমবাতি-- দেবশ্রী মজুমদার


স্যান্টা ও মোমবাতি
দেবশ্রী মজুমদার

না, এটা স্যান্টা ক্লজের গল্প নয়! এখন জিঙ্গল
বেলস না! মেরি ক্রিশ মাস না! এক দুঃসহ
দুঃসময় হাতে নিয়ে স্থবির বা জঙ্গম আমরা!
যাঁরা স্যান্টা তাঁরাই মোমবাতি জ্বালিয়ে ফিরছেন
অসুস্থ ঘরে ঘরে।
সেই স্যান্টাকে বাড়িতে নিয়ে এসে স্যুপ
খাওয়ানোর ভাবনা, গল্পের গরুকে গাছে
চড়ানোর মতো! আমি তো বিশ্বাস করি না!
মহামারীর বেশ কয়েকমাস আগে আমরা ওদের
উত্তম মধ্যম দিয়েছি। "আতুরে নিয়ম নাস্তি!" --
তাই ঘটা করেই মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালিয়েছি!
কিছুদিন আগে, অবশ্য ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁদের
গৃহহীন করেছি!
আর এই তো দু'দিন আগে...
যে কিনা হোম কোয়ারিন্টিনে ছিল। করোনা
পজিটিভ রিপোর্ট এলো... তাঁকে নিতে নিজস্ব
হাসপাতাল এ্যাম্বুলেন্স পাঠালো না... শেষমেশ
পুলিশ পৌঁছে দিল বেলেঘাটা আইডি! তালাবন্ধ
ফ্ল্যাটের চাবি নিলনা কোন প্রতিবেশী! সীলড্
ঘর পড়ে আছে। তাঁকে আর আবাসনে ফিরতে
দেওয়া হবে না- সাফ জানিয়ে দিয়েছেন
প্রতিবেশীরাই, এমনকি ঠিক হলেও! কেনই বা
দেবে?
---ছেলে পিলে নিয়ে সংসার! বলা তো যায় না?
যদি তাঁদের ও কিছু একটা "না হোক" হয়ে
যায়... !
চেয়ে দেখ, অন্ধ্রের লক্ষ্মী নারায়ণ রেড্ডিকে! পি-
পি- ই তে ঢাকা দেহ! অস্পৃশ্য কার না কাছে?
দারা পুত্র পরিজন! নিরাপদ দূরত্বে চাপা কান্না!
মুঠোফোনে বন্দী বিদায় লগন!
ভুলে যাও শহীদ এ যোদ্ধা!
পারো তো পরখ করো, প্রস্তরখণ্ডে। দেখো, সে
এখনও জীবিত কিনা!

এই চিকিৎসক, নার্সরা অর্থগৃধ্নু, নরপিশাচ! হ্যাঁ
এটাই তো বলেছি আমরা! অদ্ভুত! অদ্ভুত!
অবাক, অবাক, আরও বিস্ময়!
আমি গুলো যে এক এক করে কবে, কোন
অগোচরে হয়ে গেছি আমরা, ভাবি নি কখনও!
ভাবার তাগিদ ছিল না কোনদিন!
তাই চেয়েছি, এই চিকিৎসকরা স্যান্টা হোক!
বল্গা হরিণে চড়ে লাল আলখাল্লা পরে বাড়ি
বাড়ি মোমবাতি দিয়ে যাক!
তারও যে কিছু চায়, এই দুঃসময়ে ভাববার
অবকাশ ছিল না, আজও নেই!
আজকের স্যান্টারা ঘর, পরিবার ছেড়ে। জানে
না নিজেরা ফিরতে পারবে কিনা কোন দিন! এ
যুদ্ধে নেই যুদ্ধের বর্ম, যা যা সাজ চায় আজ!
তবে ফেরায় নি তোমাদের! যদি পারো, শুধু
এইটুকু রেখো মনে! সেই শ্রদ্ধায় ভরুক অন্তর!
না হলে, আলোহীন আলোক শিখা জ্বলুক অন্তর
-- এ আতান্তরে!!

     

আমার গিন্নী-- দেবশ্রী মজুমদার



আমার গিন্নী!
দেবশ্রী মজুমদার
আমার গিন্নী! বাব্বা! নিজের বৌকে নিয়ে এত
আদিখ্যেতা! তা ভাবুন!
দুপুরে যেটা লিখেছি, অধীর আগ্রহে নিয়ে যেই না
গিন্নীকে শোনাতে গেছি...
--দাঁড়াও আকাশে মেঘ লেগেছে, জলটা নিয়ে
আসি। জল এল, ভণিতায় উন্নত গ্রীবাকে
বললুম, - ‘গৌরী ধীরে চলো, গাগরী ছলক নাহি
কয়।’
--তেড়ে ফুঁড়ে গিন্নী বললে, গাগরী কোথায়?
বালতি- বালতি। সরো সরো! ঝামেলা পাকিয়ো
না আর! মুখ ঝামটা খেয়ে, মুখের কথা মুখেই
থেকে গেল, বলা হলো না-- "কী মোহিনী জান
বঁধু কী মোহিনী জানো।অবলার প্রাণ নিতে যাই
তোমা হেন"।
-এমন ব্যস্ততায় লৌকিক মানিনীর সপ্রেম
তিরস্কারও বাড়ন্ত এখন!
তবে, মন্দের ভালো, প্রতিদিন পাতে এই দুঃসময়ে
কিছু একটা জুটিয়ে দেয় মানিনী! এখন
অভাবের সংসারে আলুর চোকলা ভাজা, কচু
শাক বা ঘরের কাঁচ কলার চোকা বাটা গরম
ভাতে খেতে খেতে মনে হয়, সংসারটা ধরে
রেখেছে তো! সয় গো সই! পেট আর পিঠ!
কিন্তু এটাই তো আসল কথা! এটাই চাই! এখানে
কাব্যি চলে না! তাই গিন্নীর মত যাঁরা খ্যাঁক খ্যাঁক
করেন, তাদের হাতির লুকোনো দাঁত বলুন, আর
যাই বলুন, তাঁদের সমালোচনা কিন্তু খাঁটি!
লকডাউনের ফাঁস যত বাড়ছে, ততই মনে হচ্ছে,
হাত তালি, মোমবাতি নয়!
সরষে তেলের উপর কাঁচা লঙ্কা চিরে পাঁচ
ফোড়ন দিয়ে কচুর শাক না হোক, ডাল ভাত
চাই -ই চাই! গৃহিণীর রান্না ঘরে যখন সব বাড়ন্ত,
তখন মানিনীও কাব্যি চায় না! যতই বলি--
বদসি যদি কিঞ্চিদপি/ দন্তরুচি কৌমূদি...

     

"স্বয়ম্বর সভায় না জিতেও, আজ তুমি জয়ী!"-- দেবশ্রী মজুমদার


(পুলিশ বন্ধুদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এই কবিতা!!)
"স্বয়ম্বর সভায় না জিতেও, আজ তুমি জয়ী!"
--- দেবশ্রী মজুমদার
ঠিক চিঠি লিখছি না তোমায়! সে অবকাশ
হারিয়েছি হেলায় একদিন। মনে মনে এক
অবজ্ঞা ছিল। স্বয়ম্বর সভায় পাও নি যে জয়!
থাক আজ!
তবু মনে পড়ে! অনেক কষ্টে যে ইউনিফর্মটা তুমি
গায়ে চড়িয়েছিলে শ্বেতকেতু! বেশ ছিল!
তোমার বাবা আরুণি হয়তো গর্বিত ছিলেন।
কিন্তু আমার পিতৃদেব রাজা চিত্র তোমাকে যে
দণ্ড দিয়েছিলেন, তা অপমানে আমাকেও সমান
দগ্ধ করেছিল। তোমাদের পিতা পুত্রের হাতে
সমিধ, অবনত মস্তক দেখে বুঝেছিলুম, তোমার
সেই শক্তি নেই দাসত্ব মুক্তির...
তারপর যা দেখেছি খবরের কাগজে, ভেবেছিলুম
একদিন তোমার এই পেশা নির্ঘাৎ অগৌরবের!
তুমি পুলিশ!
আমার চোখে তখন স্বপ্নের জ্বাল বোনা! কে মনে
রাখে এঁদো থানার এক ইনস্পেক্টরকে! নীল
অঞ্জনী চোখে আমার সে এক স্বপ্ন! কয়েক
বছর আগে পরিবর্তন এল আমার জীবনে।
ঐহিক জগতের সালজ্যনগরীর বিভব বিলাসে
মগ্ন আমি। অর্জুনের মতো পুরুষের বীরভোগ্যা
আমি! চোখের সম্মুখে বিজরা নদী, ইলা বৃক্ষ!
এর চেয়ে অধিক সুখ আর কী হতে পারে নারীর
জীবনে!
আজ পাঁচ অপ্সরা এগিয়ে আসে মাঙ্গলিক নিয়ে,
একশোর হাতে প্রসাধন চূর্ণ, একশোর হাতে বস্ত্র,
একশোর হাতে ফল, একশোর হাতে অঞ্জন,
বাকি একশোর হাতে মালা!
তবুও কেন জানিনা, সব থেকেও তুচ্ছ মনে হয়,
সব সব সব ! কেন জানো?
এত অবজ্ঞা! এত উপেক্ষা! সব যেন পরিণত
আমাদের মাঝে! তোমার সেই মেজদি, যার কথা
জানলাম, টিভির পর্দায়! করোনা পজিটিভের
সেবিকা হয়ে, কিভাবে পরিবার, পাঁচ বছরের
শিশু থেকে দূরে! আর তুমি!
কি সুন্দর গাইলে-- দেখো আলোয় আলো
আকাশ
দেখো আকাশ তারায় ভরা...
বিশ্বাস করো, তুমি যখন মাইক্রোফোন নিয়ে
লকডাউনে ফাঁকা রাস্তায় তে মাথার মোড়ে
গাইছিলে, আমি তখন দোতলার বারান্দায়!
নিজের অজান্তেই কখন যে চোখে জল এসে
গেল!
আমরা ঘরে, তোমরা বাইরে। যদি তোমার বিয়ে
হয়ে থাকে, সে বেচারি হয়তো খুব কষ্টে! হয়তো,
আজ আমার থেকে কত গরবিনী বা!
গর্ব সবার! করোনাগ্রাসে মৃতদেহ যখন ছোঁয় না
পরিবার, তখনও একমাত্র অতনু সাঁতরা তুমি
ঐহিক অন্তিমে!
এই দুর্দিনে আজ অক্লেশে মিশে যাও মাটির
সাথে। ত্রাণ, ওষুধ পৌঁছে দাও, অসহায়, একাকী
কোন বয়স্কা নাগরিকের কাছে!
তুমি সুনাগরিক! যথার্থ বীর! তুমি আমার নও!
তাতে কী ? তুমি আমাদের! হে বন্ধু!
শুধু খেয়াল রেখো নিজের! আর কী বলার
আছে? শুধু আজ বুঝি, প্রমোদ সুখ, জরা মুক্ত
বিজরা নদী কত ক্ষুদ্র তোমাদের পথে! দুঃখ হয়,
তুমি আমার নও, তবে আনন্দে ভাসি এই জেনে,
তুমি আমাদের!!

     

আজ হেসো না, প্রেম!--- দেবশ্রী মজুমদার



শিরোনামঃ আজ হেসো না, প্রেম!
দেবশ্রী মজুমদার
প্লিজ! যে ছেলেটি বোকার মত তোমায়
ভালোবেসেছে, তাকে দেখে হেসো না আর!
অন্তত আজকে!--- আজকে নয় বা কেন?
কি এমন দিন আজ? আর অন্য দিন নয় কেন?
--- তোমার প্রশ্ন শুনে আমিও অবাক।
ভুলে গেলে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে
হেমিংওয়ে প্রেমে পড়ে যান এগনেস ভন
কুবোস্কির। জানো তো, কুবোস্কি পেশায় ছিলেন
নার্স। বেচারি সাহিত্যিক রেডক্রসে যোগ দেন,
কারণ তো অজানা নেই। আজ বিশ্ব যুদ্ধ। এখন
প্রেম দরকার! প্রেম। আজ কেউ 'চণ্ডালীনির ঝি'
নয়। কবির কাছে পাঠ নিয়ে, তাহলে বলতেই হয়
-- পরিবর্তনের স্রোতে যদি ভেসে যায় এই
কালের যাত্রায়। হে বন্ধু, বিদায়!
--রাগ করো কেন! আমি কি তাই বলেছি?
তাহলে শোন গোবিন্দ দাস।
-- কমলে মধুপ পাওল‌ যেন সঙ্গ।
দুই তনু পুলকিত প্রেম তরঙ্গ।।
---এই ভাবনা যদি 'ভাবে' আসতো তাহলে তো
এক সাথে লড়তে জোর আসে মনে। মরণেও
শান্তি। শুধু সন্দেহ, হিংসা। করোনা আক্রান্ত
পৃথিবী! মৃত্যুর মিছিল, ইতালি, আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ইরান,
আমার দেশও সেই মুহূর্তে! যা পাই, তা সংবাদ?
বিসংবাদ! আঁতকে উঠি। আজ বড় প্রয়োজন
প্রেমের! যা দিয়েছ অতনু দেবতারে, দাও
মানবেরে!
---- "দেবতারে যাহা দিতে পারি, দিই তাই
প্রিয়জনে-- প্রিয়জনে যাহা দিতে পাই,
তাই দিই দেবতারে; আর পাব কোথা!"
----ভুলে গেলে বুঝি কবির পরের কথাটা?-সে তো
অমোঘ বাণী ভাই, যে জানে---
"দেবতারে প্রিয় করি, প্রিয়েরে দেবতা।"
গদ্য কবিতা(রচনা কাল: ০৯.০৪.২০./ সন্ধ্যা- ৭-৩০)

     

যে চিনিয়েছে সবাইকে! -- দেবশ্রী মজুমদার


যে চিনিয়েছে সবাইকে!
(করোনা, তোমাকে)
দেবশ্রী মজুমদার
তুমি না এলে জানতাম না
প্রেমের আতিশয্য কি
তুমি না এলে জানতাম কী
স্নেহের সুরধনী গ্রন্থি
থেমে যায় কখন, বহিতে বহিতে,
লজ্জাবনত প্রেমিকা চাহে না চকিতে।
তুমি না এলে জানতাম না
চেনা মুখগুলো আদপে
মুখোশ ছিল মুখের আড়ালে।
তুমি না থাকিলে জানতাম কবে
ভোরের শিশিরে ফিঙে এসেছিল গোপনে
তুমি না আসলে কে জানতো
নীল কালো কাজলে রাঙা
খুনসুটি করে কোন মাছরাঙা
ধূসর কালো সুশীলা কোন সকালে
সে অনাঘ্রাতা পানকৌড়ি
কেন ঢাকা কোন অঞ্চলে?
তুমি না এলে জানতাম না
মানুষ কখন চোখে না হারিয়ে--
চক্ষু হারায়; ফুল নয়, ভুল ছড়িয়ে!
তুমি না থাকলে জানতাম না
এত দুঃখ জমে আছে প্রস্তর হতে।
স্নেহান্ধ হওয়াও, কোন এক বঞ্চনা
কোন অপেক্ষায়, অঝোরে ঝরিতে।
বন্ধু, ভালোবাসা, প্রেম, অপ্রেম
ধন্দ, দূরাশা কখন নিয়েছে খোঁজ
মাটির পৃথিবীতে, মিশে যাবে একদিন--
শুধু তারায় তারায় রাত জাগিতে,
শুধু কবে ফোটে ভোর আপন করিতে।।

     

Gadget

​"নাটক" সাড়ে সব্বনাশ- দেবশ্রী মজুমদার

                             ​"নাটক"                         ​     সাড়ে সব্বনাশ ​                      একাঙ্ক নাটক : কিশলয় নাটক :...

Popular