Skip to main content
আমার গিন্নী-- দেবশ্রী মজুমদার
আমার গিন্নী!
দেবশ্রী মজুমদার
আমার গিন্নী! বাব্বা! নিজের বৌকে নিয়ে এত
আদিখ্যেতা! তা ভাবুন!
দুপুরে যেটা লিখেছি, অধীর আগ্রহে নিয়ে যেই না
গিন্নীকে শোনাতে গেছি...
--দাঁড়াও আকাশে মেঘ লেগেছে, জলটা নিয়ে
আসি। জল এল, ভণিতায় উন্নত গ্রীবাকে
বললুম, - ‘গৌরী ধীরে চলো, গাগরী ছলক নাহি
কয়।’
--তেড়ে ফুঁড়ে গিন্নী বললে, গাগরী কোথায়?
বালতি- বালতি। সরো সরো! ঝামেলা পাকিয়ো
না আর! মুখ ঝামটা খেয়ে, মুখের কথা মুখেই
থেকে গেল, বলা হলো না-- "কী মোহিনী জান
বঁধু কী মোহিনী জানো।অবলার প্রাণ নিতে যাই
তোমা হেন"।
-এমন ব্যস্ততায় লৌকিক মানিনীর সপ্রেম
তিরস্কারও বাড়ন্ত এখন!
তবে, মন্দের ভালো, প্রতিদিন পাতে এই দুঃসময়ে
কিছু একটা জুটিয়ে দেয় মানিনী! এখন
অভাবের সংসারে আলুর চোকলা ভাজা, কচু
শাক বা ঘরের কাঁচ কলার চোকা বাটা গরম
ভাতে খেতে খেতে মনে হয়, সংসারটা ধরে
রেখেছে তো! সয় গো সই! পেট আর পিঠ!
কিন্তু এটাই তো আসল কথা! এটাই চাই! এখানে
কাব্যি চলে না! তাই গিন্নীর মত যাঁরা খ্যাঁক খ্যাঁক
করেন, তাদের হাতির লুকোনো দাঁত বলুন, আর
যাই বলুন, তাঁদের সমালোচনা কিন্তু খাঁটি!
লকডাউনের ফাঁস যত বাড়ছে, ততই মনে হচ্ছে,
হাত তালি, মোমবাতি নয়!
সরষে তেলের উপর কাঁচা লঙ্কা চিরে পাঁচ
ফোড়ন দিয়ে কচুর শাক না হোক, ডাল ভাত
চাই -ই চাই! গৃহিণীর রান্না ঘরে যখন সব বাড়ন্ত,
তখন মানিনীও কাব্যি চায় না! যতই বলি--
বদসি যদি কিঞ্চিদপি/ দন্তরুচি কৌমূদি...