স্যান্টা ও মোমবাতি-- দেবশ্রী মজুমদার


স্যান্টা ও মোমবাতি
দেবশ্রী মজুমদার

না, এটা স্যান্টা ক্লজের গল্প নয়! এখন জিঙ্গল
বেলস না! মেরি ক্রিশ মাস না! এক দুঃসহ
দুঃসময় হাতে নিয়ে স্থবির বা জঙ্গম আমরা!
যাঁরা স্যান্টা তাঁরাই মোমবাতি জ্বালিয়ে ফিরছেন
অসুস্থ ঘরে ঘরে।
সেই স্যান্টাকে বাড়িতে নিয়ে এসে স্যুপ
খাওয়ানোর ভাবনা, গল্পের গরুকে গাছে
চড়ানোর মতো! আমি তো বিশ্বাস করি না!
মহামারীর বেশ কয়েকমাস আগে আমরা ওদের
উত্তম মধ্যম দিয়েছি। "আতুরে নিয়ম নাস্তি!" --
তাই ঘটা করেই মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালিয়েছি!
কিছুদিন আগে, অবশ্য ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁদের
গৃহহীন করেছি!
আর এই তো দু'দিন আগে...
যে কিনা হোম কোয়ারিন্টিনে ছিল। করোনা
পজিটিভ রিপোর্ট এলো... তাঁকে নিতে নিজস্ব
হাসপাতাল এ্যাম্বুলেন্স পাঠালো না... শেষমেশ
পুলিশ পৌঁছে দিল বেলেঘাটা আইডি! তালাবন্ধ
ফ্ল্যাটের চাবি নিলনা কোন প্রতিবেশী! সীলড্
ঘর পড়ে আছে। তাঁকে আর আবাসনে ফিরতে
দেওয়া হবে না- সাফ জানিয়ে দিয়েছেন
প্রতিবেশীরাই, এমনকি ঠিক হলেও! কেনই বা
দেবে?
---ছেলে পিলে নিয়ে সংসার! বলা তো যায় না?
যদি তাঁদের ও কিছু একটা "না হোক" হয়ে
যায়... !
চেয়ে দেখ, অন্ধ্রের লক্ষ্মী নারায়ণ রেড্ডিকে! পি-
পি- ই তে ঢাকা দেহ! অস্পৃশ্য কার না কাছে?
দারা পুত্র পরিজন! নিরাপদ দূরত্বে চাপা কান্না!
মুঠোফোনে বন্দী বিদায় লগন!
ভুলে যাও শহীদ এ যোদ্ধা!
পারো তো পরখ করো, প্রস্তরখণ্ডে। দেখো, সে
এখনও জীবিত কিনা!

এই চিকিৎসক, নার্সরা অর্থগৃধ্নু, নরপিশাচ! হ্যাঁ
এটাই তো বলেছি আমরা! অদ্ভুত! অদ্ভুত!
অবাক, অবাক, আরও বিস্ময়!
আমি গুলো যে এক এক করে কবে, কোন
অগোচরে হয়ে গেছি আমরা, ভাবি নি কখনও!
ভাবার তাগিদ ছিল না কোনদিন!
তাই চেয়েছি, এই চিকিৎসকরা স্যান্টা হোক!
বল্গা হরিণে চড়ে লাল আলখাল্লা পরে বাড়ি
বাড়ি মোমবাতি দিয়ে যাক!
তারও যে কিছু চায়, এই দুঃসময়ে ভাববার
অবকাশ ছিল না, আজও নেই!
আজকের স্যান্টারা ঘর, পরিবার ছেড়ে। জানে
না নিজেরা ফিরতে পারবে কিনা কোন দিন! এ
যুদ্ধে নেই যুদ্ধের বর্ম, যা যা সাজ চায় আজ!
তবে ফেরায় নি তোমাদের! যদি পারো, শুধু
এইটুকু রেখো মনে! সেই শ্রদ্ধায় ভরুক অন্তর!
না হলে, আলোহীন আলোক শিখা জ্বলুক অন্তর
-- এ আতান্তরে!!

     

Comments

Popular

বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই:---দেবশ্রী মজুমদার

দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার

আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার