Posts

বেড়ে রোমান্টিক— তবে চিঠির ঠিকানা জানা নেই--দেবশ্রী মজুমদার

Image
বেড়ে রোমান্টিক—দেবশ্রী মজুমদার চিঠির ঠিকানা জানা নেই প্রিয় অপ্রিয় ভাজনেষু, দেখ, তুমি প্রিয় না অপ্রিয় আজ সেটা তুমিই বেছে নাও। আজ ও দুটোর কোনটাই ভাবি না। সকাল থেকেই আজ শারদ আকাশের মুখ বড্ড বেশী ভার। জানালার ধারে বিছানায় গুটিসুটি মেরে শিল্পীর দেশ রাগের এস্রাজ শুনছিলাম। ভিতরটা মুচড়ে উঠল। চিঠি তোমাকে কোন দিনই লিখি নি। আজ যেন গল্প। সেসব কথা। গল্পই বটে! মনে যখন এল। তখন লিখেই ফেলি কিছু কথা। কি জানি গন গনে রোদ যদি আবার আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, হারিয়ে যায় ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির পড়ার শব্দ নারকোল গাছের পাতায়! তার আগেই বলে ফেলি কি বল! তোমার সাথে আর দেখা হবে না। প্রতিবার পুজোতে অষ্টমীতে বন্ধুদের সাথে বেরোতাম। আমি ইচ্ছে করেই একবার বলেছিলাম আমরা বন্ধুরা অষ্টমীতে বেরোয়। কথাটা আলতো করে তুলে নিয়েছিলে।  রামপুরহাটের অলি গলিতে যতই ঘুরি না কেন, তোমার সাথে দেখা হতই। কখনও স্টেশন রোডে ঠাকুর প্যান্ডেলে। আবার কখনও মুরারীদত্ত লেনের মণ্ডপে। দেখা আমাদের হত। কথা বিশেষ হত না। কারন বন্ধুরা সাথে থাকত। তবে দু’একবার চাউনি। কিম্বা দুএকটা কথা। আর তাতেই মনের ভিতর ঝড় বয়ে যেত। বন্ধুরাও আড় চোখে নজর করত। মুখ টিপে হাসত। অষ্টমীর...

চিরদিনের দুঃখিনী মা দুগগা ঃ দেবশ্রী মজুমদার

Image
চিরদিনের দুঃখিনী মা দুগগা ঃ দেবশ্রী মজুমদার “বিভীষণের রাজ্যাভিষেকের পর  শ্রী রাম অযোধ্যায় ফিরে যাওয়ার বাসনা প্রকাশ করেন। তখন বিভীষণ লঙ্কাতেই শ্রীরামচন্দ্রকে রাজত্ব করতে অনুরোধ করেন। লক্ষ্মণও তাতে রাজী হয়ে অযোধ্যা থেকে শতগুণ ঐশ্বর্য্যশালী লঙ্কায় থাকার জন্য শ্রীরামচন্দ্রকে অনুরোধ করেন। সেই মুহূর্তে  শ্রী রামচন্দ্রের একটি উত্তর আজও আমাদের ভাবিত করে তোলে— “অপি স্বর্ণময়ী লঙ্কা না মে লক্ষ্মণ, জননী জন্ম ভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী”।” এই একটি শ্লোক জন্মভূমি ও জননীর প্রতি ভক্তির নির্দেশিকা তুলে ধরে আমাদের মনে। পূজা বার্ষিকীর বিশেষ সংখ্যায় “আজকের দুর্গা’ লেখাতে এই কথাগুলো পড়তে পড়তে চোখের কোণা দুটো ভিজে গেল ব্যর্থকামের! আর পড়তে পারলো না সে। বইয়ের পাতা মুড়ে ভাঁজ করে রেখে দিল। ভাবতে থাকল, কথাগুলো বইয়ের পাতাতেই থেকে গেল। জীবনের পাতায় পাতায় কোথাও তার আঁচড় টুকু দেখা গেল না। সংসারে ভালবাসার ‘টাগ অফ ওয়ার’ কি ভয়ঙ্কর… ভাবলে নিচের চোয়ালটা শক্ত হয়ে ওঠে তার। চিরদিন বদনাম থেকে গেল তার ভাগ্যে। সংসারের নিহিত স্বার্থের জন্য মাকে নিজের কাছে রাখতে পারল না সে। তাকে সমর্থন করল, বাকি সকলে। সকলের ভাবটা ছিল, এমন য...

অননুকরণীয়ঃ  দেবশ্রী মজুমদার

Image
অননুকরণীয়ঃ  দেবশ্রী মজুমদার হাতটা ছাড়ো তো! কেন? –বলেই আবার হাতটা ধরতেই, সরে গিয়ে প্রবোধ পোদ্দার তাঁর নব পরিনীতা বধূকে বললেন, কোন ছাত্রছাত্রী থাকতে পারে! দেখে কি ভাববে! নববধূ নীলাঞ্জনা কিছু না বলেই চুপ করে থাকা শ্রেয় মনে করল।–জানি না ভাগ্যে আর কি আছে! এ জানলে সেকেলে মানুষকে বিয়েই করতাম না! কথাটা খুব জোরে না হলেও, শুধুমাত্র ‘সেকেলে’ কথাটা কানে গেল প্রবোধবাবুর।  প্রবোধবাবু শুধু মনে মনে হাসলেন। সদ্য বিয়ে করেছেন নদীয়ার রামলাল একাডেমীর ইংরেজি শিক্ষক প্রবোধ পোদ্দার! রীতিমত দেখাশোনা করে বোলপুরের মেয়েকে বিয়ে করেছেন। মেয়ে শিক্ষিতা। স্মার্ট ও রূপসী বলতে যা বোঝায়! প্রবোধ তাকে নীলা বলেই ডাকেন। আজ স্কুলের লোকাল হলিডে। তাই বাড়ি থেকে ক’পা হেঁটে নীলানঞ্জনাকে নিয়ে সিনেমা দেখতে লক্ষ্মী সিনেমা হলে প্রবোধবাবু! নব বিবাহিতা স্ত্রীর অনুরোধ ফেলতে পারেন নি। তাই তাঁকে নিয়ে সিনেমাহল মুখো হলেন ঠিকই। তবে এই যা!  তাড়াহুড়োতে সিনেমার নামটাই জানা হয় নি। হলে ঢুকে প্রবোধবাবু দেখলেন ‘অদ্ভুত সিনেমা’! অদ্ভুত বলতে কি, তা জানতে হলে প্রবোধবাবুর মনের ভিতরে কি চলছে সেটা জানতে হবে।  কি বলছে তাঁর মন বিড় বিড় করে? - এই লারে...

এক নম্বর কমঃ  দেবশ্রী মজুমদার

Image
এক নম্বর কমঃ  দেবশ্রী মজুমদার  বালিগঞ্জে এসবি মোড়ে একটা হনুমান মন্দির ছাড়িয়ে  আরো একটু উত্তর দিকে কুঞ্জ এপার্টমেন্টস । ওখানেই ৫ম তলায় ডান দিকের রোতে একদম নাকবরাবর ফ্ল্যাটেই থাকেন এক মহিলা। ওখান থেকে বালিগঞ্জ গার্ডেন্স। সেখান থেকে বেশ কিছুটা দূরে ওয়ার্ড নং ২৩ এ গার্ডেন ভিউ নার্সিং হোমের কাছে বাসন্তীদেবী কলেজের করণিকা তিনি। প্রতিদিন  এস -৩ ডব্লিউ বাসে এতটা পথ হাঁফিয়ে ওঠেন। হংকং ব্যাঙ্কটা ছাড়িয়ে একডালিয়া রোডে মিল্ক বুথটার কাছে এলে ধড়ে প্রাণটা ফিরে আসে। ওখান থেকে কিছুটা পায়ে হাঁটা পথ ধরে অটো ধরে বাড়ি। থোর বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোর। ভাল্লাগে না।  একমাত্র মেয়ে বালিগঞ্জ ষ্টেশনের কাছে নিউ কিডস হোম স্কুলে পড়ে। ইংলিশ মিডিয়াম। প্রচন্ড পড়ার চাপ।  যার কথা বলছিলাম তাঁর নাম লীনা বন্দ্যোপাধ্যায়। লীনা নামের সাথে বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক মানায় না। তাই নিজেকে মিস ব্যানার্জী বলেই ডাকা পছন্দ করেন তিনি। জানুয়ারির ২০ তারিখ শনিবার। কলেজে  ছুটি, ২১ তারিখ রবিবার, ২২ তারিখ বসন্ত পঞ্চমী, ২৬ তারিখ রিপাবলিক ডে, ২৭ তারিখ ফোর্থ স্যাটারডে, ২৮ তারিখ আবার রবিবার। মাঝে ২২ থেকে ২৫। মাত্র তিন দিনের ছুটি কি মিস ব্যানার্জী ম্...

অথ সুড়সুড়ি ও হ্যাঁচ্চো উপাখ্যান ঃ দেবশ্রী মজুমদার

Image
অথ সুড়সুড়ি ও হ্যাঁচ্চো উপাখ্যান ঃ দেবশ্রী মজুমদার ক্রাশোর দোকান রামপুরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে কয়েক পা দূরেই! বেঁটেখাটো লোকটির উপর নাকি অনেকেই ক্রাশ খায়! আর সেখান থেকেই ক্রাশো! তার নাম মাহাত্ম আজকের আলোচনার বিষয় নয়। আলোচনার বিষয়, রুমালের খুঁট উঁচু করে কতটা নাসিকা গহ্বরে প্রবেশ করালে  সুড়সুড়িতে কাংখিত পরিমান হাঁচি পাওয়া যাবে! আমি বললাম, কালকে শুয়াড়ের খোয়াড়ে সুড়সুড়ি দেখলে? হুম! ঝেড়ে কাশো? (আমি বলতেই)  –  শুধরে  তিনি বললেন, উঁহু ক্রাশো। আমি বললাম, হ্যাঁ, সেই একই হল। আমি মাঝে মাঝে ক্রাশোকে ‘ঝেড়ে কাশো’ বলি। আর ওঃ সঙ্গে সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়, সে ক্রাশোই। ওর দোকান থেকে গ্যাস লাইটার নিয়ে সিগারেট ধরিয়ে তৃপ্তির ধোঁয়াটা ছাড়তে ছাড়তে বললাম, ক্রাশো! মৌলনা আবুল কালাম আজাদের- ‘ইণ্ডিয়া উইন্স ফ্রিডম’ বইটা দিন কয়েকের জন্য দেবে! সে থামিয়ে  স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে বললে, ‘লেখনী পুস্তিকা জায়া, পরহস্তং গতা গতা। যদি সা পুনরায়তি ভ্রস্টা নষ্টা চ মর্দিতা’। তারপর একটু থেমে জ্ঞানের আগমার্কা ভাবখানা নিয়ে বললে, দেখ, সুড়সুড়ি আর হাঁচি এই নিয়েই তো চিরদিনের রাজনীতি। ‘ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি অন্যায়ের অভিযোগ নিয়ে ভাববার যথ...

হায় রে ফেরি ঘাট!--দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: হায় রে ফেরি ঘাট!--দেবশ্রী মজুমদার সময় ৩:৪০, ২১.১০.২০১৮ জীবনটা যদি হয়  ফেরার নাও তাহলে দু'হাত বাড়ায়ে বলি, হে জীবন ফিরায়ে নাও। জীবনটা যদি হয় ছোট্ট পানসি উদ্বাহু হয়ে বলি, বালাই ষাট চাইনা তবে ফেরার ঘাট হাজারো বার ঘাট মানছি জীবনটা যদি ছোট্ট পানসি। জীবনটা যদি তমিস্রা ঘেরা আঁধারের ঘেরাটোপ চাঁদের চন্দ্রিমা চোখের পলক বিনিদ্র ধূসর রজনী হোক আমি চাই না কূল একূল ওকূল ঝাপসা চোখ হে জীবন তবে ফিরায়ে নাও জীবনটা তবে পানসি হোক।। মাঝ দড়িয়ায় হারিয়ে যাওয়া নেইকো নোঙর, ঢেউয়ের গ্রাসে হাল হীন জীবন তরাসে হাসে তবে বেহাল জীবন তীর না খোঁজে দু'হাত বাড়ায়ে সুনীল পাথারে থাক পরান্মুখ সবুজে সবুজে খুঁজে দেখি মোর কোথা ব‍্যাথারে- হে জীবন ফিরায়ে লও হে জীবন ফিরায়ে লও বাতাস গহিন আলিঙ্গনে হে জীবন তবে তোমার হও।।

হম কিসিসে কম নেহি -- দেবশ্রী মজুমদার

Image
কবিতা:: হম কিসিসে কম নেহি -- দেবশ্রী মজুমদার প্রতিবাদী ছিল যত শত মুখ ভাষা হারায়ে আজ বেবাক মূক সাবাস বন্ধু, সাবাস চাঁদনি চকে নেভাস তোর আগুন জ্বলা বুক! তফাৎ তবে কিসে! মানুষ কলে পিষে সব ছিবড়ে জ্বালামুখ! তফাৎ তবে কিসে! শিড় দাঁড়া তো আছে শিকড়ের টান নিচে সবই কী তবে মিছে? শিড়দাঁড়া কী আছে? তুমিও যা, আমিও তা বুক পেতে ভাই চলি মাটিতে মুখ গুঁজে- তফাৎ তবে কিসে? যেদিন উঠবে রব ধর্ম ধ্বজা সব নই গো নহে সব শুধু গোনায় তোমায় কিম্বা আমায়--- বুকের মাঝে শব। সেদিন কী আর আসে! তাহলে তফাৎ কে যায় কিসে! এমনি চলে দিন কে দিন এ কল তো ও কলে যাঁতার তলে পিষে! এই চলা যদি হয়রে চলা- তবে পিছিয়ে থাকা কিসে! তফাৎ জেনো মনে মনে তামায় আর সিসে! সেদিন তবে হে মানুষ! থামায় তোমায় কিসে!!