বাবা বাগেশ্বর ও চিট্টি আয়ি হ্যায়: বাবা বাগেশ্বরের আরেক কম্ম= দেব ঋষি

 বাবা বাগেশ্বর ও চিট্টি আয়ি হ্যায়: বাবা বাগেশ্বরের আরেক কম্ম



কাল্পনিক শিশুর চিঠিতে বাবাজির ভয়! ভাবা যায়!NCERT-এর তৃতীয় শ্রেণীর পরিবেশ বিজ্ঞান বইয়ে 'চিঠি আই হ্যায়' (চিঠি এসেছে) নামে একটি সাধারণ চ্যাপ্টার বা অধ্যায় ছিল। সেখানে দ্য ওয়ার্ল্ড এ্যারাউণ্ড ইউ একটা চ্যাপ্টার আছে। সেখানে একটি ছোট বাচ্চার চিঠির নমুনা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে 'রীনা' নামের একটি কাল্পনিক শিশু চরিত্র তার বন্ধু 'আহমদ'-কে ছুটিতে আগরতলা বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লেখে এবং শেষে লেখে "তোমার রীনা"। ব্যস! এটাই তাঁর কাছে শিশু লাভ জেহাদ। চিঠির মূল উদ্দেশ্য ছিল, শিশুদের বোঝানো যে কীভাবে ডাকযোগের মাধ্যমে চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা হয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী NCERT-এর তৃতীয় শ্রেণির পরিবেশবিদ্যার (EVS) পুরনো বই 'আস-পাস' (Aas-Pass বা দ্য ওয়ার্ল্ড এ্যারাউণ্ড ইউ )-এর এই 'চিঠি আয়ি হ্যায়' পাঠটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। এই বিতর্কটির মূল আপত্তির জায়গা ছিল যে পাঠ্য বিষয়টিতে 'রীনা' নামের একটি হিন্দু মেয়ে তার মুসলিম বন্ধু 'আহমদ'-কে চিঠি লিখছে। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী অভিযোগ করেন যে, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর মাধ্যমে ছোট শিশুদের মনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা লাভ জেহাদ। তিনি অবিলম্বে এই পাঠটি বই থেকে বাদ দেওয়ার বা সংশোধন করার দাবি ওঠে। প্রথমে অভিযোগ খারিজ করলেও, NCERT পরে জানায় যে, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা (NCF 2023) অনুযায়ী ইতিমধ্যেই পুরনো পরিবেশবিদ্যার বইটি পরিবর্তন করা হয়েছে। এভাবেই তিনি বিভিন্ন সময়ে হিন্দু ধর্মের রক্ষা করে আসছেন, বলে তিনি হয়তো ভেবে থাকেন। 

আবার এটাও সত্যি যে তাঁর এই ধরণের মন্তব্যর জন্য একবার মহারাষ্ট্রের সরকারি পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিলো। কারণ মানুষের বিক্ষোভ। 

 বাবাজি নিজেও আগত ভক্তদের মনের কথা কাগজে হুবহু লিখে তাক লাগিয়ে দেন। আর তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই, বাবা পলায়ন করেন, এই দাবি আমার আপনার না। দাবি, অখিল ভারতীয় অন্ধ শ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির প্রধান শ্যাম মানবের। তিনি বাবাজির তথাকথিত চিরকুট প্রণালীর অলৌকিক ক্ষমতা বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রমাণ করার জন্য ৩০ লক্ষ টাকার এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাবার ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিলো মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বাগেশ্বর ধামে। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বাবা ১১ জানুয়ারি স্থান ত্যাগ করেন। আর তাকেই পলায়ন বলে ধরে নেন অনেকেই।।

মণ্ডপের পিছনে চিকেন বার্গার ভোজীরা বাগেশ্বর বাবাজির কাছে পাখণ্ডী- দেব ঋষি

 মণ্ডপের পিছনে চিকেন বার্গার ভোজীরা বাগেশ্বর বাবাজির কাছে পাখণ্ডী



 মুখ্যসচিব থেকে মুখ্যমন্ত্রী যাঁর কাছে ভক্তিতে গদগদ হয়ে দণ্ডায়মান, তিনি অনেক কিছু ফরমান জারি করার অধিকারী হন। এটা বলার জন্য সংবিধানের জ্ঞান অত্যন্ত নগন্য বিষয়। এর আগেও ২০২৪ সালে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী NCERT-এর তৃতীয় শ্রেণির পরিবেশবিদ্যার (EVS) পুরনো বই 'আস-পাস' (Aas-Pass)-এর 'চিঠি আই হ্যায়' পাঠটি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান। এই বিতর্কটির মূল বিষয় ছিল যে পাঠ্য বিষয়টিতে 'রীনা' নামের একটি হিন্দু মেয়ে তার বন্ধু 'আহমদ'-কে চিঠি লিখছে। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী অভিযোগ করেন যে, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এর মাধ্যমে ছোট শিশুদের মনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই পাঠটি বই থেকে বাদ দেওয়ার বা সংশোধন করার দাবি ওঠে। NCERT পরে জানায় যে, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা (NCF 2023) অনুযায়ী ইতিমধ্যেই পুরনো পরিবেশবিদ্যার বইটি পরিবর্তন করা হয়েছে। এভাবেই তিনি বিভিন্ন সময়ে হিন্দু ধর্মের রক্ষা করে আসছেন, বলে মনে করেন। 

বাগেশ্বর বাবাজিকে এই কারণে কেউ কেউ বাগাড়ম্বরেশ্বর বললেও দোষের হবে কি? বলছেনও তাই। ব্রাহ্মণ্যবাদ বলতে যেটা সবাই বোঝে। এই বাংলায় তার শিকড় ভারতের অন্য প্রান্তে যতটা গভীরে যেতে পেরেছে তা এই বাংলায় পারে নি। কারণ বাঙালি। বিদ্যাসাগর থেকে রামমোহন রায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কেশব চন্দ্র সেন, মহর্ষি দেবেন্দ্র নাথ ঠাকুর আর কত নাম বলবো। সারদা মা বলেছেন, আমার ছেলেপুলেরা আমিষ চেটেপুটে খাবে। নিরামিষ খাবে না। আমি বলছি। স্বয়ং রামকৃষ্ণ দেব বলেছেন, হবিষ্যি করেও, আমিষাশী নরেণের উচ্চতায় পৌঁছুনো অসম্ভব। এরকম উদাহরণের শেষ নেই। 

বাগেশ্বর বাবাজি বাংলার বাঙালির চব্য চোষ্য লেহ্য পেয় খাদ্যাভাষের উপর কড়া ফতোয়া না দিয়ে ধর্মীয় অজ্ঞতা বা ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারতেন। কালিকা পুরাণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে পারতেন, ওরে, মুঢ, বাঙালি সন্তান, মা মদ্যপায়ী নন। সাধনমার্গে একজন সিদ্ধ সাধক মদের উপর ভর করেন নি। নিজের মার মুখে মদ তুলে দিতে পারবি?-- “সোমধারা ক্ষরে যাতু ব্রহ্মরন্ধ্রাদ্ বরাননে। পীত্বানন্দময়ীং তাং যঃ স মদ্যসাধকঃ।” অর্থাৎ ব্রহ্ম তালুতে সুধারস ক্ষরিত হলে, তাহাই মদ্য। স্থুল মদ বা সুরা নয়। মাংস, মায়ের সামনে বলির মাংস না। 

“মা শব্দে রসনা শ্রেয়ো তদংশং রসনাপ্রিয়ে। সদা যো ভক্ষয়েদ্বি স এব মাংসসাধকঃ।” মৎস বা মাছ মায়ের জন্য পুকুর থেকে ধরে বা কিনে আনতে হবে না। “গঙ্গা যমুনয়োর্মধ্যে মৎস্যৌ চরতঃ সদা।

তৌ মৎস্যৌ ভক্ষয়েদ্ যস্তু স ভবেত্ মৎস্যসাধকঃ।” প্রাণায়ামের ইড়া, পিঙ্গলা, সুষুন্মা জাগ্রত করে কুম্ভকে সেই মাছের সাঁতার হবে। মৈথুন হবে ষটচক্র ভেদ করে আজ্ঞাচক্রে সহস্রার শিব ও শক্তির মিলনে। না, এসব কথা না বলে, উনি কখনও শিশু লাভ জেহাদ, আবার কখনও আমিষ জেহাদে পড়ে রইলেন। বাঙালির মস্তিস্ক এতো স্থুল নয়। এই রাজ্যে বিজেপি তাঁর বক্তৃতায় আসে নি। তৃণমূল সরকারের অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে এসেছে। জনতা আম ও দুধের মাখো মাখো মিলন দেখছে। এসব দৃশ্যপট ঘোরাতেই কি বাজে বকবকানি? বাংলায়, বিভিন্ন খাদ্যাভাস আছে। পোশাক থেকে বিভিন্ন রুচির পোশাক ও উৎসব পালনের রেওয়াজ আছে। সেখানে হাত দিলে, বিজেপির কপালে নির্ঘাৎ শনি আছে। মনে আছে? ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে মহারাষ্ট্রের নাগপুরে বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান (বাংলার লিলুয়ায় হনুমান কথার মতো শ্রীরাম কথা) চলছিল। সেই সময় 'অখিল ভারতীয় অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি'-র প্রধান শ্যাম মানব তাঁকে তাঁর তথাকথিত অলৌকিক ক্ষমতা বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রমাণ করার জন্য ৩০ লক্ষ টাকার একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। অনুষ্ঠানটি ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ১১ জানুয়ারি নাগপুর ত্যাগ করেন। এর জেরে শ্যাম মানব এবং সমালোচকরা দাবি করেন যে, বাগেশ্বর বাবা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে ভয় পেয়ে দুই দিন আগেই নাগপুর থেকে পালিয়ে গেছেন। এই অভিযোগ নিয়ে চাপান উতোর নিশ্চয়ই আছে। তবে এটাও সত্যি মহারাষ্ট্রের সরকারি পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিলো, মানুষের বিক্ষোভের কারণে। বাংলায় কংগ্রেসের পক্ষে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে পেটরোগা (প্রতিবাদ হলে, অন্ধ ভক্তরা পেট রোগা বলে মনের ঝাল মেটাতে পারেন) বাঙালির মধ্যে ইতিমধ্যে পেটে ভুটভাট শুরু হয়েছে। বাবাজির কথা বাঙালির হজম হয় নি। আর সেজন্যই কৌরবকুলের পিতামহ ভীষ্মের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে বলতে হচ্ছে - "বাঙালি নবমীতে কচি পাঁঠার ঝোলও খাবে, আবার অষ্টমীতে মায়ের ভোগের লুচি-তরকারি, খিচুড়ি, পায়েসও খাবে। বাঙালি কী খাবে, কীভাবে পুজো করবে, সেটা কোনো রাজনৈতিক দল ঠিক করে দেবে না। তাই কিছু হেরে যাওয়া রাজনৈতিক দলের অপপ্রচারে কান দেবেন না। বাঙালি তার নিজের দুর্গাপুজো, নিজের ঘরের মেয়ে উমাকে যেভাবে বছরের পর বছর আপন করে, আনন্দ করে, ভালোবেসে উদযাপন করে এসেছে, এবারও ঠিক সেভাবেই করবে। দুর্গাপুজো দুর্গাপুজোর মতোই হবে।।"

ব্রহ্মাণ্ডে কে আমিষ, কে নিরামিষ? দেবশ্রী মজুমদার

          ব্রহ্মাণ্ডে কে আমিষ, কে নিরামিষ?



একাদশীর উপবাসের পর চড়চড়িয়ে খিদে বাড়ে। অবশ্য কিছুটা রসিকতার সুরে স্বামী বিবেকানন্দ এব্যাপারে বলেছিলেন, তাঁর ক্ষুধা এত বেড়েছিল যে "কষ্ট করে থালা-বাটিগুলো খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি।"

স্বামী বিবেকানন্দ-র মহাপ্রয়াণের দিন ১৯০২ সালের ৪ জুলাই দুপুরের আহার সম্পর্কে প্রচলিত স্মৃতিচারণে বলা হয়েছে যে তিনি সেদিন সকলের সঙ্গে বসে খেয়েছিলেন— ভাত, প্রিয় ইলিশ মাছের ঝোল, ভাজা, অম্বল ইত্যাদি। একবার রামকৃষ্ণদেবের কাছে নরেনের মাছ মাংস প্রীতি নিয়ে কিছু ভক্ত অনুযোগ করেন। তার উত্তরে তিনি বলেন, তোরা হবিষ্যি করলেও নরেনের উচ্চতায় পৌঁছুতে পারবি না। 

মা সারদাও বলেছেন, আমার সন্তানেরা কেউ নিরামিষ খাবে না, সবাই আমিষ খাবে। 

এই আমিষ - নিরামিষ প্রসঙ্গর অবতারণা, সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী বা বাগেশ্বর বাবার একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে। 

হাওড়ার লিলুয়ায় আয়োজিত একটি ধর্মীয় সভায় তিনি মন্তব্য করেন যে, দুর্গাপূজার সময় প্যান্ডেলের পেছনে বা প্রতিমার পাশে আমিষ খাবার রান্না ও বিক্রি করা অনুচিত। এমনকি নবরাত্রির দিনগুলোতে যারা মাছ-মাংস খায়, তাদের তিনি ‘পাখণ্ডী’ বলেন। তিনি বলতেই পারেন। ব্রহ্মান্ড তো একটি অণ্ড বা ডিম। সেই ব্রহ্মাণ্ড কি নিরামিষ? 

মনুস্মৃতি-র (১.৯) বলেছে- তৎ অণ্ডম অভবদ্ ধৈমং সহস্রাংশুসমপ্রভম্। তস্মিন যজ্ঞে স্বয়ং ব্রহ্মা সর্বলোকপিতামহ:।। অর্থাৎ আদি সৃষ্টির এই অণ্ড যা ব্রহ্মাণ্ড বা হিরণ্যগর্ভ তা ছিল সুবর্ণময়, সহস্র সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল। তার মধ্যেই ব্রহ্মার আবির্ভাব। তিনি সমগ্র জগতের পিতামহ বা সৃষ্টিকর্তা। তিনি আমিষ না নিরামিষ? ছাত্রবয়সে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ইংলণ্ডে বই পড়ে জেনেছিলেন, ডিম নিরামিষ। খেয়েও ছিলেন। তারপর পিতাশ্রীর কাছে তাঁর অপরাধ স্বীকার করে মার্জনাও চেয়েছিলেন। 

 প্রাক নির্বাচন প্রচারে যতই য়াব্বড় মাছ হাতে বিজেপি প্রার্থীরা প্রচার করেন, এখন বাগেশ্বর বাবা বলছেন, আমিষ ভোজীরা পাষণ্ড। তন্ত্রমতে, তারাপীঠে মায়ের ভোগে বিভিন্ন প্রকারের মৎস ও পাঁঠার মাংস দেওয়া হয়। দক্ষিনেশ্বরেও মায়ের ভোগে বিভিন্ন প্রকারের মৎস পদ থাকে। যদিও তন্ত্রমতের সাথে মানুষের খাদ্যাভাষের কোনো সম্পর্ক নেই। বাগেশ্বর বাবা তন্ত্রের পঞ্চ "ম" নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিতেই পারতেন। কিন্তু, "না"। তিনি বলতে পারতেন, পঞ্চ ম-কার কী? ​'মদ্যং মাংসং তথা মৎস্যং মুদ্রা মৈথুনমেব চ শক্তিপূজাভিধানে পঞ্চতত্ত্বং প্রকীৰ্তিতম্।।'

​—মহানির্বাণ তন্ত্র, ৫ম উল্লাস।

​অর্থাৎ শক্তিপূজা-প্রকরণে মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা ও মৈথুন—এই পঞ্চতত্ত্ব সাধনস্বরূপে কীর্তিত হইয়া থাকে।

​মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা, মৈথুন এই পাঁচটি ‘ম’। পঞ্চ ম-কার বাইরে থেকে দেখলে অত্যন্ত স্থূল। এর গভীরেই অত্যন্ত গভীর সূক্ষ্ম তত্ত্বটি বিদ্যমান। একেই বলে পঞ্চ-তত্ত্ব। “সোমধারা ক্ষরে যাতু ব্রহ্মরন্ধ্রাদ্ বরাননে। পীত্বানন্দময়ীং তাং যঃ স মদ্যসাধকঃ।” অর্থাৎ, ভক্তের রাতুল হৃদয়, মা মা, তুমি মদ খাও বলে যে আকুতি দেখায়, তা ভুল। ভক্তের ব্রহ্মরন্ধ্র থেকে নি:সরিত রস বা সুধা হলো মদ। একইভাবে মাংস সাধক বলতে মায়ের সামনে পাঁঠা বলি দেওয়া নয়। বাক্য সংযমী হয়ে ইন্দ্রিয় সংযত হলেই মাংস সাধক হওয়া সম্ভব। “মা শব্দে রসনা শ্রেয়ো তদংশং রসনাপ্রিয়ে। সদা যো ভক্ষয়েদ্বি স এব মাংসসাধকঃ।” আর মৎস্য কী? “গঙ্গা যমুনয়োর্মধ্যে মৎস্যৌ চরতঃ সদা। তৌ মৎস্যৌ ভক্ষয়েদ্ যস্তু স ভবেত্ মৎস্যসাধকঃ।” প্রাণায়ামের মধ্যে কুম্ভককে ব্যবহার করে ঈশ্বর চেতনা লাভ। এসব ব্যাখ্যা দিতে পারতেন। কিন্তু, "না"। তিনি মন্তব্য করলেন, বাঙালির খাদ্যাভাষ নিয়ে। শাসকদলকে বুঝতে হবে, এটা বিজেপি শাসিত রাজ্য হলেও, গোবলয় হয়ে যায় নি। বাঙালি অত্যাচারিত হয়ে বাংলায় বিজেপিকে এনেছে। বাংলায় ভেদাভেদহীন একটা মিশ্র সংস্কৃতি চলে। পুজো ক'দিন চিকেন বার্গার, চিকেন / মাটন বিরিয়ানি, সিফুড নুডলস, চাইনিজ থেকে চিজি পনির টিক্কা, চিজি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, মাশরুম চিলি সবই চলে। পোশাকেও গামছা শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, পালাজো, জিন্স ও বিভিন্ন ফিউশন তো আছেই। এসব নিয়ে দারোয়ানী বাঙালি বরদাস্ত করবে না। বাঙালি শুধু ধুতি পরে না, ধুতি থেকে সব কাপড় খুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেবে। তাই সাধু সাবধান। বিজেপির মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেছেন, বাগেশ্বর বাবার সাধু হিসেবে নিজের বক্তব্য থাকতেই পারে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য অবশ্য বলেছেন, বাঙালি নবমীতে পাঁঠা খাবেই। রসিক বাঙালির পদ এবার পদ্যময় হোক। একটুকু প্রার্থনা।

প্যারা কনহা- দেব ঋষি ০৬/০৯/২৬







প্যারা কানহা


কান্হা কি তোমার একা
জড়িয়ে আমি কি রাই,
জড়িয়ে সারা বরসোনা। 
আমি না হয় গোলাপ কুঁড়ি
খোসবাগেতে ফুটি,
মরু কাবায় সেজদা দি,
নবীর পায়ে লুটি।।
তবুও কানু আমার সোনা
পৃথক ভেবো না।।
জড়িয়ে আমি কি রাই,
জড়িয়ে সারা বরসোনা। 

বেশ আছি দেব ঋষি ০৫/০৯/২৬/প্রণাম ----- দেবঋষি 05.09.21






"এক"

নাই আর আছি

এরই কাছাকাছি 

কোথাও তো বেঁচে আছি।।

অনিল মুষল ধারা

মলয় স্নিগ্ধ হারা 

এরই মাঝে আছি না আছি।

কী সুর তোলে মধুকর প্রজাপতি 

গর্ভরেণু আজও রয় আসন পাতি।

নাই আর আছি

এরই কাছাকাছি 

কোথাও তো বেঁচে আছি।।

 "দুই"






"প্রণাম"

প্রণাম নেওয়া

আর প্রণম্য হওয়া

মাঝে মাঝে এক হয়।

গুটি পোকার জীবন চক্রে

কেউ মথ, কেউ প্রজাপতি

কেউ আবার সোনালী তন্তু হয়ে

সোনার অঙ্গে বাহারি লেবাস হয়।

শিক্ষক কখনও সাংবাদিক হলে

কোনটাই নয়।

মন ভারী দুঃখে

যমুনী উজানী বায়।



আল্লাহ ভালো রাখসিলো, বান্দায় খাইসে দেবঋষি ০২/০৯/২৬



 

আল্লাহ ভেদ করে ন্নি

ভালো রাখ্সিলো।

বান্দায় রাখ্সে নি--

বুঝোন্নি--

আল্লাহ ভালা ছিলো 

বান্দায় রাখ্সে নি।।


কথা গুলান হুনছিলা

রংপুরে কইছেন এক পোলা।

আল্লাহ ছিলো ভালা।

বান্দায় রাখ্সিনি গো

রাখ্সিনি।

 চক্কোত্তির ঝি, মাইয়া পোলা

সব চলি গেলা, বুঝোন্নি!

ছিলো আল্লায় -

শ্রদ্ধায় মাথানত চক্কোত্তি।

এপারেও ঈশ্বরে তাবরেজ 

২০১৫ দেখেছে কে কত কবরেজ,

কত মনে কতো ভক্তি।।

শিব দেব ঋষি

 



মস্তিষ্ক শিখরে স্থির 

আছে অজেয় ধীর 

সহস্র পাপড়ি যার 

অটল শিব।


কৈলাস মস্তিস্কে নীড়

 নিষ্কম্প সুগভীর

নিরাকার নির্বিকার 

পশুপতি জীব।


 পুত পুত জাহ্নবী ধারা

শতদ্রু, সিন্ধু, ঘাঘরা

শিব জটাজালে 

বহে শিরায় শিরায়।


উদ্বাহ প্রেম উন্মুখ যারা

নিত্যপুষ্প সুরভিতে তারা

আপনে আপনি হারায়। 


যত দেবদেবী এ বাসরে

শত গন্ধর্ব যক্ষ কিন্নরে

যত গায় আজি যত গীত।


তার চেয়ে ও পুষ্প শাখী

শুক সারি আর পাখি

চন্দন চর্চিত চিত।


দুহাতে পাশরি যত শত নুড়ি

বন বীথিকায় যত স্থানু কঙ্কর

 সবার মন পথে কত মোড় ঘুরি

স্থির আজও তিনি অটল শঙ্কর।।

Gadget

​"নাটক" সাড়ে সব্বনাশ- দেবশ্রী মজুমদার

                             ​"নাটক"                         ​     সাড়ে সব্বনাশ ​                      একাঙ্ক নাটক : কিশলয় নাটক :...

Popular