"ভেবে দেখ মন কেউ কারো নয়"
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর কথা শুনলে আমাদের দার্শনিক হতে ইচ্ছা হয়। যখনই কোথাও "জয় শ্রীরাম" ধ্বনি দিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীর উপর আক্রমণ হয়, তখনই শমীকবাবুকে বলতে শুনি, এরা আমাদের দলের কেউ নয়। তাহলে এরা কারা?
ঠিক তখনই কে যেন শ্যামা সঙ্গীত গেয়ে ওঠে- "ভেবে দেখ মন কেউ কারো নয়"
আর তখনই আরো একজন দার্শনিকের মতো বলছেন, "ভোগা ন ভুক্তা বয়মেব ভুক্তাঃ"। আমরা জাগতিক ভোগসমূহকে ভোগ করতে পারিনি, বরং ভোগ্ রাই (আমাদের আয়ু ও শক্তি শোষণ করে) আমাদের ভোগ করে ফেলেছে। তৃষ্ণা বা কামনা শেষ হয়নি, বরং আমরাই শেষ হয়ে গেছি। বিজেপিতে "ভোগ" এর আয়োজন মজুত। যাদের বলা হচ্ছে তথাকথিত "এরা আমাদের দলের কেউ নয়"। বিজেপির রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে জেলা নেতৃত্বের গলায় সেই এক সুর।
বিজেপিকে কি এই "এরা আমাদের দলের কেউ নয় " একদিন শেষ করে দেবে? বিজেপির উপরের তলায় এই পদ্ম পতাকা বাহীদের যদি কোন অস্তিত্ব না থাকে, তাহলে জেলাস্তরে এদের দলে নিলো কে?
সম্প্রতি একটা ঘটনা বিষয়টিকে স্পষ্ট করতে পারে। ৪ মের পর চব্বিশ ঘন্টার বিজেপিরা কী ডেপুটি? তারাই কি আকাম করে যাবে। আর নেতিবাচক অর্থে মেঘনাদের মতো অন্যমুখ সব কিছু ঠিক করে দেবে? যাদের প্রয়োজনে ঝেড়ে ফেলা যাবে? যেমন বামেরা হাতকাটা মজিদ মাস্টার থেকে তৃণমূলের সুমিত রায়।
আর এস এস বনাম নব্য বিজেপি সংঘর্ষ সেই জল্পনা উস্কদিয়েছে। যারা আর এস এসকে আক্রমণ করেছে, বিজেপি নেতৃত্ব বলছে তারা বিজেপির কেউ নয়। আর এস এস বলছে, ঠিকই তারা বিজেপি হতে পারে না। কিন্তু তাদেরকে দলে ঢোকালো কে? এবং কোন উদ্দেশ্যে? তাদেরকে দিয়ে তোলাবাজি করিয়ে, মেঘের আড়ালে ক্ষীর খাবার জন্য?
যাইহোক, ঘটনার জেরে আহত ৩ আর এস এস কর্মী। বোলপুর সিয়ান হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন।
অভিযোগ, পুরাতন বিজেপির মদতে নব্য বিজেপির দুষ্কৃতীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের তরফে অনিমেষ মুখোপাধ্যায় বলেন, মোহন মাসাত, পিন্টু সহ মোট তিনজন গুরুতর আহত হয়ে বোলপুর সিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের নৃসংসভাবে মেরে হাত পা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও অনেক আর এস এস কর্মী আহত। মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে নানুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যাদের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নানুর থানার জলন্দী গ্রামে। আরএসএসের নানুর খণ্ডের জাগরণ প্রমুখ পীযূষকান্তি ঘোষ জানান, বিগত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রামে সঙ্ঘের শাখার কর্মসূচি চলাকালীন বর্তমানে বিজেপি দাবি করা মানব ফৌজদারের নেতৃত্বে বেশ কিছু দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায়। ঘটনায় মোহন মাসাত, রাহুল মাসাত, চাঁদমোহন মাসাত আহত হন। সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বয়ংসেবক সোমনাথ সাধুর দাবি, "হঠাৎ ৪ মে-র পর নিজেদের বিজেপি বলে দাবি করা দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওদের একটাই উদ্দেশ্য, আরএসএসকে বাড়তে না দেওয়া। আমরা ওদের শাস্তি চাই।" পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, পুরাতন বিজেপির কিছু নেতা কর্মীদের মদতে এই নব্য বিজেপির দলে স্থান দেওয়া হয়েছে। একইকথা বলেন, অনিমেষ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পুরোনোদের মদত ছাড়া তারা দলে জায়গা পায় কী করে? জলন্দিতে আর এস এসের শাখা চলছে। তাতেই নব্য বিজেপি আতঙ্কে আছে। তারা ভাবছে, তাদের পাততাড়ি গোটাতে হবে। তোলা তুলতে পারবে না। তাই এই আক্রমণ।
রাজ্যে বিজেপির শীর্ষনেতা শমীক ভট্টাচাৰ্য এরকম ক্ষেত্রে বলে থাকেন, এরা দলের কেউ নয়। এই কেউ নয় রা এখন দলে প্রাধান্য পাচ্ছে। এবারে হাত পড়েছে বিজেপির আঁতুড় ঘরে।


