Skip to main content
নেই আমি--- দেবশ্রী মজুমদার
নেই আমি
----- দেবশ্রী মজুমদার
কি নাম? পদ্ম পাতায়
সাত রাঙায়
জলছবি সে আমি!
সেই বেলা গড়িয়ে
বেলগড়িয়া থামি--
সে গ্রাম ছাড়িয়ে
অন্য গ্রামে
খবর আসে,
আমার কাছে নামি---
রাজেশ নেই
কথা হারায় খেই
পেয়েছে বীরগতি
জীবন তখন স্তব্ধ অতি।
ভাবি তখন, কে আমি?
পদ্মপাতা গড়িয়ে টুপ
সূয্যি ডোবে চুপসে চুপ
এক লহমায় শেষ!
কোথায় গেল স্থির জলে
অন্তর্লীন কোলাহলে।।
বল, কে সেই আমি?
পরিচয়টা তেমন সে নয়
ভাবছো, যা যা হয়
গাঁয়ের মেয়ে
সে এক কালি পুজোয়
হয়তো ছিলেম পাড়ার ভিড়ে
কৃষ্ণ কলি, নয় সে কৃষ্ণ কলি
চায় নি তারে হরিণ চোখে,
সে এক কালি পুজোয়!
সবাই যখন জড়ো হয়--
লাজুক দুটি
চোখে লুটোপুটি
স্বপ্ন যখন অলীক
করে থিক থিক--
মাটির সাথে মেখে!
লজ্জা নত চোখে।
আট মাস আগে প্রথম দেখা
অষ্টাদশীর তখনও হয় নি কিছুই শেখা!
বছর ঘুরে সরস্বতী পুজো এলো,
এবার ছুটি ফুরিয়ে
কাজে যাওয়ার পালা।
দূর পাহাড়ে শত্রু পাঞ্জা ঠুকে!
আমি তখন দুরু দুরু বুকে
এই বুঝি ফোন এলো!
আঙুল ফাঁকে গোলাপ ফুলে প্রপোজ!
হয় নি সে সব, গাঁয়ের মেয়ে
যেভাবে পথ চলা!
হয় নি চুপিসারে
অঞ্জলি ফুল টুপ করে
আঁচল পরে ফেলা!
এসব তবে গল্প কথা
নেহাতই এক অনুভূতির ভাষা!
যাকে বলো আমার ভালোবাসা!
চোখের জলে সেদিন ছিল
অনেক খানি প্রাণের
সে এক অন্য আকুলতা!
ধন্য ছিল অনেক খানি সুখবিভোর হাসির মাদকতা!
স্বপ্ন ছিল দেশ সেবার
জীবন ছিল ঝুঁকির
তবুও রাজেশ চেয়েছিল
ছোট্ট একটি নীড়!
সেই বাসাতেই ফুলের মধু
জীবন খুঁজে জীবন শুধু
এই মধুচুক চুকির!
তোমরা বলো, যুদ্ধ চাই!
আমি বলি বদলা!
দেশের মানুষ
তপ্ত বালুয় তখন চায় হামলা।।
আমার প্রাণের নীর ভাঙায়
কার হিসেবে কি যায়?
বলতে পারো, কোন দোষে
অষ্টাদশী, জীবন সেচে
আপন সর্বনাশে?
কি পরিচয়ে বেঁচে থাকে!
সময় স্রোতে গালওয়ালে
হারিয়ে যাওয়া অবহেলে!
তখন বলো কোথায় আমি?
নিজের মাঝে নিজেই থাকি!
সুখ শ্লাঘায় ভাবি
আমি সেই তো আমি!
কোথাও নেই, আছে শুধু "নেই- আমি"!!