চলো, তাবরেজ যেখানে-- দেবশ্রী মজুমদার

কবিতা:: চলো, তাবরেজ যেখানে!!-- দেবশ্রী মজুমদার

বাপটাও একদিন হারিয়ে গেছিল ঘন জঙ্গলে।
দাফনের সময় তাবরেজ কতটুকুই বা!! বড়
জোর আঠারো!
জানাযায় ভিড় হয়েছিল অনেক! চোখ দিয়ে
বহমান লোনা স্বাদ হয়ে ফিরছিল!
কতটুকু তোমার বোন , তাবরেজ!!
সে ২০১৫ সালের অভিশপ্ত কাহিনী!
ভুলতে বসেছিল একটু একটু করে। তার পর
অনেক ঈদ এল গেল। কারো সোহর এল না,
কারো আব্বু এলো না। আবার কারো এল না
আলম চাচা!
এমনি করেই দিন যায়, রাত আসে। একটু সুখের
জোছনায় সাদি হয় তোমার তাবরিজ! লাজুক
চোখে মিঞা, বেগমের দিকে চাইতেই পারে না!
আজ সে নিজেই লাশ। লাশ হলে ওজন বাড়ে।
বয়সও কী বাড়ে? হয়তো বা। মাত্র দেড় মাসের
সাদি। নববধূর মেহেন্দির দাগ ওঠে নি হাতে!
কি এসে যায় তাতে!
আজ সে তবে লাশ।
আঠারো ঘন্টা অপারেশন থিয়েটারে থেকে যে
ডাক্তার একমুখ হাসি নিয়ে বলে, বাচ্চা সুস্থ,
পেশেন্ট ইজ আউট অফ ডেঞ্জার!
সে হাসি বুঝেছ কেমনতর?
যে মানুষটা ঘন সবুজ ভালোবেসে নাম পেল 'গাছ
পাগল চাচা'! সে নাকি প্রতিদিন শুকনো ডাল
ছেঁটে, আবার পরিচর্যা করত নতুন প্রাণের
আশায়! সে কত শত আঠারো ঘন্টা জানো সৃষ্টির
রহস‍্যের প্রহর গোনে? তার মর্ম অভিঘাতে কী
দোল দোলে? তার খবর আছে তোমার কাছে?
যে বরে বলীয়ান হে ভষ্মলোচন! আমি ঘৃণা করি
নিজেকে তার উত্তরসূরী ভেবে। আমারই পাপ
বিদ্ধ করে তাঁকে দিবারাত্র। যে রাম রোমাঞ্চ
আনে প্রতি রোমকূপে! তার গহিনে এত হিংসা
জ্বালামুখী, কোন অর্বাচীন! ধিক্কৃত আমি নিজের
কাছে নিজে, সরিসৃপ শীতল চোখে, স‍্যঁতসেঁতে
আশ্রয় খুঁজে গোপনে গোপনে।
এর চেয়ে ঢ়ের ভালো, ফিরে চলো ভাষাহীন,
নিষ্পন্দ প্রাণে
হিংসা নেই, জাত নেই, ধর্ম নেই, মানুষও নেই,
আছি আছি আছে আছে নিজের ভ্রুণে!!!

Comments

Popular

বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই:---দেবশ্রী মজুমদার

দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার

আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার