সংবিধান তোর দোহাই কেন! -- দেবশ্রী মজুমদার

সংবিধান তোর দোহাই কেন!
--- দেবশ্রী মজুমদার
মানব না, তোরে মানব না।
সংবিধান তোর দোহাই দিই!
দেখতে নারে মুগুর পানা
উঠন্তি মূলো পত্তনে চেনা!
সরষে ফোড়ন, লঙ্কা দিই,
পাতের 'পর ছ্যেঁচকি নিই!
মানবো না, তোরে মানবো না।।
ছ্যেঁচকি দেখে হেঁচকি ভুলি
ঢেঁকুর তুলি, জোরসে বুলি
মানব না, তোরে মানব না।
সংবিধান তোর দোহাই দিই!
হাতে নিয়ে পতাকা তেরঙ
কণ্ঠে নিয়ে জাতীয় সঙ
এটাই বল কম কিসে?
তুই আর মুই খালু পিসে।
মানছি না, মানবো না।।
আছে শ্লোগান, কাপড় চাগান
যতেক ছিল, ততেক পোড়ান!
রাষ্ট্র এখন শোষণ যন্ত্র
বুক চিতিয়ে ধর মন্ত্র -
মানছি না, মানবো না।
দেশের আইন, দেশের শাসন,
মূলো খাওয়া আমার বারণ
মানছি না মানবো না।
কোনটা তেঁতো কোনটা মধু ,
কোন ব্যাটা সে আস্ত ভণ্ড
কোন ব্যাটা সে আসতো সাধু
ক্যামনে খাবে গণ্ড পিণ্ড!
মানছি না মানবো না
যারা মানে শুয়োর ছানা!
মানছি না মানবো না!
মানছি না মানবো না!

     

জোড়াতালি-- দেবশ্রী মজুমদার

জোড়াতালি!
--দেবশ্রী মজুমদার
জোড়াতালি যদি হতো
জোড়া হাতে তালি
বেশ হতো!
এটা ঠিক গল্পের ভণিতা নয়!
যে সময় পেরোচ্ছে ফেন্সিবুড়ি,
তাকে গালগল্প ভেবে
নিশ্চিন্তে থাকো না ক'দিন!
কেউ মানা করে নি তো!
নিশ্চিন্ত যাপন, চাঁদ বুড়ি উঠোন ঝাঁট দিতে
এসে কি গপ্পো মেরেছিল
শোনাও ছোট কিশলয়দের!
তা বেশ! এমনি চলুক সময়ের গুনটানা,
সময়ের হাত ধরে, তোমরা তো গুণীজন!
গপ্প ভালোই মারো! পান্তারে কও পরমান্ন !
তা বেশ!
এখন একটা সূঁচ দরকার! কলের
সুতো আছে! চরকায় সুতোর
আবেগে ফটাফট সুতো এফোঁড়
ও ফোঁড় যায় না! অসময়ে সেতো
বিশ... সে ত্যানাই থেকেছিল,
ঢেকেছিল না ঢেকেছিল দেহ টুকু!
তবুও ছটফটানি ছিল মাঝখানে।
বুড়ো ঠাকুরের দু'পাতায় তার মুণ্ডুপাত
হয়েছিল ঘরে বাইরে, না হয় নি,
সে অন্যকথা!
তবে এখন সেলাইটা দরকার, যদি ফেন্সি
বুড়ির ত্যানাটা টিকে যায় এ যাত্রায়!
যেখানে চাঁদ সূর্যের লড়াই, দিনের বেলায়!
যেখানে টুকরো টুকরো হতে হতে ফেন্সি বুড়ির
ক্যাঁথাটুকু প্রাণপণে জোড়াতালি দিতে দিতে
নিঃশেষ --
অনন্যোপায় .... অনন্যোপায় পতঙ্গভুক!
কি আর করতে পারো তুমি...
এই তো শীত আসার ক'দিন আগের কথা!
ছ্যাঁড়া ত্যানা দিয়ে সুজনি ক্যাঁথাখান
বেরোল তোমার প্যাঁটরা থেকে।
সামনের শীতে একটা আলোয়ান...
ভেবেই কেমন করা মন নিয়ে পাউঠিতে হেলান
দিলে পাকা টুস টুসে ফ্যেন্সি বুড়ি।
নিরাশা নয়, নিরালায় যেতে চায় মন!
ছুটতে ছুটতে পৃথিবীটা ছোট হবে একদিন!
কি তাতে! শেষ হয়ে শুরু হবে আবার!
আপাতত কাঁথা টুকু সম্বল! শোনার লোক নেই
আজ... বলার... বলার অনেক জন!
ভুল বকার অভাব নেই, নেই অভাব
বকবকমের!
কবিতা, নারী ও ফুল পেলব কোমল
কমনীয়তা নয়।
সব ঠোকো ঠকাঠক চকমকিতে
যখন সবাই এক সারণীতে...
যুক্তির থেকে মুক্তি চেয়ে, অন্ধত্ব চাও...
বাড়ি সুদ্ধ লোক, বাড়ি বয়ে আসা শান্তি
ভিক্ষুকে এক সাথে তারস্বরে রক্তচক্ষু বলো...
বলছি না, বাড়িতে কেউ নেই! কানে কী
কালা? কথা ঢোকে না? কি ঢোকে?
... দাও গালমন্দ।
তার পর ওড়াও দর্শন বুলি!
আজ সবার দর্শন আছে
হাতে হাতে পাতে পাতে!
চোরের দর্শন আছে চুরি করার, তোমার
আছে, আছে আমার, খুনিরও!
শেষে গেয়ে নাও সেই গীতিখানির
এক কলি। তার পর...
যস্মিন দেশে যদাচার!
আপাতত ফেন্সি বুড়ির কাঁথা সেলাই করবে
পুলিশ, রাজনীতির কুর্তা পাঞ্জাবি...
না হলে, কি আর করবে?
দাও, বুড়ির কাঁথায় আগুন!!
জ্বলে পুড়ে সব যায় যাক
বেঁচে থাক ---
পুঁথি বুড়োর হালুম হালুম খ্যাঁক!!

     

গজদন্ত-- দেবশ্রী মজুমদার

গজদন্ত
---- দেবশ্রী মজুমদার

হাতির দাঁত বাইরে দেখায়
সেই তো সবাই আসলে চায়--
গজদন্ত মুক্তো লুকায়
মুখের বাহির রয় না রয়।
একই সংখ্যা লঘু হয়
ওপার কিম্বা এপারে‌।
সেটাই যদি হক আনে
কত তফাৎ রঙের টানে!
আসলে
জানতে হয়
জানতে হয়
ক্যামনে ডিমে তা দেয়!
পদ্মা আর ভাগিরথী
কে আপন কে সাথী
গভীরতায় বেড়ে ফারাক
সংখ্যা বাড়ে সংখ্যা কমে
লড়াই চলে মানুষ যমে
রঙের আগুন যতই পোড়াক!
তোমার জল যতই লোনা
চিবুক পানে বইতে মানা!

     

ডোন্ট টক...দেবশ্রী মজুমদার

ডোন্ট টক...
---- দেবশ্রী মজুমদার
বোনের নিজের হাতে কাঁচা লঙ্কা দলে দেওয়া আলু, মূলো, বড়ির ভাসা ভাসা টকের স্বাদের নেশায় মন যখন বুঁদ হয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে টোটো তে উঠলো, তখন সামনে বসে থাকা তরুণীর ভাসা ভাসা চোখ দেখার ইচ্ছেও নেই, বয়সও নেই! তবুও কেন জানিনা, আড় চোখে বার বার দেখছিলো একজোড়া চোখ। সে যাই হোক! আমার চোখে তখন টকের নেশা। শিব নেত্র হয়ে যাচ্ছে বার বার! এক চোট ঘুম হলে ভালো হতো! ট্রেন লেইট থাকায় আপ কবিগুরু ট্রেন পেয়ে গেলাম। সিটও একটা জোগাড় হলো। আমার মাসতুতো, পিসতুতো বোন আছে। তবে সহোদরা বলতে একজন। বোলপুরে থাকে। ভাইফোঁটা উপলক্ষে যাওয়া। ইদানিং কালে বোনের শরীর ভালো যাচ্ছে না। তবে ভাইদের দেখে শরীর যেন চাঙ্গা! ভগ্নিপতি চাকুরে। অফিস যাওয়ার আগে মাংস ও পোলাও রেঁধে গেছিল। ভগ্নিপতির পুরোনো কর্মস্থল থেকে দাদা বৌদি, ননদ, ভাগ্নে, পুরোনো বাসার ভাই সবাই মিলে একরকম চাঁদের হাট! এসবের মাঝেও আমি টক ভালোবাসি তাই, টক রান্না হয়েছিল। ছিল আলুপোস্ত।
পোলাওয়ের সাথে টক যায় না। এটা সবাই জানি। তাই আলাদা করে সাদা ভাত ও হয়েছিল। এবার আসি একটু অন্য প্রসঙ্গে। যদিও তার সাথে টকের সরাসরি না হলেও একটা যোগসূত্র আছে। তখন আমি যুবক। পাশের গ্রাম সাঁকিরপুরে বেশ কয়েকঘর বোষ্টম বোষ্টুমীর বাস ছিল। সাদা কাপড় পরে তিলক কেটে তাঁরা মাধুকরী করত। তখন ভাবতাম এরা কি বিধবা! যাইহোক, একবার বাউল গানের আয়োজন করেছিল তাঁরাই। গান চলছে। বিশ্ব ভারতী থেকে আগত দুই জন বিদেশি পড়ুয়া মন দিয়ে গান শুনছেন। একে অল্প বয়স, তারপরে পরীর মত দেখতে তরুণী! প্রশ্ন করে জানলাম, তাঁদের বাড়ি অস্ট্রিয়া। তাঁরা অনুরোধ করল, কোন প্রশ্ন না করতে। অনুষ্ঠান শেষে তাঁরাও মাটিতে পাত পেড়ে খেতে বসলেন। খাবারের মধ্যে "টক" তাদের খুব ভালো লেগে যায়! জানতে চান- অটস দিজ? একজন পরিবেশক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যা বোঝাতে চেষ্টা করলেন, তাতে তাদের মনে হল খুব কসরৎ করেই এই "টক" বানানো হয়। পরিবেশক সোৎসাহে আরও ভালো ভাবে বোঝার চেষ্টা করতেই-- আরেক পরিবেশক বলে উঠলেন একটু বেশি আত্মবিশ্বাসের সাথেই-- "ডোন্ট টক"। দুজনেই বক্তার দিকে ভয়ে ভয়ে সেই যে চুপ মেরে গেলেন, আর কথা বলেন নি। দ্বিতীয় পরিবেশক অবশ্যই বলতে চেয়েছিলেন, ইটস নট হোয়াট ইউ আর সেইয়িং। ইটস টক ( সাওয়ার)। টক এমনওতর জিনিস! এবার আসি এদিনের কথায়। আগেই একপেট টিফিন খেয়েছি। যাকে বলা হয় "বাটা"। বোন ফোঁটা দিল। যমের দুয়ারে কাঁটা বলেই কেঁদে ফেললো। চোখে ফুটো আছে বলে, ভাগ্নি থেকে ভগ্নিপতি পরিবেশ সহজ করার চেষ্টা করলো! আনন্দের দিনেও চোখে জল! আমারও মনে পড়ে গেল ছোট বেলায় বাবা কেমনভাবে এই ফোঁটার আয়োজন করতেন। জেলাপি, কদমা, আঁকুর ইত্যাদি( শুকনো তালির আঁটি ফাটিয়ে সাদা শাঁস)। শুধু আমাদের আনন্দ দেওয়ার জন্য, দূরে বোনদের কাছে যেতে পারতেন না! আর ছিল সংসারে অভাব! আত্মবঞ্চনার মধ্যে দিয়েও সে এক অদ্ভুত সুখ পেতেন বাবা। দুই হাঁটুর উপর ভর দিয়ে শরীরটাকে একটু ঝুঁকিয়ে আমাদের খাওয়া দেখতেন। আজ নেই! সেদিন ছিল না স্মার্টফোন, ছিল না জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত স্টাট্যাস দিয়ে সবাইকে জানানোর সামর্থ্য! আজ সেটা আছে। আজ অভ্যস্ত! নেই শুধু সেই অনুভূতির দিন! আজ নিজের থেকে নিজে এতটা দূরে, সব কিছু মানিয়ে নিতে চাইলেও কোথা থেকে সঙ্কোচ, দ্বিধা একসাথে এসে জড়ো হয়। সেই মৌন মুখর প্রশ্ন এভাবেই বার বার সুখের মুহূর্তে চোখ বেয়ে বাইরে কোথাও যেন অন্তঃস্থল খুঁজতে যায় বৃথাই! রাজার মত অহঙ্কারে বোন কে বলেছিলাম, আজকে কি চাস বল? দেব! কত বার জড়িয়ে ধরলো বোন! তার পর অশ্রু সজল চোখে শুধু বললো-- তোরা ভালো থাক! নিশ্চিত হলাম আরেকবার, দধীচি কোন পুরুষ ছিল না!
-- না হয় আমি দধীচি হলাম
না হয় আমি স্বপ্ন ছুঁলাম!
এপার থেকে ওপার!
না হয় চেষ্টা মৃত সেতো
সেতু বরাবর।
না জানি কি পেল, পেলাম
না হয় আমি দধীচি হলাম
নে গুণে নে বজ্র হানার
বুকের ক'খানি হাড়!
পারিস যদি সেতু বানা
আঁধার ফুঁড়ে আলো আনার!

     

প্রসঙ্গঃ অভিজিৎ বাবু! --দেবশ্রী মজুমদার

প্রসঙ্গঃ অভিজিৎ বাবু!
-- দেবশ্রী মজুমদার
এ'কদিন ধরে "প্রসঙ্গ অভিজিৎ বাবু" পড়লাম। নিজের অজ্ঞতাটা অজ্ঞাত রাখতে চেয়েছিলাম। আর পারলাম না! আমিও তো বাঙালি! মাফ করবেন দাদা, দিদি ও বোনেরা। কারণ উল্টো পাল্টা একটু বকবো। যাঁরা পড়বেন না, তাঁরা বেঁচে গেলেন, তাদের ধন্যবাদ আমার প্রাপ্য। যাই হোক, আগে আমার পরিচয় দিলে, আমার অযোগ্যতা প্রমাণ হবে। অত্যন্ত অবহেলিত বৃত্তি মূলক শিক্ষার আংশিক সময়ের শিক্ষক, আংশিক সময়ের সাংবাদিক, আর কয়েকজনের গৃহ শিক্ষক। এই তো যোগ্যতা! তবে, আমার এক স্যারের কাছে নীরদ সি চৌধুরীর "ক্রেডো" পড়ার সময় প্রসঙ্গ ক্রমে জেনেছিলাম, মাননীয় নীরদ সি চৌধুরী কাজী নজরুল ইসলামের " বিদ্রোহী" কবিতা সম্পর্কে যেটি বলতে পারেন, সেটা অন্যজন বললে স্পর্ধা হয়। এই রকম ঘটনার প্রেক্ষিত কোন দিন এলে, কোন পণ্ডিত ব্যক্তি "মার্জনা করলুম" মনে মনে ভেবে চুপ থাকতে পারেন। কিন্তু, এই মুহূর্তে অন্যকে মাফ করা হবে না। অভিজিৎ বাবুর মত স্বনামধন্য ,বাঙালির গর্ব, ব্যাক্তির সম্পর্কে বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি বুঝি, অভিজিৎ বাবু আমার পাকা ধানে মই দেন নি। জানি না ভবিষ্যতে মাঠের ধান বইয়ে দেবার ব্যবস্থা করবেন কিনা! বাঙালির পকেটে পয়সা থাক আর না থাক ভ্রমণের কথা ভাবে। আমার মাথায় কিছু থাক আর না থাক, আগেও গ্যাট চুক্তি লোকের বাড়ি বয়ে গিয়ে বুঝেছি। দাস ক্যাপিটাল ও একজনের বদান্যতায় কিছুটা হলেও বুঝেছি। "অন দ্যা ক্যানিবালস" পড়ার সময়, শিক্ষক কেন, "ই ইজ ইক্যুয়ালটু এম সি স্কোয়ার" প্রসঙ্গ আনলেন, তা সায়েন্সের শিক্ষকের কাছে বুঝেছি। তাই "পুওর ইকনমিস" বুঝতে কারো সাহায্য নেব। আপাতত ফোর ওয়ার্ড পড়তে শুরু করেছি। গল্পচ্ছলে বলা কথা ভালো লাগছে। সে যাই হোক, উনাদের মত মানুষ গুটি পোকার দশা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন বলেই আজ প্রজাপতি। উনার মত অনেক বিখ্যাত মানুষের জীবন সুর বাঁধা তন্ত্রীর মত। উনারা জানেন, কখন ধরতে হয়, কখন ছাড়তে হয়। (তীরের সাথে ঢেউয়ের অভিঘাতের সম্পর্ক, বোধ হয় প্রেরণা) আমরা কূপমণ্ডুক আবেগে ভেসে বেতাল হয়। তাই মধ্যবিত্ত। যদি এই মধ্যবিত্ত থেকে আবার কোন গুটিপোকা প্রজাপতি হয়, সাগর পেরিয়ে অনেক অনেক দূরে চলে যায়।যদিও এমন ঘটনা বার বার হয় না। সে যাই হোক, আমার মত মানুষ ধন্য হবে, না বুঝেই। অর্থাৎ মন্ত্রের অর্থ না বুঝেই, দেবতার সামনে বার বার আওড়াব। যাঁরা আমার বাজে বক বক পড়লেন, তাঁদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী! আমার স্ত্রী এই মাত্র খবর নিলেন, যা লিখছি, তা খবর কিনা? - উত্তরে বললাম, না। -- উত্তর পেলাম, এসব লিখে কী লাভ? এই হিসেবটা হয়তো সাধারণ মানুষের বিচার্য!!

     

বৃষ্টি ভিলেন আনন্দবাজারে, তাই আনন্দধারা বহিল না শান্তিনিকেতনে--দেবশ্রী মজুমদার

বৃষ্টি ভিলেন আনন্দবাজারে, তাই আনন্দধারা বহিল না শান্তিনিকেতনে  
দেবশ্রী মজুমদার
আনন্দধারা বৃষ্টির ধারায় বাধা পেল! শুরু হতেই বৃষ্টি! বৃষ্টি ভিলেন এবারের আনন্দবাজারে!  সে যাই হোক, এই আনন্দবাজার নিয়ে মানুষের উৎসাহের খামতি নেই!  বৃষ্টি হলে যেমন খেলার ধারা বিবরণী বন্ধ হয়ে রেকর্ডিড খেলা দেখানো হয়, তেমনি পুরানো কাসুন্দি নিয়েই কিছু কথা শোনা গেল বিশ্বভারতীর অন্দরে!
এমন নামের দোকান পসরা নাকি তিন ভূবনে মেলে নি এ্যদ্দিন! কি চান? শিঙারা? – চলে যান ত্রিসিংহধারিণী স্টলে। শিঙারার নাম ত্রিসিংহধারিণী। ভেবে দেখুন শিঙাড়ার তিনটি শিং আছে। চা খাবেন? চলে যান আনন্দধারায়।  চায়ে মন না ভরলে, কফি খান। তবে কফি নয়, সোমরস চাইবেন। অতি সাধারণ খাবারকে, অদ্ভুত নাম দিয়ে অসাধারণ এবং রহস্যের মোড়কে বানিয়ে তোলার কারিগর বিশ্বভারতীর পড়ুয়ারাই। আর সেটা তারাই পারে!   আনন্দবাজারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার, দোকানের নামকরণ। নাম হতে হবে এমন, যা দেখে দোকানের প্রতি সকলের একটা স্বাভাবিক  কৌতুহল জাগবে। তবেই না আনন্দবাজার!
এবার বৃষ্টির জন্য মাঝে একটু ছন্দপতন হলেও,  রসিক প্রকৃতি সামলে নেয় নিজেকে! নিয়ম মাফিক কিছুক্ষণ নাট্যঘরে। তারপর যথারীতি গৌরপ্রাঙ্গণে! সকালের দিকে ঢাক বাজিয়ে দোকানের কাজ চলছে। পড়ুয়ারা ঢাকের তালে নাচছে! তখন থেকে আনন্দ শুরু!  
আনন্দবাজার কবে থেকে শুরু হয় তার দিনক্ষণ জানা নেই। বলা যায় রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় এই আনন্দবাজারের প্রচলন।   সালটা সম্ভবতঃ ১৯১০-১১।  ১৯১৯ সালে এক মজার ঘটনার কথা জানা যায়।   ছেলেরা করেছে সীতার পদধূলি, রামের ধনুক, চণ্ডীদাসের হস্তাক্ষর। এইসবের মিউজিয়াম।  “সীতার পদধূলি” নাম প্রসঙ্গে  বিশ্বভারতীর অধ্যাপিকা সবুজ কলি সেনের কাছে জানা যায়, ১৯১৯ সালের ঘটনা। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন প্রবাসী পত্রিকার সম্পাদক।  রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে সীতাদেবী।  সেই নামে মিউজিয়ামের নাম “সীতার পদধূলি”। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ডেকে বলেছিলেন, “তোর পদধূলি দেখে এলাম”। কি মজার না! ভাবতেও গায়ে শিহরণ জাগে। একই ভাবে,  মিউজিয়ামের নাম “ চণ্ডীদাসের হস্তাক্ষর”।   এ সেই বিখ্যাত বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাস নন। আশ্রমে চণ্ডীদাস নামে এক পাচক কাজ করতেন তখন। তাঁর হাতের লেখা। তাই  সেই নামেই মিউজিয়াম।  এখনও সেই পরম্পরা আছে।  যেমন  এখন খাবারের দোকানের নাম “খাইবার পাস”। এই খাইবার পাস,  পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের সীমায় গিরিপথ নয়। এখানে “ খাইবারে চাইলে ওই পাশে যাইতে পারেন”।  আজও  পাঠভবনের সামনে গৌরপ্রাঙ্গণের মাঠে বসে আনন্দবাজার।  পাঠভবনের চতূর্থ শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী এবং  সঙ্গীত ভবন ও কলাভবনের মত বিশ্বভারতীর অন্য ভবনের সব বিভাগের  ছাত্রছাত্রীরা এই আনন্দ মেলায় অংশগ্রহণ করে। স্টলের সংখ্যা নেহাত কম নয়।  নিজেদের তৈরী সম্ভার নিয়ে বসে। এবং তা থেকে যে আয় হয়, সেটা চলে যায় বিশ্বভারতীর সেবা বিভাগে। সেই সেবা বিভাগ থেকে বিশ্বভারতীর আশেপাশের গ্রামের দুঃস্থ মানুষের মধ্যে কম্বল, কাপড়জামা বা খাবার বিতরণ করে থাকে। যদিও এবার তার অবকাশ নেই।  মহালয়ের দিন শুরু। একদিনের মেলা। এক কথায় ঘণ্টা তিনেকের মেলা। বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হয়। এই মেলার প্রস্তুতি অনেকদিনের।  মারবেল পেপার দিয়ে স্টল সাজানো। এসবের একটা প্রস্তুতি থাকে।  তাছাড়া, একমাস দেখা হবে না। তাই হবে এই মেলা ঘিরে চুটিয়ে আনন্দ থাকে। কিন্তু এবার বৃষ্টি ভিলেন,  বলে জানান, এক পড়ুয়া।  তিনি জানান, এই আনন্দ মেলা বা আনন্দবাজারের  বিশেষত্ব হল, এখানে যা-ই বিক্রি করা হবে, তা হতে হবে নিজে হাতে তৈরি।  সে হাতের তৈরী   কাগজের ফুলহোক, বা যা কিছু!  অধ্যাপিকা সবুজ কলি সেন জানান,  বিশ্বভারতীতে দুর্গা পুজো বলা হয় না। এখানে বলা হয় শারদ উৎসব।  মহালয়ার দিন আনন্দ মেলা করে শারদাবকাশ বলে ছুটি দেওয়া হয়।  

     

এ যজ্ঞে নেই অশ্বত্থ, নেই - দেবশ্রী মজুমদার

এ যজ্ঞে নেই অশ্বত্থ, নেই বট
-দেবশ্রী মজুমদার
এ স্বারস্বত যজ্ঞে
সব আছে, তুমি , আমি
পিল পিল ভিড়, গোঘ্ন লোভাতুর মন!
নেই অশ্বত্থ, ত্যাগ, উদারতা
নেই বট অক্ষয় যা প্রলম্বিত অতিশয়
অতি দীর্ঘ সে, অশ্বত্থ বটমূলে!
হ'তে হ'তে ঋত্বিক একদিন
পীনন্নোত পয়োধরা যিনি
পয়োস্বীনি বহু প্রসবিনী
তোমার ঔরস, তোমার গর্ভ
তোমার গর্ব, হে হিরণ্যগর্ভ!
আকন্ঠ পান করাও সবে
নবনীত কোমল সুগন্ধি!
তবুও, উন্মত্ত যষ্ঠি সমরে, পিঠ পাতো নিরুপায়,
আজ এমন দিনে মানে, সে মানী !
হায় ! মধুময় জিহ্বাগ্রে-
হৃদয় হলাহলে
তুমি নীলকন্ঠ আজ!
কিছু বলো না বলো, শ্রেণী শত্রু তুমি, বড়
অসহায়!কোন বেদনায়?
রাজ রোষে ক্লান্ত -ক্লান্ত! বড়ো ক্লান্ত!
আজও খুঁজে ফিরি নীলাভ মেঘ
যা কোন এক সময়, বর্ণ হারিয়ে
ঝরেছে অকাতরে সবুজ অবোধ ঘাসে।
অপেক্ষায় ছিলে না কোন দিন কোন চাতকের!
আজ এ রাজসূয়ে চেয়ে দেখো,
তুমি নেই, আমি নেই!
বট নেই! অশ্বত্থ নেই!
যে কিনা পয়োস্বীনি হবে বলে
একদিন শুনিয়েছিল তার "সাধ" হবে আজ!
এসো তবে নিরুত্তাপ, শান্ত ছায়া নটে।
যেখানে হৃদয় আছে, প্রকাশ সংযত তার
চোখের কিনারে। দেওয়া নেওয়া- -
নয় নয় শুধু বিনিময়,
আরও অনেক কিছু,
আরও আরও অনেক আশ্রয়!!

     

Gadget

​"নাটক" সাড়ে সব্বনাশ- দেবশ্রী মজুমদার

                             ​"নাটক"                         ​     সাড়ে সব্বনাশ ​                      একাঙ্ক নাটক : কিশলয় নাটক :...

Popular