Skip to main content
জোড়াতালি-- দেবশ্রী মজুমদার
জোড়াতালি!
--দেবশ্রী মজুমদার
জোড়াতালি যদি হতো
জোড়া হাতে তালি
বেশ হতো!
এটা ঠিক গল্পের ভণিতা নয়!
যে সময় পেরোচ্ছে ফেন্সিবুড়ি,
তাকে গালগল্প ভেবে
নিশ্চিন্তে থাকো না ক'দিন!
কেউ মানা করে নি তো!
নিশ্চিন্ত যাপন, চাঁদ বুড়ি উঠোন ঝাঁট দিতে
এসে কি গপ্পো মেরেছিল
শোনাও ছোট কিশলয়দের!
তা বেশ! এমনি চলুক সময়ের গুনটানা,
সময়ের হাত ধরে, তোমরা তো গুণীজন!
গপ্প ভালোই মারো! পান্তারে কও পরমান্ন !
তা বেশ!
এখন একটা সূঁচ দরকার! কলের
সুতো আছে! চরকায় সুতোর
আবেগে ফটাফট সুতো এফোঁড়
ও ফোঁড় যায় না! অসময়ে সেতো
বিশ... সে ত্যানাই থেকেছিল,
ঢেকেছিল না ঢেকেছিল দেহ টুকু!
তবুও ছটফটানি ছিল মাঝখানে।
বুড়ো ঠাকুরের দু'পাতায় তার মুণ্ডুপাত
হয়েছিল ঘরে বাইরে, না হয় নি,
সে অন্যকথা!
তবে এখন সেলাইটা দরকার, যদি ফেন্সি
বুড়ির ত্যানাটা টিকে যায় এ যাত্রায়!
যেখানে চাঁদ সূর্যের লড়াই, দিনের বেলায়!
যেখানে টুকরো টুকরো হতে হতে ফেন্সি বুড়ির
ক্যাঁথাটুকু প্রাণপণে জোড়াতালি দিতে দিতে
নিঃশেষ --
অনন্যোপায় .... অনন্যোপায় পতঙ্গভুক!
কি আর করতে পারো তুমি...
এই তো শীত আসার ক'দিন আগের কথা!
ছ্যাঁড়া ত্যানা দিয়ে সুজনি ক্যাঁথাখান
বেরোল তোমার প্যাঁটরা থেকে।
সামনের শীতে একটা আলোয়ান...
ভেবেই কেমন করা মন নিয়ে পাউঠিতে হেলান
দিলে পাকা টুস টুসে ফ্যেন্সি বুড়ি।
নিরাশা নয়, নিরালায় যেতে চায় মন!
ছুটতে ছুটতে পৃথিবীটা ছোট হবে একদিন!
কি তাতে! শেষ হয়ে শুরু হবে আবার!
আপাতত কাঁথা টুকু সম্বল! শোনার লোক নেই
আজ... বলার... বলার অনেক জন!
ভুল বকার অভাব নেই, নেই অভাব
বকবকমের!
কবিতা, নারী ও ফুল পেলব কোমল
কমনীয়তা নয়।
সব ঠোকো ঠকাঠক চকমকিতে
যখন সবাই এক সারণীতে...
যুক্তির থেকে মুক্তি চেয়ে, অন্ধত্ব চাও...
বাড়ি সুদ্ধ লোক, বাড়ি বয়ে আসা শান্তি
ভিক্ষুকে এক সাথে তারস্বরে রক্তচক্ষু বলো...
বলছি না, বাড়িতে কেউ নেই! কানে কী
কালা? কথা ঢোকে না? কি ঢোকে?
... দাও গালমন্দ।
তার পর ওড়াও দর্শন বুলি!
আজ সবার দর্শন আছে
হাতে হাতে পাতে পাতে!
চোরের দর্শন আছে চুরি করার, তোমার
আছে, আছে আমার, খুনিরও!
শেষে গেয়ে নাও সেই গীতিখানির
এক কলি। তার পর...
যস্মিন দেশে যদাচার!
আপাতত ফেন্সি বুড়ির কাঁথা সেলাই করবে
পুলিশ, রাজনীতির কুর্তা পাঞ্জাবি...
না হলে, কি আর করবে?
দাও, বুড়ির কাঁথায় আগুন!!
জ্বলে পুড়ে সব যায় যাক
বেঁচে থাক ---
পুঁথি বুড়োর হালুম হালুম খ্যাঁক!!