বোধ--- দেবশ্রী মজুমদার

বোধ
দেবশ্রী মজুমদার
জীবন বোধ আমাদের মতো সাধারণ মানুষের
কদাচিৎ হয়। পিঠ পুড়ে গেলে, পাশ ফিরে
শোওয়াটাই আমাদের কাছে মহা পরিত্রাণ।
বুদ্ধিমত্তার কাজও বটে।--- নিম্ন মেধার
পরিচায়ক? সে বলুন না! তাতে কান দিই ই না।
তাই জীবন বিমুখতা এক অর্থে স্বার্থসন্ধি আর
শুধুই মুগ্ধতা!
আজ কাছ থেকে যে মানুষটিকে দেখলাম। তাঁকে
দেখে যে বোধ কাজ করে। সেটা বলতে গেলে,
জীবনানন্দের 'বোধ' কবিতার কয়েকটি লাইন
বার বার মনে পড়ে। ---- " আলো-অন্ধকারে যাই
—মাথার ভিতরে
স্বপ্ন নয়, কোন্ এক বোধ কাজ করে;
স্বপ্ন নয়—শান্তি নয়—ভালোবাসা নয়,
হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়;
আমি তারে পারি না এড়াতে,
সে আমার হাত রাখে হাতে। এই সামজিক দূরত্ব
বোধ তাঁকে বদ্ধ করতে পারে নি।
সাংবাদিকতায় কাজের ক্ষেত্রে তিনি যে
আপোষহীন তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। তাঁর
বাড়িতে বোমা ছুঁড়েছে মাফিয়ারা। তবুও তিনি
অদম্য। এর বাইরেও, তাঁর আরেকটি দিক
আছে।
এ যেন চাটুজ্জের প্রতিভাষণ, আরেক চাটুজ্জের
কাছে---
"নিরুপায় দুঃখময় জীবনে যারা কোনদিন
ভেবেই পেলে না সমস্ত থেকেও কেন তাদের
কিছুতেই অধিকার নেই,—এদের কাছেও কি ঋণ
আমার কম?"
ঠিক ধরেছেন! আমি বীরভূমের এ বি পি
আনন্দের গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের কথা বলছি।
গোটা জেলা জুড়ে তিনি ও কয়েকজন মিলে
করোনা আবহে আহার্যের সামগ্রী চাল, ডাল,
আটা, তেল নতুন থলে পরিপূর্ণ করে মধ্যবিত্তের
বাড়ি বাড়ি সাধ্যমত পৌঁছে দিচ্ছেন।
সোমবার তিনি রামপুরহাট ও বড়শাল গ্রামের
মধ্যবিত্ত পরিবারের হাতে হাত রাখলেন।
সামাজিক দূরত্বের দিনে এই নৈকট্য কয়জন বা
দেখাতে পারে?
তাঁর সাথে থেকে দেখতে পেলাম, বুঝতে পারলাম
মধ্যবিত্ত মানুষের আনন্দ সে কেমনতর!
অনেকেই বললেন, আপনি আমাদের বাড়ি বয়ে
এলেন? আপনাকে তো টিভিতে দেখেছি। কেউ
তো আমাদের কথা ভাবে! কেউ বললেন, সব
থেকে খারাপ লাগে, অনেকে যখন মুখের ছবি
তোলেন। আপনারা সেটা করেন নি। আমাদের
আত্মসম্মানবোধের মর্যাদা দিয়েছেন। আবার
কেউ বললেন, আপনাদের ভাবনাটা খুব ভালো।
আপনারা মধ্যবিত্তের জন্য ভেবেছেন। আমরা
মধ্যবিত্তরা এই লক ডাউনের সময়ে খুব
অসহায়। ঘরে অনেক কিছুই নেই দুটো খাবারের
জন্য। আবার মুখ ফুটে চাইতেও কেমন যেন
কুণ্ঠাবোধ হয়। জিহ্বা আরষ্ট হয়ে ওঠে। তবু
ভালো আপনি ভাবলেন। ভগবান মঙ্গল করুন।
গোপালদা জোড় হাত করে তাঁদের থামিয়ে
দিলেন। তবুও মুখের কথা থামলেও মধ্যবিত্তের
হৃদয়ের কথা তো থামতে চায় না... অনর্গল
নিজের মত করে অর্থ করে বলতে চায়...
"সহজ লোকের মতো কে চলিতে পারে।
কে থামিতে পারে এই আলোয় আঁধারে
সহজ লোকের মতো; তাদের মতন ভাষা কথা
কে বলিতে পারে আর; কোনো নিশ্চয়তা
কে জানিতে পারে আর?" (জীবনানন্দ দাশ)।

     

Comments

Popular

বর্ষাসাথী আমার ছাতি আজকে তুমি নাই:---দেবশ্রী মজুমদার

দেখবি, আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবি--- দেবশ্রী মজুমদার

আমার গ্রামের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিকথা ঃ দেবশ্রী মজুমদার