Posts

শুধু একটা গ্রেটা টুনবার্গ দাও, বাংলাদেশ!---দেবশ্রী মজুমদার

Image
শুধু একটা গ্রেটা টুনবার্গ দাও, বাংলাদেশ! -- দেবশ্রী মজুমদার কে বলবে, কত ঔধত্য তোমাদের, তোমরা আমার স্বপ্ন ও শৈশব নষ্ট করেছো- তোমাদের অন্তঃসারশূন্য শব্দে-- তোমরা এখন কথা বলছো (ধর্ম) নিয়ে-- কি করে সাহস হয় তোমাদের? গর্জে ওঠো, করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশে ওসমানী নগরে কোন গ্রেটা টুনবার্গ! কিম্বা মাত্র তিন বছরের সিরিয় শিশুর মতো কোন প্রতিবাদী কণ্ঠে উচ্চারিত হোক-- "আমি ভগবানকে সব বলে দেব!" এ পৈশাচিকতা যা থামাতে পারে নি মহামারী! হে বাংলাদেশ! বলো কি সে গরবিনী তুমি আজ? কেন তবে রাজশাহী মুখ লুকোয় যবে অষ্টমী নষ্ট হয় হাটখোলায়? কেন নড়াইলে, কেন ফরিদপুরে ভুমি দস্যু দাপটে গৃহহীন অসহায় কোন পথে? কেন যশোরের চৌগাছায় মিত্র পাটনি আপন সন্তানে থাকে না দুধে ভাতে? কেন তবে কেশবকাঠির ইন্দ্রানী কিম্বা শোভা বাড়ৈ ছুটে ছুটে ধর্ম খোঁটে প্রতি ইঁটে? চাবুক ছুটেছে সাঁই সাঁই-- বিচার যেখানে নাই-- দেশ, চৌহদ্দি, কোথা ঠাঁই! বসন্ত কুদার ছোটে পশ্চিমে- চেয়ে একটুকু বাঁচার আশ্রয়! চেয়ে দেখ, বাংলা থেকে গান্ধারে ফারখুণ্ডার জয়!বেদাক্সনে পাহাড় খুদে ছুটেছে স্বচ্ছত...

স্যান্টা ও মোমবাতি-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
স্যান্টা ও মোমবাতি দেবশ্রী মজুমদার না, এটা স্যান্টা ক্লজের গল্প নয়! এখন জিঙ্গল বেলস না! মেরি ক্রিশ মাস না! এক দুঃসহ দুঃসময় হাতে নিয়ে স্থবির বা জঙ্গম আমরা! যাঁরা স্যান্টা তাঁরাই মোমবাতি জ্বালিয়ে ফিরছেন অসুস্থ ঘরে ঘরে। সেই স্যান্টাকে বাড়িতে নিয়ে এসে স্যুপ খাওয়ানোর ভাবনা, গল্পের গরুকে গাছে চড়ানোর মতো! আমি তো বিশ্বাস করি না! মহামারীর বেশ কয়েকমাস আগে আমরা ওদের উত্তম মধ্যম দিয়েছি। "আতুরে নিয়ম নাস্তি!" -- তাই ঘটা করেই মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালিয়েছি! কিছুদিন আগে, অবশ্য ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁদের গৃহহীন করেছি! আর এই তো দু'দিন আগে... যে কিনা হোম কোয়ারিন্টিনে ছিল। করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এলো... তাঁকে নিতে নিজস্ব হাসপাতাল এ্যাম্বুলেন্স পাঠালো না... শেষমেশ পুলিশ পৌঁছে দিল বেলেঘাটা আইডি! তালাবন্ধ ফ্ল্যাটের চাবি নিলনা কোন প্রতিবেশী! সীলড্ ঘর পড়ে আছে। তাঁকে আর আবাসনে ফিরতে দেওয়া হবে না- সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশীরাই, এমনকি ঠিক হলেও! কেনই বা দেবে? ---ছেলে পিলে নিয়ে সংসার! বলা তো যায় না? যদি তাঁদের ও কিছু একটা "না হো...

আমার গিন্নী-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
আমার গিন্নী! দেবশ্রী মজুমদার আমার গিন্নী! বাব্বা! নিজের বৌকে নিয়ে এত আদিখ্যেতা! তা ভাবুন! দুপুরে যেটা লিখেছি, অধীর আগ্রহে নিয়ে যেই না গিন্নীকে শোনাতে গেছি... --দাঁড়াও আকাশে মেঘ লেগেছে, জলটা নিয়ে আসি। জল এল, ভণিতায় উন্নত গ্রীবাকে বললুম, - ‘গৌরী ধীরে চলো, গাগরী ছলক নাহি কয়।’ --তেড়ে ফুঁড়ে গিন্নী বললে, গাগরী কোথায়? বালতি- বালতি। সরো সরো! ঝামেলা পাকিয়ো না আর! মুখ ঝামটা খেয়ে, মুখের কথা মুখেই থেকে গেল, বলা হলো না-- "কী মোহিনী জান বঁধু কী মোহিনী জানো।অবলার প্রাণ নিতে যাই তোমা হেন"। -এমন ব্যস্ততায় লৌকিক মানিনীর সপ্রেম তিরস্কারও বাড়ন্ত এখন! তবে, মন্দের ভালো, প্রতিদিন পাতে এই দুঃসময়ে কিছু একটা জুটিয়ে দেয় মানিনী! এখন অভাবের সংসারে আলুর চোকলা ভাজা, কচু শাক বা ঘরের কাঁচ কলার চোকা বাটা গরম ভাতে খেতে খেতে মনে হয়, সংসারটা ধরে রেখেছে তো! সয় গো সই! পেট আর পিঠ! কিন্তু এটাই তো আসল কথা! এটাই চাই! এখানে কাব্যি চলে না! তাই গিন্নীর মত যাঁরা খ্যাঁক খ্যাঁক করেন, তাদের হাতির লুকোনো দাঁত বলুন, আর যাই বলুন, তাঁদের সমালোচনা ...

"স্বয়ম্বর সভায় না জিতেও, আজ তুমি জয়ী!"-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
(পুলিশ বন্ধুদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এই কবিতা!!) "স্বয়ম্বর সভায় না জিতেও, আজ তুমি জয়ী!" --- দেবশ্রী মজুমদার ঠিক চিঠি লিখছি না তোমায়! সে অবকাশ হারিয়েছি হেলায় একদিন। মনে মনে এক অবজ্ঞা ছিল। স্বয়ম্বর সভায় পাও নি যে জয়! থাক আজ! তবু মনে পড়ে! অনেক কষ্টে যে ইউনিফর্মটা তুমি গায়ে চড়িয়েছিলে শ্বেতকেতু! বেশ ছিল! তোমার বাবা আরুণি হয়তো গর্বিত ছিলেন। কিন্তু আমার পিতৃদেব রাজা চিত্র তোমাকে যে দণ্ড দিয়েছিলেন, তা অপমানে আমাকেও সমান দগ্ধ করেছিল। তোমাদের পিতা পুত্রের হাতে সমিধ, অবনত মস্তক দেখে বুঝেছিলুম, তোমার সেই শক্তি নেই দাসত্ব মুক্তির... তারপর যা দেখেছি খবরের কাগজে, ভেবেছিলুম একদিন তোমার এই পেশা নির্ঘাৎ অগৌরবের! তুমি পুলিশ! আমার চোখে তখন স্বপ্নের জ্বাল বোনা! কে মনে রাখে এঁদো থানার এক ইনস্পেক্টরকে! নীল অঞ্জনী চোখে আমার সে এক স্বপ্ন! কয়েক বছর আগে পরিবর্তন এল আমার জীবনে। ঐহিক জগতের সালজ্যনগরীর বিভব বিলাসে মগ্ন আমি। অর্জুনের মতো পুরুষের বীরভোগ্যা আমি! চোখের সম্মুখে বিজরা নদী, ইলা বৃক্ষ! এর চেয়ে অধিক সুখ আর কী হতে...

আজ হেসো না, প্রেম!--- দেবশ্রী মজুমদার

Image
শিরোনামঃ আজ হেসো না, প্রেম! দেবশ্রী মজুমদার প্লিজ! যে ছেলেটি বোকার মত তোমায় ভালোবেসেছে, তাকে দেখে হেসো না আর! অন্তত আজকে!--- আজকে নয় বা কেন? কি এমন দিন আজ? আর অন্য দিন নয় কেন? --- তোমার প্রশ্ন শুনে আমিও অবাক। ভুলে গেলে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে হেমিংওয়ে প্রেমে পড়ে যান এগনেস ভন কুবোস্কির। জানো তো, কুবোস্কি পেশায় ছিলেন নার্স। বেচারি সাহিত্যিক রেডক্রসে যোগ দেন, কারণ তো অজানা নেই। আজ বিশ্ব যুদ্ধ। এখন প্রেম দরকার! প্রেম। আজ কেউ 'চণ্ডালীনির ঝি' নয়। কবির কাছে পাঠ নিয়ে, তাহলে বলতেই হয় -- পরিবর্তনের স্রোতে যদি ভেসে যায় এই কালের যাত্রায়। হে বন্ধু, বিদায়! --রাগ করো কেন! আমি কি তাই বলেছি? তাহলে শোন গোবিন্দ দাস। -- কমলে মধুপ পাওল‌ যেন সঙ্গ। দুই তনু পুলকিত প্রেম তরঙ্গ।। ---এই ভাবনা যদি 'ভাবে' আসতো তাহলে তো এক সাথে লড়তে জোর আসে মনে। মরণেও শান্তি। শুধু সন্দেহ, হিংসা। করোনা আক্রান্ত পৃথিবী! মৃত্যুর মিছিল, ইতালি, আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, ইরান, আমার দেশও সেই মুহূর্তে! যা পাই, তা সংবাদ? বিসংবাদ! আঁতকে উঠি। আ...

যে চিনিয়েছে সবাইকে! -- দেবশ্রী মজুমদার

Image
যে চিনিয়েছে সবাইকে! (করোনা, তোমাকে) দেবশ্রী মজুমদার তুমি না এলে জানতাম না প্রেমের আতিশয্য কি তুমি না এলে জানতাম কী স্নেহের সুরধনী গ্রন্থি থেমে যায় কখন, বহিতে বহিতে, লজ্জাবনত প্রেমিকা চাহে না চকিতে। তুমি না এলে জানতাম না চেনা মুখগুলো আদপে মুখোশ ছিল মুখের আড়ালে। তুমি না থাকিলে জানতাম কবে ভোরের শিশিরে ফিঙে এসেছিল গোপনে তুমি না আসলে কে জানতো নীল কালো কাজলে রাঙা খুনসুটি করে কোন মাছরাঙা ধূসর কালো সুশীলা কোন সকালে সে অনাঘ্রাতা পানকৌড়ি কেন ঢাকা কোন অঞ্চলে? তুমি না এলে জানতাম না মানুষ কখন চোখে না হারিয়ে-- চক্ষু হারায়; ফুল নয়, ভুল ছড়িয়ে! তুমি না থাকলে জানতাম না এত দুঃখ জমে আছে প্রস্তর হতে। স্নেহান্ধ হওয়াও, কোন এক বঞ্চনা কোন অপেক্ষায়, অঝোরে ঝরিতে। বন্ধু, ভালোবাসা, প্রেম, অপ্রেম ধন্দ, দূরাশা কখন নিয়েছে খোঁজ মাটির পৃথিবীতে, মিশে যাবে একদিন-- শুধু তারায় তারায় রাত জাগিতে, শুধু কবে ফোটে ভোর আপন করিতে।।      

এখন লু বইছে -- দেবশ্রী মজুমদার

Image
এখন লু বইছে! দেবশ্রী মজুমদার এখন লু বইছে দেশে কথা হোক একপেশে। যাহা বাহান্ন,তাঁহাই তেপান্ন এদিকে ডিগ্রি একান্ন তখনও সে ছুঁই ছুঁই! সময় নেই, সময় নেই রুমাল বাঁধার-- সোজাকে সোজা বলার কবির পথ্য যে টক দই! সচেতন জুতসই খাবারের ভিড়ে চোঁয়া ঢেকুরে গলদঘর্মে ভাসে। লু দহন বইছে এখন ধোঁয়ায় চারপাশে। হ্যাঁ কে হ্যাঁ, না কে না বলা যাই না, যাই না বলা-- গেছে সব অভ্যেস। যেটুকু ছিল হবে তো নিঃশেষ। তোমার ভুল, নির্ভুল ভুল যদিও মনে হয় ওটা বিলকুল... চুপ করে থাকো, ধ্বজা বুঝে মাথা নাও খুঁজে --- না হলে চক্ষু শূল! ব্যষ্টি যখন সমষ্টির! গায়ে পেতে নেয় দোষ বিচার গুটোবে হাত নির্ঘোষ হবে রোষ!