Posts

Image
যদি সিসিফাস হই! দেবশ্রী মজুমদার যদি সিসিফাস হই! কার কী বলার আছে! কার কী বলার আছে বলো? পুরুষকারের দমে নয়, চালাকিতে পগার পার যদি হয়? তুমি কী থাকবে বন্ধু! হয়তো না, হয়তো কেউ বা হ্যাঁ! একদিন ঠিকই লেগে পড়বো - আওয়াজ উঠবে- হেঁইয়ো- ফের বোলো জোরসে- পাথরটা উঠবে নামবে। চোখে মুখে শ্লাঘার নদী। পাথরটা উঠতে উঠতে- বইবে ঘাম নধর দেহে। নেয়ে উঠবে, তবুও নদী হবে না কখ্খনো। গড়িয়ে গড়িয়ে পাথরটা নেমে আসবে যেখানে--- সেখানে একা নও তুমি সিসিফাস! অজস্র মৃতদেহ! তার মধ্যে তোমার শব দেহর গন্ধ! যে মহিলা আর্তনাদ করে বলে আগুনে সব শেষ, কী খাওয়াবে কাল? যে ন' বছরের শিশু পেল দুধের বদলে খুন! যে প্রীতিহীন সমাজ দোতলা থেকে ছুঁড়ে ফেলে পাঁচ- নয় বছরের শিশুকে লক লকে জিহ্বা থেকে বাঁচাতে! বলো কার দোষ? যে বিবেকহীন সমাজে বিবেকের ভিতরে ড্রিল করা হয় আতঙ্ক! -- এর চেয়ে বলো হে লেলিহান শিখা, শানিত অস্ত্র! আমি বলি তোমরা অনেক ধর্ম নিরপেক্ষ! অনলে জ্বলে ঘর, বৃদ্ধা মা, আসিডে, পেট্রোলবোমায় স্কুল, বই, শিশু, দোকানপাট অনলে পোড়ে শোক... জানার নেই প্রয়োজন তার কোন আত্মপরিচয...

মায়ামৃগ: দেবশ্রী মজুমদার

Image
মায়ামৃগ-- দেবশ্রী মজুমদার ভুলটা যতটা ভুল হোক ভুল বোঝানো ছিল সঠিক। আয়নায় ডান হাতকে বাম দেখাটা নিশ্চয় ভুল। তবে, ডানটা তো ডান! সে তো বক্ষবন্ধনী থেকে ডানা মেলে না কোন দিন! সেটা তুমি জানতে! উঁহু, না বলো না কোনদিন, তুমি হা হন্ত! দেখ এই যে স্বরবর্ণ থেকে ব্যঞ্জন বর্ণ, যুক্তাক্ষর শব্দ তৈরি করে মাত্র, ধ্বনি তৈরি করো তুমি! তাই পার পেয়ে যাও, কি বলো? অনাঘ্রাতা তোমার পালিত চোখ, পদ্মনাভ ঘুম চোখ জুড়ে,কাব্য রচ দিবারাত্র! আরো আরো কবিতায় হও রমণীয়! কোন দায় নেই তোমার! জনগণনা পঞ্জি থেকে কাঁটাতারের সীমান্ত - সবটা রমণীয় গোলাপের মত। কারো অধিকার, তোমার হুজুগে সত্যের অপলাপ যখন, তুমি নির্বিঘ্নে শব্দের জাল বোনো।সুনামের সুনামীতে ভাসবে বলে, হাওয়া বুঝে হাল ধরো, মাধুকরী করো, যযাতির অষ্টকা হও কৃষ্ণাষ্টমীতে! কি যায় আসে তোমার, মুক্তাগাছায় কে ধর্ষিতা হলো, ভিটেমাটি ছেড়ে আবার... থাক! তোমার তো মুক্তাগাছি মেঠাই হলেই চলে- কাব্যের সুঘ্রাণে! কি এসে যায়, নানকানার কে কবে অন্ধ হলো জেনে! কেউ বাঘ, তুমি খ্যাতির সওয়ারী বন্ধু! তুমি ডান হাতকে আয়নায় বাম ভাবো! ভুলকে ভুল ...

এসো সুভাষ! দেবশ্রী মজুমদার

Image
এসো সুভাষ! দেবশ্রী মজুমদার যে ছেলে সব চেয়ে ভালো সে পায় না, পায় না মায়ের কোল! মাও কাঁদে, ছেলেও কাঁদে, পাতা মায়ের  আঁচল। যে ছেলে সব চেয়ে ভালো আনে, আঁধার- ঢেকে- আলো কোলের জন্য সাধে না সাধে তবু মায়ের চোখ যে তারেই খোঁজে সব পেয়েও না পাওয়ার ব্যথায় মজে -বলে আয় আয় ! আঁচল আজো ঢাকা যদি কোল না ভরে, যদি সব সব ফাঁকা আজও পথ পানে চেয়ে বাছা, আদরের ধন উষ্ণ ললাট চুম্বন মা'র সজল চোখ উদ্বাহু মূলে মণি করে রাখে,  ঘ্রাণ ভরে রাখে যেথা যত  ফুল ফোটে। সব জোটে না জোটে! হয় নি হয় নি সে তবে আয় কোল ভরে আমার এ বুকে, জড়িয়ে জঠরে রক্ত মাংস, মজ্জায় ,আরও গভীরে প্রতি নারী দুহাত বাড়িয়ে আছে আছে চেয়ে এসো সুভাষ!  সবার কোল জুড়ে যন্ত্রী হীন যন্ত্র, তন্ত্রী হীন প্রাণ- এ জেরবার! প্রাণবায়ু শুকায় হেথায় অথৈ পারাবার আজ মন্থরা কেটেছে সিঁদ প্রতি ঘরে ঘরে এসো এসো সুভাষ! মায়ের দুচোখ জুড়ে।      

ধর্ম নিরপেক্ষতা!-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
ধর্ম নিরপেক্ষতা! --- দেবশ্রী মজুমদার যদি এদিকটায় আসো, ওদিকটা দু'হাত দূরে রেখো! তাহলে তুমি নিজেরে বলো ধর্ম নিরপেক্ষ। তা কি করে হয়? বরং এদিকে না হয় আসলে তবেই না গড্ডালিকায় ভাসলে? তুমিও সাপেক্ষ! আরেকজন তো খালাস বলেই... উঁহু, শিড় দাঁড়া নয়, তৃণভোজী ঘাড় কাতেই। দেখ বাপু! ঘাড় নিচু, কি উঁচু! বুঝি না অত কিছু! সার কথা, ধর্মেও আছি, জিরাফেও আছি! চলবে না থাকা এত কাছাকাছি? এর পর যদি বলো আছি, তো আছি! না হলে, গেলেই বাঁচি!!      

সংবিধান তোর দোহাই কেন! -- দেবশ্রী মজুমদার

Image
সংবিধান তোর দোহাই কেন! --- দেবশ্রী মজুমদার মানব না, তোরে মানব না। সংবিধান তোর দোহাই দিই! দেখতে নারে মুগুর পানা উঠন্তি মূলো পত্তনে চেনা! সরষে ফোড়ন, লঙ্কা দিই, পাতের 'পর ছ্যেঁচকি নিই! মানবো না, তোরে মানবো না।। ছ্যেঁচকি দেখে হেঁচকি ভুলি ঢেঁকুর তুলি, জোরসে বুলি মানব না, তোরে মানব না। সংবিধান তোর দোহাই দিই! হাতে নিয়ে পতাকা তেরঙ কণ্ঠে নিয়ে জাতীয় সঙ এটাই বল কম কিসে? তুই আর মুই খালু পিসে। মানছি না, মানবো না।। আছে শ্লোগান, কাপড় চাগান যতেক ছিল, ততেক পোড়ান! রাষ্ট্র এখন শোষণ যন্ত্র বুক চিতিয়ে ধর মন্ত্র - মানছি না, মানবো না। দেশের আইন, দেশের শাসন, মূলো খাওয়া আমার বারণ মানছি না মানবো না। কোনটা তেঁতো কোনটা মধু , কোন ব্যাটা সে আস্ত ভণ্ড কোন ব্যাটা সে আসতো সাধু ক্যামনে খাবে গণ্ড পিণ্ড! মানছি না মানবো না যারা মানে শুয়োর ছানা! মানছি না মানবো না! মানছি না মানবো না!      

জোড়াতালি-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
জোড়াতালি! --দেবশ্রী মজুমদার জোড়াতালি যদি হতো জোড়া হাতে তালি বেশ হতো! এটা ঠিক গল্পের ভণিতা নয়! যে সময় পেরোচ্ছে ফেন্সিবুড়ি, তাকে গালগল্প ভেবে নিশ্চিন্তে থাকো না ক'দিন! কেউ মানা করে নি তো! নিশ্চিন্ত যাপন, চাঁদ বুড়ি উঠোন ঝাঁট দিতে এসে কি গপ্পো মেরেছিল শোনাও ছোট কিশলয়দের! তা বেশ! এমনি চলুক সময়ের গুনটানা, সময়ের হাত ধরে, তোমরা তো গুণীজন! গপ্প ভালোই মারো! পান্তারে কও পরমান্ন ! তা বেশ! এখন একটা সূঁচ দরকার! কলের সুতো আছে! চরকায় সুতোর আবেগে ফটাফট সুতো এফোঁড় ও ফোঁড় যায় না! অসময়ে সেতো বিশ... সে ত্যানাই থেকেছিল, ঢেকেছিল না ঢেকেছিল দেহ টুকু! তবুও ছটফটানি ছিল মাঝখানে। বুড়ো ঠাকুরের দু'পাতায় তার মুণ্ডুপাত হয়েছিল ঘরে বাইরে, না হয় নি, সে অন্যকথা! তবে এখন সেলাইটা দরকার, যদি ফেন্সি বুড়ির ত্যানাটা টিকে যায় এ যাত্রায়! যেখানে চাঁদ সূর্যের লড়াই, দিনের বেলায়! যেখানে টুকরো টুকরো হতে হতে ফেন্সি বুড়ির ক্যাঁথাটুকু প্রাণপণে জোড়াতালি দিতে দিতে নিঃশেষ -- অনন্যোপায় .... অনন্যোপায় পতঙ্গভুক! কি আর করতে পারো তুমি... এই তো ...

গজদন্ত-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
গজদন্ত ---- দেবশ্রী মজুমদার হাতির দাঁত বাইরে দেখায় সেই তো সবাই আসলে চায়-- গজদন্ত মুক্তো লুকায় মুখের বাহির রয় না রয়। একই সংখ্যা লঘু হয় ওপার কিম্বা এপারে‌। সেটাই যদি হক আনে কত তফাৎ রঙের টানে! আসলে জানতে হয় জানতে হয় ক্যামনে ডিমে তা দেয়! পদ্মা আর ভাগিরথী কে আপন কে সাথী গভীরতায় বেড়ে ফারাক সংখ্যা বাড়ে সংখ্যা কমে লড়াই চলে মানুষ যমে রঙের আগুন যতই পোড়াক! তোমার জল যতই লোনা চিবুক পানে বইতে মানা!