Skip to main content
(বাংলাদেশে বাউল শিল্পীর উপর আক্রমণের প্রতিবাদে...)
আম্ফান
দেবশ্রী মজুমদার
তুমি খুঁজে নাও
ভাটির দেশ, নিষিদ্ধ
যেখানে উজান
সে পথ খুঁজে নাও, আম্ফান
বাজাও বিষম ঢাক, চলুক ঝাপান!
হাতিয়া নিঝুম দ্বীপে শব্দভেদী
গর্জন ছাড়, আছড়ি পড়
সুনামগঞ্জে! চৌচির হোক লাউড় পর্বত!
মৃত্তিকা, নদী আসমানী পথ।
অঝোরে ঝরুক ঝরে
শিল্পীর দু'চোখের ধারে
প্লাবন দেখেছে সরমা নদী!
ছুঁয়ে যাও হাহাকার তট,
এই সুনামগঞ্জে, চাও যদি।
রাজা ভগদত্ত একদিন ছুটেছিল এই সরমায়
রণপোতে পালতুলে
কুরুক্ষেত্রে যাব বলে!
তাঁর ফেরার পথে বৃথা চেয়েছিল
কোন দুটি চোখ!
বিজয় মাণিক্য যবে ছুটে
এসেছিল তোমার আশ্রয়ে
লক্ষণ সেন ভয়ে ভীত হয়ে,
সেও যেন ইতিহাস হোক!
তারও পরে সুনামদি মোগল, গঞ্জ উঠিল জেগে
হারালে সুনাম কালে কালে।
শিল্পীরে তওবা বলিয়ে
কি খোঁজ? পোড়াও বাড়ি ঘর
চার দশকের সৃজন যত
বাদ্যযন্ত্র আরও কত!
রণেশ ঠাকুর শুধু নয়,
আব্দুল করিম, লালন
করেছে যে সুধা পালন
তার সুখটুকু নিলে না।
চিনলে না, চিনলে না
রাজবাড়ি পাংসায়
সাধু সঙ্গে কি খোঁজে
কুষ্টিয়া পাবনায়!
চুল দাড়ি কেটে
পুড়িয়ে ঘর, যা কিছু সব...
জড়ো করো যে ধর্ম নির্মম বাণীতে
যে ভেদ এনেছো শোণিতে
ভেসে যাবে হাতিয়ার মেঘনায়
ভাসমান হবে মৃত শব বলে
খুঁজে নেবে ঝড় থেমে গেলে
সেই আদি ধর্ম হীন মানব গ্রন্থিতে!
ভুলে যাব, যে ভেদ এনেছো শোণিতে।
তাই এসো আম্ফান !
বাজাও বিষম ঢাক, চলুক ঝাপান!
ধর্মের কাপড় ছিনিয়ে নাও,
আরো আরো কিছু দাও।
যত পুস্তক আছে এসব
ছানিয়ে নিয়ে রস
কঠিন কঠোর দণ্ডে
মানবেরে করো বশ!!