Posts

থানা থেকে আসছি-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
থানা থেকে আসছি-- দেবশ্রী মজুমদার বিয়ে বাড়ির রিসেপশন মানেই সানাই, রঙিন আলোর রোশনাই, ফুরফুরে সুগন্ধি, আর বিভিন্ন পদের সুবাস! কবজি ডুবিয়ে ভুঁড়ি ভোজন আর কি! এক কথায়, হই হই ব্যাপার, রৈ রৈ কাণ্ড বলতে যা বোঝায়! তার মাঝেই, মহিলা মহলের খুনসুটি, ভাই ! মাথায় টোপর তো পড়লে! কেউ এক কলি গেয়েও শুনিয়েও দিল--- 'মাথায় টোপর পড়ার আগে ওজন করে দেখো ,শোলার টুপি লোহার হবে সেটা মনে রেখো ' বিয়ে যে শুধু ওজনদার নয়, কতটা দায়িত্বের উপলব্ধির আগেই- - এক জোড়া হেলমেট নিয়ে হন হন করে -- থানা থেকে আসছি!! বর সৌম্য শংকর চিনতে ভুল করলেন না সিউড়ি ট্রাফিক ওসি সুমন প্রামাণিককে। কারণ তাড়াহুড়োয় হেলমেট মাথায় না নিয়ে বেরিয়েছিলেন বাইরে। স্টেট ব্যাংকের কাছে এই ওসির কাছে ফাইন গুনতে হয়েছিল। নববধূ সায়ন্তীর কাছে চমক। পুলিশ আসায় অনুষ্ঠানে তাল কাটেনি একটুও। কারণ হাতে উপহার, ফুলের ব্যুকে। তাঁদের দুজনের ডিজিটাইজড ছবি দিয়ে স্মারক।আর একগাল হাসি! আসাটা তাঁদের সারপ্রাইজ হলেও, আন্দাজ একটু ছিল। কারণ বিয়ে বাড়ি থেকে কেটেরারের ফোন নং নিয়েছিল ট্র্যাফিক পুলিশ। বলা হয়েছিল ' পথ নিরাপত্তা সংক্র...

পটুয়ার চোখে জলছবি---দেবশ্রী মজুমদার

Image
পটুয়ার চোখে জলছবি দেবশ্রী মজুমদার শিল্পীর চোখে যখন জল, বিশ্ব স্রষ্টাও কী কাঁদে! হয়তো তাই। কারণ তখন শিল্প ও শিল্পীকে আলাদা করে চেনা যায় না! " তোমার সিন্ধু মারা গেছে সরযু নদীর কূলে আরে কি কার্য করিলি রাজা কি কার্য করিলি আমার অন্ধের লড়ি রাজা তু কেন ভাঙিলি"(সিন্ধু বধ)। পটুয়াগানের তালে তালে পট দেখানো আর হয় না। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই শান্তনু পটুয়ার কথায় শিল্পী অরুণ পটুয়ার চোখ ছলছল করে উঠলো। ভারাক্রান্ত হয়ে বলে চললেন, শান্তিনিকেতনের খোয়াইয়ে শনিবারের হাটে বছর দুয়েক আগে পর্যন্ত এসেছেন পটের গান শোনাতেন দাদা। দাদা আর জীবিত নেই। আর বলতে পারলেন না। চোখে আর বাঁধ মানলো না ভাইপোর কথা বলতে গিয়ে। একটু থেমে বললেন, ভাইপো পট ছেড়ে পেটের ধান্ধায় কোন এক দোকানে কাজে লেগেছেন। এক বুক দুঃখ নিয়ে এঁকে চলেছেন.... শান্তিনিকেতনের নন্দন আর্ট গ্যাল্যারী। শিল্পী আপন মনে বসে পট আঁকছেন। পর্যটক থেকে উৎসাহী মানুষের আগ্রহের উত্তরও দিচ্ছেন। চলতি মাসের ১৬ তারিখ বিশ্বভারতীর কলাভবনের পেন্টিংস বিভাগের উদ্যোগে বেলা দুটো নাগাদ নন্দন আর্ট গ্যালারীতে পট প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। সেখানে বেশ কয়েকজন পট...

বিলাপ করলেই,ব্রেক আপের দুঃখ বিলোপ-- দেবশ্রী মজুমদার

Image
বিলাপ করলেই, বিলোপ ব্রেক আপের দুঃখ—দেবশ্রী মজুমদার     ব্রেক আপ ! ব্রেক আপ! শুনতে শুনতে ফেড আপ!  এতো আর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনো মালিন্য নয়! যে ‘ম্যয় তো মাইকা ঘর চলা যাউঙ্গি’ বলা মাত্রই স্বামী সোজা হয়ে যাবেন। এখন ব্রেক আপ মানেই ফাইনাল ব্রেক আপ! কে আর খুলে বসে মধ্য যুগীয় বৈষ্ণব পদাবলী বলুন! আহা!--  খুলিয়া চাঁপার মালা এলায়ে কবরী বধূঁর যুগল পদ বাঁধেন কিশোরী।   এই ‘মান’, ‘আভিসার’ ,  ‘মিলন’ এসব তখন মূল্যহীন। ব্যস্ত জীবনে প্রেমের ফুল কুসমিত হওয়ার আগেই ‘ব্রেক আপ’। এরই নাম হয়ত আধুনিক প্রেম।  তাই অনেককেই বলতে শোনা যায়, স্বামীকে পাওয়ার আগেই নাকি অনেকের সাথেই ‘ব্রেক আপ’ হয়েছে।  কিন্তু কেন এত বেশী করে ব্রেক আপ?  এই প্রশ্ন কী আমরা কখনও  নিজেদের করেছি? বিজ্ঞরা বলেন,  মননের দরকার আছে।  পুনরায় পর্যালোচনা করা দরকার সেই ছোট ছোট অভ্যাস গুলোকে সম্পর্কের রাস্তায় হাঁটবার সময় যা হয়ত নিতান্ত অবহেলায় রাস্তার দুধারে ফেলে এসেছি অনেকদিন আগেই! অনেকেই বেশ স্বস্তির সাথেই বলেন,  যাহোক আমি সেই দুঃসময় শেষমেশ কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।  কিন্তু কতটা সময় লাগতে পারে এই অপূর্ণ ভালোবাসার ক্ষত সেরে উঠতে?  তখন কী করবেন আপ...

এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে ঃ দেবশ্রী মজুমদার

Image
এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে ঃ দেবশ্রী মজুমদার বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে পরান্মুখ সবুজ নালিঘাস দুয়ার চেপে ধরে— অবনী বাড়ি আছো? – শক্তি চট্টোপাধ্যায় জানি না এখানে বৃষ্টি বারোমাস কিনা! মেঘ গাভীর মত চরে কিনা? আমরা অবনীর মতো নিজেকে খুঁজে বেড়াই। পরান্মুখ নালিঘাস যে মায়ার মত আমাদের চেপে ধরেছে। তাই বিচিত্রবোধে এত হানাহানি। খুব সত্যি কথা আমাদের জীবনে যেমন ধর্ম আছে, তেমনি জিরাফও আছে। আসতে আসতে জিরাফের জয় হবে। এই আশায় বসে থাকা- বলতে শুনি অনেক প্রবীণদের। মোদ্দা কথা, জিরাফের জয় না হলে, মানুষ ধর্মকে হাতিয়ার করে ফতোয়া দেবে চিড়িয়াখানায় জিরাফ দেখা যাবে না। হিন্দু মুসলিম কোন গ্রহ্নে তার উল্লেখ নেই। দিনে ফতোয়া চললেও, রাতে আবার ফতোয়াবাজরাও চুপি চুপি দেখে যাবেন। আর তাহলেই হয়ত একদিন ধর্মান্ধতা দূর হবে। ফিরে আসি সেই ভাব নিয়ে- এখানে মেঘ গাভীর মত চরে। প্রাচীন গ্রহ্ন ঋগ্বেদে, এরকম বলা আছে। ইন্দ্র গাভীকে দোহন করেন। অর্থাৎ এই মেঘ আসলে গাভী। ইন্দ্র তাকে দোহন করেন। অর্থাৎ বৃষ্টি আনেন। আর এই গাভীই রূপক অর্থে মেঘই হোক আর যাই হোক, গোমাতা হিসেবে ভারতবর্ষের মূল বিষয়। তাই প্রায়ই গোরক্ষকদ...

জাপানী তানাবাতা উৎসব,যখন ইচ্ছেগুলো ডানা মেলে বিশ্বভারতীতে : দেবশ্রী মজুমদার

Image
জাপানী তানাবাতা উৎসব,যখন ইচ্ছেগুলো ডানা মেলে বিশ্বভারতীতে : দেবশ্রী মজুমদার তানাবাতা। ইচ্ছেপূরনের জন্য চিঠি লেখা। কেউ কেউ আবার কবিতার আকারে লেখে! আর সেই চিঠি লেখা কেন? ওরিহিমে তাঁর স্বামী হিকোবসির সাথে দেখার জন্য কান্নাকাটি করলে, তার বাবা বললেন, “চন্দ্রমাসের সপ্তম মাসের সপ্তম দিনে ৭ম জুলাই তোমরা দেখা করতে পারবে”। সেই দিনই তানাবাতা হয়। এবার বিশ্বভারতীর পাঠভবনের পড়ুয়ারা যথারীতি উদয়ন গৃহের সামনে ইচ্ছে ডানা চিঠি সমেত বাঁশের ডালটি রেখে পালন করল এই উৎসব। পাঠভবনের এক পড়ুয়া জানান, বেশ ভালো লাগে এই উৎসব। খুব মজা হয়। পাঠভবনের অধ্যক্ষা বোধিরূপা সিনহা জানান, পাঠভবনের পড়ুয়ারা এই ‘তানাবাতি’ উৎসব পালন করে। ছোট ছোট কাগজে লেখা। আর সেই কাগজকে জাপানীরা বলে তানজাকু। জাপানের প্রসঙ্গ উঠলে, তুমিকোবার নাম আসবেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গুণগ্রাহী তিনি। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে নানা রকম কাজ কর্ম করেন। বাস ছিল জাপানী ইউকোহামা শহরে। প্রসঙ্গে আসি, জাপানে মোটামুটি ভাবে অগাস্ট মাসে বাঁশ গাছের ডালে এভাবেই ইচ্ছাগুলো গাছে টাঙানো হয়। বিশ্বভারতীতেও সেই একইরীতিতে পালিত হয় বলে জানান জাপানী বিভাগের অধ...

গুফকার রোড ট‍্যু শান্তিনিকেতন: শান্তি খুঁজছেন কাশ্মিরী অধ্যাপক সাজ্জাদ হামদানি

Image
গুফকার রোড ট‍্যু শান্তিনিকেতন: শান্তি খুঁজছেন কাশ্মিরী অধ্যাপক সাজ্জাদ হামদানি  ---দেবশ্রী মজুমদার শ্রীনগর গুফকার রোড । যেন দিল্লির ১০ জনপথ!  গুফকার নীচেই সোনওয়ার বসতি। ওখান থেকে জাস্ট ১০ মিনিটের হাঁটা পথ। দেখা যাবে কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লার বাড়ি। আমদের গন্তব্য ওখানে নয়। গন্তব্য সোনওয়ার বসতি এলাকায়। ওখানেই বাস করেন পঁচাত্তর বছর বয়সের বৃদ্ধ আলী মুহাম্মদ। ব্যবসা ট্রান্সপোর্টের। জম্মু শ্রীনগর রুটে তাঁর বেশ কয়েকটি বাস চলাচল করে। তাঁর স্ত্রী বিয়োগ আগেই হয়েছে।  দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে সাজাদ হামদানি। বিশ্বভারতীর কলাভবনের অধ্যাপক তিনি। চারদিন হল কাশ্মীরের পুরো পরিস্থিতি ভিন্ন, উত্তেজনা পূর্ণ। তাই বাড়ির জন্য চিন্তা হলেও, উদ্বিগ্ন নন হামদানি সাহেব। থাকেন শান্তিনিকেতন এলাকায়। তিনি জানান, এটা নতুন কিছু নয়। মাত্র চার দিনে পড়েছে। ছোট বেলায় একটানা কুড়িদিন কারফিউ দেখেছি। কাশ্মীরীরা জানে এই সময় কি করতে। ৬ মাসের চাউল আমরা আগে থেকেই মজুত করে রাখি। সিটিতে কিছু অসুবিধা হতে পারে। কিন্তু গ্রামে কোন অসুবিধা হয় না। তিনি বলেন, সমস্যাটা অন্য জায়গায়। কারফিউ, জঙ্গী ...

রঙ্গ মঞ্চের চেনা এক দৃশ্যে নাট্যকর্মী অন্বেষার সাথে আমি, আপনি, আমরা —দেবশ্রী মজুমদার

Image
রঙ্গ মঞ্চের চেনা এক দৃশ্যে নাট্যকর্মী অন্বেষার সাথে আমি, আপনি, আমরা —দেবশ্রী মজুমদার অন্বেষা! বিনোদিনী পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যকর্মী অন্বেষা ঘোষের বিয়ে। বিয়ে দিচ্ছে নাট্য সংগঠনের ছেলেরা তাদেরই সংস্কৃতি ভবনে।যেখানে চলে নাটকের মহড়া! সেখানেই বিয়ে! আর যে- সে বিয়ে নয়! রীতিমত নাটকীয়! রূপকের মত শোনালেও, এ যেন নাটকের মধ্যে রসদের অন্বেষণ! অন্বেষার স্বামী অমিতবাবু স্বাস্থ্য দপ্তরে কাজ করেন। ভালো দোতরা বাজান তিনি। সে অর্থে রাজযোটক। বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী নাট্যদলের সাথে অন্বেষার জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই বিয়ের আয়োজনের পরতে পরতে সেই নাটকের ছাপ! এহেন বিয়ের আদ্যপান্ত দেখে তাজ্জব হয়ে অনেকেই বলছেন, অভূতপূর্ব! অন্বেষার নাট্যবোধের ভাবনাতেই বহুবার উচ্চারিত- যদেতত হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম। সে অর্থে তাঁর কাছে বিয়ে শুধুমাত্র লোকাচার বা শাস্ত্রমতে আচার অনুষ্ঠান নয়। ফেলে আসা জীবনের কুড়িটি গৌরবময় নাটকীয় অধ্যায়ের এক অনবদ্য কোলাজ! কোলাজই তো বটে! নাটকের প্রপস দিয়ে তৈরি হয়েছে মেয়ে বসার জায়গা। আর দেওয়াল জুড়ে শোভা পাচ্ছে রাজ্যসরকারের শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসাবে পুরস্কার নেওয়ার ছবি...